Class 12 Swadesh Adhyayan Important Chapter 5 মানচিত্র অধ্যয়ন এবং ভৌগলিক তথ্যের উপস্থাপন

Class 12 Swadesh Adhyayan Important Chapter 5 মানচিত্র অধ্যয়ন এবং ভৌগলিক তথ্যের উপস্থাপন Question Answer Bengali Medium As Per The New Syllabus to each chapter is provided in the list so that you can easily browse through different chapters ASSEB Class 12 Swadesh Adhyayan Important Chapter 5 মানচিত্র অধ্যয়ন এবং ভৌগলিক তথ্যের উপস্থাপন Notes and select need one. AHSEC Class 12 Swadesh Adhyayan Important Chapter 5 মানচিত্র অধ্যয়ন এবং ভৌগলিক তথ্যের উপস্থাপন Solutions Download PDF. HS 2nd Year Swadesh Adhyayan Additional Question Answer Bengali Medium.

Class 12 Swadesh Adhyayan Important Chapter 5 মানচিত্র অধ্যয়ন এবং ভৌগলিক তথ্যের উপস্থাপন

Also, you can read the NCERT book online in these sections Solutions by Expert Teachers as per Central Board of Secondary Education (CBSE) Book guidelines. ASSEB Class 12 Swadesh Adhyayan Important Notes Bengali Medium are part of All Subject Solutions. Here we have given HS 2nd Year Swadesh Adhyayan Extra Solutions Bengali Medium for All Chapters, You can practice these here.

Chapter: 5

প্রথম ভাগ: ভূগোল
ADDITIONAL QUESTION ANSWER

(ক) অতি চমু প্রশ্ন উত্তর।

১। ইয়াণ্ডাবুর চুক্তি কত সালে এবং কাদের মধ্যে স্বাক্ষরিত হয়েছিল? 

উত্তরঃ ১৮২৬ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি ব্রহ্মদেশ (মায়ানমার) এবং ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির প্রতিনিধিদের মধ্যে ইয়াণ্ডাবুর চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল।

২। প্রথম ব্রিটিশ বিরোধী বিদ্রোহের মূল লক্ষ্য কী ছিল? 

উত্তরঃ ১৮২৮ সালে শুরু হওয়া এই বিদ্রোহের লক্ষ্য ছিল ব্রিটিশদের তাড়িয়ে অহোম রাজবংশের রাজপুত্র গোমধুর কোঁয়রকে সিংহাসনে বসানো।

৩। আসামে ‘ফুলাগুড়ি ধাওয়া’ কী এবং এটি কবে ঘটেছিল? 

উত্তরঃ ১৮৬১ সালে নওগাঁ জেলার ফুলাগুড়িতে আফিম চাষ নিষিদ্ধকরণ এবং কর বৃদ্ধির প্রতিবাদে কৃষকদের যে বিদ্রোহ হয়েছিল, তাকে ‘ফুলাগুড়ি ধাওয়া’ বলা হয়।

৪। মণিরাম দেওয়ানকে কেন মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল? 

উত্তরঃ ১৮৫৭ সালের বিদ্রোহে ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা এবং কন্দপেশ্বর সিংহকে সিংহাসনে বসানোর পরিকল্পনার অভিযোগে তাকে ফাঁসি দেওয়া হয়েছিল।

৫। যোরহাট সার্বজনীন সভা কে এবং কত সালে প্রতিষ্ঠা করেন?

উত্তরঃ জগন্নাথ বরুয়া ১৮৮৪ সালে যোরহাট সার্বজনীন সভা প্রতিষ্ঠা করেন।

৬। আসাম অ্যাসোসিয়েশন কত সালে গঠিত হয়? 

উত্তরঃ ১৯০৩ সালে আসামের জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণের উদ্দেশ্যে এটি গঠিত হয়েছিল।

৭। পাথারুঘাটের কৃষক বিদ্রোহ কবে সংঘটিত হয়েছিল? 

উত্তরঃ ১৮৯৪ সালের ২৮ জানুয়ারি দরং জেলার পাথারুঘাটে এই বিদ্রোহ হয়েছিল।

৮। ১৯৪২ সালের ভারত ছাড়ো আন্দোলনে আসামের কোন কিশোরী শহীদ হন? 

