Class 12 Swadesh Adhyayan Important Chapter 10 ভারতবর্ষে পরিবেশ আন্দোলন ও আসামে পরিবেশগত পরিবর্তন

Class 12 Swadesh Adhyayan Important Chapter 10 ভারতবর্ষে পরিবেশ আন্দোলন ও আসামে পরিবেশগত পরিবর্তন Question Answer Bengali Medium As Per The New Syllabus to each chapter is provided in the list so that you can easily browse through different chapters ASSEB Class 12 Swadesh Adhyayan Important Chapter 10 ভারতবর্ষে পরিবেশ আন্দোলন ও আসামে পরিবেশগত পরিবর্তন Notes and select need one. AHSEC Class 12 Swadesh Adhyayan Important Chapter 10 ভারতবর্ষে পরিবেশ আন্দোলন ও আসামে পরিবেশগত পরিবর্তন Solutions Download PDF. HS 2nd Year Swadesh Adhyayan Additional Question Answer Bengali Medium.

Class 12 Swadesh Adhyayan Important Chapter 10 ভারতবর্ষে পরিবেশ আন্দোলন ও আসামে পরিবেশগত পরিবর্তন

Also, you can read the NCERT book online in these sections Solutions by Expert Teachers as per Central Board of Secondary Education (CBSE) Book guidelines. ASSEB Class 12 Swadesh Adhyayan Important Notes Bengali Medium are part of All Subject Solutions. Here we have given HS 2nd Year Swadesh Adhyayan Extra Solutions Bengali Medium for All Chapters, You can practice these here.

Chapter: 10

দ্বিতীয় ভাগঃ ইতিহাস
ADDITIONAL QUESTION ANSWER

১। প্রকল্প বলতে কী বোঝায়? 

উত্তরঃ বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি অনুসরণ করে কোনো বিশেষ বিষয়ে গবেষণা করা এবং তার বিশ্লেষণ করে একটি প্রতিবেদন প্রস্তুত করাকেই প্রকল্প বলা হয় ।

২। প্রকল্প প্রস্তুতির প্রথম ধাপ কোনটি? 

উত্তরঃ  প্রকল্প প্রস্তুতকরণের প্রথম কাজ হলো একটি উপযুক্ত বিষয় নির্বাচন করা।

৩। প্রকল্প কাজ ছাত্রছাত্রীদের ভবিষ্যতে কীভাবে সাহায্য করে?

উত্তরঃ এটি শিক্ষার্থীদের গবেষণার অভিজ্ঞতা দান করে এবং ভবিষ্যতে উচ্চতর গবেষণার কাজে তাদের মনোবল জোগাতে সাহায্য করে।

৪। বিষয় নির্বাচনের ক্ষেত্রে কোন বিশেষ সম্ভাবনার কথা মাথায় রাখতে হয়? 

উত্তরঃ নির্বাচিত বিষয়ে বৈজ্ঞানিক পর্যালোচনার সম্ভাবনা আছে কি না,সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হয়।

৫। প্রকল্পের উদ্দেশ্য কেমন হওয়া উচিত? 

উত্তরঃ প্রকল্পের উদ্দেশ্য সবসময় ইতিবাচক হওয়া উচিত এবং তা যেন কোনোভাবেই সমাজবিরোধী বা উন্নয়ন বিরোধী না হয়।

৬। প্রতিবেদনের প্রথম অধ্যায়ে কী কী উল্লেখ থাকে?

উত্তরঃ প্রথম অধ্যায়ে প্রকল্পের লক্ষ্য, বিষয়ের বিশ্লেষণ এবং এর ভৌগোলিক ও ঐতিহাসিক পটভূমি সম্পর্কে ধারণা দেওয়া হয়।

৭। ভূগোলের ছাত্রছাত্রীরা দ্বিতীয় অধ্যায়ে কী আলোচনা করে? 

