Class 12 Political Science Important Chapter 1 শীতল যুদ্ধের কাল Question Answer Bengali Medium As Per New Syllabus to each chapter is provided in the list so that you can easily browse through different chapters Class 12 Political Science Important Chapter 1 শীতল যুদ্ধের কাল Solutions and select need one. Class 12 Political Science Additional Notes in Bengali Medium Download PDF. AHSEC Class 12 Political Science Important Solutions Bengali Medium.
Class 12 Political Science Important Chapter 1 শীতল যুদ্ধের কাল
Also, you can read the NCERT book online in these sections Solutions by Expert Teachers as per Central Board of Secondary Education (CBSE) Book guidelines. Class 12 Political Science Additional Notes in Bengali are part of All Subject Solutions. Here we have given HS 2nd Year Political Science Important Notes in Bengali for All Chapters, You can practice these here.
শীতলযুদ্ধের কাল
Chapter: 1
| Part – 1: সমসাময়িক বিশ্ব রাজনীতি |
| অতিরিক্ত প্রশ্নোত্তর |
১। ‘শীতল যুদ্ধ’ বলতে প্রধানত কী বোঝায়?
উত্তরঃ ‘শীতল যুদ্ধ’ বলতে প্রধানত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়নের মধ্যে সরাসরি যুদ্ধ না হয়েও তীব্র প্রতিযোগিতা, আদর্শগত দ্বন্দ্ব এবং ধারাবাহিক উত্তেজনাকর পরিস্থিতিকে বোঝায়।
২। শীতল যুদ্ধ মূলত কোন দুটি পরাশক্তি রাষ্ট্র ও তাদের মিত্রদের মধ্যে ঘটেছিল?
উত্তরঃ শীতল যুদ্ধ মূলত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং সোভিয়েত ইউনিয়নের মধ্যে ঘটেছিল।
৩। কিউবার ক্ষেপণাস্ত্র সংকট কত সালে সংঘটিত হয়েছিল?
উত্তরঃ কিউবার ক্ষেপণাস্ত্র সংকট ১৯৬২ সালে সংঘটিত হয়েছিল।
৪। ১৯৬২ সালে কিউবায় পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপন করেছিলেন সোভিয়েত ইউনিয়নের কোন নেতা?
উত্তরঃ সোভিয়েত ইউনিয়নের রাষ্ট্রপতি নিকিতা ক্রুশ্চেভ ১৯৬২ সালে কিউবায় পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপন করেছিলেন।
৫। কিউবার ক্ষেপণাস্ত্র সংকটের সময় আমেরিকার রাষ্ট্রপতি কে ছিলেন?
উত্তরঃ কিউবার ক্ষেপণাস্ত্র সংকটের সময় আমেরিকার রাষ্ট্রপতি ছিলেন জন এফ. কেনেডি।
৬। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ কত সাল থেকে কত সাল পর্যন্ত স্থায়ী হয়েছিল?
উত্তরঃ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ ১৯৩৯ সাল থেকে ১৯৪৫ সাল পর্যন্ত স্থায়ী হয়েছিল।
৭। ১৯৪৫ সালের আগস্ট মাসে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র জাপানের কোন দুটি শহরে পারমাণবিক বোমা ফেলেছিল?
উত্তরঃ ১৯৪৫ সালের আগস্ট মাসে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র জাপানের হিরোশিমা ও নাগাসাকি শহরে পারমাণবিক বোমা ফেলেছিল।
৮। হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে নিক্ষিপ্ত পারমাণবিক বোমা দুটির নাম কী ছিল?
উত্তরঃ হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে নিক্ষিপ্ত বোমা দুটির নাম ছিল যথাক্রমে ‘লিটল বয়’ এবং ‘ফ্যাটম্যান’।
৯। ন্যাটো কত সালে এবং কতটি রাষ্ট্র নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে গঠিত হয়েছিল?