উত্তরঃ গহপুরের ১৫ বছর বয়সী কিশোরী কনকলতা বরুয়া পুলিশের গুলিতে শহীদ হন।

৯। আসাম চুক্তি কবে স্বাক্ষরিত হয়েছিল? 

উত্তরঃ ১৯৮৫ সালের ১৫ আগস্ট তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধী এবং আসাম আন্দোলনের নেতাদের মধ্যে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

১০। আসামের প্রথম আঞ্চলিক রাজনৈতিক দলটির নাম কী?

উত্তরঃ আসাম গণ পরিষদ (AGP), যা ১৯৮৫ সালে গঠিত হয়।

১১। ১৯২১ সালে আসামে অসহযোগ আন্দোলন কার ভ্রমণে গতি পেয়েছিল?

উত্তরঃ ১৯২১ সালে মহাত্মা গান্ধীর আসাম ভ্রমণের ফলে এই আন্দোলন ব্যাপক আকার ধারণ করে।

১২। ক্যাবিনেট মিশনের প্রস্তাব অনুযায়ী আসামকে কোন বিভাগের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল? 

উত্তরঃ  (Group C) বিভাগে, যেখানে বাংলা ও আসামকে একসঙ্গে রাখার প্রস্তাব ছিল।

১৩। মিলসের প্রতিবেদন কবে পেশ করা হয়েছিল? 

উত্তরঃ ১৮৫৩ সালে বিচারক এ. জে. মফাত মিলস আসামের শাসন ব্যবস্থার ওপর এই প্রতিবেদন পেশ করেন।

১৪। ভাষা আন্দোলন কবে এবং কেন শুরু হয়েছিল?

উত্তরঃ ১৯৬০ সালে অসমীয়া ভাষাকে রাজ্যের সরকারি ভাষা হিসেবে স্বীকৃতির দাবিতে এই আন্দোলন শুরু হয়।

১৫। আসামে স্বরাজ দল কার নেতৃত্বে গঠিত হয়েছিল? 

উত্তরঃ তরুণরাম ফুকন এবং রোহিণী কুমার চৌধুরীর নেতৃত্বে আসামে স্বরাজ দল গঠিত হয়।

(খ) দীর্ঘ প্রশ্ন উত্তর।

১। ইয়াণ্ডাবুর চুক্তির প্রধান শর্তাবলি এবং আসামের ইতিহাসে এর রাজনৈতিক গুরুত্ব আলোচনা করো। 

উত্তরঃ ইয়াণ্ডাবুর চুক্তির প্রধান শর্তগুলোর মধ্যে ছিল: 

(ক) আঞ্চলিক ত্যাগ: বার্মা সরকার আসাম, মণিপুর, আরাকান এবং তেনাসরিম অঞ্চলগুলো ব্রিটিশদের হাতে ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়। 

(খ) হস্তক্ষেপ বন্ধ: বার্মা কাছাড় এবং জয়ন্তিয়া রাজ্যের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে ভবিষ্যতে কোনো ধরণের হস্তক্ষেপ না করার প্রতিশ্রুতি দেয়।

(গ) যুদ্ধক্ষতিপূরণ: যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ হিসেবে বার্মা সরকারকে ব্রিটিশদের এক কোটি টাকা (বা এক মিলিয়ন পাউন্ড স্টার্লিং) প্রদান করার শর্ত দেওয়া হয়। 

(ঘ)  মণিপুরের স্বাধীনতা: বার্মা মণিপুরকে একটি স্বাধীন রাজ্য হিসেবে স্বীকৃতি দিতে এবং রাজা গম্ভীর সিং-কে তার সিংহাসনে পুনরায় বসাতে সম্মত হয়। 

(ঙ) রাজনৈতিক দূত নিয়োগ: বার্মার রাজধানী আভা এবং ব্রিটিশ ভারতের রাজধানী কলকাতায় উভয় পক্ষের রাজনৈতিক প্রতিনিধি বা রেসিডেন্ট রাখার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। 

আসামের ইতিহাসে এই চুক্তির রাজনৈতিক গুরুত্ব:

(ক) আহোম শাসনের অবসান: এই চুক্তির ফলে আসামে প্রায় ৬০০ বছরের আহোম রাজবংশের শাসনের চূড়ান্ত অবসান ঘটে। আহোম রাজারা তাদের ক্ষমতা হারান এবং আসাম একটি কেন্দ্রীয় রাজতান্ত্রিক ব্যবস্থা থেকে ব্রিটিশদের অধীনে চলে যায়। 

(খ) ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের সূচনা: ইয়াণ্ডাবু চুক্তি আসামে ব্রিটিশদের সরাসরি রাজনৈতিক কর্তৃত্ব স্থাপনের পথ প্রশস্ত করে। এর মাধ্যমে আসাম ব্রিটিশ ভারতের একটি অংশে পরিণত হয়। 

(গ) অরাজকতার অবসান: মান বা বার্মিজদের দীর্ঘকালীন নৃশংস আক্রমণ ও অত্যাচার (যা ‘মানর দিন’ নামে পরিচিত) থেকে আসামের মানুষ এই চুক্তির মাধ্যমেই স্থায়ী মুক্তি পায়। 

(ঘ) প্রশাসনিক ও বিচারিক পরিবর্তন: ব্রিটিশরা আসামের দায়িত্ব নেওয়ার পর পুরনো শাসন ব্যবস্থার পরিবর্তে পাশ্চাত্য ধাঁচের প্রশাসনিক, বিচারিক এবং ভূমি রাজস্ব ব্যবস্থা প্রবর্তন করে।

(ঙ) ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক একত্রীকরণ: এই চুক্তির ফলেই আসাম রাজনৈতিকভাবে বৃহত্তর ভারতের সাথে যুক্ত হয় এবং আধুনিক আসামের বর্তমান ভৌগোলিক সীমারেখা তৈরির প্রক্রিয়া শুরু হয়।

২। আসামের কৃষক বিদ্রোহগুলোর (বিশেষ করে ফুলাগুড়ি ও পাথারুঘাট) কারণ ও গুরুত্ব বিশ্লেষণ করো। 

উত্তরঃ আসামের কৃষক বিদ্রোহের কারণসমূহ:

(ক) অতিরিক্ত ভূমি রাজস্ব: ব্রিটিশ সরকার আসাম দখল করার পর দফায় দফায় জমির খাজনা বৃদ্ধি করে। ১৮৯৩-৯৪ সালে কামরূপ ও দরং জেলায় ভূমি রাজস্ব প্রায় ৭০% থেকে ৮০% পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছিল, যা কৃষকদের পক্ষে পরিশোধ করা অসম্ভব ছিল। 

(খ) আফিম চাষে নিষেধাজ্ঞা (ফুলাগুড়ির ক্ষেত্রে): ১৮৬১ সালে ব্রিটিশ সরকার ব্যক্তিগতভাবে আফিম চাষ নিষিদ্ধ করে এবং এর ওপর উচ্চমূল্যের কর বসায়। তিবো বা লালুং জনজাতির কৃষকদের কাছে আফিম চাষ ছিল ঐতিহ্যের অংশ এবং আয়ের উৎস। এছাড়া পান-তামাক ও অন্যান্য কৃষিজাত পণ্যের ওপর কর বসানোর গুজবও ক্ষোভ বাড়িয়ে দিয়েছিল। 

(গ) নগদ খাজনা আদায়: আগে কৃষকরা দ্রব্যের বিনিময়ে বা শ্রমের মাধ্যমে কর দিতে পারত, কিন্তু ব্রিটিশরা নগদ মুদ্রায় খাজনা দেওয়ার নিয়ম চালু করায় কৃষকরা মহাজনদের ঋণের জালে আটকা পড়ে। 

ফুলাগুড়ি ধাওয়া:  এটি ছিল আসামের ইতিহাসের প্রথম সুসংগঠিত কৃষক বিদ্রোহ। নগাঁও জেলার ফুলাগুড়ি অঞ্চলের কৃষকরা একত্রিত হয়ে আফিম চাষ নিষিদ্ধের প্রতিবাদে স্থানীয় প্রশাসনের কাছে বিক্ষোভ জানায়। এক পর্যায়ে বিক্ষোভকারীদের সাথে সংঘর্ষে ব্রিটিশ অফিসার লেফটেন্যান্ট সিঙ্গার নিহত হন। ব্রিটিশ বাহিনী অত্যন্ত নির্মমভাবে এই বিদ্রোহ দমন করে এবং বহু কৃষককে ফাঁসি দেওয়া হয়।

