SEBA Class 10 Social Science Important Chapter 1 বঙ্গ বিভাজন ( ১৯০৫-১৯১১ ) ও স্বদেশী আন্দোলন

SEBA Class 10 Social Science Important Chapter 1 বঙ্গ বিভাজন ( ১৯০৫-১৯১১ ) ও স্বদেশী আন্দোলন Question Answer Bengali Medium As Per New Syllabus to each chapter is provided in the list so that you can easily browse through different chapters SEBA Class 10 Social Science Important Chapter 1 বঙ্গ বিভাজন ( ১৯০৫-১৯১১ ) ও স্বদেশী আন্দোলন Solutions and select need one. Class 10 Social Science Additional Notes in Bengali Medium Download PDF. SEBA Class 10 Social Science Important Question Answer.

SEBA Class 10 Social Science Important Chapter 1 বঙ্গ বিভাজন ( ১৯০৫-১৯১১ ) ও স্বদেশী আন্দোলন

Also, you can read the NCERT book online in these sections Solutions by Expert Teachers as per Central Board of Secondary Education (CBSE) Book guidelines. SEBA Class 10 Social Science Important Notes in Bengali are part of All Subject Solutions. Here we have given Class 10 Social Science Additional Solutions for All Chapters, You can practice these here.

Chapter: 1

অতিরিক্ত প্রশ্নোত্তর

অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর : 

প্রশ্ন ১। বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলনের সূচনা কখন হয় ? 

উত্তরঃ ১৯০৫ সালের ৭ আগস্ট ।

প্রশ্ন ২। বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলনে আন্দোলনকারীরা কোন গান গেয়েছিলেন ? 

উত্তরঃ বন্দেমাতরম্ ।

প্রশ্ন ৩। অবিভক্ত বঙ্গদেশের মোট জনসংখ্যা কত ছিল ? 

উত্তরঃ ৫৪ নিযুত । 

প্রশ্ন ৪। পূর্ববঙ্গ ও আসামের মোট আয়তন কত বর্গমাইল ছিল ? 

উত্তরঃ ১,০৬ , ৫৪০ বর্গমাইল । 

প্রশ্ন ৫। ‘ বন্দেমাতরম্ ‘ সংগীতের রচয়িতা কে ছিলেন ? 

উত্তরঃ বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় । 

প্রশ্ন ৬। স্বদেশী আন্দোলনের যেকোন একটি কার্যসূচী লেখো । 

উত্তরঃ বয়কট । 

প্রশ্ন ৭। জাতীয় শিক্ষা পরিষদ কখন প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ?

উত্তরঃ ১৯০৬ সালের ১৫ ই আগস্ট । 

প্রশ্ন ৮। ১৯০৫ সালে কংগ্রেসের বার্ষিক অধিবেশন কোথায় অনুষ্ঠিত হয়েছিল ? 

উত্তরঃ বারাণসীতে । 

প্রশ্ন ৯। ১৯০৫ সালের জাতীয় কংগ্রেসের বেনারস অধিবেশনের সভাপতি কে ছিলেন ? 

উত্তরঃ গোপালকৃষ্ণ গোখলে । 

প্রশ্ন ১০। ১৯০৬ সালে জাতীয় কংগ্রেসের অধিবেশন কোথায় অনুষ্ঠিত হয়েছিল ? 

উত্তরঃ কলকাতায় । 

প্রশ্ন ১১। ১৯০৬ সালে কংগ্রেসের কলকাতা অধিবেশনের সভাপতি কে ছিলেন ? 

উত্তরঃ দাদাভাই নৌরোজী । 

প্রশ্ন ১২। লাল – বাল – পাল কে কে ছিলেন ? 

উত্তরঃ লালা লাজপত রায় , বাল গঙ্গাধর তিলক ও বিপিনচন্দ্র পাল । 

প্রশ্ন ১৩। কোন তারিখে ব্রিটিশ সরকার দিল্লিতে বৈঠক ডেকে বঙ্গভঙ্গ প্রকল্প বাতিল করে ? 

