Class 10 Science Chapter 7 নিয়ন্ত্রণ ও সমন্বয়

Class 10 Science Chapter 7 নিয়ন্ত্রণ ও সমন্বয় Notes to each chapter is provided in the list so that you can easily browse throughout different chapter Class 10 Science Chapter 7 নিয়ন্ত্রণ ও সমন্বয় and select needs one.

Class 10 Science Chapter 7 নিয়ন্ত্রণ ও সমন্বয়

Also, you can read SCERT book online in these sections Class 10 Science Chapter 7 নিয়ন্ত্রণ ও সমন্বয় Solutions by Expert Teachers as per SCERT (CBSE) Book guidelines. Class 10 Science Chapter 7 নিয়ন্ত্রণ ও সমন্বয় These solutions are part of SCERT All Subject Solutions. Here we have given Class 10 Science Chapter 7 নিয়ন্ত্রণ ও সমন্বয় for All Subject, You can practice these here..

নিয়ন্ত্রণ ও সমন্বয়

               Chapter – 7

পাঠ্যপুস্তকের প্রশ্নোত্তরঃ

১। প্রতীপ ক্রিয়া এবং হাঁটার মধ্যে কি পার্থক্য ?

উত্তরঃ 

প্রতিবর্ত ক্রিয়া বা প্রতীপ ক্রিয়াহাঁটা ক্রিয়া
(i) ইহা অনৈচ্ছিক প্রতিক্রিয়া।(i) ইহা ঐচ্ছিক প্রতিক্রিয়া।
(ii) প্রাণীদেহে নির্দিষ্ট উত্তেজনার প্রভাবে যে তাৎক্ষণিক স্বতঃস্ফূর্ত বা অনৈচ্ছিক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয় তাকে প্রতিবর্ত ক্রিয়া বলে।(ii) হাঁটার সময় পায়ের নিম্নতলের চামড়ায় অবস্থিত গ্রাহক বা রিসেপ্টর বেদনা অনুভুতি গ্রহণ করে যা স্নায়ুর মাধ্যমে পায়ের পেশীতে যায়।
(iii) প্রতিবর্ত ক্রিয়া নিয়ন্ত্রিত হয় সুষুম্নাকাণ্ড দ্বারা।(iii) হাঁটা নিয়দ্ভুিত হয় পশ্চাদ মস্তিষ্ক দ্বারা।

২। দুইটি স্নায়ুকোষের মধ্যবর্তী সিনাঙ্গে কি ঘটে ?

উত্তরঃ দুইটি স্নায়ুকোষ বা নিউরণের মিলনস্থল বা সংযােগস্থলকে স্নায়ুসন্ধি বা সাইন্যাপস্ বলে। স্নায়ুসন্ধি প্রধানত একটি নিউরণের এক্সনের শেষ প্রান্তের সঙ্গে অপর একটি নিউরণের ডেনড্রন বা কোষদেহের মিলনে সৃষ্টি হয়। স্নায়ু-সন্ধি স্থানে এসিটাইল কোলিন নামে এবং প্রেরক পদার্থ থাকে। এর সম্পর্কে পূর্ববর্তী নিউরণ থেকে পরবর্তী নিউরণে স্নায়ু সংবেদ প্রেরিত হয়।

৩। মস্তিষ্কের কোন অংশ অঙ্গভঙ্গি এবং দেহের সমতার জন্য দায়ী।

উত্তরঃ পশ্চাদ মস্তিষ্ক হল লঘু মস্তিষ্ক এবং সুষুম্নশীর্ষক দ্বারা গঠিত। ইহা দেহের ভারসাম্য নিয়ন্ত্রণ করে তাছাড়া হৃদস্পন্দন, শ্বাসক্রিয়া, ঘর্মনিঃসরণ ইত্যাদি নিয়ন্ত্রণ করে। একে সেরিবিলামও বলে।

৪। আমরা ধূপকাঠির সুন্দর গন্ধ কিভাবে পাই ?