পাথারুঘাটের রণাঙ্গন: ১৮৯৪ সালে দরং জেলার পাথারুঘাটে বর্ধিত ভূমি রাজস্বের প্রতিবাদে কয়েক হাজার কৃষক এক প্রতিবাদ সভার আয়োজন করে। পুলিশ এবং সেনাবাহিনী নির্বিচারে গুলি চালিয়ে প্রায় ১৪০ জন কৃষককে (সরকারি হিসেবে কম) হত্যা করে। এই ঘটনাকে আসামের ইতিহাসে ‘আসামের জালিয়ানওয়ালাবাগ’ হিসেবে গণ্য করা হয়।

বিদ্রোহের গুরুত্ব:

(ক) জাতীয়তাবাদের সূচনা: এই বিদ্রোহগুলো আসামের সাধারণ মানুষের মনে সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী মনোভাবের জন্ম দেয় এবং ভবিষ্যতের স্বাধীনতা সংগ্রামের ভিত তৈরি করে।

(খ) সংহতি বৃদ্ধি: কৃষক বিদ্রোহগুলোতে জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে হিন্দু, মুসলিম এবং বিভিন্ন জনজাতির মানুষ একত্রিত হয়েছিল, যা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক অনন্য উদাহরণ।

(গ) রাইজ মেল-এর ভূমিকা: এই বিদ্রোহগুলোর মাধ্যমে ‘রাইজ মেল’ বা গ্রামীণ পঞ্চায়েত ব্যবস্থার রাজনৈতিক গুরুত্ব বৃদ্ধি পায়। কৃষকরা এই মেলের মাধ্যমেই তাদের ক্ষোভ ও দাবি ব্রিটিশদের কাছে পৌঁছে দিত। 

(ঘ) ব্রিটিশ নীতির পরিবর্তন: বিদ্রোহের পর ব্রিটিশ সরকার ভূমি রাজস্ব কিছুটা কমাতে বাধ্য হয় এবং স্থানীয়দের দাবিদাওয়া শোনার জন্য কিছু প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করে।

৩। ১৮৫৭ সালের বিদ্রোহে আসামে মণিরাম দেওয়ানের ভূমিকা এবং এই বিদ্রোহ ব্যর্থ হওয়ার কারণসমূহ বর্ণনা করো।

উত্তরঃ  ১৮৫৭ সালের বিদ্রোহে মণিরাম দেওয়ানের ভূমিকা:

(ক) রাজতন্ত্র পুনরুদ্ধারের প্রচেষ্টা: মণিরাম দেওয়ান চেয়েছিলেন ব্রিটিশ শাসনের অবসান ঘটিয়ে আহোম রাজবংশের শাসন পুনরায় প্রতিষ্ঠা করতে। তিনি যুবরাজ কন্দর্পেশ্বর সিংহকে আসামের সিংহাসনে বসানোর পরিকল্পনা করেছিলেন। 

(খ) যোগাযোগ ও সংগঠন: বিদ্রোহের সময় মণিরাম দেওয়ান কলকাতায় ছিলেন। সেখান থেকে তিনি কন্দর্পেশ্বর সিংহ এবং আসামের অন্যান্য বিশ্বস্ত ব্যক্তিদের কাছে গোপন চিঠি পাঠিয়ে বিদ্রোহের প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দেন।

(গ) সৈন্যবাহিনীর সাথে যোগাযোগ: ডিব্রুগড় এবং গোলঘাটে অবস্থানরত সিপাহীদের (বিশেষ করে ১ম আসাম লাইট ইনফ্যান্ট্রি) বিদ্রোহে যোগ দেওয়ার জন্য তিনি উৎসাহিত করেছিলেন।

