SEBA Class 10 Social Science Important Chapter 10 ভারতীয় গণতন্ত্র

SEBA Class 10 Social Science Important Chapter 10 ভারতীয় গণতন্ত্র Question Answer Bengali Medium As Per New Syllabus to each chapter is provided in the list so that you can easily browse through different chapters SEBA Class 10 Social Science Important Chapter 10 ভারতীয় গণতন্ত্র Solutions and select need one. Class 10 Social Science Additional Notes in Bengali Medium Download PDF. SEBA Class 10 Social Science Important Question Answer.

SEBA Class 10 Social Science Important Chapter 10 ভারতীয় গণতন্ত্র

Also, you can read the NCERT book online in these sections Solutions by Expert Teachers as per Central Board of Secondary Education (CBSE) Book guidelines. SEBA Class 10 Social Science Important Notes in Bengali are part of All Subject Solutions. Here we have given Class 10 Social Science Additional Solutions for All Chapters, You can practice these here.

Chapter: 10

অতিরিক্ত প্রশ্নোত্তর

অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর : 

প্রশ্ন ১। ভারতীয় সংবিধান কখন হতে কার্যকরি হয় ? 

উত্তরঃ ১৯৫০ সনের ২৬ শে জানুয়ারী থেকে ভারতের সংবিধান কার্যকরি হয়েছে । 

প্রশ্ন ২। ২৬ শে জানুয়ারী দিনটি ভারতের কি দিবস হিসেবে পালন করা হয় ? 

উত্তরঃ ২৬ শে জানুয়ারী দিনটি ভারতে ‘ গণরাজ্য দিবস ‘ হিসেবে পালন করা হয় । 

প্রশ্ন ৩। ভারতে রাষ্ট্রের প্রধান কে ? 

উত্তরঃ রাষ্ট্রপতি । 

প্রশ্ন ৪। ভারতের জনসাধারণকে কি নাগরিকত্ব দেওয়া হয়েছে ?

উত্তরঃ একক নাগরিকত্ব ।

প্রশ্ন ৫। ভারতের খসড়া সংবিধান কখন গৃহীত হয় ? 

উত্তরঃ ১৯৪৯ সনের ২৬ শে নভেম্বর তারিখে খসড়া সংবিধান গৃহীত হয় । 

প্রশ্ন ৬। ভারতবর্ষে কয় ধরনের সরকার আছে ও কী কী ? 

উত্তরঃ ভারতবর্ষে দুই ধরনের সরকার আছে । যথা— 

( ১ ) কেন্দ্রীয় সরকার । ও 

( ২ ) রাজ্য সরকার । 

প্রশ্ন ৭। কোন সনে ‘ কেবিনেট মিশন ’ ভারতে এসেছিল ? 

উত্তরঃ ১৯৪৬ সনের মার্চ মাসে । 

প্রশ্ন ৮। সংবিধান সভা কোন সনে খসড়া কমিটি গঠন করেছিল ? 

উত্তরঃ সংবিধান সভা ১৯৪৭ সনের ২৯ শে আগষ্ট একটি খসড়া কমিটি গঠন করেছিল ।

প্রশ্ন ৯। খসড়া কমিটির অধ্যক্ষ কে ছিলেন ? 

উত্তরঃ ড . বি . আর . আম্বেদকর ।

প্রশ্ন ১০। ভারতীয় সংবিধানের রচনা কখন সম্পূর্ণ হয়েছিল ? 

উত্তরঃ ১৯৪৯ সনের ২৬ শে নভেম্বর তারিখে ভারতীয় সংবিধানের রচনা সম্পূর্ণ হয়েছিল । 

প্রশ্ন ১১। ভারত ধর্ম নিরপেক্ষ রাষ্ট্র কি না ? 

উত্তরঃ হ্যা , ভারত ধর্ম নিরপেক্ষ রাষ্ট্র । 

প্রশ্ন ১২। সংবিধান অনুসারে ভারত কি ধরনের রাষ্ট্র ? 

উত্তরঃ সংবিধান অনুসারে ভারত একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র । 

প্রশ্ন ১৩। ভারতে ক্ষমতার উৎস কে ?

উত্তরঃ ভারতে ক্ষমতার উৎস হল জনসাধারণ । 

প্রশ্ন ১৪। ভারতকে গণরাজ্য বলা হয় কেন ? 