উত্তরঃ আগরবাতীর গন্ধ অগ্ৰমস্তিষ্কের দ্বারা পাওয়া যায়। ইহা গুরুমস্তিষ্ক, থ্যালামাস এবং হাইপােথ্যালামাস নিয়ে গঠিত। অমস্তিষ্ক প্রাণীর বুদ্ধি, চিন্তা, স্মৃতি, শ্রবণ, দর্শন, ঘ্রাণ, চাপ, তাপ, বেদনা, ক্ষুধা, তৃষ্ণা ইত্যাদি নিয়ন্ত্রণ করে।

৫। প্রতীপ ক্রিয়াতে মস্তিষ্কের কি কাজ ?

উত্তরঃ পরিবর্ত ক্রিয়াতে মস্তিষ্কের ভূমিকা নিম্নরূপ-

(i) গুরু মস্তিষ্ক চাপ, চাপ, ব্যথা ইত্যাদি স্পর্শবােধ, ভয়, আনন্দ প্রভৃতি চেলাবােধ, স্মৃতি, চেলা, বুদ্ধি প্রভৃতি উন্নত মানসিক বােধ নিয়ন্ত্রণ করে, মানবদেহের বিভিন্ন অংশের নানা শরীর বৃত্তীয় কাজের মধ্যে সমন্বয় সাধন করে এবং মানুষের বিভিন্ন সহজাত প্রবৃত্তি নিয়ন্ত্রণ করে। 

(ii) থ্যালামাস মানুষের ক্রোধ, লজ্জা, বেদনা ইত্যাদি মানসিক ক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে। 

(iii) হাইপােথেলামাস মানসিক আবেগ, ক্ষুধা, তৃষ্ণা, নিদ্রা প্রভৃতি নিয়ন্ত্রণ করে। 

(iv) লঘু মস্তিষ্ক মানবদেহের ভারসাম্য নিয়ন্ত্রণ করে।

(v) সুষুম্নশীর্ষক হৃৎস্পন্দন, শ্বাসক্রিয়া, খাদ্যগ্রহণ, লালা ও ঘর্ম নিঃসরণ নিয়ন্ত্রণ করে।

পাঠ্যপুস্তকের প্রশ্নোত্তরঃ

১। উদ্ভিদ সঞ্জীবনী পদার্থ কি ?

উত্তরঃ উদ্ভিদের ক্ষেত্রে হরমােন ব্যাপন প্রক্রিয়ায় জল ও কলারসের মাধ্যমে ক্রিয়াস্থলে ছড়িয়ে পড়ে। এরা উদ্ভিদের বৃদ্ধিতে সাহায্য করে, ট্রপিক চলন নিয়ন্ত্রণ করে, অঙ্গবিভেদ নিয়ন্ত্রণ করে, খর্বকায় উদ্ভিদের বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। উদ্ভিদের ফুল ফোটাতে সাহায্য করে, মুকুল ও বীজের সুপ্ত অবস্থা দূর করে।

পুষ্পমুকুল ও কাক্ষিক মুকুলের পরিস্ফুটন ঘটায়, কোষ বিভাজনে সহায়তা করে ইত্যাদি।

২। লজ্জাবতী লতার পাতার নড়াচড়ার মধ্যে পার্থক্য কি ?

উত্তরঃ আলােকের দিকে স্পর্শকাতর উদ্ভিদের লজ্জাবতী গাঙ্কে পাতার চলন এবং কাণ্ডের চলনের মধ্যে পার্থক্য হল-

(i) পাতার চলনে কোনাে স্পর্শের, কোনাে দিক থাকে না কিন্তু কাণ্ডের চলন আলােকের দিকে হয়।

(ii) পাতার চলন নির্ভর করে উপস্থিত জলের পরিমাণের উপর কিন্তু কাণ্ডের চলন হরমােনের বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণের জন্য আলােকের দিকে হয়।

