Class 12 Swadesh Adhyayan Important Chapter 8 প্রাক ব্রিটিশ যুগে আসামের শিল্প-উদ্যোগ

Class 12 Swadesh Adhyayan Important Chapter 8 প্রাক ব্রিটিশ যুগে আসামের শিল্প-উদ্যোগ Question Answer Bengali Medium As Per The New Syllabus to each chapter is provided in the list so that you can easily browse through different chapters ASSEB Class 12 Swadesh Adhyayan Important Chapter 8 প্রাক ব্রিটিশ যুগে আসামের শিল্প-উদ্যোগ Notes and select need one. AHSEC Class 12 Swadesh Adhyayan Important Chapter 8 প্রাক ব্রিটিশ যুগে আসামের শিল্প-উদ্যোগ Solutions Download PDF. HS 2nd Year Swadesh Adhyayan Additional Question Answer Bengali Medium.

Class 12 Swadesh Adhyayan Important Chapter 8 প্রাক ব্রিটিশ যুগে আসামের শিল্প-উদ্যোগ

Also, you can read the NCERT book online in these sections Solutions by Expert Teachers as per Central Board of Secondary Education (CBSE) Book guidelines. ASSEB Class 12 Swadesh Adhyayan Important Notes Bengali Medium are part of All Subject Solutions. Here we have given HS 2nd Year Swadesh Adhyayan Extra Solutions Bengali Medium for All Chapters, You can practice these here.

Chapter: 8

দ্বিতীয় ভাগঃ ইতিহাস
ADDITIONAL QUESTION ANSWER

১। আসামের প্রাচীন চারটি ভৌগোলিক অঞ্চলের নাম কী? 

উত্তরঃ আসামের প্রাচীন ভৌগোলিক অঞ্চলগুলো হলো— রত্নপীঠ, কামপীঠ, স্বর্ণপীঠ এবং সৌমারপীঠ।

২। আহোম শাসনকালে আসামের ভূমিকে কয়টি ভাগে ভাগ করা হয়েছিল? 

উত্তরঃ আহোম আমলে আসামের ভূমিকে সাতটি শ্রেণীতে বিভক্ত করা হয়েছিল (যেমন: বাড়ি মাটি, রপিত, ফরিঙতি ইত্যাদি)।

৩। উচ্চ আসামে চা-পাতা কবে এবং কে প্রথম আবিষ্কার করেন? 

উত্তরঃ ১৮২৩ খ্রিস্টাব্দে রবার্ট ব্রুস নামক এক ইংরেজ আধিকারিক প্রথম আসামে চা-পাতা আবিষ্কার করেন।

৪। কৌটিল্যের অর্থশাস্ত্রে বন আধিকারিককে কী নামে উল্লেখ করা হয়েছে? 

উত্তরঃ কৌটিল্যের অর্থশাস্ত্রে প্রথম বন আধিকারিককে ‘কোপ্যাধ্যক্ষ’ (কুপ্যাধ্যক্ষ) বলা হয়েছে।

৫। ‘Forest’ শব্দটির উৎপত্তি কোন শব্দ থেকে হয়েছে? 

উত্তরঃ ‘Forest’ শব্দটির উৎপত্তি ল্যাটিন শব্দ ‘Foris’ (ফোরিস) বা ‘Forist’ (ফোরিস্ট) থেকে হয়েছে, যার অর্থ গ্রামের সীমান্তবর্তী এলাকা।

৬। আসামের প্রথম তিনটি ‘গেম ফরেস্ট’ (পরবর্তীতে অভয়ারণ্য) কী কী ছিল?

 উত্তরঃ আসামের প্রথম তিনটি সংরক্ষিত বনাঞ্চল বা গেম ফরেস্ট ছিল— কাজিরাঙা, লাওখোয়া ও মানস (উত্তর কামরূপ)।

৭। ‘হস্তীবিদ্যার্ণব’ গ্রন্থটি কার পৃষ্ঠপোষকতায় এবং কার দ্বারা রচিত হয়েছিল?

