Class 12 Swadesh Adhyayan Important Chapter 6 আসামের রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহ (১৮২৬-১৯৮৫)

Class 12 Swadesh Adhyayan Important Chapter 6 আসামের রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহ (১৮২৬-১৯৮৫) Question Answer Bengali Medium As Per The New Syllabus to each chapter is provided in the list so that you can easily browse through different chapters ASSEB Class 12 Swadesh Adhyayan Important Chapter 6 আসামের রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহ (১৮২৬-১৯৮৫) Notes and select need one. AHSEC Class 12 Swadesh Adhyayan Important Chapter 6 আসামের রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহ (১৮২৬-১৯৮৫) Solutions Download PDF. HS 2nd Year Swadesh Adhyayan Additional Question Answer Bengali Medium.

Class 12 Swadesh Adhyayan Important Chapter 6 আসামের রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহ (১৮২৬-১৯৮৫)

Also, you can read the NCERT book online in these sections Solutions by Expert Teachers as per Central Board of Secondary Education (CBSE) Book guidelines. ASSEB Class 12 Swadesh Adhyayan Important Notes Bengali Medium are part of All Subject Solutions. Here we have given HS 2nd Year Swadesh Adhyayan Extra Solutions Bengali Medium for All Chapters, You can practice these here.

Chapter: 6

দ্বিতীয় ভাগঃ ইতিহাস
ADDITIONAL QUESTION ANSWER

(ক) অতি চমু প্রশ্ন উত্তর।

১। অভিবাসন কাকে বলে? 

উত্তরঃ খাদ্য, আশ্রয়, নিরাপত্তা বা উন্নত জীবনযাত্রার সন্ধানে মানুষ যখন এক স্থান থেকে অন্য স্থানে স্থায়ীভাবে বসবাস করতে যায়, তাকে অভিবাসন বলে।

২। আন্তঃদেশিক অভিবাসন কী? 

উত্তরঃ একই দেশের এক অঞ্চল থেকে অন্য অঞ্চলে গমন করাকে আন্তঃদেশিক অভিবাসন বলা হয়।

৩। আন্তর্জাতিক অভিবাসন বলতে কী বোঝায়? 

উত্তরঃ এক দেশ থেকে অন্য দেশে গমন করাকে আন্তর্জাতিক অভিবাসন বলা হয়।

৪। শরণার্থী ও অনুপ্রবেশকারীর মধ্যে পার্থক্য কী? 

উত্তরঃ আইনগত নথিপত্র সহ যারা এক দেশ থেকে অন্য দেশে যান তারা বৈধ অভিবাসী বা শরণার্থী; অন্যদিকে নথিপত্রহীন ভাবে যারা প্রবেশ করেন তারা অনুপ্রবেশকারী।

৫। আহোম রাজত্বকালে বিদেশীদের কীভাবে গণ্য করা হতো? 

উত্তরঃ আহোম শাসকরা বাইরে থেকে আসা ব্যক্তিদের ‘বিদেশী’ বা ‘বহিরাগত’ বলতেন, কিন্তু তাদের প্রতি শ্রদ্ধার মনোভাব পোষণ করতেন এবং তারা অসমীয়া সমাজের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছিলেন।

৬। কবে এবং কে আসামে চা-গাছ আবিষ্কার করেন?

উত্তরঃ ১৮২৩ খ্রিস্টাব্দে রবার্ট ব্রুস নামক একজন স্কটিশ ব্যবসায়ী আসামের জঙ্গলে প্রথম চা-গাছ আবিষ্কার করেন।

৭। চা-বাগানের শ্রমিকরা প্রধানত কোন অঞ্চল থেকে আসতেন? 

উত্তরঃ চা-বাগানের শ্রমিকরা মূলত বিহার, উড়িষ্যা, উত্তরপ্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ এবং দক্ষিণ ভারতের বিভিন্ন আদিবাসী সম্প্রদায় (যেমন সাঁওতাল, কোল, মুণ্ডা ইত্যাদি) থেকে আসতেন।

৮। ‘অধিক খাদ্য উৎপাদন নীতি’ কেন নেওয়া হয়েছিল?

উত্তরঃ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় সেনাবাহিনী ও জনগণের খাদ্যের প্রয়োজন মেটানোর জন্য ১৯৪৩ খ্রিস্টাব্দে তৎকালীন সরকার এই নীতি গ্রহণ করেছিল।

৯। ‘লাইন প্রথা’ কী? 