৩। বৃদ্ধি পেতে সাহায্য করা উদ্ভিদ সজ্জীবনী পদার্থের উদাহরণ দাও।

উত্তরঃ অক্সিজেন- উদ্ভিদের বৃদ্ধিতে সাহায্য করে।জিবারেলিন- উদ্ভিদের ফল, ফুল ফোটাতে এবং বীজের অঙ্কুরােদগমে সাহায্য করে।

কাইনিন- উদ্ভিদের কোষ বিভাজনে সহায়তা করে।

৪। অক্সিন কিভাবে লতানাে উদ্ভিদের শুড়ের বৃদ্ধিতে সহায় করে।

উত্তরঃ টেনড্রিলগুলি খুব স্বৰ্শকাতর হয়। যখন টেনড্রিল কোনাে সহায়কের সম্মুখীন হয় তখন অক্সিন এর বৃদ্ধিতে সহায় করে ফলে এটি বর্ধিত হয়ে সহায়ক হতে দূরে সরে যায়। এর ফলে অবলম্বনকে জড়িয়ে সম্মুখে এগিয়ে যায়।

৫। জলাবর্তন বােঝাতে কোনও পরীক্ষা দেখাও ?

উত্তরঃ হাইড্রোপিজমের পরীক্ষা (জলাবর্তন পরীক্ষা)- একটি কাঠের সিক্ত গুড়া বিশিষ্ট পাত্রে কয়েকটি অঙ্কুরিত মটরবীজ নিলাম যার নীচের দিকে তারের জালী থাকে। 2-3 দিন এইভাবে রেখে দিই। কিছুদিন পর দেখতে পাব যে অঙ্কুরিত অংশ বের হয়ে পুনরায় উপরের দিকে উঠবে ফলে উহা আবার কাঠের গুড়াের মধ্যে প্রবেশ করবে। সুতরাং মূল হাইড্রোট্রপিক হওয়ার জন্য এইরূপ হবে।

পাঠ্যপুস্তকের প্রশ্নোত্তরঃ

১। প্রাণীর শরীরে রাসায়নিক সমন্বয় কিভাবে ঘটে ?

উত্তরঃ হরমােন জীবদেহের নির্দিষ্ট স্থান থেকে উৎপন্ন হয়ে ধীরে ধীরে সারাদেহে ছড়িয়ে পড়ে এবং কলা-কোষের বিপাকীয় কাজগুলিকে নিয়ন্ত্রণ এবং  তাদের মধ্যে সমন্বয় সাধন করে। এইভাবে হরমােন সারাদেহে রাসায়নিক সমন্বয় গড়ে তােলায় হরমােনকে রাসায়নিক সমন্বয়ক বলা হয়।

দূত যেমন কোনাে বার্তা একস্থান থেকে অন্য স্থানে বহন করে নিয়ে যায়, ঠিক একইভাবে হরমােন শরীরের একস্থানে উৎপন্ন হওয়ার পর কলা-রস, রক্ত লসিকা ইত্যাদির মাধ্যমে সাধারণত উৎপত্তি স্থল থেকে দূরে শরীরের কোনও জায়গায় পরিবাহিত হয়ে সেখানকার কলা-কোষে প্রােটিন, স্টেরয়েড ইত্যাদি প্রেরণ করে এবং বিভিন্ন বিপাকীয় কার্যের সমাধান ঘটায়।

২। আয়ােডিন যুক্ত লবণ খাওয়ার প্রয়ােজন হয় কেন ?

উত্তরঃ আয়ােডিন হল থাইরক্সিন হরমােনের উপাদান। থাইরক্সিন হরমােনের অধিক ক্ষরণের ফলে গলগণ্ড হয়। মানবদেহে থাইরয়েড গ্রন্থি থেকে থাইরক্সিন নিঃসৃত হয়। অর্থাৎ শরীরে আয়ােডিনের অভাব হলে গলগণ্ড হতে পারে।সেইজন্য আয়ােডিন যুক্ত লবণ সেবন করা ভাল।

৩। রক্তে এড্রিনালিন নিঃসৃত হলে আমাদের দেহ কিভাবে সাড়া দেয়?