(ঘ) কূটনৈতিক প্রচেষ্টা: তিনি ব্রিটিশ সরকারের কাছে আসামের স্বায়ত্তশাসনের দাবিতে একাধিক স্মারকলিপি প্রদান করেছিলেন, কিন্তু যখন তিনি বুঝতে পারেন যে আলোচনার মাধ্যমে স্বাধীনতা সম্ভব নয়, তখন তিনি সশস্ত্র বিদ্রোহের পথ বেছে নেন।

আসামে এই বিদ্রোহ ব্যর্থ হওয়ার কারণসমূহ:

(ক) চিঠি আদান-প্রদানে তথ্য ফাঁস: মণিরাম দেওয়ান কলকাতা থেকে যে গোপন চিঠিগুলো পাঠিয়েছিলেন, তার বেশ কিছু ব্রিটিশদের হাতে পড়ে যায়। শিবসাগরের তৎকালীন সিভিল সার্জন হারজুক রাজখোয়া এই গোপন ষড়যন্ত্রের কথা ব্রিটিশ কর্মকর্তাদের জানিয়ে দেন। 

(খ) মণিরাম দেওয়ানের অনুপস্থিতি: বিদ্রোহের মূল পরিকল্পনাকারী মণিরাম দেওয়ান নিজে আসামে উপস্থিত ছিলেন না। তিনি কলকাতায় থাকায় সরাসরি নেতৃত্ব প্রদান বা পরিস্থিতির তাৎক্ষণিক পরিবর্তন মোকাবিলা করা সম্ভব হয়নি। 

(গ) আধুনিক অস্ত্রের অভাব: বিদ্রোহী সিপাহী ও স্থানীয়দের কাছে পর্যাপ্ত উন্নত মানের অস্ত্রশস্ত্র ছিল না, যার বিপরীতে ব্রিটিশদের সামরিক শক্তি ও অস্ত্র ছিল অনেক বেশি শক্তিশালী। 

(ঘ) অভিজাত শ্রেণীর একাংশের অসহযোগিতা: আসামের তৎকালীন উচ্চবিত্ত এবং শিক্ষিত শ্রেণীর একটি বড় অংশ ব্রিটিশ শাসনের সমর্থক ছিল। তারা বিদ্রোহে সরাসরি অংশগ্রহণ করেনি, বরং অনেক ক্ষেত্রে ব্রিটিশদের সহায়তা করেছিল। 

৪। আসামে জাতীয়তাবাদী চেতনা জাগরণে সামাজিক-রাজনৈতিক সংগঠনগুলোর (যেমন—যোরহাট সার্বজনীন সভা ও আসাম অ্যাসোসিয়েশন) অবদান আলোচনা করো।

উত্তরঃ আসামে জাতীয়তাবাদী চেতনা জাগরণে সামাজিক-রাজনৈতিক সংগঠনের অবদান:

(ক) যোরহাট সার্বজনীন সভা: জগন্নাথ বরুয়ার নেতৃত্বে ১৮৮৪ সালে এটি গঠিত হয়। এটি ছিল আসামের প্রথম দিকের একটি প্রভাবশালী রাজনৈতিক সংগঠন।

(i) জনস্বার্থ রক্ষা: এই সভা ব্রিটিশ সরকারের বিভিন্ন গণবিরোধী নীতির (যেমন—অতিরিক্ত ভূমি রাজস্ব বৃদ্ধি) প্রতিবাদ করে এবং কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় সোচ্চার হয়।

(ii) রাজনৈতিক সচেতনতা: সাধারণ মানুষের মধ্যে তাদের অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করতে এবং ব্রিটিশ প্রশাসনের কাছে স্মারকলিপি প্রদানের মাধ্যমে নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলনের সূচনা করে।

(iii) শিক্ষা ও সমাজ সংস্কার: আসামে উচ্চশিক্ষা বিস্তার এবং বিভিন্ন সামাজিক সমস্যা সমাধানেও এই সভা গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ প্রদান করত।

(খ)  আসাম অ্যাসোসিয়েশন: মানিক চন্দ্র বরুয়া, জগন্নাথ বরুয়া এবং নবীন চন্দ্র বরদলৈ-এর মতো নেতাদের প্রচেষ্টায় ১৯০৩ সালে এটি গঠিত হয়। এটি আসামের জাতীয় রাজনীতিতে এক নতুন মাত্রা যোগ করে।