উত্তরঃ ১৯১১ সালের ২ ডিসেম্বর ।

প্রশ্ন ১৪। কোন সালে মুসলিম লীগের সংগঠন গড়ে উঠেছিল ? 

উত্তরঃ ১৯০৬ সালে । 

প্রশ্ন ১৫। ব্রিটিশ – ভারত সরকার ঢাকার নবাব সালিমউল্লাকে কত টাকার ঋণ দিয়ে সরকারের পক্ষে এনেছিলেন ? 

উত্তরঃ ১৪,০০,০০০ টাকা ।

প্রশ্ন ১৬। ভাইসরয় লর্ড মিন্টোর ব্যক্তিগত সচিবের নাম কী ছিল ? 

উত্তরঃ কর্ণেল ডানলপ্ স্মিথ । 

প্রশ্ন ১৭। ক্ষুদিরাম বসুর ফাসি কখন হয়েছিল ? 

উত্তরঃ ১৯০৮ সালে । 

প্রশ্ন ১৮। স্বদেশী আন্দোলনকালে প্রতিষ্ঠিত একটি স্বদেশী ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের নাম লেখো । 

উত্তরঃ বেঙ্গল কেমিকেলস্ । 

প্রশ্ন ১৯। মর্লি – মিন্টো সংস্কার আইন কখন প্রণীত হয় ? 

উত্তরঃ ১৯০৯ সালে । 

প্রশ্ন ২০। স্বদেশী আন্দোলনকালে প্রকাশিত একটি দৈনিক বাংলা পত্রিকার নাম লেখো । 

উত্তরঃ যুগান্তর । 

সঠিক উত্তরটি বের করে উত্তরটির পাশে টিক্ ( √ ) চিহ্ন দাও : 

প্রশ্ন ১। বঙ্গভঙ্গ রদ ( বাতিল ) করা হয়— 

( i ) ১৯০৯ সালে 

( ii ) ১৯১০ সালে 

( iii ) ১৯১১ সালে 

( iv ) ১৯১২ সালে । 

উত্তরঃ ( iii ) ১৯১১ সালে ( √ ) ।

প্রশ্ন ২। কত সালে কংগ্রেস বিভক্ত হয় ?

( i ) ১৯০৯ সালে

( ii ) ১৯০৭ সালে

( iii ) ১৯১১ সালে 

( iv ) ১৯১৭ সালে ।

উত্তরঃ  ( ii ) ১৯০৭ সালে ( √ ) ।

প্রশ্ন ৩। স্বদেশী আন্দোলন আরম্ভ হয় 

( i ) ১৮৫৭ সালে

( ii ) ১৮৫৮ সালে

( iii ) ১৯০০ সালে 

( iv ) ১৯০৫ সালে

উত্তরঃ ( iv ) ১৯০৫ সালে ( √ ) ।

প্রশ্ন ৪। কোন অধিবেশনে কংগ্রেস বিভাজন হয় ? 

( i ) সুরাট অধিবেশনে 

( ii ) নাগপুর অধিবেশনে

( iii ) লাহোর অধিবেশনে  

( iv ) কলকাতা অধিবেশনে

উত্তরঃ ( i ) সুরাট অধিবেশনে ( √ ) ।

প্রশ্ন ৫। মুসলিম লীগের প্রতিষ্ঠাতা হলেন— 

( i ) স্যার সৈয়দ আহমেদ

( ii ) আবুল কালাম আজাদ 

( iii ) নবাব সলিমউল্লা

( iv ) মহম্মদ আলী জিন্না 

উত্তরঃ ( iii ) নবাব সলিমউল্লা ( √ ) ।

প্রশ্ন ৬। মুসলিম লীগের সভাপতি ছিলেন— 

( i ) মহম্মদ আলী জিন্না 

( ii ) নবাব সালিউউল্লা

( iii ) স্যার সৈয়দ আহমেদ

( iv ) আবুল কালাম আজাদ 

উত্তরঃ ( i ) মহম্মদ আলী জিন্না ( √ ) ।

প্রশ্ন ৭। কত সালে জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছিল ? 