উত্তরঃ এড্রিনালিন হল সংকটকালীন হরমােন। এর উৎস হল এড্রিনাল গ্রন্থি বা মেডাল অঞ্চল। ইহা সরাসরি রক্তের সঙ্গে মিশে।

এড্রিনালিনের কাজ হল-

(i) হৃদগতি বৃদ্ধি করা।

(ii) ব্রঙ্কিওল প্রসারিত করে শ্বাসকষ্ট লাঘব করা।

(iii) তারারন্ধ্রকে বিস্ফারিত করে এবং অগ্রন্থির ক্ষরণ বৃদ্ধি করা।

(iv) রক্ত বাহকে সংকুচিত করে রক্তচাপ বাড়ায়।

(v) ত্বকের রােম খাড়া হতে সহায়তা করে।

৪। ডায়াবেটিস রােগীকে ইনসুলিন ইনজেকশান দেওয়া হয় কেন ?

উত্তরঃ ইনসুলিন অগ্নাশয়ের আইলেটস্ অফ ল্যাঙ্গাৱগেন গ্রন্থির বিটা (B) কোষ থেকে নিঃসৃত হয়। রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ স্বাভাবিক রাখাই হল ইনসুলিনের প্রধান কাজ।

হরমােন কম ক্ষরণে মধুমেহ রােগ হয়। সেইজন্য মধুমেহ রােগাক্রান্ত রােগীদের শরীরে ইনজেক্সনের মাধ্যমে ইনসুলিন দেওয়া হয়।

অনুশীলনীর প্রশ্নোত্তরঃ

১। কোনটি উদ্ভিদ মােন ?

(a) ইনসুলিন।

(b) থাইরক্সিন।

(c) ইট্রোজেন।

(d) সাইটোকাইনিন।

উত্তরঃ (d) সাইটোকাইনিন।

২। দুইটি স্নায়ুকোষ (Synapse) এর মধ্যবর্তী ফাঁককে কি বলে ?

(a) ডেনড্রাইট।

(b) সাইন্যান্স।

(c) এক্সন।

(d) ইমপালস বা প্রেরণা।

উত্তরঃ (b) সাইন্যান্স।

৩। মস্তিষ্ক কোন কাজের জন্য দায়ী ?

(a) চিন্তা করা।

(b) হৃদপিণ্ডের স্পন্দন।

(c) শরীরের সমতা রক্ষা। 

(d) উপরােক্ত সব কয়টি।

উত্তরঃ (d) উপরােক্ত সব কয়টি।

৪। আমাদের শরীরে গ্রাহকের (Reception) কাজ কি ? যখন গ্রাহক ঠিকমত কাজ করে না তখন কি হতে পারে ভাব? কি কি সমস্যা হতে পারে ?

উত্তরঃ যে সব গ্রাহক অঙ্গ পরিবেশ থেকে বিশেষ ধরনের উদ্দীপনা গ্রহণ করে নির্দিষ্ট স্নায়ুর মাধ্যমে স্নায়বিক কেন্দ্রে প্রেরণ করে তাদের জ্ঞানেন্দ্রিয় বলে। মানুষের জ্ঞানেন্দ্রিয়গুলি হল, চক্ষু, কর্ণ, নাসিকা, জিহ্বা এবং ত্বক। পরিবেশ থেকে বিভিন্ন ধরনের উদ্দীপনা গ্রহণ করা হল এদের কাজ।

