SEBA Class 10 Social Science Important Chapter 4 স্বাধীনতা আন্দোলন ও অসমে জাতীয় জাগরণ Question Answer Bengali Medium As Per New Syllabus to each chapter is provided in the list so that you can easily browse through different chapters 4 স্বাধীনতা আন্দোলন ও অসমে জাতীয় জাগরণ Solutions and select need one. Class 10 Social Science Additional Notes in Bengali Medium Download PDF. SEBA Class 10 Social Science Important Question Answer.
SEBA Class 10 Social Science Important Chapter 4 স্বাধীনতা আন্দোলন ও অসমে জাতীয় জাগরণ
Also, you can read the NCERT book online in these sections Solutions by Expert Teachers as per Central Board of Secondary Education (CBSE) Book guidelines. SEBA Class 10 Social Science Important Notes in Bengali are part of All Subject Solutions. Here we have given Class 10 Social Science Additional Solutions for All Chapters, You can practice these here.
স্বাধীনতা আন্দোলন ও অসমে জাতীয় জাগরণ
Chapter: 4
| অতিরিক্ত প্রশ্নোত্তর |
অতি – সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর :
প্রশ্ন ১। ১৮৫৭ সালের বিপ্লবে অসমের দুইজন শহীদের নাম লেখো ।
উত্তরঃ ( ক ) মণিরাম দেওয়ান ।
( খ ) পিয়লি বরুয়া ।
প্রশ্ন ২। প্রথম অসমীয়া সংবাদপত্রটির নাম কী ? কখন এবং কোথা থেকে এই পত্রিকাটি প্রকাশ করা হয়েছিল ?
উত্তরঃ “ অরুণোদয় ” হল প্রথম অসমীয়া সংবাদপত্র । ১৮৪৬ সালে শিবসাগর থেকে এটির প্রথম প্রকাশ করা হয়েছিল ।
প্রশ্ন ৩। মহাত্মা গান্ধি অসমে প্রথম কখন ভ্রমণ করেছিলেন ? কখন এবং কার সভাপতিত্বে পাণ্ডু কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হয়েছিল ?
উত্তরঃ মহাত্মা গান্ধি ১৯২১ সালে প্রথম অসম ভ্রমণে আসেন। ১৯২৬ সালে শ্রীনিবাস আয়াঙ্গারের সভাপতিত্বে পাণ্ডু কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হয়েছিল ।
প্রশ্ন ৪। ব্রিটিশ আমলে অসমে মধ্যবিত্ত শ্রেণির লোকের গড়ে তোলা দুইটি প্রতিষ্ঠানের নাম লেখো।
উত্তরঃ ( ক ) অসম এসোসিয়েশন ।
( খ ) যোরহাট সর্বজনীন সভা ।
প্রশ্ন ৫। প্রথম গোলটেবিল বৈঠক কখন হয় ? এই বৈঠকে অসমের প্রতিনিধি কে ছিলেন ?
উত্তরঃ প্রথম গোলটেবিল বৈঠক ১৯৩০ সালে হয় । চন্দ্রধর বরুয়া অসমের প্রতিনিধি ছিলেন।
প্রশ্ন ৬। দ্বিতীয় ইঙ্গ- ব্রহ্মযুদ্ধের দুইটি কারণ লেখো।
উত্তরঃ ( ক ) বদন বরফুকনের হত্যা । ও
( খ ) চন্দ্রকান্ত সিংহের সিংহাসনচ্যুতি ।
প্রশ্ন ৭। ১৮২৬ সালের ইঙ্গ – খামটি চুক্তির দুইটি শর্ত লেখো ।
উত্তরঃ ( ক ) খামতি রাজা সদিয়া ঘোর গোহাই ব্রিটিশকে পাইক অর্থাৎ সাধারণ সেনা যোগান দিতে হবে ।
( খ ) খামতি রাজ্য নজরদারির জন্য ব্রিটিশ এলাকা নজরদারির জন্য ব্রিটিশ সরকার একজন রাজনৈতিক আধিকারিক নিয়োগ করবে ।
প্রশ্ন ৮। “ হস্তী – বিদ্যার্ণব ” পুঁথিটির লেখক কে ? সেই পুঁথিটির চিত্র অঙ্কন করা দুইজন শিল্পীর নাম কী ?