উত্তরঃ যে রাষ্ট্রে রাষ্ট্রপ্রধান জনসাধারণের দ্বারা নির্বাচিত হন তাকে গণরাজ্য বলা হয় । ভারতের রাষ্ট্রপতি জনসাধারণের দ্বারা নির্বাচিত হন বলে ভারতকে গণরাজ্য বলা হয় । 

প্রশ্ন ১৫। ভারত পুঁজিবাদী না সমাজবাদী রাষ্ট্র ? 

উত্তরঃ ভারত সমাজবাদী রাষ্ট্র । 

প্রশ্ন ১৬। ভারতবর্ষে কি প্রকার সরকার স্থাপিত হয়েছে ? 

উত্তরঃ সংসদীয় গণতান্ত্রিক সরকার । 

প্রশ্ন ১৭। পৃথিবীর মধ্যে বৃহত্তম গণতান্ত্রিক দেশ কোনটি ? 

উত্তরঃ ভারতবর্ষ । 

প্রশ্ন ১৮। পৃথিবীতে সর্বপ্রথম কোথায় যুক্তরাষ্ট্রীয় পদ্ধতির প্রবর্তন হয়েছিল ? 

উত্তরঃ আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রে । 

প্রশ্ন ১৯। কোন সনে ‘ সাকারিয়া আয়োগ ‘ গঠন করা হয়েছিল ? 

উত্তরঃ ১৯৮৩ সনে ।

প্রশ্ন ২০। স্বাধীন ভারতের প্রথম রাষ্ট্রপতি কে ছিলেন ? 

উত্তরঃ ড . রাজেন্দ্র প্রসাদ । 

প্রশ্ন ২১। স্বাধীন ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী কে ছিলেন ? 

উত্তরঃ জওহরলাল নেহেরু । 

প্রশ্ন ২২। ‘ খসড়া কমিটি ’ কতজন সদস্য নিয়ে গঠিত হয় ? 

উত্তরঃ ‘ খসড়া কমিটি ’ সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত হয় । 

সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর 

প্রশ্ন ১। ভারতকে কেন ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র বলে ? 

উত্তরঃ ভারতের কোনো রাষ্ট্রিয় ধর্ম নেই । ভারতের নাগরিকদের ধর্মের ক্ষেত্রে স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে । সরকার সকল ধর্মের প্রতি সমান ব্যবহার , সকল ধর্মের লোককে সমান সুবিধা ও অধিকার দিয়েছে । ভারতে কোনো ধর্মের লোককে বিশেষ সুবিধা দেওয়া হয়নি । উপরোক্ত কারণে ভারতকে ধর্ম নিরপেক্ষ রাষ্ট্র বলে । 

প্রশ্ন ২। ভারতকে কেন গণরাজ্য বলে ?

উত্তরঃ ভারতে উত্তরাধিকারী সূত্রে কোনো ব্যক্তি রাষ্ট্রপ্রধান হতে পারে না । ভারতের রাষ্ট্রপ্রধানকে দেশের জনগণ নির্বাচিত করে । সেজন্য ভারতকে গণরাজ্য বলে । 

প্রশ্ন ৩। সংবিধান বলতে কী বুঝ ? এই সংবিধান ভারতে কখন গৃহীত হয়েছিল ? 

উত্তরঃ একটি দেশের বা জাতির শাসন ব্যবস্থা পরিচালনা করবার জন্য সর্বসাধারণের গ্রহণীয় লিখিত উদ্দেশ্য , কর্মপন্থা , আদর্শ ও নিয়মাবলীকে সংবিধান বলে । 

ভারতের সংবিধান প্রণয়নের জন্য স্বাধীনতার পূর্বেই একটি সংবিধান সভা গঠন করা হয়েছিল । প্রাদেশিক বিধানসভাগুলি সংবিধান সভার সদস্যগণকে নির্বাচিত করে পাঠিয়েছিল । এই সভার সভাপতি ছিলেন ড. রাজেন্দ্র প্রসাদ । ড . আম্বেদকরের নেতৃত্বে খসড়া প্রস্তুত কমিটি সংবিধানের খসড়া তৈরি করেছিল । ১৯৪৯ সনের ২৬ শে নভেম্বর এই খসড়া সংবিধানটি সংবিধান সভায় গৃহীত হয় । ১৯৫০ সনের ২৬ শে জানুয়ারী থেকে ভারতের এই সংবিধান বলবৎ করা হয় । 

প্রশ্ন ৪। ভারতকে একটি সার্বভৌম গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র বলা হয় কেন ? 