যেমন- চোখ হল দর্শনেন্দ্রিয়।

কর্ণ হল শ্রবণেন্দ্রিয়।

জিহা হল স্বাদেন্দ্রিয়।

নাসিকা হ’ল ঘ্রাণেন্দ্রিয়।

ত্বক বা চর্ম হল স্পর্শেন্দ্রিয় ইত্যাদি।

যদি কোনাে কারণে এদের কোনােটি কাজ না করে তবে পরিবেশ থেকে উদ্দীপনা গ্রহণ করতে দেরী হয় ফলে সমস্ত প্রক্রিয়াটির বিলম্ব ঘটে। এটা শরীরের পক্ষে ক্ষতিকারক।

৫। স্নায়ুকোষ বা নিউরণের ছবি এঁকে তার কাজ বােঝাও।

চিত্র- 7.1 (a) স্নায়ুকোষের গঠন। 

(b) নিউরামাস কুলার জংশন নিউরণ হল স্নায়ুতন্ত্রের গঠনমূলক ও কার্যমূলক একক।

দুইটি নিউরণের সংযােগস্থল যার মধ্য দিয়ে একটি নিউরণ থেকে অন্য নিউরণে স্নায়ু উদ্দীপনা পরিবাহিত হয় তাকে সাইন্যাপস ঘলে। সাইন্যাপস-এর প্রধান উপাদানগুলি হল- 

(i) প্রাক সন্নিধি ঝিল্লি। 

(ii) পশ্চাৎ সন্নিধি ঝিল্লি। 

(iii) সন্নিধি প্রণালী।

প্রাণীদেহে এদের প্রধান কাজ হল-

(i) বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের মধ্যে সমন্বয় সাধন করা। 

(ii) উদ্দীপনা গ্রহণ এবং পরিবহণ করা। 

(iii) প্রাণীদের পেশী এবং অঙ্গসঞ্চালনে এবং গ্রন্থির ক্ষরণে অংশগ্রহণ করা।

৬। উদ্ভিদে আলােকাবর্তন কিভাবে সংঘটিত হয় ?

উত্তরঃ উদ্ভিদের আলােকাবর্তনের ফলে উদ্ভিদ একটি নির্দিষ্ট দিকে ধীরে ধীরে উদ্দীপনায় সাড়া দিয়ে বৃদ্ধি পায়।একটি পরীক্ষার সাহায্যে ইহা বুঝতে পারা যায়।

একটি জলপূর্ণ কনিকেল ফ্লাক্স নিলাম।ফ্লাক্সটির উপর একটি জাল দিয়ে ঢেকে দেই। জালের উপর 2 বা 3 টি তাজা অঙ্কুরিত ধানের বীজ নিলাম। ফ্লাক্সটি একটি কার্ডবাের্ডের বাক্সে এমনভাবে রাখা হয়েছে যেন বাক্সের খােলা দিক জানালার যে দিক থেকে আলাে আসে সেইদিকে থাকে। 2-3 দিন পর দেখব যে গাছের কাণ্ড আলাের দিকে এবং শিকড় আলাের বিপরীত দিকে বাড়ছে। এরপর ফ্লাক্সটি এমনভাবে ঘুরিয়ে রাখি যেন কাণ্ড আলাের বিপরীতদিকে থাকে এবং শিকড় আলাের দিকে থাকে। কিছুদিন এভাবে রাখি এবং কাণ্ড ও শিকড়ের দিক পরিবর্তন লক্ষ করি। দেখব যে, কিছু বাহ্যিক উদ্দীপক যেমন আলােক, মাধ্যাকর্ষণ শক্তি ইত্যাদি উদ্ভিদের বৃদ্ধির দিক পরিবর্তন করে। এইদিকের চলন বা আবর্তী চলম উদ্দীপনার দিকে হয়। সুতরাং দুই ধরনের আলােকানুবর্তী চলনের ফলে কাণ্ড আলাের দিকে বেঁকে যায় এবং শিকড় আলাের বিপরীত দিকে যায়।

৭। স্নায়ুরজ্জুতে আঘাত লাগলে কি কি ইঙ্গিত ব্যাহত হবে ?