উত্তরঃ আহোম রাজা শিবসিংহের পৃষ্ঠপোষকতায় এবং তাঁর স্ত্রী অম্বিকাদেবীর উদ্যোগে সুকুমার বরকাইথ এই গ্রন্থটি রচনা করেন।

৮। আহোম রাজাদের আমলে বনজ সম্পদের তত্ত্বাবধানকারী আধিকারিককে কী বলা হতো?  

উত্তরঃ বন ও বনাঞ্চল থেকে প্রাপ্ত রাজস্ব এবং বনজ সম্পদের তত্ত্বাবধায়ক ছিলেন ‘হাবিয়াল বরুয়া।

৯। ব্রিটিশ আমলে আসামের বনাঞ্চলের কাঠের ওপর কোন কর আরোপ করা হয়েছিল? 

উত্তরঃ ব্রিটিশরা বনাঞ্চলের কাঠের ওপর ‘গড়ঘাটি’ নামক কর ধার্য করেছিল।

১০। ১৮৯৭ এবং ১৯৫০ সালের ভূমিকম্পের মাত্রা কত ছিল? 

উত্তরঃ ১৮৯৭ সালের ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৮.৭ এবং ১৯৫০ সালের ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল।

১১। বিশ্বের বৃহত্তম নদী দ্বীপ কোনটি?  

উত্তরঃ ব্রহ্মপুত্র নদের গতিপথ পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট আসামের মাজুলী হলো বিশ্বের বৃহত্তম নদী দ্বীপ।

১২। ‘চিপকো’ আন্দোলনের প্রধান নেতা কারা ছিলেন? 

উত্তরঃ চিপকো আন্দোলনের প্রধান নেতা ছিলেন সুন্দরলাল বহুগুণা এবং চণ্ডীপ্রসাদ ভাট।

১৩। নর্মদা বাঁচাও আন্দোলনের সাথে যুক্ত একজন বিশিষ্ট নেত্রীর নাম লেখ। 

উত্তরঃ নর্মদা বাঁচাও আন্দোলনের অন্যতম প্রধান নেত্রী হলেন মেধা পাটেকর।

১৪। ভারতের রাষ্ট্রীয় প্রাণী ‘বাঘ’ সুরক্ষার জন্য কবে ‘প্রজেক্ট টাইগার’ ঘোষণা করা হয়? 

উত্তরঃ ১৯৭৩ খ্রিস্টাব্দে ভারত সরকার ‘প্রজেক্ট টাইগার’ বা ব্যাঘ্র প্রকল্প ঘোষণা করে।

১৫। ‘সাইলেন্ট ভ্যালি’ আন্দোলন ভারতের কোন রাজ্যে সংঘটিত হয়েছিল? 

উত্তরঃ সাইলেন্ট ভ্যালি আন্দোলন ভারতের কেরালা রাজ্যে সংঘটিত হয়েছিল।

(খ) দীর্ঘ প্রশ্ন উত্তর।:

১। আহোম রাজত্বের ভূমি নীতি এবং ভূমির বিভিন্ন শ্রেণীবিভাগ আলোচনা করো। 

উত্তরঃ আহোম রাজত্বের ভূমি নীতি:

(ক) কারিগরদের জন্য ভূমি দান: উৎস অনুযায়ী, আহোম রাজারা বিশেষ দক্ষ কারিগরদের উৎসাহিত করার জন্য এবং শিল্পকে টিকিয়ে রাখার উদ্দেশ্যে তাঁদের বিনা রাজস্বে বাসযোগ্য ভূমি প্রদান করতেন। উদাহরণস্বরূপ, হাতির দাঁতের শিল্পের সাথে জড়িত ‘বক্তার খনিকর’ সম্প্রদায়কে আহোম রাজারা বসবাসের জন্য করমুক্ত জমি দিয়েছিলেন।