(i) প্রাদেশিক স্বার্থের প্রতিনিধিত্ব: আসাম অ্যাসোসিয়েশন মূলত তৎকালীন আসামের মানুষের মুখপত্র হিসেবে কাজ করত। প্রাদেশিক আইন সভায় আসামের প্রতিনিধিত্ব এবং জনগণের দাবিদাওয়া তুলে ধরার ক্ষেত্রে এটি ছিল প্রধান সংগঠন।

(ii) বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলন: ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ এবং আসামকে পূর্ববঙ্গের সাথে যুক্ত করার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে এই সংগঠন সক্রিয় ভূমিকা পালন করে, যা আসামের মানুষের মধ্যে তীব্র জাতীয়তাবাদী অনুভূতি সৃষ্টি করে।

(iii) শিক্ষার প্রসার: আসামে কটন কলেজের মতো উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপন এবং কারিগরি শিক্ষার দাবিতে এই অ্যাসোসিয়েশন ক্রমাগত চাপ সৃষ্টি করেছিল।

৫। ভারত ছাড়ো আন্দোলনে আসামের জনগণের অংশগ্রহণ এবং শহিদদের অবদান বিশ্লেষণ করো।

উত্তরঃ ভারত ছাড়ো আন্দোলনে আসামের জনগণের অংশগ্রহণ:

(ক) শান্তি সেনা ও মৃত্যু বাহিনী গঠন: আন্দোলনের সময় আসামে গ্রাম পর্যায়ে ‘শান্তি সেনা’ গঠন করা হয়েছিল। এছাড়া একদল নির্ভীক যুবককে নিয়ে ‘মৃত্যু বাহিনী’ তৈরি করা হয়, যারা দেশের জন্য প্রাণ দিতে প্রস্তুত ছিল। 

(খ) নারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ: আসামের মহিলারা এই আন্দোলনে নজিরবিহীন সাহসিকতা প্রদর্শন করেন। তাঁরা মিছিল, সভা এবং আইন অমান্য আন্দোলনে সামনের সারিতে ছিলেন। 

(গ) প্রশাসনিক অচলাবস্থা: ছাত্র ও সাধারণ মানুষ মিলে সরকারি অফিস, আদালত এবং থানায় জাতীয় পতাকা উত্তোলনের চেষ্টা করে। অনেক জায়গায় রেললাইন উপড়ে ফেলা এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন করার মাধ্যমে ব্রিটিশ প্রশাসনকে অচল করে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। 

আসামের শহিদদের অবদান:

এই আন্দোলনে আসামের বহু বীর সন্তান তাঁদের জীবন উৎসর্গ করেন। তাঁদের আত্মত্যাগ জাতীয় মুক্তি সংগ্রামকে তীব্রতর করেছিল:

(ক) কনকলতা বরুয়া ও মুকুন্দ কাকতি: গহপুর থানায় জাতীয় পতাকা উত্তোলন করতে গিয়ে মাত্র ১৭-১৮ বছর বয়সী কনকলতা বরুয়া পুলিশের গুলিতে শহিদ হন। তাঁর হাত থেকে পতাকাটি পড়ে যাওয়ার আগেই মুকুন্দ কাকতি তা তুলে ধরেন এবং তিনিও পুলিশের গুলিতে প্রাণ হারান।

(খ) কুশল কোঁয়র: ভারত ছাড়ো আন্দোলনের ইতিহাসে কুশল কোঁয়র এক অনন্য নাম। সরুপাথারে ট্রেন লাইনচ্যুত করার ষড়যন্ত্রের অভিযোগে ব্রিটিশ সরকার তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করে। ১৯৪৩ সালের ১৫ জুন যোরহাট জেলে তাঁকে ফাঁসি দেওয়া হয়। তিনি ছিলেন ১৯৪২-এর আন্দোলনের একমাত্র শহিদ যাকে ফাঁসি দেওয়া হয়েছিল।

(গ) ভোগেশ্বরী ফুকননী: নগাঁও জেলার বহরপুরে ব্রিটিশ পুলিশের অত্যাচারের প্রতিবাদ করতে গিয়ে ৮৫ বছর বয়সী এই বৃদ্ধা পুলিশের গুলিতে শহিদ হন।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Scroll to Top