( i ) ১৯২০ সালে ১০ ই এপ্রিল 

( ii ) ১৯২১ সালের ২১ শে এপ্রিল 

( iii ) ১৯১৯ সালের ১৩ ই এপ্রিল 

( iv ) ১৯৩০ সালের ১৫ ই এপ্রিল । 

উত্তরঃ ( iii ) ১৯১৯ সালের ১৩ ই এপ্রিল  ( √ ) ।

রচনাভিত্তিক প্রশ্নোত্তর 

প্রশ্ন ১। বঙ্গভঙ্গ আন্দোলন কাকে বলে ? সংক্ষেপে আলোচনা করো । 

উত্তরঃ বাংলা ছিল ভারতীয় জাতীয়তাবাদের উৎসকেন্দ্র । রাজনৈতিক সচেতনতা ও জাতীয়তাবোধে বাঙালী ছিল অগ্রগণ্য । পাশ্চাত্য শিক্ষায় অগ্রণী এবং জাতীয় চেতনায় উদ্বুদ্ধ বাঙালীর স্বাধীকার চেতনা ব্রিটিশ সরকারের কাম্য ছিল না । সেই কারণে রাজনৈতিক চেতনাসম্পন্ন বাঙালীকে বিচ্ছিন্ন করে ভারতের জাতীয়তাবাদী ঐক্যের মূলে কুঠারাঘাত করতে উদ্যত হয় ব্রিটিশ সরকার । লর্ড কার্জনের আমলে বাংলাদেশকে দ্বিখণ্ডিত করে ভারতে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের স্থায়িত্বকে সুনিশ্চিত করার এক জঘন্য ষড়যন্ত্র করা হয় । এই ঘৃণ্য প্রয়াসের প্রতিবাদে সমগ্র বাংলা তথা ভারতে যে আন্দোলনের উদ্ভব হয় , তাকে বঙ্গভঙ্গ আন্দোলন বা স্বদেশী আন্দোলন বলা হয় । 

লর্ড কার্জনের আমলে বঙ্গবিভাগ হলেও , তিনি এর উদ্ভাবক ছিলেন না । এর আগে ১৮৫৪ , ১৮৭৪ ও ১৮৯৬ খ্রিস্টাব্দে নানা অজুহাতে বাংলাকে ভাগ করার পরিকল্পনা হয়েছিল । তবে সেগুলি গণবিক্ষোভের ফলে কার্যকরি হয় নি । এখন লর্ড কার্জন গভীর রাজনৈতিক দূরভিসন্ধি নিয়ে বাংলাকে বিভক্ত করতে তৎপর হন । তাঁর নির্দেশে বাংলার লেফটেন্যান্ট গভর্নর অ্যান্ড্রু ফ্রেজার নতুনভাবে বঙ্গ ভঙ্গের প্রস্তাব দিলে স্বরাষ্ট্র সচিব হাবার্ট রিজলে’র অনুমোদনক্রমে এটি ১৯০৩ খ্রিস্টাব্দের ৩ রা ডিসেম্বর ‘ রিজলে নোট ’ নামে প্রকাশিত হয়। শেষ পর্যন্ত স্থির হয় যে , সমগ্র চট্টগ্রাম বিভাগ , ঢাকা ও ময়মনসিংহ জেলাকে আসামের সঙ্গে যুক্ত করে একটি নতুন প্রদেশ গঠন করা হবে । 