উত্তরঃ “ হস্তী – বিদ্যার্ণব ” পুঁথির লেখক হলেন সুকুমার বরকাইথ । এই পুঁথির চিত্র অঙ্কন করা দুইজন শিল্পী হলেন — দিলবর ও দোসাই ।
প্রশ্ন ৯। অসমে ১৮৫৭ সালে বিদ্রোহ বিফল হওয়ার তিনটি কারণ দেখাও ।
উত্তরঃ ( ক ) অসমে বিদ্রোহের প্রধান নেতা মণিরাম দেওয়ান যাতে বিদ্রোহ পরিচালিত করতে না পারেন ব্রিটিশ সরকার সেইদিকে নজর রাখত ৷
( খ ) অসমের সাধারণ মানুষ বিদ্রোহের কারণ হৃদয়ঙ্গম করতে পারে নি ।
( গ ) গোর্খারা সিপাহীদের বিরোধিতা করেছিল ।
প্রশ্ন ১০। অসমের যেকোন দুইটি রায়ত সভার নাম লেখো ।
উত্তরঃ ( ক ) তেজপুর রায়ত সভা ।
( খ ) নগাঁও রায়ত সভা ।
প্রশ্ন ১১। ভারত ত্যাগ আন্দোলনে অসমের দুইজন শহীদের নাম লেখো ।
উত্তরঃ ( ক ) কনকলতা বরুয়া ।
( খ ) মুকুন্দ কাকতি ।
প্রশ্ন ১২। ভারত ত্যাগ আন্দোলনে অসমের যে – কোনো তিনজন শহীদের নাম লেখো।
উত্তরঃ ভারত ত্যাগ আন্দোলনে অসমের তিনজন শহীদ হলেন—
( ক ) ভোগেশ্বরী ফুকনানী ।
( খ ) কনকলতা ।
( গ ) তিলক ডেকা ।
প্রশ্ন ১৩। আহোম রাজার তিনটি করপ্রদায়ক রাজ্যের নাম লেখো ।
উত্তরঃ ( ক ) গোভা ।
( খ ) নেলী । ও
( গ ) লুকী ।
প্রশ্ন ১৪। অসমের প্রাককালীন ব্রিটিশ বিরোধী বিদ্রোহ ( ১৯২৮-৩০ ) কিছু সংখ্যক লোক সমর্থন না করার তিনটি যুক্তি তুলে ধর ।
উত্তরঃ কতিপয় লোক সমর্থন না করার কারণগুলি নিম্নরূপঃ-
( ক ) অসমে ইংরেজ শাসন প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর সাধারণ মানুষ বর্মীদের অত্যাচার হতে নিষ্কৃতি পেয়েছিল । ফলে তারা ব্রিটিশ শাসন সমর্থন করেছিল ।
( খ ) ব্রিটিশ শাসনের প্রারম্ভেই অসমে শাস্তি ও নিরাপত্তা রক্ষা করা হয়েছিল । অসমের শান্তিপ্রিয় মানুষ একে স্বাগত জানায়।
( গ ) অভিজাত সম্প্রদায় ভেবেছিল যে ব্রিটিশ শাসনে তাদের ক্ষমতা ও প্রতিপত্তি বৃদ্ধি পাবে । এইজন্য তারা ব্রিটিশ বিরোধী বিদ্রোহ সমর্থন করে নি ।
প্রশ্ন ১৫। ১৮৫৮ খ্রিস্টাব্দের পর অসমে ব্রিটিশের দ্বারা প্রবর্তিত তিন প্রকার কর বা শুষ্কের নাম লেখো ।
উত্তরঃ তিন প্রকার করা হল –
( ক ) আয়কর ।
( খ ) আমদানি শুষ্ক ।
( গ ) আবগারী কর ।
বস্তুভিত্তিক প্রশ্নোত্তর
১। অসম এসোসিয়েশন কখন প্রতিষ্ঠিত হয় ?
উত্তরঃ ১৯০৩ সালে ।
২। অসম এসোসিয়েশনের প্রথম সভাপতি কে ?
উত্তরঃ প্রভাতচন্দ্র বরুয়া ।
৩। অসম এসোসিয়েশনের প্রথম অধিবেশন কোথায় অনুষ্ঠিত হয় ?
উত্তরঃ ডিব্রুগড়ে ।
৪। কোন সালে মহাত্মা গান্ধি প্ৰথম অসম ভ্রমণ করেন ?
উত্তরঃ ১৯২১ সালে ।
৫। অসম ছাত্র সম্মেলন কখন প্রতিষ্ঠিত হয় ?
উত্তরঃ ১৯১৫ সালে ।
৬। অসম ছাত্র সম্মেলনের প্রথম সভাপতি কে ছিলেন ?
উত্তরঃ লক্ষ্মীনাথ বেজবরুয়া ।
৭। কটন কলেজ কোন সালে স্থাপিত হয় ?
উত্তরঃ ১৯০১ সালে ।
৮। কটন কলেজ কে প্রতিষ্ঠা করেন ?
উত্তরঃ হেনরী কটন ।
৯। পাণ্ডু কংগ্রেস কত সালে অনুষ্ঠিত হয় ?
উত্তরঃ ১৯২৬ সালে ।
১০। অসমে প্রথম সাদুল্লা মন্ত্রীসভা কখন গঠিত হয় ?
উত্তরঃ ১৯৩৭ সালে ।
১১। অসমের প্রথম মুখ্যমন্ত্রী কে ?
উত্তরঃ গোপীনাথ বরদলৈ ।
১২। প্রথম মোয়ামরীয়া বিদ্রোহের সময় আহোমদের রাজা কে ছিলেন ?