(খ) পাইক প্রথা ও পেশাভিত্তিক বিভাজন: যদিও ভূমি নীতির বিস্তারিত বিবরণ এখানে নেই, তবে আহোমদের প্রশাসনিক কাঠামোর একটি চিত্র পাওয়া যায়। জনগণকে বিভিন্ন ‘খেল’ বা পেশাভিত্তিক গোষ্ঠীতে ভাগ করা হয়েছিল (যাকে পাইক প্রথা বলা হয়)। যেমন— সোনওয়াল পাইক (সোনা সংগ্রাহক), রুপোয়াল পাইক (রুপা সংগ্রাহক), হাবিয়াল পাইক (বনজ সম্পদ বা কাঠ সংগ্রাহক) এবং নাওশলীয়া (নৌকা নির্মাতা)। ঐতিহাসিকভাবে এই পাইক প্রথার মাধ্যমেই রাষ্ট্রীয় সেবার বিনিময়ে জনগণকে জমি বণ্টন করা হতো, যা এই উৎসে পরোক্ষভাবে শিল্পীদের পেশার বর্ণনায় ফুটে উঠেছে।

মাটির ব্যবহারিক শ্রেণীবিভাগ: 

(i) কুমোর মাটি: মৃৎশিল্পীদের ব্যবহৃত সাধারণ মাটি।

(ii) হীরা মাটি: হীরা নামক মৃৎশিল্পী সম্প্রদায়ের ব্যবহৃত বিশেষ মাটি।

(iii) লোয়া মাটি: পাহাড়ের পাদদেশে পাওয়া লোহা মিশ্রিত মাটি যা লৌহ নিষ্কাশনে ব্যবহৃত হতো।

(iv) ইটাসজীয়া মাটি: ইট তৈরির জন্য ব্যবহৃত বিশেষ ধরনের মাটি।

এছাড়া ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের জন্য ব্রহ্মোত্তর, দেবোত্তর প্রভৃতি নিষ্কর জমিও দান করা হতো। রাজা প্রতাপ সিংহের আমল থেকে ভূমি জরিপের কাজ শুরু হয় এবং মোমাই তামুলী বরবরুয়ার প্রচেষ্টায় এটি সুসংগঠিত রূপ পায়।

২। ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক আমলে আসামের বনজ সম্পদের ওপর গৃহীত নীতির প্রভাব বর্ণনা করো। 

উত্তরঃ  ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক আমলে আসামের বনজ সম্পদ নীতির প্রভাব:

(ক) বাণিজ্যিকীকরণ ও আধুনিক শিল্পের আধিপত্য: প্রাক-ব্রিটিশ যুগে আসামের শিল্প মূলত ছিল কুটির শিল্প ভিত্তিক। কিন্তু ব্রিটিশ সরকার ক্ষমতা দখলের পর প্রথাগত শিল্পের পরিবর্তে আধুনিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ব্যবহার করে বনজ ও খনিজ সম্পদ থেকে মুনাফা অর্জনের দিকে মনোনিবেশ করে। এর ফলে বনাঞ্চলকে সাধারণ মানুষের ব্যবহারের সামগ্রীর বদলে বাণিজ্যিক পণ্য হিসেবে দেখা শুরু হয়।

(খ) ঐতিহ্যবাহী বন ব্যবস্থাপনার বিলোপ: আহোম রাজত্বের সময় বনাঞ্চল তদারকির জন্য ‘হাবিয়াল বরুয়া’ এবং ‘কাটাকাটিয়া বরুয়া’-র মতো প্রশাসনিক পদ ছিল এবং ‘হাবিয়াল পাইক’ গোষ্ঠী বনজ সম্পদের দেখাশোনা করত। ব্রিটিশরা এই স্থানীয় ও সুশৃঙ্খল ব্যবস্থা ভেঙে দিয়ে সম্পূর্ণ রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ বা আমলাতান্ত্রিক বন বিভাগ প্রতিষ্ঠা করে। আপনার প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী, ১৮৫৫ সালের ‘ফরেস্ট চার্টার’ এবং ১৮৭৮ সালের বন আইনের মাধ্যমে এই নিয়ন্ত্রণকে আইনি ভিত্তি দেওয়া হয়।