উত্তরঃ ১৯২০ খ্রিস্টাব্দে প্রবর্তিত এই প্রথা অনুযায়ী বহিরাগতদের নির্দিষ্ট এলাকায় বসতি স্থাপনের জন্য জমি ভাগ করে দেওয়া হতো এবং স্থানীয়দের থেকে তাদের পৃথক রাখার চেষ্টা করা হতো।

১০। ‘কলোনাইজেশন স্কিম’ কী ছিল? 

উত্তরঃ পূর্ববঙ্গ থেকে আসা পরিশ্রমী কৃষকদের আসামে স্থায়ীভাবে বসবাসের সুবিধা দেওয়ার জন্য সরকার বরপেটা, নওগাঁও ও মঙ্গলদৈ জেলায় এই বিশেষ প্রকল্প গ্রহণ করেছিল।

১১। ১৯৫৫ সালের ভারতীয় নাগরিকত্ব আইন অনুযায়ী কারা নাগরিকত্ব পেতে পারেন?

উত্তরঃ ১৯৫৫ সালের আইন অনুযায়ী হিন্দু, মুসলমান বা যে কোনো ধর্মাবলম্বী অভিবাসী সংবিধানে উল্লিখিত শর্ত পূরণ সাপেক্ষে ভারতীয় নাগরিকত্ব লাভ করতে পারেন।

১২। আসাম চুক্তি কবে স্বাক্ষরিত হয়? 

উত্তরঃ ১৯৮৫ সালের ১৫ আগস্ট কেন্দ্রীয় সরকার এবং আন্দোলনকারীদের মধ্যে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

১৩। ১৯৭১ সালের বাংলাদেশ যুদ্ধের প্রভাব কী ছিল? 

উত্তরঃ এই যুদ্ধের সময় অগণিত শরণার্থী পূর্ব পাকিস্তান (বর্তমান বাংলাদেশ) থেকে ভারতে, বিশেষ করে আসামে প্রবেশ করে।

১৪। জনসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে আসামের ভূমির ওপর কী প্রভাব পড়েছে? 

উত্তরঃ অতিরিক্ত জনসংখ্যার চাপে বনভূমি, অভয়ারণ্য এবং চরাঞ্চল বেদখল হচ্ছে, যার ফলে প্রাকৃতিক ভারসাম্যের অবনতি ঘটছে।

১৫। সিহাবুদ্দিন তালিশ কে ছিলেন? 

উত্তরঃ তিনি মোগল সেনাপতি মীরজুমলার সঙ্গী হিসেবে আসামে এসেছিলেন এবং ‘তারিখ-ই-আসাম’ নামক গ্রন্থে তৎকালীন আসামের বিবরণ লিপিবদ্ধ করেছিলেন।

(খ) দীর্ঘ প্রশ্ন উত্তর।

১। আসামে চা-শিল্পের প্রতিষ্ঠা এবং এর ফলে জনবিন্যাসে আসা পরিবর্তনের ওপর একটি আলোকপাত করো।

উত্তরঃ  আসামে চা-শিল্পের প্রতিষ্ঠা: আসামের চা-শিল্পের ইতিহাসে অন্যতম প্রধান পথিকৃৎ ছিলেন মণিরাম দেওয়ান। তিনি ব্রিটিশদের অধীনে কাজ করার সময় চা-চাষের সম্ভাবনা সম্পর্কে অবহিত হন এবং পরবর্তীকালে নিজস্ব উদ্যোগে চিনামারা ও সেলুং নামক স্থানে দুটি চা-বাগান স্থাপন করেন। মণিরাম দেওয়ান ছিলেন সে সময়ের একজন প্রভাবশালী এবং ধনবান ব্যক্তি। যদিও ব্রিটিশরা মূলত বাণিজ্যিক স্বার্থে চা-শিল্পের বিস্তার ঘটিয়েছিল, মণিরাম দেওয়ানের মতো স্থানীয় অভিজাতদের অংশগ্রহণ এই শিল্পকে এক নতুন মাত্রা দিয়েছিল।

জনবিন্যাসে আসা পরিবর্তন:

(ক) শ্রমিকদের আগমন ও স্থায়ী বসবাস: চা-বাগানে কাজ করার জন্য ব্রিটিশ শাসনামলে আসামের বাইরে থেকে প্রচুর সংখ্যক শ্রমিককে নিয়ে আসা হয়েছিল। এই শ্রমিকদের একটি বড় অংশ পরবর্তীকালে আসামেই স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করে। এর ফলে আসামের জনসংখ্যার গঠন পরিবর্তিত হয় এবং একটি নতুন ‘চা-শ্রমিক’ গোষ্ঠীর উদ্ভব ঘটে।