উত্তরঃ ন্যাটো ১৯৪৯ সালের এপ্রিলে ১২টি রাষ্ট্র নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে গঠিত হয়েছিল।
১০। সোভিয়েত ইউনিয়নের নেতৃত্বে গঠিত সামরিক জোটটির নাম কী ছিল?
উত্তরঃ সোভিয়েত ইউনিয়নের নেতৃত্বে গঠিত সামরিক জোটটির নাম ছিল ‘ওয়ারশ চুক্তি’।
১১। জোট নিরপেক্ষ আন্দোলন-এর প্রথম সম্মেলন কত সালে অনুষ্ঠিত হয়েছিল?
উত্তরঃ জোট নিরপেক্ষ আন্দোলন-এর প্রথম সম্মেলন ১৯৬১ সালে বেলগ্রেডে অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
১২। জোট নিরপেক্ষ আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা পাঁচজন নেতা কে কে ছিলেন?
উত্তরঃ জোট নিরপেক্ষ আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা পাঁচজন নেতা ছিলেন জোসিপ ব্রজ টিটো, গামাল আবদেল নাসের, জওহরলাল নেহরু, সুকর্ণ এবং কোয়ামে নক্রুমা।
১৩। UNCTAD কত সালে ‘উন্নতির জন্য নতুন বাণিজ্য নীতি’ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশ করে?
উত্তরঃ UNCTAD ১৯৭২ সালে ‘উন্নতির জন্য নতুন বাণিজ্য নীতি’ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশ করে।
১৪। ১৯৭১ সালে ভারত ও সোভিয়েত ইউনিয়নের মধ্যে কত বছরের ‘মৈত্রী চুক্তি’ স্বাক্ষরিত হয়েছিল?
উত্তরঃ ১৯৭১ সালে ভারত ও সোভিয়েত ইউনিয়নের মধ্যে ২০ বছরের ‘মৈত্রী চুক্তি’ স্বাক্ষরিত হয়েছিল।
১৫। কত সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের বিঘটন ঘটে এবং শীতল যুদ্ধের অবসান হয়?
উত্তরঃ ১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের বিঘটন ঘটে এবং শীতল যুদ্ধের অবসান হয়।
দীর্ঘ প্রশ্ন উত্তর।
১। কিউবার ক্ষেপণাস্ত্র সংকট বলতে কী বোঝো? এই সংকটের গুরুত্ব আলোচনা করো।
উত্তরঃ কিউবার ক্ষেপণাস্ত্র সংকট: ১৯৬২ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের রাষ্ট্রপতি নিকিতা ক্রুশ্চেভ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিকটবর্তী সমাজতান্ত্রিক দ্বীপরাষ্ট্র কিউবায় গোপনে পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি স্থাপন করেন। এর ফলে আমেরিকার প্রধান শহরগুলি সরাসরি সোভিয়েত পারমাণবিক আক্রমণের আওতায় চলে আসে। মার্কিন রাষ্ট্রপতি জন এফ. কেনেডি সোভিয়েত জাহাজগুলির পথ অবরুদ্ধ করার নির্দেশ দিলে দুই পরাশক্তি মুখোমুখি অবস্থানে চলে আসে। এই উত্তেজনাকর পরিস্থিতিকেই ‘কিউবার ক্ষেপণাস্ত্র সংকট’ বলা হয়।
সংকটের গুরুত্ব:
(i) শীতল যুদ্ধের চরম উৎকর্ষ ও উত্তেজনার শীর্ষবিন্দু: কিউবার সংকট ছিল আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও শীতল যুদ্ধের ইতিহাসে সবচেয়ে সংকটময় মুহূর্ত। এই ঘটনা প্রমাণ করে দিয়েছিল যে দুটি পরাশক্তির পরোক্ষ দ্বন্দ্ব বা স্নায়ুযুদ্ধ কত দ্রুত সরাসরি বিশ্বযুদ্ধের রূপ নিতে পারে।