উত্তরঃ প্রাণী দেহে নির্দিষ্ট উত্তেজনার প্রভাবে যে তাৎক্ষণিক স্বতঃস্ফূর্ত বা অনৈচ্ছিক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয় তাই পরিবর্ত ক্রিয়া। রাস্তা দিয়ে হাঁটার সময় হঠাৎ পায়ে কাটা বিঁধলে পা-টি তৎক্ষণাৎ মাটি থেকে সরে যায়। এটি একটি পরিবর্ত ক্রিয়া।

পায়ের পাতার নিম্নতলের চামড়ায় অবস্থিত গ্রাহক বা রিসেপ্টর বেদনা অনুভূতি গ্রহণ করে।

বেদনা অনুভূতি রিসেপ্টর থেকে অন্তর্বাহী নিউরণ থেকে সুষুম্নাকাণ্ডে পৌছায়। সুষুম্নাকাণ্ড থেকে সারা বহির্বাহী নিউরণ দিয়ে কারক বা ইফেক্টরে পৌঁছায়।

পেশীগুলি সংকুচিত হয়, ফলে পাটি ভাজ হয়ে কাটা থেকে সরে যায়। সুতরা সুষুম্নাকাণ্ডে কোনাে আঘাত লাগলে দেহের বিভিন্ন অংশ হতে মস্তিষ্কে বা মস্তিষ্ক হতে দেহের বিভিন্ন অংশে পরিবর্ত ক্রিয়া ঠিকমত হয় না।

৮ । উদ্ভিদে রাসায়নিক সমন্বয় কিভাবে হয় ?

উত্তরঃ উদ্ভিদে রাসায়নিক সমন্বয়ের প্রভাবে অক্সিন হরমােনের প্রভাবে গােল আলুকে অনেকদিন পর্যন্ত টাটকা রাখা যায়। আবার কাইনিন ব্যবহার করে অগ্ৰমুকুলের অবাঞ্ছিত বৃদ্ধি বন্ধ করা যায়।

জিবারেলিন হরমােন প্রয়ােগ করে বীজের সুপ্ত অবস্থা ভঙ্গ করে দ্রুত অঙ্কুরােদগম ঘটানাে হয়।

৯। কোনও জীবে নিয়ন্ত্রণ এবং সমন্বয়-এর জন্য প্রয়ােজনীয় তন্ত্রের কি প্রয়ােজন ?

উত্তরঃ হরমােন জীবদেহের নির্দিষ্ট স্থান থেকে উৎপন্ন হয়ে ধীরে ধীরে সারাদেহে ছড়িয়ে পড়ে এবং কলা-কোষের বিপাকীয় কাজগুলিকে নিয়ন্ত্রণ এবং তাদের মধ্যে সমন্বয় সাধন করে। এর প্রয়ােজনীয়তা হল-

(i) ইহা একরকম প্রােটিন এমাইনাে বা স্টেরয়েড ধর্মী জৈব রাসায়নিক পদার্থ যা সাধারণত নিঃসৃত স্থান থেকে দূরবর্তী স্থানে কাজ করে।

(ii) ইহা জৈব অনুঘটকের মতাে কাজ করে।

(ii) নিঃসৃত স্থান ছাড়া দেহের অন্য কোথাও হরমােন সঞ্চিত হয় না।

(iv) ইহা জীবদেহে রাসায়নিক সমন্বয়কারী অর্থাৎ কেমিকেল কো-অর্ডিনেটর হিসাবে কাজ করে।

(v) ইহা কোষে কোষে রাসায়নিক বার্তা প্রেরণ করে।

১০। অনৈচ্ছিক কাজ এবং প্রতীপ ক্রিয়ার মধ্যে পার্থক্য কি ?