(গ) স্থানীয় কারিগরদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব: আসামের বনাঞ্চল ছিল অত্যন্ত মূল্যবান কাঠ (যেমন—শাল, জামুক, আজার, চাস ইত্যাদি) এবং বাঁশ-বেতের অফুরন্ত ভাণ্ডার। স্থানীয় কারিগররা এই কাঠ ব্যবহার করে ঐতিহ্যবাহী নৌকা, আসবাবপত্র এবং ঘরবাড়ি তৈরি করতেন। কিন্তু ব্রিটিশরা বনাঞ্চলকে ‘সংরক্ষিত’ বা ‘সুরক্ষিত’ ঘোষণা করায় কারিগরদের এই কাঁচামাল সংগ্রহের অধিকার খর্ব হয়। ফলে প্রথাগত কাষ্ঠশিল্প ও নৌকা নির্মাণ শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

(ঘ) ভূমি ও রাজস্ব নীতি: ব্রিটিশ শাসনামলে বনাঞ্চলকে সরকারের সম্পত্তিতে রূপান্তর করা হয়। চা-বাগানের ব্যাপক প্রসারের জন্য প্রচুর বনভূমি উজাড় করা হয়। এছাড়া আপনার দেওয়া তথ্য মতে, বনের ওপর ‘গড়ঘাটি’ এবং ঘাসের ওপর ‘খাচরি’ কর বসানোর ফলে সাধারণ মানুষ ও পশুচারণকারীরা অর্থনৈতিক সংকটে পড়ে। এটি প্রাক-ব্রিটিশ যুগের সেই ব্যবস্থার সম্পূর্ণ বিপরীত ছিল যেখানে দক্ষ শিল্পীদের উৎসাহিত করতে রাজারা প্রায়ই করমুক্ত জমি দান করতেন।

৩। চিপকো আন্দোলনের পটভূমি, উদ্দেশ্য এবং গুরুত্ব ব্যাখ্যা করো। 

উত্তরঃ চিপকো আন্দোলনের পটভূমি, উদ্দেশ্য এবং গুরুত্ব:

(ক) পটভূমি: ১৯৭০-এর দশকে তৎকালীন উত্তরপ্রদেশের (বর্তমান উত্তরাখণ্ড) গারোয়াল হিমালয় অঞ্চলে নির্বিচারে গাছ কাটার বিরুদ্ধে এই আন্দোলনের সূত্রপাত হয়। সরকার স্থানীয় গ্রামবাসীদের জীবনধারণের জন্য প্রয়োজনীয় বনের কাঠ ব্যবহারের অনুমতি না দিয়ে একটি ক্রীড়া সরঞ্জাম প্রস্তুতকারী সংস্থাকে (বাণিজ্যিক স্বার্থে) গাছ কাটার অনুমতি দেয়। ১৯৭৩ সালে চামোলী জেলার মন্ডল গ্রামে ঠিকাদারের লোকরা যখন গাছ কাটতে আসে, তখন স্থানীয় গ্রামবাসীরা গাছকে জড়িয়ে ধরে বাধা দেন। এই ঘটনার মাধ্যমেই ‘চিপকো’ আন্দোলনের জন্ম হয়।

(খ) আন্দোলনের প্রকৃতি ও নেতৃত্ব: ‘চিপকো’ শব্দের অর্থ হলো ‘জড়িয়ে ধরা’ বা ‘আলিঙ্গন করা। আন্দোলনের মূল বৈশিষ্ট্য ছিল অহিংসা। যখনই কোনো গাছ কাটতে আসা হতো, বিশেষ করে মহিলারা সেই গাছকে বুকে জড়িয়ে ধরে দাঁড়িয়ে থাকতেন। এই আন্দোলনের প্রধান নেতৃত্বে ছিলেন সুন্দরলাল বহুগুণা (যিনি ‘হিমালয় বাঁচাও’ স্লোগান দিয়েছিলেন) এবং চণ্ডীপ্রসাদ ভাট। এছাড়া গৌরী দেবী, সুদেশা দেবী এবং বচনী দেবীর মতো মহিলারা এই আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছিলেন।