(ii) ‘প্রতিরোধের যুক্তি’-এর সাফল্য: সংকট চলাকালীন প্রমাণিত হয় যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়ন—উভয় পক্ষের কাছেই বিপুল পারমাণবিক অস্ত্র থাকায় কোনো পক্ষই আগে আক্রমণ করার সাহস পায়নি। কারণ, প্রথম আক্রমণের পর অপর পক্ষের যে পরিমাণ অস্ত্র অবশিষ্ট থাকবে, তা দিয়ে আক্রমণকারী রাষ্ট্রকেও সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দেওয়া সম্ভব।
(iii) আন্তর্জাতিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ চুক্তির সূচনা: এই সংকট দুই পরাশক্তিকে অনুধাবন করায় যে ভুল বোঝাবুঝি বা কারিগরি ত্রুটির কারণে অহেতুক পারমাণবিক মহাবিনাশ ঘটে যেতে পারে। ফলে বিশ্বব্যাপী স্থিরতা আনার উদ্দেশ্যে ১৯৬০-এর দশক থেকে অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের জন্য কূটনৈতিক আলোচনা শুরু হয়। এর ফলশ্রুতিতে ১৯৬৩ সালে ‘সীমিত পরীক্ষা নিষিদ্ধকরণ চুক্তি’ ১৯৬৮ সালে ‘পারমাণবিক অস্ত্র সংবরণ চুক্তি’ এবং ১৯৭২ সালে ‘অস্ত্র সীমাবদ্ধকরণ আলোচনা’-র মতো গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
(iv) সরাসরি দ্বিপাক্ষিক যোগাযোগ ও ‘হটলাইন’ ব্যবস্থা চালু: সংকটের সময় দুই রাষ্ট্রপ্রধানের মধ্যে দ্রুত বার্তা আদান-প্রদানের ক্ষেত্রে যে বিলম্ব ও জটিলতা তৈরি হয়েছিল, তা থেকে শিক্ষা নিয়ে ওয়াশিংটন এবং মস্কোর মধ্যে সরাসরি যোগাযোগের জন্য ‘হটলাইন’ টেলিফোন ব্যবস্থা চালু করা হয়।
২। ‘প্রতিরোধের যুক্তি’ কী? শীতল যুদ্ধে এটি কীভাবে কাজ করেছিল?
উত্তরঃ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সমাপ্তির পর (১৯৪৫) বিশ্ব রাজনীতিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং সোভিয়েত ইউনিয়ন—এই দুটি পরাশক্তির আবির্ভাব ঘটে। দুই শিবিরের মধ্যে তীব্র আদর্শগত ও রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব শুরু হলেও তা কখনো সরাসরি সর্বগ্রাসী যুদ্ধে রূপ নেয়নি, যা ‘শীতল যুদ্ধ’ নামে পরিচিত। এই দুই পরাশক্তির কাছেই মানবজাতিকে একাধিকবার ধ্বংস করার মতো বিপুল পারমাণবিক অস্ত্র মজুত ছিল। তবে এই পারমাণবিক শক্তির উপস্থিতিতেও যে বিশ্বব্যাপী একটি ‘তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ’ বা ‘উত্তপ্ত যুদ্ধ’ এড়ানো সম্ভব হয়েছিল, তার পেছনে সবচেয়ে বড় কূটনৈতিক ও সামরিক কারণটি ছিল ‘প্রতিরোধের যুক্তি’।
প্রতিরোধের যুক্তি’ বা এর অর্থ ও ধারণা:
সংজ্ঞা: যখন দুটি প্রতিদ্বন্দ্বী পরাশক্তির কাছেই বিপুল পরিমাণ বিধ্বংসী পারমাণবিক অস্ত্র মজুত থাকে, তখন কোনো পক্ষই আগে আক্রমণ বা যুদ্ধ শুরু করার ঝুঁকি নিতে চায় না। কারণ প্ররোচনা সত্ত্বেও আক্রমণকারী দল ভালো করেই জানে যে, প্রতিপক্ষের পালটা আক্রমণে নিজেদেরও অপরিসীম ও অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে যাবে। এই পারস্পরিক ধ্বংসের ভয়ে যুদ্ধ থেকে বিরত থাকার যৌক্তিক ধারণাকেই আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে ‘প্রতিরোধের যুক্তি’ বা ‘প্রতিবন্ধকতার যুক্তি’ বলা হয়।
শীতল যুদ্ধে ‘প্রতিরোধের যুক্তির কার্যকারিতা:
(i) সর্বাত্মক বা উত্তপ্ত যুদ্ধ রোধ: শীতল যুদ্ধ চলাকালীন দুই পরাশক্তির মধ্যে তীব্র প্রতিযোগিতা ও স্নায়ুবিক উত্তেজনা থাকলেও তারা সরাসরি সামরিক সংঘাত এড়িয়ে চলেছিল। উভয় রাষ্ট্রই অনুধাবন করেছিল যে সরাসরি যুদ্ধ শুরু করার রাজনৈতিক বা সামরিক মুনাফা পাওয়ার চেয়ে উভয় পক্ষের বিনাশ হওয়ার ঝুঁকি বহুগুণ বেশি।
(ii) কিউবার ক্ষেপণাস্ত্র সংকট ও দায়িত্বশীল আচরণ: ১৯৬২ সালে সোভিয়েত ইউনিয়ন কিউবায় পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপন করলে আমেরিকা কিউবা অভিমুখে নৌ-অবরোধ জারি করে। এটি ছিল শীতল যুদ্ধের সবচেয়ে ভয়াবহ মুহূর্ত।
(iii) আঞ্চলিক সংঘাতকে বিশ্বযুদ্ধে রূপান্তরিত হতে না দেওয়া: শীতল যুদ্ধের সময় কোরিয়া যুদ্ধ (১৯৫০-৫৩), বার্লিন সংকট (১৯৫৮-৬২) কিংবা ভিয়েতনাম যুদ্ধের মতো বিভিন্ন স্থানে দুই পরাশক্তি পরোক্ষ সংঘাত বা প্রক্সি ওয়ারে জড়িয়ে পড়েছিল।
(iv) কৌশলগত সামরিক ভারসাম্য: হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে ব্যবহৃত বোমার চেয়ে বহুগুণ বেশি শক্তিশালী হাজার হাজার পারমাণবিক অস্ত্র মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়ন নিজ নিজ ঘাঁটিতে মজুত করেছিল।
৩। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তীকালে কীভাবে দ্বি-মেরুকরণ এবং সামরিক জোটের উত্থান ঘটেছিল?
উত্তরঃ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তীকালে দ্বি-মেরুকরণের উত্থান:
(i) আদর্শগত দ্বন্দ্ব ও দুই শিবিরের উদ্ভব: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ছিল উদারনৈতিক পুঁজিবাদ ও বহুদলীয় গণতন্ত্রের সমর্থক, অন্যদিকে সোভিয়েত ইউনিয়ন ছিল সমাজতন্ত্র ও একদলীয় সাম্যবাদী ব্যবস্থার ধারক। এই বৈপরীতমুখী রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক আদর্শের কারণে বিশ্ব দুটি বিরোধী শিবিরে বিভক্ত হয়ে পড়ে।
(ii) ‘লৌহ যবনিকা’ ও ইউরোপের বিভাজন: ১৯৪৬ সালে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী উইনস্টন চার্চিল বিখ্যাত ‘লৌহ যবনিকা’ বক্তৃতায় উল্লেখ করেন যে ইউরোপ দুইভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। পূর্ব ইউরোপের পোল্যান্ড, হাঙ্গেরি, রোমানিয়া, বুলগেরিয়া ইত্যাদি রাষ্ট্র সোভিয়েত বলয়ে যুক্ত হয় এবং পশ্চিম ইউরোপের দেশগুলি মার্কিন বলয়ে অন্তর্ভুক্ত হয়।