উত্তরঃ তারা সংশ্লিষ্ট এলাকার ভূ-প্রকৃতি, জলবায়ু, বনজ সম্পদ, খনিজ সম্পদ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা ইত্যাদি নিয়ে আলোচনা করে।

৮। ইতিহাসের ছাত্রছাত্রীরা দ্বিতীয় অধ্যায়ে কী অন্তর্ভুক্ত করে? 

উত্তরঃ তারা ওই এলাকার ঐতিহাসিক পটভূমি, অতীত ও বর্তমান পরিস্থিতি এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করে।

৯। তৃতীয় অধ্যায়ে কোন ধরণের তথ্য ব্যবহার করা হয়? 

উত্তরঃ এই অধ্যায়ে প্রাসঙ্গিক প্রাথমিক ও মাধ্যমিক তথ্য, মানচিত্র এবং তথ্যবৈজ্ঞানিক চিত্র যোগ করা হয়।

১০। চতুর্থ অধ্যায়ের মূল কাজ কী?

উত্তরঃ সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে বিশ্লেষণ করে একটি নির্দিষ্ট সিদ্ধান্তে পৌঁছানো এবং তার বিবরণ দেওয়া এই অধ্যায়ের কাজ।

১১।পঞ্চম অধ্যায়ে কী লেখা হয়? 

উত্তরঃ এই অধ্যায়ে সমগ্র পাঠের একটি সারাংশ এবং কাজ চলাকালীন ছাত্রের নিজস্ব অভিজ্ঞতা বা মন্তব্য লিপিবদ্ধ করা হয়।

১২।’পরিশিষ্ট’ অংশে সাধারণত কী কী থাকে?

উত্তরঃ প্রাসঙ্গিক চিত্র, কোনো ব্যক্তির দীর্ঘ বয়ান, প্রশ্নমালার নমুনা এবং চিত্রলেখ ইত্যাদি পরিশিষ্টে যুক্ত করা যায়।

১৩। তথ্যসূত্র কেন প্রয়োজন?

 উত্তরঃ প্রকল্পে ব্যবহৃত বই, পত্রিকা বা সংবাদপত্রের নাম, লেখক ও প্রকাশকের তথ্য দিয়ে প্রকল্পটিকে নির্ভরযোগ্য করার জন্য এটি প্রয়োজন।

১৪। কৃতজ্ঞতা স্বীকার কোথায় করা হয়? 

উত্তরঃ এটি সাধারণত সূচিপত্রের পরবর্তী পৃষ্ঠায় অথবা রিপোর্টের একদম শেষে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

১৫। একটি আদর্শ প্রকল্পের মূল অধ্যায় কটি হওয়া বাঞ্ছনীয়? 

উত্তরঃ সাধারণত প্রথম থেকে পঞ্চম—এই পাঁচটি অধ্যায়ে মূল বিষয়টি সীমাবদ্ধ থাকে, তবে প্রয়োজনভেদে এটি কম বা বেশি হতে পারে।

(খ) দীর্ঘ প্রশ্ন উত্তর।

১। প্রকল্প প্রস্তুতকরণের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা আলোচনা করো। 

উত্তরঃ প্রকল্প প্রস্তুতকরণের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা:

(ক) তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক জ্ঞানের মেলবন্ধন: শ্রেণীকক্ষের শিক্ষা মূলত তত্ত্ব বা পুঁথিগত বিদ্যার ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু প্রকল্পের কাজের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা অর্জিত জ্ঞানকে সরাসরি প্রয়োগ করার সুযোগ পায়। উদাহরণস্বরূপ, বইয়ের পাতায় পরিবেশ সংরক্ষণ বা বন্যপ্রাণী সুরক্ষার নিয়মাবলি পড়া আর বাস্তব ক্ষেত্রে কোনো বন বা জলসম্পদ অঞ্চল পর্যবেক্ষণ করার মধ্যে অনেক তফাত রয়েছে। 