(গ) মূল উদ্দেশ্য:

(i) পরিবেশ রক্ষা: হিমালয় অঞ্চলের ভঙ্গুর বাস্তুতন্ত্র রক্ষা করা এবং নির্বিচারে বন নিধন রোধ করে ধস ও বন্যা নিয়ন্ত্রণ করা।

(ii) বাণিজ্যিক শোষণ বন্ধ করা: বাইরের বড় কোম্পানিগুলোর বাণিজ্যিক স্বার্থে বনাঞ্চল উজাড় করা বন্ধ করা।

(iii) স্থানীয় অধিকার: বনজ সম্পদের ওপর স্থানীয় আদিবাসী এবং গ্রামবাসীদের চিরাচরিত অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা।

(iv) টেকসই উন্নয়ন: বন ভিত্তিক ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের বিকাশ ঘটানো যাতে স্থানীয় মানুষ উপকৃত হয় (যা আপনার উৎসে বর্ণিত প্রাক-ব্রিটিশ আসামের স্বয়ম্ভর ব্যবস্থার সঙ্গে তুলনীয়।

(ঘ) গুরুত্ব ও প্রভাব:

(i) নারীশক্তির জয়: চিপকো আন্দোলন ভারতের ইতিহাসে নারীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের এক অনন্য উদাহরণ। এটি প্রমাণ করে যে সাধারণ মহিলারাও পরিবেশ রক্ষায় বিশ্বজুড়ে নেতৃত্ব দিতে পারেন।

(ii) আইনি বিজয়: এই আন্দোলনের চাপে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী হিমালয় অঞ্চলে ১৫ বছরের জন্য গাছ কাটার ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করতে বাধ্য হন।

(iii) পরিবেশবাদী দর্শনের জন্ম: চিপকো আন্দোলন কেবল গাছ রক্ষা নয়, বরং ‘বাস্তুতন্ত্রই স্থায়ী অর্থনীতি’ — এই নতুন দর্শনের জন্ম দেয়।

(iv) বিশ্বব্যাপী অনুপ্রেরণা: এই আন্দোলন পরবর্তীকালে দক্ষিণ ভারতের ‘আপ্পিকো’ আন্দোলন, রাজস্থানের পরিবেশ রক্ষা এবং ‘নর্মদা বাঁচাও’-এর মতো গণআন্দোলনগুলোকে গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করেছিল।

৪। স্বাধীনোত্তর কালে আসামের প্রাকৃতিক পরিবেশে ভূমিকম্প এবং বন্যার প্রভাব আলোচনা করো। 

উত্তরঃ স্বাধীনোত্তর কালে আসামের প্রাকৃতিক পরিবেশে ভূমিকম্প এবং বন্যার প্রভাব:

(ক) ১৯৫০ সালের ভূমিকম্প এবং নদীর রূপান্তর: ১৯৫০ সালের ১৫ আগস্ট সংঘটিত ৮.৬ মাত্রার ভূমিকম্পটি ছিল আধুনিক ইতিহাসের অন্যতম শক্তিশালী ভূমিকম্প। এটি আসামের ভূ-প্রকৃতিকে আমূল বদলে দেয়।

(i) নদীর তলদেশ উত্থান: এই ভূমিকম্পের ফলে ব্রহ্মপুত্র এবং তার প্রধান উপনদীগুলোর তলদেশ কয়েক মিটার ওপরে উঠে যায়। ফলে নদীর জলধারণ ক্ষমতা নাটকীয়ভাবে কমে যায়।

(ii) গতিপথ পরিবর্তন: ভূমিকম্পের ফলে সৃষ্ট পাহাড়ধস নদীর স্বাভাবিক গতিপথকে রুদ্ধ করে এবং অনেক জায়গায় নদী তার পুরনো খাত পরিবর্তন করে নতুন জনবসতিপূর্ণ এলাকা প্লাবিত করতে শুরু করে।