(iii) ট্রুম্যান নীতি ও মার্শাল পরিকল্পনা: মার্কিন রাষ্ট্রপতি হ্যারি ট্রুম্যান সাম্যবাদের বিস্তার রোধে ‘ট্রুম্যান নীতি’ ঘোষণা করেন। পাশাপাশি যুদ্ধবিধ্বস্ত পশ্চিম ইউরোপের অর্থনৈতিক পুনর্গঠন ও পুঁজিবাদকে মজবুত করতে ‘মার্শাল পরিকল্পনা’ চালু করেন।
(iv) কমেকন ও মলোটভ পরিকল্পনা ১৯৪৯: মার্কিন অর্থনৈতিক প্রভাব প্রতিহত করতে সোভিয়েত ইউনিয়ন পূর্ব ইউরোপের সাম্যবাদী দেশগুলিকে নিয়ে ‘কমেকন’ এবং ‘মলোটভ পরিকল্পনা’ গঠন করে। এর ফলে বিশ্ব রাজনীতি ও অর্থনীতি পুরোপুরি দ্বিমেরু কেন্দ্রিক রূপ নেয়।
সামরিক জোটের উত্থান:
(i) ন্যাটো: ১৯৪৯ সালের এপ্রিলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে ১২টি পশ্চিমী রাষ্ট্র মিলে ‘উত্তর আটলান্টিক চুক্তি সংস্থা’ বা ন্যাটো গঠন করে। এর মূল নীতি ছিল—জোটের যেকোনো একটি সদস্য রাষ্ট্রের ওপর আক্রমণকে সকল সদস্য রাষ্ট্রের ওপর আক্রমণ হিসেবে গণ্য করা হবে।
(ii) ওয়ারশ চুক্তি: ন্যাটোর মোকাবিলা করতে এবং ১৯৫৫ সালে পশ্চিম জার্মানিকে ন্যাটোর অন্তর্ভুক্ত করার জবাবে সোভিয়েত ইউনিয়ন পূর্ব ইউরোপের সাম্যবাদী দেশগুলিকে নিয়ে ‘ওয়ারশ চুক্তি’ নামক সামরিক জোট গঠন করে।
(iii) এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যে জোটের বিস্তার: আমেরিকা এশিয়ায় সাম্যবাদ রুখতে ১৯৫৪ সালে ‘দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া চুক্তি সংস্থা’ বা সিয়াটো এবং ১৯৫৫ সালে মধ্যপ্রাচ্যে ‘সেন্ট্রাল চুক্তি সংস্থা’ বা সেন্টো গঠন করে।
(iv) সোভিয়েত দ্বিপাক্ষিক সামরিক চুক্তি: এর জবাবে সোভিয়েত ইউনিয়ন চীন, উত্তর কোরিয়া এবং ভিয়েতনামের মতো মিত্র রাষ্ট্রগুলির সাথে দ্বিপাক্ষিক সামরিক ও প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করে নিজেদের প্রভাব বিস্তার করে।
৪। জোট নিরপেক্ষ আন্দোলন-এর প্রেক্ষাপট ও মূল উদ্দেশ্যসমূহ আলোচনা করো।
উত্তরঃ জোট নিরপেক্ষ আন্দোলনের প্রেক্ষাপট:
(i) দ্বি-মেরুকরণ ও স্নায়ুযুদ্ধের তীব্রতা: দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধোত্তরকালে বিশ্ব রাজনীতি আমেরিকা ও সোভিয়েত ইউনিয়ন—এই দুই পরাশক্তির নেতৃত্বে দুটি সামরিক জোটে (ন্যাটো ও ওয়ারশ) বিভক্ত হয়ে পড়ে। এই ক্ষতিকর দ্বি-মেরুকরণ এবং যেকোনো মুহূর্তে নতুন বিশ্বযুদ্ধের সম্ভাবনা এশিয়া ও আফ্রিকার সদ্যস্বাধীন দেশগুলিকে একটি স্বতন্ত্র রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম গড়ে তুলতে উৎসাহিত করে।