উত্তরঃ ( ১ ) ভারতবর্ষ আভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক ব্যাপারে সম্পূর্ণ স্বাধীন। 

( ২ ) ভারতীয় নাগরিকগণ পরোক্ষভাবে শাসন ব্যাপারে অংশগ্রহণ করে। 

( ৩ ) ভারতে প্রতি পাঁচ বৎসর অন্তর নির্বাচন হয় । ভারতীয় নাগরিকগণ এই নির্বাচনের মাধ্যমে প্রতিনিধি নির্বাচন করে । এই নির্বাচিত প্রতিনিধিগণ সরকার গঠন করে এবং যথাযথ আইন প্রয়োগ করে দেশ শাসন করে । 

( ৪ ) ভারতের রাষ্ট্রপতির পদ বংশানুক্রমিক নয় । জনসাধারণ পরোক্ষ নির্বাচন মাধ্যমে রাষ্ট্রপতিকে নিয়োগ করে । 

প্রশ্ন ৫। ‘ খসড়া কমিটির সদস্যদের নাম উল্লেখ করো । 

উত্তরঃ ‘ খসড়া কমিটির সাত জন সদস্যের নাম নীচে উল্লেখ করা হল— 

( ১ ) ড . ভীমরাও আম্বেদকর __ সভাপতি । 

( ২ ) এন . গোপাল স্বামী আয়েংগার __সদস্য । 

( ৩ ) আল্লাড কৃষ্ণস্বামী আয়ার __সদস্য । 

( ৪ ) কে . এম . মুন্সি ___ সদস্য । 

( ৫ ) সৈয়দ মহম্মদ সাদুল্লা ___ সদস্য । 

( ৬ ) এন . মাধব রাও ___ সদস্য । 

( ৭ ) ডি.পি. খায়তান ___সদস্য । 

প্রশ্ন ৬। ২৬ শে জানুয়ারী গণরাজ্য দিবস পালন করা হয় কেন ? 

উত্তরঃ ১৯৫০ সালের ২৬ শে জানুয়ারী ভারতে সংবিধান সম্পূর্ণভাবে কার্যকরী হয়েছিল বলে প্রতি বৎসর ২৬ শে জানুয়ারী ‘ গণরাজ্য দিবস ’ হিসাবে পালন করা হয় ।

প্রশ্ন ৭। সংসদীয় গণতন্ত্র কী ? 

উত্তরঃ যে গণতান্ত্রিক সরকার সংসদ বা পার্লামেন্টকে সার্বভৌম ক্ষমতার‘ অধিকারী বলে স্বীকৃতি দেয় এবং সংসদের মাধ্যমে সরকারের সমস্ত কার্য পরিচালনা করে তাকে সংসদীয় গণতন্ত্র বলা হয় । 

প্রশ্ন ৮। ভারত সম্পূর্ণভাবে যুক্তরাষ্ট্র কি না ? 

উত্তরঃ ভারতীয় সংবিধানে যুক্তরাষ্ট্রীয় শাসন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। ভারতবর্ষ হল কতগুলি রাজ্যের একটি সংঘ । এখানে কেন্দ্রীয় সরকার ও রাজ্য সরকার পাশাপাশি অবস্থান করে । ভারতীয় সংবিধানে অনেকগুলি যুক্তরাষ্ট্রীয় নীতি সংযোজিত হয়েছে , যেমন কেন্দ্রীয় এবং রাজ্য সরকারের মধ্যে ক্ষমতা ভাগ করে দেওয়া হয়েছে , একটি লিখিত এবং দৃঢ় সংবিধান , কেন্দ্রীয় সরকারকে অধিক ক্ষমতা দান ইত্যাদি । তদুপরি কিছু সংখ্যক একাত্মক রাষ্ট্রনীতি , যেমন— একক নাগরিকত্ব , একক ন্যায়বিচার বিভাগ ইত্যাদি আমাদের সংবিধানে সন্নিবিষ্ট করা হয়েছে । ভারতবর্ষের সংবিধান আকৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রীয় হলেও বিষয়বস্তুর দিক হতে এককেন্দ্রিক । 

প্রশ্ন ৯। সংবিধানের প্রস্তাবনায় উল্লেখ করা তিন প্রকার ন্যায় এবং দুই প্রকার স্বাধীনতার নাম লেখো । 