এই পরিকল্পনা প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে দেশব্যাপী প্রতিবাদের ঝড় ওঠে । সরকার নিরুপায় হয়ে এই প্রস্তাবও রদ করে এবং গোপনে বঙ্গভঙ্গের একটি নতুন পরিকল্পনা তৈরি করে । নতুন পরিকল্পনা অনুসারে স্থির হয় যে , ঢাকা বিভাগ , চট্টগ্রাম বিভাগ , রাজশাহি বিভাগ , পার্বত্য ত্রিপুরা ও মালদহ জেলা , দার্জিলিংকে আসামের সঙ্গে যুক্ত করে ‘ পূর্ববঙ্গ ও অসম ’ নামে একটি নতুন প্রদেশ গঠন করা হবে । নবগঠিত প্রদেশের শাসন – দায়িত্বে থাকবেন একজন লেফটেন্যান্ট গভর্নর বা ছোটলাট এবং এর রাজধানী হবে ঢাকা । অপরদিকে পশ্চিমবঙ্গ , বিহার ও উড়িষ্যা নিয়ে গঠিত হবে বাংলা প্রদেশ এবং এর রাজধানী হবে কলকাতা । লর্ড কার্জন বঙ্গভঙ্গের সপক্ষে যুক্তি দেখান যে , 

( ১ ) একজন গভর্নরের পক্ষে বাংলা – বিহার – উড়িষ্যার মতো এত বড়ো প্রদেশে সুষ্ঠু শাসন প্রবর্তন করা সম্ভব হচ্ছে না । 

( ২ ) পূর্ববাংলা কলকাতার প্রভাব থেকে মুক্ত থাকলে ঐ অঞ্চলের বিকাশ ত্বরান্বিত হবে । 

( ৩ ) পূর্ববাংলার মুসলিম অধিবাসীরা হিন্দু সংখ্যাগুরু পশ্চিমবাংলা থেকে মুক্ত হয়ে ন্যায়সঙ্গত অধিকার পাবে । 

( ৪ ) চট্টগ্রাম বন্দরের উন্নয়ন করে এবং অসম – চট্টগ্রাম রেল যোগাযোগ সম্প্রসারণ করে চট্টগ্রাম বন্দর মারফত সস্তায় চা রপ্তানি সম্ভব হবে । এতে শ্রম ও অর্থ জীবিত থাকবে । 

বলা বাহুল্য , লর্ড কার্জনের উন্নত ও দক্ষ প্রশাসন প্রতিষ্ঠার যুক্তি ছিল একটি প্রতারণা মাত্র । প্রকৃতপক্ষে বঙ্গভঙ্গের পরিকল্পনা ছিল গভীর ষড়যন্ত্র ও দূরভিসন্ধির ফল । 

বাংলা ছিল ভারতের জাতীয়তাবাদের প্রধান কেন্দ্র । বাংলাতেই প্রথম ধ্বনিত হয় ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদ ও ঔপনিবেশিক শোষণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ । ভারতের জাতীয় কংগ্রেসের নেতৃত্বেও ছিল বাঙালীদের সার্বিক প্রাধান্য । বাংলার ঐক্য ও জাতীয় চেতনার স্ফূরণ ইংরেজদের কাছে বিপদসংকেত বলে মনে হয় । লর্ড কার্জন বাংলাকে ভাগ করে একই সঙ্গে বাংলার জাতীয়তাবোধ ও জাতীয় কংগ্রেসের ভিত্তি ভেঙ্গে ফেলার পরিকল্পনা করেন । 

১৯০৫ খ্রিস্টাব্দের ১৯ শে জুলাই বাঙালীর সমস্ত আবেগ ও যুক্তিকে অগ্রাহ্য করে বঙ্গভঙ্গের সিদ্ধান্ত সরকারিভাবে ঘোষণা করা হয় এবং ১৬ ই অক্টোবর থেকে বঙ্গভঙ্গ কার্যকরি হবে বলে স্থির হয় । ‘ বঙ্গমায়ের অঙ্গছেদ ‘ – এর প্রতিবাদে এক প্রবল আন্দোলন শুরু হয় , যা ‘ স্বদেশী আন্দোলন ‘ নামে খ্যাত । ১৯০৫ থেকে ১৯১১ খ্রিস্টাব্দ , বঙ্গভঙ্গ প্রত্যাহার পর্যন্ত এই আন্দোলনের ঢেউ সমগ্র বাংলা এবং ভারতের বিস্তীর্ণ অঞ্চলকে উত্তাল করে । 