(ii) নবস্বাধীন দেশগুলির জাতীয় সার্বভৌমত্ব রক্ষা: এশিয়া ও আফ্রিকার দেশগুলি দীর্ঘ ঔপনিবেশিক শাসন ও শোষণের পর স্বাধিকার লাভ করেছিল। কোনো পরাশক্তির সামরিক জোটে যোগ দিলে নিজেদের কষ্টার্জিত স্বাধীনতা ও পররাষ্ট্রনীতির স্বায়ত্তশাসন নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা ছিল।
(iii) পাঁচ নেতার উদ্যোগ ও বান্ধুং সম্মেলন: এই আন্দোলনের প্রধান রূপকার ছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরু, যুগোস্লাভিয়ার রাষ্ট্রপতি জোসিপ ব্রজ টিটো, মিসরের রাষ্ট্রপতি গামাল আবদেল নাসের, ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রপতি সুকর্ণ এবং ঘানার নেতা কোয়ামে নক্রুমা।
(iv) বেলগ্রেড সম্মেলন: ১৯৬১ সালে যুগোস্লাভিয়ার বেলগ্রেডে ২৫টি সদস্য রাষ্ট্রের উপস্থিতিতে জোট নিরপেক্ষ আন্দোলনের প্রথম আনুষ্ঠানিক শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। বেলগ্রেড সম্মেলনের মাধ্যমেই এই আন্দোলন আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে প্রাতিষ্ঠানিক ও শক্তিশালী রূপ লাভ করে।
জোট নিরপেক্ষ আন্দোলনের মূল উদ্দেশ্য আলোচনা করা হলো:
(i) সামরিক জোট থেকে দূরত্ব বজায় রাখা: শীতল যুদ্ধের সময়কালে আমেরিকা বা সোভিয়েত ইউনিয়নের নেতৃত্বাধীন যেকোনো সামরিক জোট থেকে নিজেদের মুক্ত রাখা এবং কোনো সামরিক চুক্তিতে আবদ্ধ না হওয়া।
(ii) সাম্রাজ্যবাদ, উপনিবেশবাদ ও বর্ণবাদের বিরোধিতা: বিশ্বের যেখানেই সাম্রাজ্যবাদী শোষণ, নতুন করে ঔপনিবেশিক আধিপত্য স্থাপন কিংবা বর্ণবৈষম্য নীতি কার্যকর ছিল, তার বিরুদ্ধে জোরালো প্রতিবাদ জানানো এবং মুক্তিকামী দেশগুলিকে সহায়তা করা।
(iii) বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠা ও পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ: দুই পরাশক্তির উত্তেজনা হ্রাস করা, আন্তর্জাতিক বিরোধের শান্তিপূর্ণ নিষ্পত্তি এবং বিশ্বব্যাপী পারমাণবিক অস্ত্র প্রতিযোগিতা বন্ধ করে নিরস্ত্রীকরণ নীতি প্রচার করা।
(iv) স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি পরিচালনা: কোনো পরাশক্তির অন্ধ অনুকরণ না করে প্রতিটি আন্তর্জাতিক ইস্যুতে নিরপেক্ষ, ন্যায়সংগত ও স্বাধীন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা।
৫। শীতল যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ভারতের পররাষ্ট্রনীতির প্রধান বৈশিষ্ট্য ও ভূমিকা আলোচনা করো।
উত্তরঃ শীতল যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ভারতের পররাষ্ট্রনীতির প্রধান বৈশিষ্ট্য আলোচনা করা হলো:
(i) জোট নিরপেক্ষতা: ভারতের পররাষ্ট্রনীতির সর্বপ্রধান স্তম্ভ ছিল ‘জোট নিরপেক্ষতা’। এর অর্থ হলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ‘ন্যাটো’ বা সোভিয়েত ইউনিয়নের ‘ওয়ারশ’-র মতো কোনো সামরিক জোটে যোগ না দিয়ে স্বকীয় রাজনৈতিক অবস্থান বজায় রাখা।