উত্তরঃ সংবিধানের প্রস্তাবনায় উল্লেখ করা তিন প্রকার ন্যায় হল— 

( ক ) সামাজিক ন্যায় ।

( খ ) অর্থনৈতিক ন্যায় । ও 

( গ ) রাজনৈতিক ন্যায় । 

দুইপ্রকার স্বাধীনতা হল— 

( ক ) ধর্মীয় স্বাধীনতা । ও 

( খ ) চিন্তা এবং অভিব্যক্তির স্বাধীনতা । 

প্রশ্ন ১০। আমরা সকলেই ভারতীয় ‘ — এই উক্তির অন্তনির্হিত অর্থ তিনটি বের করো । 

উত্তরঃ ( ১ ) ভারতে বিভিন্ন ধর্ম , ভাষা , জাতি – উপজাতি থাকা সত্ত্বেও প্রাচীন কাল হতেই আমরা নিজেদের ভারতীয় বলে আসছি । 

( ২ ) ভারতের বিভিন্ন স্থানের ভৌগোলিক অবস্থান ভিন্ন ভিন্ন এবং বিভিন্ন সংস্কৃতি থাকলেও প্রাচীন কাল হতে ভারতবর্ষ এক অখণ্ড দেশ বলে বিবেচিত হয়ে আসছে । 

( ৩ ) ভারতে বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর মিলন হয়ে বিশাল ভারতীয় জাতির সৃষ্টি হয়েছে । 

প্রশ্ন ১১। জাতীয় সংহতি রক্ষার্থে ভারতের নাগরিকদের এক নাগরিকত্ব প্রদান করা হয়েছে — এই উক্তিটি সত্য কী ? 

উত্তরঃ ভারত একটি যুক্তরাষ্ট্র । ভারতের সংবিধান অনুসারে ভারতে যুক্তরাষ্ট্র গঠন করা হয়েছে । যুক্তরাষ্ট্র হিসাবে ভারতে দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকা দরকার— রাজ্যিক ও যুক্তরাষ্ট্রীয় । একজন নাগরিক যুক্তরাষ্ট্র ও রাজ্যে উভয়েরই পৃথক নাগরিকত্ব পায় । কিন্তু ভারতের সংবিধানে মাত্র এক নাগরিকত্বের ব্যবস্থা করা হয়েছে । সকল নাগরিকই ভারতীয় যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক । নাগরিকদের মধ্যে জাতীয় সংহতি রক্ষার জন্য এক নাগরিকত্বের ব্যবস্থা করা হয়েছে । এই ব্যবস্থার ফলে বিভিন্ন জাতি, ধর্ম , ভাষা , সংস্কৃতির সকল ভারতীয় নাগরিককে এক ভারতীয় বলে ঐক্যবদ্ধ করতে সাহায্য করেছে । সকল ভারতবাসীর মধ্যে সংহতি ও ভ্রাতৃভাব গড়ে উঠেছে । সুতরাং উপরের উক্তিটি সত্য বলে প্রমাণিত হল। 

প্রশ্ন ১২৷ ‘ জাতীয় সংহতি পরিষদ ‘ কখন ও কার নেতৃত্বে গড়ে উঠেছিল ? 

উত্তরঃ ভারতের প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরুর নেতৃত্বে ১৯৬১ সালে রাষ্ট্রীয় সংহতির সমস্যাগুলি আলোচনা করার জন্য আহ্বান করা জাতীয় সম্মিলনে ‘ জাতীয় সংহতি পরিষদ ‘ গঠন করা হয়েছিল । 

রচনাধর্মী প্রশ্নোত্তর 

প্রশ্ন ১। ইংল্যান্ডের সংসদীয় গণতন্ত্রের সঙ্গে ভারতবর্ষের সংসদীয় গণতন্ত্রের মূল পার্থক্যগুলি উল্লেখ কর ।

উত্তরঃ ইংল্যান্ডের সংসদীয় গণতন্ত্রের সঙ্গে ভারতবর্ষের সংসদীয় গণতন্ত্রের মূল পার্থক্যগুলি নীচে উল্লেখ করা হল —

( ১ ) ভারতবর্ষের সংসদীয় গণতন্ত্র প্রধানত একটি গণরাজ্য । কিন্তু ইংল্যান্ডের গণতন্ত্র গণরাজ্য নয় । ইংল্যান্ডের মত আমাদের দেশের সংসদীয় গণতন্ত্রের রাষ্ট্রপ্রধান পুরুষানুক্রমে হওয়া ব্যক্তি নয়। ইংল্যান্ডের রাজা অথবা রানির বিপরীতে আমাদের রাষ্ট্রপ্রধান (রাষ্ট্রপতি) জনগণের দ্বারা নির্বাচিত হওয়া ব্যক্তি । 