প্রশ্ন ২। স্বদেশী আন্দোলন সম্পর্কে সংক্ষেপে আলোচনা করো। 

উত্তরঃ ভারতের জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের পুরোভাগে ছিল বাংলা ও বাঙালী জাতি । ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষ পর্বে এবং বিংশ শতাব্দীর প্রথম ভাগে বাংলাদেশেই ছিল সমস্ত চিন্তানায়ক ও জাতীয় আন্দোলনের অগ্রণী ব্যক্তিবর্গ । বাঙালী তার জাতীয় সাহিত্যে স্বাধীনতা লাভের প্রেরণা পায় । ঋষি বঙ্কিমচন্দ্রের “ আনন্দমঠ ” , নবীনচন্দ্র সোলের “ পলাশীর যুদ্ধ ” , দীনবন্ধু মিত্রের “ নীলদর্পণ ” প্রভৃতি গ্রন্থ পাঠে বাঙালীর মনে জাতীয়তাবোধের বিকাশ হয় । 

বাংলাদেশে এই জাতীয়তাবোধের বিকাশ দেখে ইংরেজ সরকার ভয় পায় । সেই সময় লর্ড কার্জন ছিলেন ভারতের ভাইসরয় ও গভর্নর জেনারেল । তিনি ছিলেন কূটনীতিতে খুব পাকা ও ঘোর সাম্রাজ্যবাদী । বাঙালীর শক্তিকে নষ্ট করতে তিনি সুশাসালের অজুহাতে ১৯০৫ সালে বাংলাদেশকে দুই ভাগে ভাগ করেন । অসম ও পূর্ববঙ্গ নিয়ে একটি এবং পশ্চিমবঙ্গ , বিহার ও উড়িষ্যা নিয়ে আর একটি স্বতন্ত্র প্রদেশ গঠিত হয় । লর্ড কার্জনের মূল উদ্দেশ্য ছিল বাঙালী জাতির ঐক্য বিনাশ করে তাদের জাতীয়তাবোধের উপর আঘাত হানা। জাতীয়তাবোধে উদ্বুদ্ধ বাঙালী জাতিকে বিচ্ছিন্ন করে তাদের সংহতি ও জাতীয়তাবাদী ঐক্য বিনাশ করা ছিল বঙ্গভঙ্গের মূল উদ্দেশ্য । এছাড়া বঙ্গভঙ্গের অন্তর্নিহিত অপর উদ্দেশ্য ছি ছিল সাম্প্রদায়িকতার বিষবৃক্ষকে লালন করা । এইভাবে ১৯০৫ সালের ১৬ ই অক্টোবর বঙ্গভঙ্গ কার্যকর হবে বলে ঘোষণা করা হয় । 

ফলাফল ( স্বদেশী আন্দোলন ) :- লর্ড কার্জনের বঙ্গভঙ্গ বাঙালীর ঐক্য ও জাতীয়তাবোধের উপর যে কঠিন আঘাত হেনেছিল তাতে বাঙালী জাতি এক অভূতপূর্ব দৃঢ়তা ও শক্তি নিয়ে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের অপকৌশলের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিল । বাঙালী জাতির কাছে বিবেচিত হয়েছিল বঙ্গভঙ্গ মায়ের অঙ্গছেদনের মতই শোকাবহ , মর্মাহত ঘটনা বলে । বঙ্গভঙ্গ ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে বাংলার সর্বত্র গ্রামে – গঞ্জে , শহরে – নগরে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সোচ্চার হয়ে উঠে । 