(খ) বন্যার ভয়াবহতা ও স্থায়িত্ব: ভূমিকম্পের পর থেকেই আসামে বন্যার চরিত্র বদলে গেছে। নদীর তলদেশ উঁচু হওয়ায় বর্ষাকালে সামান্য বৃষ্টিতেই নদী দুই কূল ছাপিয়ে ভয়াবহ বন্যার সৃষ্টি করে।

(i) জানমালের ক্ষয়ক্ষতি: প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ মানুষ গৃহহীন হয়, ফসল নষ্ট হয় এবং গবাদি পশুর ব্যাপক মৃত্যু ঘটে। এটি আসামের কৃষিভিত্তিক অর্থনীতির মেরুদণ্ড ভেঙে দিচ্ছে।

(ii) মাজুলীর সংকট: বিশ্বের বৃহত্তম নদী দ্বীপ মাজুলী প্রতি বছর তীব্র ভূমিক্ষয়ের শিকার হচ্ছে। আপনার তথ্যানুযায়ী, এই দ্বীপের আয়তন ক্রমান্বয়ে সংকুচিত হচ্ছে, যা সেখানকার অনন্য সত্র সংস্কৃতি ও জীববৈচিত্র্যের জন্য চরম হুমকি।

(গ) নগরায়ন ও পাহাড়ধস: স্বাধীনোত্তর কালে আসামে দ্রুত ও অপরিকল্পিত নগরায়ন শুরু হয়।

(i) জনসংখ্যা বৃদ্ধি ও পাহাড় দখল: বিশেষ করে গুয়াহাটির মতো প্রধান শহরগুলোতে জনসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে মানুষ পাহাড়ের ঢালে বসতি স্থাপন করতে শুরু করেছে। এর ফলে বনভূমি ধ্বংস হচ্ছে এবং মাটির বাঁধন আলগা হয়ে যাচ্ছে।

(ii) ভূমিস্খলন: এই অপরিকল্পিত নগরায়নের প্রত্যক্ষ ফল হলো বর্ষাকালে মারাত্মক ভূমিস্খলন। গুয়াহাটির পাহাড়গুলোতে প্রায়ই পাহাড়ধসে প্রাণহানি ও ঘরবাড়ি ধ্বংসের ঘটনা ঘটে,যা জনজীবনকে চরম বিপর্যয়ের মুখে ঠেলে দিচ্ছে।

(ঘ) ঐতিহাসিক বৈপরীত্য: প্রদত্ত উৎস অনুযায়ী, প্রাক-ব্রিটিশ আসামে নদীগুলো ছিল আশীর্বাদস্বরূপ। নদী থেকে সোনা ও রুপা সংগ্রহ করা হতো এবং নদীপথ ছিল যাতায়াত ও বাণিজ্যের প্রধান মাধ্যম। আহোম যুগে নদী ব্যবস্থাপনার জন্য সুশৃঙ্খল পাইক প্রথা ছিল। কিন্তু বর্তমান সময়ে প্রাকৃতিক বিপর্যয় এবং মানুষের হস্তক্ষেপের ফলে সেই সমৃদ্ধ নদীগুলোই এখন জনজীবনের আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

৫। আহোম আমলে আসামের হস্তী সম্পদ এবং ‘হস্তীবিদ্যার্ণব’ গ্রন্থের তাৎপর্য বর্ণনা করো।

উত্তরঃ আহোম আমলে আসামের হস্তী সম্পদ এবং ‘হস্তীবিদ্যার্ণব’-এর তাৎপর্য:

(ক) হস্তী সম্পদের গুরুত্ব ও ব্যবস্থাপনা: আহোম যুগে হাতি ছিল রাজকীয় মর্যাদার অন্যতম অংশ। হাতি ধরা, সেগুলোকে প্রশিক্ষণ দেওয়া এবং তাদের রক্ষণাবেক্ষণের জন্য একটি সুশৃঙ্খল প্রশাসনিক কাঠামো ছিল। আপনার তথ্য অনুযায়ী, ‘হাতীবরুয়া’ নামক উচ্চপদস্থ আধিকারিক এই পুরো ব্যবস্থার তদারকি করতেন। হাতি কেবল যুদ্ধের কাজেই নয়, রাজকীয় মৃগয়া (শিকার) এবং উপহার হিসেবেও ব্যবহৃত হতো। এছাড়া বড় বড় নৌকার সাহায্যে হাতি এবং যুদ্ধাস্ত্র এক স্থান থেকে অন্য স্থানে আনা-নেওয়া করা হতো।

(খ) হস্তী দাঁতের শিল্প ও রাজকীয় পৃষ্ঠপোষকতা: উৎসে বর্ণিত তথ্য অনুযায়ী, প্রাক-ব্রিটিশ আসামে হস্তী দাঁতের শিল্প ছিল অত্যন্ত উন্নত মানের।

(i) উৎপাদিত সামগ্রী: হাতির দাঁত ব্যবহার করে অলঙ্কার, বাসনপত্র, ছোট আসবাব, চিরুনি, আয়নার ফ্রেম, দা বা খাড়ুর হাতল এবং পাখা ইত্যাদি তৈরি করা হতো। এমনকি হাতির দাঁতের পাতের ওপর পুঁথি লেখার রেওয়াজও ছিল।

(ii) দক্ষ কারিগর ও ভূমি দান: এই শিল্পের সাথে জড়িত কারিগরদের ‘বক্তার খনিকর’ বলা হত। ঐতিহাসিকভাবে জানা যায়, এঁরা মূলত মুসলিম ধর্মাবলম্বী ছিলেন। আহোম রাজারা এই শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখতে এবং কারিগরদের উৎসাহিত করতে তাঁদের বিনা রাজস্বে বাসযোগ্য ভূমি প্রদান করতেন।

(গ) হাতি ধরার সরঞ্জাম ও পদ্ধতি: হাতি ধরার জন্য স্থানীয় সম্পদ ব্যবহার করা হতো। যেমন—বাঁশ দিয়ে তৈরি এক ধরনের বিশেষ সরঞ্জাম, যাকে ‘খাটাং’ বলা হতো, তা হাতির পা বাঁধার জন্য ব্যবহৃত হতো। এছাড়া হাতি ধরার বিশেষ প্রক্রিয়া এবং সেগুলোকে বশ করার পদ্ধতি তৎকালীন কারিগর ও মাহুতদের জানা ছিল।

(ঘ) ‘হস্তীবিদ্যার্ণব’ গ্রন্থের তাৎপর্য: স্বর্গদেউ শিবসিংহের রাজত্বকালে সুকুমার বরকায়েত রচিত এবং দিলবর ও দোসাই নামক দুই চিত্রকরের অলঙ্করণে সমৃদ্ধ ‘হস্তীবিদ্যার্ণব’ গ্রন্থটি আসামের হস্তীবিদ্যার এক অনন্য দলিল। 

এই গ্রন্থের গুরুত্ব অপরিসীম:

(i) শ্রেণীবিভাগ ও বৈশিষ্ট্য: এতে হাতির বিভিন্ন প্রকারভেদ, তাদের শারীরিক বৈশিষ্ট্য এবং প্রকৃতি অনুযায়ী তাদের আচরণের বিস্তারিত বর্ণনা আছে।

(ii) চিকিৎসা বিজ্ঞান: হাতির বিভিন্ন রোগ এবং সেগুলোর প্রতিকারের জন্য লতাপাতা বা ভেষজ ওষুধের বিধান এই গ্রন্থে উল্লেখ করা হয়েছে।

(ii) চিত্রকলা: গ্রন্থটিতে থাকা রঙিন চিত্রসমূহ তৎকালীন আসামের পোশাক-পরিচ্ছদ, রাজদরবারের আদব-কায়দা এবং প্রাকৃতিক পরিবেশের এক জীবন্ত দলিল হিসেবে কাজ করে। 

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Scroll to Top