(খ) বৈজ্ঞানিক ও বিশ্লেষণাত্মক দৃষ্টিভঙ্গির বিকাশ: একটি নির্দিষ্ট কাঠামো মেনে প্রকল্প প্রস্তুত করতে গেলে শিক্ষার্থীদের বেশ কিছু বৈজ্ঞানিক ধাপ অনুসরণ করতে হয়—যেমন তথ্য সংগ্রহ,তথ্য বিশ্লেষণ, তথ্য যাচাইকরণ এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ। এই পদ্ধতিগত গবেষণার মধ্য দিয়ে যাওয়ার ফলে ছাত্রছাত্রীদের কোনো ঘটনাকে যুক্তি দিয়ে বিশ্লেষণ করার ক্ষমতা বাড়ে। এটি তাদের অন্ধবিশ্বাস থেকে দূরে রেখে বৈজ্ঞানিক চিন্তাভাবনার বিকাশ ঘটায়।

(গ) পরিবেশগত ও আর্থ-সামাজিক সমস্যা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি: ‘স্বদেশ অধ্যয়ন’ পাঠ্যক্রমে আসাম ও সমগ্র ভারতের পরিবেশগত পরিবর্তন এবং পরিবেশ আন্দোলনের মতো অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয়সমূহ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। শিক্ষার্থীরা যখন নিজেদের চারপাশের পরিবেশগত সমস্যা যেমন— নির্বিচারে বন ধ্বংস, ভয়াবহ বন্যা, ভূমিস্খলন বা নদী ভাঙন নিয়ে প্রকল্প প্রস্তুত করে, তখন তারা এই সমস্যাগুলোর গভীরতা উপলব্ধি করতে পারে। যেমন— আসামের মাজুলী দ্বীপের বর্তমান পরিবেশগত পরিবর্তন বা ব্রহ্মপুত্র উপত্যকার বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে ক্ষেত্রসমীক্ষা করলে শিক্ষার্থীরা নিজেদের এলাকার প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষার ব্যাপারে আরও সচেতন ও দায়িত্বশীল হয়ে ওঠে।

(ঘ) স্থানীয় পরিবেশ, ঐতিহ্য ও ইতিহাসের সাথে সংযোগ স্থাপন: প্রকল্পের কাজের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা নিজেদের স্থানীয় পরিবেশ, ইতিহাস ও সংস্কৃতির সাথে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পায়। যেমন—

আসামের প্রাক-ঔপনিবেশিক কালের (আহোম শাসনকাল) বন ও জলসম্পদ ব্যবস্থাপনা এবং প্রাচীন ভূমিনীতি নিয়ে অনুসন্ধান করার মাধ্যমে তারা জানতে পারে কীভাবে প্রাচীন যুগেও মানুষ প্রকৃতির সাথে ভারসাম্য বজায় রাখত। এই ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটগুলো নিয়ে তথ্য সংগ্রহ করার ফলে শিক্ষার্থীদের মনে স্বদেশের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা জন্ম নেয়।

২। প্রকল্পের জন্য বিষয় নির্বাচনের ক্ষেত্রে কোন কোন দিকগুলি বিবেচনা করা জরুরি? 

উত্তরঃ বিষয় নির্বাচনের সময় যে প্রধান দিকগুলি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা উচিত, তা বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হলো:

(ক) বৈজ্ঞানিক ও বিশ্লেষণাত্মক পর্যালোচনার সুযোগ: নির্বাচিত বিষয়টি কেবল বর্ণনামূলক হলে চলবে না। তার মধ্যে বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধান,কার্যকারণ সম্পর্ক নির্ণয় এবং বিশ্লেষণাত্মক পর্যালোচনার পর্যাপ্ত সুযোগ থাকতে হবে।

ব্যাখ্যা: বিষয়টি এমন হওয়া উচিত যেখানে শিক্ষার্থীরা ‘কী’, ‘কেন’, ‘কীভাবে’—এই প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজতে পারে। যেমন— আপনি যদি কেবল “আসামের বনভূমি” নিয়ে লিখেন, তবে সেটি সাধারণ রচনা হয়ে যাবে। 