লোকমান্য তিলক , গোখলে , রাষ্ট্রগুরু সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় , দেশপ্রেমিক অশ্বিনীকুমার দত্ত , বক্তা বিপিনচন্দ্র পাল , আনন্দমোহন বসু , কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রমুখ প্রাতঃস্মরণীয় দেশনায়কগণের নেতৃত্বে দেশব্যাপী বঙ্গ ভঙ্গের বিরুদ্ধে এক তুমুল আন্দোলন শুরু হয় । ঋষি বঙ্কিমচন্দ্রের রচিত মন্ত্র “ বন্দেমাতরম্ ” হল এই জাতীয় আন্দোলনের মন্ত্র । স্বামী বিবেকানন্দের প্রচারিত নির্ভীকবাণী এবং রবীন্দ্রনাথের কবিতা ও গান জনসাধারণকে অনুপ্রাণিত করল । বাঙালীর মিলিত কণ্ঠে ধ্বনিত হল— 

“ বাঙালীর প্রাণ বাঙালীর মন , 

বাঙালীর ঘরে যত ভাই বোন , 

এক হউক , এক হউক , এক হউক 

হে ভগবান । ”

দেশময় বিলাতী দ্রব্য বর্জনের আন্দোলন চলতে থাকল । এটা স্বদেশী আন্দোলন নামে খ্যাত । ইংরেজ সরকার এই আন্দোলন দমন করতে কঠোর নীতি অবলম্বন করলেন । এর ফলে বিপ্লবীগণ স্থানে স্থানে হিংসাত্মক কার্য শুরু করলেন । এই বিপ্লবীদের নেতা ছিলেন শ্রীঅরবিন্দ ঘোষ , বারীন ঘোষ প্রমুখ দেশপ্রেমিকগণ ৷ গুপ্তভাবে ইংরেজ হত্যা শুরু হল । ক্ষুদিরাম , কানাইলাল , প্রফুল্ল চাকী প্রমুখ বাংলার বীরগণ সরকারের ফাঁসির কাঠে প্রাণ দিলেন । ফাঁসি আর দ্বীপান্তর হল বিপ্লবীদের ভাগ্যলিপি । বাঙালী যুবকদের মধ্যে তাদের নির্ভীক মৃত্যুবরণ নতুন প্রেরণার সৃষ্টি করল । ইংরেজ সরকারের এই নির্যাতন নীতিতে সারা ভারতে প্রবল উত্তেজনা ও উন্মাদনার সৃষ্টি হল । নির্মম রাজকর্মচারীদের উপযুক্ত শাস্তি দিতে বিপ্লবীরা বাংলাদেশে “ অনুশীলন ” , “ আত্মোন্নতি ” প্রভৃতি অনেকগুলি গুপ্ত সমিতি শ্রীঅরবিন্দের নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠা করে বাংলাদেশে অগ্নিযুগের সূচনা করে । 

স্বদেশী আন্দোলন প্রশমিত করতে ব্রিটিশ সরকার ভারতবাসীকে কিছু রাজনৈতিক অধিকার ছেড়ে দিতে ১৯০৯ সালে এক নতুন সংস্কার আইন প্রবর্তন করেন । এটা মর্লি মিন্টো সংস্কার নামে পরিচিত । কিন্তু এই সংস্কারে ভারতবাসী সন্তুষ্ট হয় নি । গণ – আন্দোলনের গুরুত্ব বুঝতে পেরে ব্রিটিশ সরকার ১৯১১ সালে বঙ্গভঙ্গ রদ করতে বাধ্য হয় । 

প্রশ্ন ৩। স্বদেশী আন্দোলনের মূল কার্যসূচি কী ছিল ? প্রতিটি কার্যসূচির বিষয় উল্লেখ করে সংক্ষেপে আলোচনা করো । 

উত্তরঃ ১৯০৫ সালের ১৬ অক্টোবর বঙ্গভঙ্গ আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর করা হয় । সরকারি সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে সমগ্রদেশ উত্তাল হয়ে উঠে । সমগ্র দেশব্যাপি হরতাল ও ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয় । “ জাতীয় শোকদিবস ” হিসাবে দিনটি পালিত হয়। ১৬ ই অক্টোবর রবীন্দ্রনাথের আহ্বানে ‘ রাখি বন্ধন ’ পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় । আন্দোলনের অস্ত্র হিসাবে স্বদেশী , বয়কট ও জাতীয় শিক্ষা দ্রুত জনপ্রিয়তা লাভ করে । 