(খ) জনসংখ্যা বৃদ্ধি: চা-শিল্প এবং অন্যান্য আর্থ-সামাজিক কারণে আসামে বহিরাগতদের আগমন অব্যাহত ছিল, যা রাজ্যের জনসংখ্যা বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রাখে। উদাহরণস্বরূপ, ১৯৪১ সালে আসাম ও সিলেটের সম্মিলিত জনসংখ্যা ছিল ৬৬ লক্ষ ৪৪ হাজার, যা ১৯৫১ সালে বেড়ে দাঁড়ায় ৮০ লক্ষ ২৯ হাজারে।

(গ) সামাজিক ও রাজনৈতিক সচেতনতা: চা-বাগানের শ্রমিকরা কেবল জনবিন্যাসেই পরিবর্তন আনেনি, বরং আসামের রাজনৈতিক আন্দোলনেও সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছিল। ১৯২১ সালের অসহযোগ আন্দোলনের সময় প্রায় ৮,০০০ চা-শ্রমিক মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে এবং ব্রিটিশ মালিকানাধীন বাগান ত্যাগ করে নিজেদের জন্মভিটায় ফিরে যাওয়ার উদ্দেশ্যে ধর্মঘট করেছিল।

(ঘ) শ্রমিক আইনের প্রবর্তন: স্বাধীনতা উত্তরকালে চা-বাগান শ্রমিকদের উন্নয়নের লক্ষ্যে ১৯৫১ সালে ‘শ্রমিক আইন’ বলবৎ করা হয়,যা এই বৃহৎ জনগোষ্ঠীর সামাজিক সুরক্ষাকে নিশ্চিত করতে সাহায্য করে।

২। পূর্ববঙ্গ থেকে আসামে কৃষক অভিবাসনের ঐতিহাসিক পটভূমি ও কারণগুলি আলোচনা করো। 

উত্তরঃ পূর্ববঙ্গ থেকে আসামে কৃষক অভিবাসনের ঐতিহাসিক পটভূমি ও কারণগুলি  বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:

ঐতিহাসিক পটভূমি: আসামে পূর্ববঙ্গ থেকে কৃষকদের আসার প্রক্রিয়া মূলত ব্রিটিশ শাসনামলে শুরু হয়েছিল। ব্রিটিশ শাসকরা আসামের বিশাল পতিত জমি ও জঙ্গল পরিষ্কার করে চাষাবাদের আওতায় আনার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছিলেন। এই প্রক্রিয়ায় ১৯৩৮ সালের আগে থেকেই আসামে বহিরাগত কৃষকদের স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি দেওয়া হতে থাকে। পরবর্তীকালে স্যার সাদ্দুল্লাহর নেতৃত্বাধীন সরকার এই অভিবাসন প্রক্রিয়াকে আরও ত্বরান্বিত করে।

অভিবাসনের প্রধান কারণসমূহ:

(ক) ভূমি উন্নয়ন প্রকল্প: ১৯৩৯ সালে সাদ্দুল্লাহ সরকারের আমলে ‘ভূমি উন্নয়ন প্রকল্প’ গ্রহণ করা হয়। এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য ছিল ভূমিহীন স্থানীয় মানুষ এবং ১৯৩৮ সালের আগে আসামে আসা বহিরাগতদের মধ্যে পতিত জমি বণ্টন করা। এর ফলে পূর্ববঙ্গের কৃষকরা আসামের উর্বর ভূমির প্রতি আকৃষ্ট হয়।

(খ) ‘অধিক খাদ্য উৎপাদন’ নীতি: দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় খাদ্য সংকট মোকাবিলায় ব্রিটিশ সরকার ‘Grow More Food’ বা অধিক খাদ্য উৎপাদন নীতি গ্রহণ করে। 

(গ) রাজনৈতিক উদ্দেশ্য: আসামের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে মুসলিম লীগের একটি বড় ভূমিকা ছিল। মুসলিম লীগ নেতারা পূর্ববঙ্গ থেকে আসা অভিবাসীদের সমর্থন করতেন। ১৯৪৬ সালে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ আসাম সফর করেন এবং আসামকে পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত করার পক্ষে জনমত গঠনের চেষ্টা করেন। 