উত্তরঃ 

অনৈচ্ছিক কাজপ্রতীপ ক্রিয়া
(i) নিজের অজান্তে যে সমস্ত কাজ হয় তা অনৈচ্ছিক কাজ। যেমন- ফুসফুস, হৃৎপিণ্ড ইত্যাদি।(i) প্রাণীদেহে নির্দিষ্ট উত্তেজনার প্রভাবে যে তাৎক্ষণিক স্বতঃস্ফূর্ত বা অনৈচ্ছিক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয় তা প্রতীপ ক্রিয়া।
(ii) স্নায়ু স্পন্দনকে রিসেপ্টর থেকে।(ii) স্নায়ু স্পন্দনকে কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্র থেকে ইফেকটরে প্রেরণ করে।
(iii) সেনসরি নিউরণ দিয়ে গঠিত।(iii) মােটর নিউরণ দিয়ে গঠিত।

১১। প্রাণীর দেহে নিয়ন্ত্রণ এবং সমন্বয়ের জন্য স্নায়ুতন্ত্র এবং হরমােন-এর কাজের তুলনা কর।

উত্তরঃ 

স্নায়ুতন্ত্রহরমােন
(i) ইহ নিউরণের বিভিন্ন কাজকে নিয়ন্ত্রণ করে।(i) ইহা এন্ডােক্রাইন গ্রন্থি দ্বারা রাসায়নিক দ্রব্য নিঃসরণ করে।
(ii) নিউরণ দুই ধরনের স্নায়ু দ্বারা গঠিত, যেমন- অন্তর্বাহী স্নায়ু যা উদ্দীপনা কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রে প্রেরণ করে এবং বহির্বাহী স্নায়ু যা উদ্দীপনা কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্র থেকে ইফেকটরে পৌছায়।(ii) হরমােন সরাসরি রক্তে পৌছে। পরে ইহা বিভিন্ন কোষে বাহিত হয়।
(iii) স্নায়ুতন্ত্র সমস্ত শরীরে ছড়িয়ে থাকে।(iii) ইহা সমস্ত শরীরে ছড়িয়ে থাকে না।
(iv) ড্রেনড্রাইট পেশী বা অন্য কোনও নিউরণ থেকে স্নায়ু উদ্দীপনা গ্রহণ করে তা দেহকোষে প্রেরণ করে। অ্যাক্সন উদ্দীপনাকে পেশী বা অন্য কোন নিউরণে প্রেরণ করে।(iv) হরমােনের সেই ধরনের কোনাে বৈদ্যুতিক উদ্দীপনা নাই।

১২। একটি ‘লজ্জাবতী লতা’ নামক উদ্ভিদের নড়াচড়া এবং আমাদের পায়ের নড়াচড়ার মধ্যে কি পার্থক্য ?

উত্তরঃ লজ্জাবতী গাছের নড়াচড়া বৃদ্ধির সঙ্গে সম্পর্কিত নয় তাই গাছের পাতা স্পর্শ করলেই সাড়া দিতে নড়াচড়া করে বন্ধ হয়ে যায়। স্পর্শ লেগেছিল বলে তথ্য নিশ্চয়ই একস্থান থেকে অন্যস্থানে পৌছেছিল। উদ্ভিদে কোষ থেকে কোষে কিছু বৈদ্যুতিক ও রাসায়নিক উপায়ে তথ্য যাতায়াত করে। প্রাণীর মতাে কিছু কোষ চলন বা নড়াচড়া করার জন্য তাদের আকার পরিবর্তন করে। কিন্তু আমাদের পায়ে স্নায়ু থাকার জন্য হাঁটার সময় মস্তিষ্ক থেকে তাৎক্ষণিক সংকেত আসে এবং আমরা পা উঠাই এবং নামাই। মস্তিষ্ক, সুষুম্নাকাণ্ড, স্নায়ু এবং স্নায়ুসন্ধির দ্বারা আমরা হাঁটার কাজ সম্পন্ন করি।

অতিরিক্ত প্রশ্নোত্তরঃ

NEW VIDEO CLASS

Subject Ka Complete Video Solution Dekhein

Step-by-step easy concept explanation aur full questions Answer ke liye watch karein ya app download karein:

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Scroll to Top