( ক ) বয়কট :- ১৯০৪ সালের ১৩ ই জুলাই কৃষ্ণকুমার মিত্র সম্পাদিত “ সঞ্জীবনী ” পত্রিকায় সরকারের বিরুদ্ধে বয়কটের আহ্বান করা হয় । আগামী একবছর কাল জাতীয় শোক পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় । সরকারি দপ্তর , বিদ্যালয় , বিচারালয় , পঞ্চায়েত থেকে বাঙালী সদস্যরা পদত্যাগ করা অঙ্গীকার করেন । বয়কট আন্দোলনে যুব ও ছাত্রসমাজ এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে । 

( খ ) স্বদেশী :- স্বদেশী আন্দোলনের প্রথম ধারাটি ছিল ‘ গঠনমূলক স্বদেশী ‘ । স্বদেশী শিল্প , জাতীয় শিক্ষা , গ্রামোন্নয়ন ও সংগঠনের মাধ্যমে আত্মশক্তি অর্জন করাই ছিল এই ধারার লক্ষ্য । প্রফুল্ল রায় , নীলরতন সরকার , জে . চৌধুরী প্রমুগের ব্যবসায়িক উদ্যোগে , রবীন্দ্রনাথ প্রতিষ্ঠিত ‘ স্বদেশী ভাণ্ডার ’ প্রভৃতির মাধ্যমে এই ধারার প্রকাশ ঘটে । গ্রাম বাংলায় স্বদেশী চেতনা প্রসারে সমিতিগুলি উল্লেখযোগ্য ভূমিকা গ্রহণ করে । ঢাকা , ফরিদপুর , ময়মনসিংহ ও বাখরগঞ্জে ‘ অনুশীলন সমিতি ’ , ‘ ব্রতী ’ , ‘ সুহৃদ ’ ও ‘ সাধনা ’ এবং ‘ স্বদেশী বান্ধব ’ সমিতি ভীষণ সক্রিয় ছিল । 

( গ ) জাতীয় শিক্ষা :- দেশের চিন্তাশীল ব্যক্তিবর্গ শিক্ষাপ্রসারের ধারা রক্ষা করতে জাতীয় শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলবার উদ্যোগ গ্রহণ করেন । জাতীয় শিক্ষা রূপায়ণের জন্য অনেকেই উদার হাতে অর্থ সাহায্য করেন । ১৯০৬ সালের ১৪ আগস্ট “ জাতীয় শিক্ষা পরিষদ ” প্রতিষ্ঠা করা হয় । এই পরিষদের উদ্যোগে কলকাতায় গড়ে উঠে ‘ বেঙ্গল ন্যাশানাল কলেজ ‘ । সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি বিজ্ঞান ও শিক্ষার বিকাশও জাতীয় শিক্ষার অন্যতম লক্ষ্য ছিল । এই উদ্দেশ্যে ‘ বেঙ্গল টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউট ’ স্থাপিত হয় । বর্তমানে এটা যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নীত হয়েছে । জাতীয় শিক্ষা পরিষদের তত্ত্বাবধানে জাতীয় শিক্ষা দ্রুত প্রসার লাভ করতে থাকে । 

স্বদেশী আন্দোলন ভারতীয় জাতীয় জীবন ও আন্দোলনের ক্ষেত্রে গভীর প্রভাব বিস্তার করে । এই আন্দোলন সর্বপ্রথম ভারতের জাতীয়তাবোধকে প্রাণবন্ত ও গতিশীলরূপে উপস্থাপিত করে । আন্দোলনের সংগ্রামী কর্মসূচি ভারতীয় জনমতকে বোঝাতে সক্ষম হয় যে সংগ্রামের মধ্য দিয়ে ‘ স্বরাজ ’ অর্জন করা যায় ।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Scroll to Top