(ঘ) দেশভাগ ও শরণার্থী সমস্যা: ১৯৪৭ সালে ভারত বিভাজনের পর পূর্ব পাকিস্তান (বর্তমান বাংলাদেশ) থেকে অগণিত মানুষ শরণার্থী হিসেবে আসামে প্রবেশ করে। ১৯৫১ সালের তথ্য অনুযায়ী, আসাম ও সিলেটের মিলিত জনসংখ্যা ছিল ৬৬ লক্ষ ৪৪ হাজার, যা দেশভাগের পর ১৯৫১ সালে কেবল আসামেই (সিলেট ব্যতীত) বেড়ে দাঁড়ায় ৮০ লক্ষ ২৯ হাজারে। এই বিশাল জনসংখ্যার একটি বড় অংশ ছিল পূর্ববঙ্গ থেকে আসা হিন্দু শরণার্থী।

৩। ‘লাইন প্রথা’ বলতে কী বোঝায়? এই প্রথার সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া কী ছিল?

উত্তরঃ ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে ‘লাইন প্রথা’ বলতে মূলত অভিবাসীদের বসতি স্থাপনের সীমানা নির্ধারণী নীতিকেই বোঝানো হয়। 

এই প্রথার সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া আলোচনা করা হলো:

ভূমি বন্দোবস্ত নীতি (লাইন প্রথার প্রেক্ষাপট): ১৯৩৯ সালে স্যার সাদ্দুল্লাহর নেতৃত্বাধীন সরকার ‘ভূমি উন্নয়ন প্রকল্প’ ঘোষণা করে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে ১৯৩৮ সালের আগে আসামে আসা অভিবাসীদের এবং স্থানীয় ভূমিহীনদের মধ্যে বিশেষ কিছু এলাকার পতিত জমি স্থায়ীভাবে বণ্টন করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়। এছাড়া, অভিবাসীদের বনাঞ্চল ও চারণ ভূমিতেও বসতি স্থাপনের সুযোগ দেওয়া হয়েছিল।

সামাজিক প্রতিক্রিয়া:

(ক) স্থানীয়দের অসন্তোষ: অভিবাসীদের এই ভূমি বন্দোবস্ত নীতি আসামের স্থানীয় জনগণের মধ্যে তীব্র অসন্তোষের সৃষ্টি করে। বিশেষ করে চারণ ভূমিতে অভিবাসীদের বসতি স্থাপন করায় স্থানীয় কৃষকরা ক্ষতির সম্মুখীন হয় এবং এর বিরুদ্ধে তারা প্রতিবাদ শুরু করে।

(খ) জনবিন্যাসে প্রভাব: বিপুল সংখ্যক অভিবাসীর আগমনে আসামের জনবিন্যাস পরিবর্তিত হতে থাকে, যা স্থানীয়দের মনে নিজেদের পরিচিতি ও ভাষা হারানোর ভয় তৈরি করে। এটি পরবর্তীকালে ‘ভাষা আন্দোলন’ এবং ‘আসাম আন্দোলন’-এর অন্যতম সামাজিক কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া:

(ক) কংগ্রেসের বিরোধিতা: অভিবাসীদের জমি দেওয়ার এই নীতির বিরুদ্ধে কংগ্রেসসহ অন্যান্য বিরোধী দলগুলো তীব্র প্রতিবাদ জানায়, যার ফলে ১৯৩৮ সালে সাদ্দুল্লাহ সরকারকে অনাস্থা প্রস্তাবের সম্মুখীন হতে হয়েছিল।

(খ) মুসলিম লীগের সমর্থন ও পাকিস্তানের দাবি: মুসলিম লীগ নেতারা এই অভিবাসন প্রক্রিয়াকে সমর্থন জানান। ১৯৪৬ সালে মহম্মদ আলী জিন্নাহ আসাম সফর করেন এবং অভিবাসীদের এই সংখ্যাবৃদ্ধিকে পুঁজি করে আসামকে প্রস্তাবিত পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত করার দাবি তোলেন, যা রাজ্যে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনার সৃষ্টি করে।

৪। দেশভাগ (১৯৪৭) এবং বাংলাদেশ যুদ্ধের (১৯৭১) ফলে আসামে বিদেশী সমস্যার বিবর্তন ব্যাখ্যা করো। 

উত্তরঃ ১৯৪৭ সালের দেশভাগ ও তার প্রভাব:

(ক) শরণার্থীর আগমন: দেশভাগের পরপরই তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান (বর্তমান বাংলাদেশ) থেকে অগণিত শরণার্থী আসামে প্রবেশ করে। ১৯৪১ সালে আসাম ও সিলেটের সম্মিলিত জনসংখ্যা ছিল ৬৬ লক্ষ ৪৪ হাজার, যা দেশভাগের পর ১৯৫১ সালে কেবল আসামেই (সিলেট ব্যতীত) বেড়ে দাঁড়ায় ৮০ লক্ষ ২৯ হাজারে।

(খ) আইনি পদক্ষেপ: অনুপ্রবেশের সমস্যা মোকাবিলায় ভারত সরকার ১৯৫০ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি ‘অভিবাসী (আসাম থেকে বহিষ্কার) আইন’ পাস করে। এই আইনের মূল লক্ষ্য ছিল অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের বহিষ্কারের অধিকার লাভ করা।

১৯৭১ সালের বাংলাদেশ যুদ্ধ ও নতুন সংকট:

(ক) বিপুল অনুপ্রবেশ: যুদ্ধের সময় প্রচুর মানুষ সীমান্ত পেরিয়ে আসামে আশ্রয় নেয়। যদিও যুদ্ধের শেষে অনেকে ফিরে যান, কিন্তু একটি বড় অংশ আসামেই থেকে যান।

(খ) সামাজিক ও অর্থনৈতিক চাপ: এই বিপুল জনসংখ্যার চাপে আসামের ভূমি, কর্মসংস্থান এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর ওপর তীব্র টান পড়ে,যা মুদ্রাস্ফীতি ও সামাজিক অস্থিরতার সৃষ্টি করে। ১৯৭৪ সালে সারা আসাম ছাত্র ইউনিয়ন প্রথমবার বিদেশী নাগরিকদের চিহ্নিত করার দাবি তোলে।

বিদেশী সমস্যার রাজনৈতিক বিবর্তন:

(ক) ভোটার তালিকায় নাম: ১৯৭৮ সালে মঙ্গলদৈ লোকসভা কেন্দ্রের উপ-নির্বাচনের সময় ভোটার তালিকায় বিপুল সংখ্যক বিদেশী নাগরিকের নাম অন্তর্ভুক্ত হওয়ার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। এর প্রতিবাদে সারা আসাম ছাত্র ইউনিয়ন এবং অসম গণ সংগ্রাম পরিষদ – এর নেতৃত্বে ‘আসাম আন্দোলন’ (১৯৭৯-১৯৮৫) শুরু হয়।

(খ) দাবি ও আন্দোলন: আন্দোলনকারীদের মূল দাবি ছিল—অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করা, ভোটার তালিকা থেকে তাদের নাম বাদ দেওয়া এবং তাদের আসাম থেকে বহিষ্কার করা।

 আসাম চুক্তি (১৯৮৫) ও সমস্যার নিষ্পত্তি:

(ক) এই চুক্তির প্রধান শর্ত ছিল: ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের পরে আসামে আসা সকল অবৈধ অভিবাসীকে চিহ্নিত করে বহিষ্কার করা হবে।

(খ) এই চুক্তির মাধ্যমেই দীর্ঘদিনের বিদেশী সমস্যার একটি সাংবিধানিক সমাধানের পথ তৈরি হয় এবং রাজ্যে পুনরায় শান্তি ফিরে আসে।

৫। অতিরিক্ত জনসংখ্যা বৃদ্ধি ও অনুপ্রবেশ আসামের জনজীবন, সংস্কৃতি এবং পরিবেশের ওপর কী ধরনের প্রভাব ফেলেছে? 

উত্তরঃ অতিরিক্ত জনসংখ্যার কারণে আসামে খাদ্য, বস্ত্র ও বাসস্থানের সংকট দেখা দিয়েছে এবং শিক্ষার হার ও কর্মসংস্থানের সুযোগ হ্রাস পেয়েছে। পরিবেশগতভাবে বনভূমি ও জলাভূমি ধ্বংস হওয়ায় প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে এবং প্রতিবছর বন্যার প্রকোপ বাড়ছে। এছাড়া বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর মধ্যে স্বার্থের সংঘাত তৈরি হওয়ায় পারস্পরিক সন্দেহ ও সাম্প্রদায়িক অস্থিরতা বৃদ্ধি পেয়েছে, যা অসমীয়া ভাষা ও সংস্কৃতির স্বকীয়তার ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।এই উত্তরগুলো আপনার পাঠ্যবইয়ের তথ্যের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে। আপনার আরও তথ্যের প্রয়োজন হলে জানাতে পারেন।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Scroll to Top