(ii) স্বাধীন ও স্বায়ত্তশাসিত সিদ্ধান্ত গ্রহণ: কোনো পরাশক্তির চাপ বা প্রভাবের কাছে নতিস্বীকার না করে প্রতিটি আন্তর্জাতিক বিষয়ে গুণের বিচার করে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা ছিল ভারতের নীতির অন্যতম মূল দিক।
(iii) সাম্রাজ্যবাদ ও বর্ণবৈষম্যের বিরোধিতা: ভারত বিশ্বজুড়ে যেকোনো ধরনের সাম্রাজ্যবাদ, নতুন করে ঔপনিবেশিক আধিপত্য বিস্তার এবং দক্ষিণ আফ্রিকার মতো স্থানে প্রচলিত বর্ণবৈষম্যবাদের তীব্র প্রতিবাদ জানায়।
(iv) পঞ্চশীল নীতি ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান:১৯৫৪ সালে ঘোষিত ‘পঞ্চশীল নীতি’ ছিল ভারতের আন্তর্জাতিক সম্পর্কের অন্যতম ভিত্তি। পারস্পরিক অনা আক্রমণ, অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা এবং শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের মাধ্যমে বিশ্বশান্তি রক্ষা করাই ছিল এর মূল লক্ষ্য।
শীতল যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ভারতের পররাষ্ট্রনীতির প্রধান ভূমিকা আলোচনা করা হলো:
(i) সামরিক জোট থেকে নিজেকে দূরে রাখা: ভারত অত্যন্ত সতর্কতার সাথে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়ন—উভয় শিবিরের সামরিক প্রতিযোগিতা থেকে নিজেকে দূরে রাখে। এর ফলে ভারত কোনো সামরিক ব্লকের নিয়ন্ত্রণে না গিয়ে উভয় পরাশক্তির কাছ থেকেই প্রয়োজনমতো অর্থনৈতিক ও কারিগরি সহায়তা গ্রহণ করতে পেরেছিল।
(ii) নবস্বাধীন দেশগুলিকে জোটে যোগদানে নিরস্ত করা: এশিয়া ও আফ্রিকার সদ্য স্বাধীনতা পাওয়া দেশগুলি যাতে আবার কোনো পরাশক্তির সামরিক বলয়ে বা নব্য-উপনিবেশবাদে আবদ্ধ না হয়ে পড়ে, ভারত তাদের জোট নিরপেক্ষ নীতি গ্রহণে উৎসাহিত করে এবং এশীয়-আফ্রিকীয় ঐক্য গড়ে তোলে।
(iii)আন্তর্জাতিক সংকটে মধ্যস্থতা ও শান্তি প্রতিষ্ঠা: ভারত শীতল যুদ্ধকালীন একাধিক গুরুতর আন্তর্জাতিক সংকটে সক্রিয় মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করেছিল। ১৯৫০-এর দশকে কোরীয় যুদ্ধ সংকট নিরসনে এবং কঙ্গো ও সুয়েজ সংকটকালে উত্তেজনা প্রশমনে ভারতের কূটনৈতিক ভূমিকা আন্তর্জাতিক মহলে প্রশংসিত হয়।
(iv) জাতীয় স্বার্থ রক্ষা ও ভারত-সোভিয়েত চুক্তি: জোট নিরপেক্ষতার নীতি বজায় রাখলেও ভারত কখনো নীতিহীন নিষ্ক্রিয়তা পালন করেনি। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশে মুক্তি সংগ্রামকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া পরিস্থিতিতে জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষার্থে ভারত সোভিয়েত ইউনিয়নের সাথে ২০ বছরের ‘শান্তি, মৈত্রী ও সহযোগিতা চুক্তি’ স্বাক্ষর করে, যা ভারতকে একটি বড় কূটনৈতিক সুরক্ষা প্রদান করেছিল।