( ২ ) ভারতবর্ষের সংসদের উচ্চসদন রাজ্যসভার গঠন ও ক্ষমতা ইংল্যান্ডের উচ্চসদন হাউস অব লর্ডস্ থেকে বহু পৃথক । 

( ৩ ) ইংল্যান্ডের সংসদীয় গণতন্ত্রে সংসদটি অত্যন্ত শক্তিশালী । কিন্তু ভারতবর্ষের সংসদ এইরূপ শক্তিশালী নয় । 

ভারতবর্ষের পরিবেশ পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে সংবিধানটি প্রবর্তন করা সংসদীয় গণতন্ত্রই আমাদের দেশটিকে বিশ্বের একটি মর্যাদা সম্পন্ন সংসদীয় গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসাবে প্রতিষ্ঠা করতে সফল হয়েছে । 

প্রশ্ন ২। ন্যায় , স্বাধীনতা ও ভ্রাতৃত্ব বোধের ভাবধারা আমাদের সমাজে না থাকলে কি ধরনের সমস্যা হতে পারে তা বিস্তারিতভাবে লেখো । 

উত্তরঃ ন্যায় বলতে সংবিধানে নাগরিকদের সামাজিক , রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ন্যায়ের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে ।

( ক ) সামাজিক ন্যায় :- ভারতের সকল জনগণ যাতে সম অধিকার ভোগ করে এক মর্যাদাপূর্ণ জীবন অতিবাহিত করতে পারে তার উপর গুরুত্ব প্রদান করা হয়েছে । 

( খ ) রাজনৈতিক ন্যায় :- সকল নাগরিকই সমানভাবে রাজনৈতিক অধিকার ভোগ করতে পারে । যেমন — সকল প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিকই নির্বাচনে অংশগ্রহণ ও ভোটাধিকার প্রয়োগ করে রাষ্ট্রের কার্যপ্রণালিতে অংশগ্রহণ করতে পারে । 

( গ ) অর্থনৈতিক ন্যায় :- অর্থনৈতিক ন্যায়ের মধ্য দিয়ে আমাদের সমাজে থাকা অর্থনৈতিক অসমতা দূর করার বিষয়টিকে বোঝানো হয়েছে । পুরুষ মহিলার সম মজুরি , বৃদ্ধদের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা প্রদান , রাষ্ট্রীয় সম্পদের সমবিতরণ ইত্যাদি এই ন্যায়ের অন্তর্গত । 

স্বাধীনতা :- স্বাধীনতা কথাটির মধ্য দিয়ে ভারতীয় নাগরিকদের চিন্তা, মত প্রকাশ , বিশ্বাস , নিজ ইচ্ছা অনুযায়ী ধর্মগ্রহণ , চর্চা এবং প্রচার করার স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে । 

সমতা :- ভারতের জনসাধারণ যাতে সব ধরনের সুযোগ সুবিধা জাতি, ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে ভোগ করতে পারে ভারতীয় সংবিধানের প্রস্তাবনায় সেই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে । ভারতবর্ষে আইনের চোখে সবাই সমান । আইনের ক্ষেত্রে সবাইকে সমান অধিকার ও সম রক্ষণাবেক্ষণ দেওয়ার কথাটি ‘ সমতা’র মধ্য দিয়ে বোঝানো হয়েছে । ভ্রাতৃত্ববোধ ভ্রাতৃত্ববোধের ক্ষেত্রে প্রত্যেক ব্যক্তিকে সমান সুযোগ ও সম মর্যাদা প্রদান করার বিষয়টি রাষ্ট্রকেই নিশ্চিত করতে হবে । বিভিন্ন ধর্ম, ভাষা সংস্কৃতির মধ্যে সমন্বয় গড়ে তোলার জন্য আমাদের সবাইকে একে অন্যের জানাতে । ভাষা – ধর্ম – সংস্কৃতিকে সম্মান জানাতে হবে । তবেই সমাজে ভ্রাতৃত্ববোধ জাগানো সম্ভব হবে । 

উপরোক্ত বিষয়গুলো বা আদর্শগুলো আমাদের সমাজে না থাকলে ভারতবর্ষ কোনো দিনই কল্যাণকামী রাষ্ট্র হিসাবে প্রতিষ্ঠিত হতে পারবে না। এই আদর্শগুলো না থাকলে সমাজ , দেশ , জাতি ইত্যাদি সমস্তই ধ্বংস হয়ে যাবে এবং জনসাধারণ সুখে – শান্তিতে বসবাস করতে পারবে না ।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Scroll to Top