(খ) তথ্যের সহজলভ্যতা ও যোগাযোগের সম্ভাবনা: প্রকল্পের মূল ভিত্তি হলো নির্ভরযোগ্য তথ্য বা উপাত্ত। বিষয় নির্বাচনের সময় নিশ্চিত করতে হবে যে সেই সম্পর্কিত প্রয়োজনীয় তথ্য সহজে সংগ্রহ করা সম্ভব কি না।

প্রাথমিক উৎস: ক্ষেত্রসমীক্ষা, স্থানীয় জনগণের সাক্ষাৎকার নেওয়া বা প্রত্যক্ষ পর্যবেক্ষণের বাস্তব সুযোগ আছে কি না তা দেখতে হবে।

(গ) নির্দিষ্ট সময়সীমা ও ব্যবস্থাপনযোগ্যতা: সাধারণত শিক্ষাবর্ষের একটি নির্দিষ্ট বা সীমিত সময়ের মধ্যেই প্রকল্প জমা দিতে হয়। তাই বিষয় নির্বাচন করার সময় সময়সীমার বিষয়টি কঠোরভাবে মাথায় রাখা উচিত।

ব্যাখ্যা: অত্যন্ত বিশাল বা জটিল কোনো বিষয় বেছে নেওয়া ঠিক নয় যা শেষ করতে বছরের পর বছর লেগে যেতে পারে। বিষয়টিকে একটি নির্দিষ্ট গণ্ডির মধ্যে সীমাবদ্ধ করে নিতে হবে। যেমন— সমগ্র ভারতের নদী দূষণ নিয়ে কাজ না করে নিজের এলাকার বা পার্শ্ববর্তী কোনো একটি নির্দিষ্ট নদীর পরিবেশগত অবস্থা নিয়ে কাজ করলে তা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সুচারুভাবে শেষ করা সম্ভব।

(ঘ) অর্থনৈতিক সাশ্রয় বা মিতব্যয়িতা: প্রকল্পটি যাতে কোনোভাবেই অতিরিক্ত ব্যয়বহুল বা শিক্ষার্থীদের ওপর আর্থিক বোঝা হয়ে না দাঁড়ায়, সেদিকে বিশেষ লক্ষ রাখতে হবে।

ব্যাখ্যা: দূরবর্তী কোনো স্থানে গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করা, দামি যন্ত্রপাতি কেনা বা অত্যন্ত ব্যয়বহুল বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার মতো বিষয় এড়িয়ে চলাই শ্রেয়। 

৩। একটি আদর্শ প্রকল্প প্রতিবেদনের প্রথম তিনটি অধ্যায়ের বিষয়বস্তু বর্ণনা করো। 

উত্তরঃ একটি আদর্শ প্রকল্প প্রতিবেদনের প্রথম তিনটি অধ্যায়ের বিষয়বস্তু হলো:

প্রথম অধ্যায় ভূমিকা ও লক্ষ্য:

(i) মূল কাজ: প্রকল্পের সূচনা করা এবং গবেষণার উদ্দেশ্য স্পষ্ট করা।

(ii) বিষয়বস্তু: বিষয়ের সাধারণ পরিচিতি, ৩-৪টি নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য (কেন প্রকল্পটি করা হচ্ছে) এবং অধ্যয়ন এলাকার সংক্ষিপ্ত সীমানা।

(iii) উদাহরণ: আসামের ভৌগোলিক অবস্থান (২৮° ও ২৪° উত্তর অক্ষাংশ) বা প্রাচীন নাম (কামরূপ/প্রাগজ্যোতিষ) এখানে ভূমিকা হিসেবে উল্লেখ করা যায়।

দ্বিতীয় অধ্যায়: এলাকা পরিচিতি ও পটভূমি:

(i) মূল কাজ: অধ্যয়ন এলাকার প্রাকৃতিক পরিবেশ অথবা ঐতিহাসিক গুরুত্ব বিশ্লেষণ করা।

বিষয়বস্তু:

(ii) ভূগোলের ক্ষেত্রে: এলাকার প্রধান নদী ব্যবস্থা (ব্রহ্মপুত্র ও বরাক), জলবায়ু, বনসম্পদ এবং সাম্প্রতিক প্রাকৃতিক দুর্যোগের পটভূমি।

(iii) ইতিহাসের ক্ষেত্রে: ঐতিহাসিক রাজত্বকাল, ভূমিনীতি (যেমন— আহোম যুগের রপিত, ফরিঙতি ইত্যাদি ভূমি বিভাজন) এবং বনাঞ্চল তদারকিতে প্রাচীন প্রশাসনিক ব্যবস্থা।

তৃতীয় অধ্যায়: তথ্য সংগ্রহ ও উপস্থাপন:

(i) মূল কাজ: কীভাবে তথ্য জোগাড় করা হলো এবং তা প্রমাণ সহকারে প্রদর্শন করা।

বিষয়বস্তু:

(ii) উৎস: প্রাথমিক উৎস (সরাসরি ইন্টারভিউ বা পর্যবেক্ষণ) এবং মাধ্যমিক উৎস (যেমন— বইপত্র, সরকারি রেকর্ড বা ‘আরণ্যক’ নেচারস বেকন’-এর মতো বেসরকারি সংস্থার রিপোর্ট) থেকে তথ্য নেওয়া।

(ii) উপস্থাপন: সংগৃহীত তথ্য সহজে বোঝাতে উপযুক্ত তালিকা, চার্ট বা মানচিত্র (যেমন— ভারতবর্ষের পরিবেশ আন্দোলনের মানচিত্র) ব্যবহার করা।

৪। প্রকল্পের উপাত্ত বিশ্লেষণ এবং উপসংহার অংশে কী কী থাকা উচিত? 

উত্তরঃ প্রকল্পের উপাত্ত বিশ্লেষণ এবং উপসংহার অংশে থাকা উচিত:

 (ক) চতুর্থ অধ্যায়: উপাত্ত বিশ্লেষণ ও সিদ্ধান্ত:এই অধ্যায়ে সংগৃহীত কাঁচা তথ্য বা উপাত্তকে বিশ্লেষণ করে প্রকল্পের মূল ফলাফল বের করা হয়। 

এতে মূলত যা যা থাকে:

(i) তথ্যের সুবিন্যস্তকরণ ও ব্যাখ্যা: সংগৃহীত তথ্যগুলোকে সারণি, বার-চার্ট বা পাই-চার্টের মাধ্যমে সাজিয়ে সেগুলোর সহজ ব্যাখ্যা দেওয়া।

(ii) কার্যকারণ সম্পর্ক বিশ্লেষণ: তথ্যের ভেতরের মূল ধরণ বা ট্রেন্ড খুঁজে বের করা।যেমন (পাঠ্যপুস্তকের আলোকে)যদি প্রকল্পটির বিষয় হয় আসামের প্রাকৃতিক দুর্যোগ, তবে ১৮৯৭ এবং ১৯৫০ সালের বড় ভূমিকম্প দুটির তীব্রতা (যথাক্রমে ৮.৭ ও ৮.৬ রিখটার স্কেল) এবং পরিবেশের ওপর তাদের ক্ষতিকর প্রভাবের একটি তুলনামূলক বিশ্লেষণ এখানে করা যেতে পারে। 

(খ) প্রধান সিদ্ধান্তসমূহ: উপাত্ত বিশ্লেষণের ওপর ভিত্তি করে প্রকল্পের শুরুতে নেওয়া উদ্দেশ্যগুলোর স্বপক্ষে স্পষ্ট সিদ্ধান্ত বা উত্তর তুলে ধরা।

(গ) পঞ্চম অধ্যায়: উপসংহার ও ব্যক্তিগত মতামত এটি প্রকল্পের শেষ অধ্যায়, যা পুরো কাজটিকে একটি যৌক্তিক সমাপ্তি দান করে। 

এতে যা যা থাকে:

(i) প্রকল্পের সারসংক্ষেপ: প্রথম থেকে চতুর্থ অধ্যায়ের মূল আলোচনা এবং প্রাপ্ত ফলাফলের একটি সংক্ষিপ্ত ও স্পষ্ট রূপরেখা।

(ii) ব্যক্তিগত মতামত ও অভিজ্ঞতা: প্রকল্পটি তৈরি করার সময় শিক্ষার্থীর নিজস্ব অভিজ্ঞতা, মাঠপর্যায়ের শিক্ষণ এবং বাস্তব অনুভূতি প্রকাশ করা।

(iii) ভবিষ্যৎ পরামর্শ ও সমাধান: চিহ্নিত সমস্যার সমাধানে শিক্ষার্থীর নিজস্ব কিছু গঠনমূলক পরামর্শ।

(iv) যেমন (পাঠ্যপুস্তকের আলোকে): আসামের বনাঞ্চল ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সরকারি পদক্ষেপের পাশাপাশি স্থানীয় বেসরকারি সংস্থা (যেমন— ‘আরণ্যক’ বা ‘নেচারস বেকন’) এবং সাধারণ মানুষ কীভাবে আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখতে পারে, সেই বিষয়ে নিজস্ব মতামত দেওয়া।

(v) গ্রন্থপঞ্জি: প্রকল্পের তথ্য সংগ্রহে যেসকল বইপত্র, ওয়েবসাইট বা রিপোর্টের সাহায্য নেওয়া হয়েছে তার একটি তালিকা প্রদান করা।

৫। পরিশিষ্ট, তথ্যসূত্র এবং কৃতজ্ঞতা স্বীকার—এই অংশগুলির তাৎপর্য ব্যাখ্যা করো।

 উত্তরঃ (ক) পরিশিষ্ট এর তাৎপর্য:

(i) গুরুত্ব: প্রকল্পের মূল লেখার ধারাবাহিকতা ও পঠনযোগ্যতা বজায় রাখার জন্য যে সমস্ত বড় আকারের বা অতিরিক্ত তথ্য সরাসরি মূল অধ্যায়ে রাখা যায় না, সেগুলি পরিশিষ্ট অংশে যোগ করা হয়।

(ii) যা থাকে: যেমন— ক্ষেত্রসমীক্ষার প্রশ্নাবলী,বড় মানচিত্র, কাঁচা তথ্যের তালিকা বা দীর্ঘ কোনো ঐতিহাসিক দলিলের অনুলিপি।

(খ) তথ্যসূত্র – এর তাৎপর্য:

(i) গুরুত্ব: এটি প্রকল্পের তথ্যের নির্ভরযোগ্যতা, সত্যতা ও স্বচ্ছতা প্রমাণ করে। শিক্ষাজগতে বা গবেষণায় অন্যের মেধা ও কাজের স্বীকৃতি দেওয়া একটি নৈতিক দায়িত্ব। এর ফলে যেকোনো পাঠক মূল তথ্যের উৎসটি সহজেই খুঁজে পেতে পারেন।

(ii) যা থাকে: প্রকল্পে ব্যবহৃত বিভিন্ন বই, পত্রিকা, সরকারি প্রতিবেদন বা ওয়েবসাইটের নাম ও প্রকাশনার বিবরণ।

(গ) কৃতজ্ঞতা স্বীকার – এর তাৎপর্য:

(i) গুরুত্ব: একটি প্রকল্প কখনোই একক প্রচেষ্টায় সম্পূর্ণ হয় না। তাই কাজ চলাকালীন যারা বিভিন্নভাবে সাহায্য করেছেন, তাঁদের অবদানকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করা কেবল সৌজন্য প্রকাশ নয়, এটি একটি মহৎ একাডেমিক প্রথা ও শিষ্টাচার।

(ii) যা থাকে: বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা, সহায়তাকারী সহপাঠী, গ্রন্থাগারিক এবং ক্ষেত্রসমীক্ষায় তথ্য দিয়ে সাহায্য করা স্থানীয় সাধারণ মানুষের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ জ্ঞাপন।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Scroll to Top