উত্তরঃ লক্ষ্মী সিংহ ।
১৩। বর্মী তথা মানের প্রথম অসম আক্রমণ কখন হয়েছিল ?
উত্তরঃ ১৮১৭ সালে ।
১৪। NEFA- এর নাম বর্তমান কী ?
উত্তরঃ অরুণাচল প্রদেশ ।
১৫। ইয়াণ্ডাবুর সন্ধি কত সালে স্বাক্ষরিত হয় ?
উত্তরঃ ১৮২৬ সালে ।
১৬। কোন সালে উজান অসম ব্রিটিশ সাম্রাজ্যভুক্তি করা হয় ?
উত্তরঃ ১৯৩৮ সালে ।
১৭। ১৮৮৫ সালে উজান অসমে ব্রিটিশ বিচারকের নাম লেখো ।
উত্তরঃ মিঃ মোপট মিলস্ ।
১৮। প্রথম অসমীয়া ছায়াছবি “ জয়মতী ” কে প্রযোজনা করেছিলেন ?
উত্তরঃ জ্যোতিপ্রসাদ আগরওয়ালা ।
১৯। অসমে গুয়াহাটী বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করার জন্য কোন সংগঠন বিশেষ চেষ্টা করে ফলবতী হয়েছিল ?
উত্তরঃ অসম অ্যাসোসিয়েশন ।
২০। অসম অ্যাসোসিয়েশনের কোন অধিবেশনে সর্বপ্রথম বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের দাবি উত্থাপন করা হয়েছিল ?
উত্তরঃ ১৯১৭ সালের শিবসাগর অধিবেশনে ।
২১। দ্বিতীয়বারের মত কোন সালে অসম অ্যাসোসিয়েশন সংগঠন গড়ে তোলা হয়েছিল ?
উত্তরঃ ১৯০৩ সালে ।
২২। কোন তারিখে “ যোরহাট সার্বজনিক সভা ” র সংগঠন গড়ে তোলা হয়েছিল ?
উত্তরঃ ১৮৮৬ সালের ২ রা জুন ।
২৩। অসম লিটারেরী সোসাইটি কখন প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ?
উত্তরঃ ১৮৭২ সালে ।
২৪। হেমকোষের রচয়িতা কে ?
উত্তরঃ হেমচন্দ্র বরুয়া ।
২৫। কোন সালে কোচ – রাজবংশী ক্ষত্রীয় সম্মেলনের উৎপত্তি হয়েছিল ?
উত্তরঃ ১৯১২ সালে ।
২৬। কোন সালে বড়োদের মধ্যে বড়ো – কছাড়ী মহা সম্মেলনের জন্ম হয়েছিল ?
উত্তরঃ ১৯২৩ সালে ।
২৭। অসহযোগ আন্দোলনের কোন মাসে মহাত্মা গান্ধি অসম ভ্রমণ করেছিলেন ?
উত্তরঃ ১৯২১ সালের আগস্ট মাসে ।
সঠিক উত্তরটি বেছে উত্তরটির পাশে টিক্ ( √ ) চিহ্ন দাও:
১। অসমে প্রদেশ কংগ্রেস কখন প্রতিষ্ঠিত হয় ?
( ক ) ১৮৮৫
( খ ) ১৯২১
( গ ) ১৯২৩
( ঘ ) ১৯২৪
উত্তরঃ ( খ ) ১৯২১ ( √ ) ।
২। কত সালে অসমে ব্যবস্থাপক সভা হয় ?
( ক ) ১৯১৯
( খ ) ১৯২১
( গ ) ১৯৩০
( ঘ ) ১৯৩১
উত্তরঃ ( ঘ ) ১৯৩১ ( √ ) ।
৩। সর্বজনীন সভা কত সালে প্রতিষ্ঠিত হয় ?
( ক ) ১৮৮৪ সালে।
( খ ) ১৮৮৬ সালে।
( গ ) ১৮৯০ সালে।
( ঘ ) ১৮৯২ সালে।
উত্তরঃ ( ক ) ১৮৮৪ সালে ( √ ) ।
৪। সর্বজনীন সভার প্রথম সভাপতি কে ছিলেন ?
( ক ) নরনারায়ণ সিংহ।
( খ ) জগন্নাথ বরুয়া।
( গ ) লক্ষ্মীনাথ বেজবরুয়া।
( ঘ ) প্রভাতচন্দ্র বরুয়া।
উত্তরঃ ( খ ) জগন্নাথ বরুয়া ( √ ) ।
৫। সর্বজনীন সভার প্রথম অধিবেশন কোথায় অনুষ্ঠিত হয় ?
( ক ) যোরহাটে।
( খ ) গৌহাটীতে।
( গ ) তেজপুরে।
( ঘ ) ডিব্ৰুগড়ে।
উত্তরঃ ( খ ) গৌহাটীতে ( √ ) ।
৬। মহাত্মা গান্ধি প্রথম কবে অসম এসেছিলেন ?
( ক ) ১৯১৯ সালে।
( খ ) ১৯২১ সালে।
( গ ) ১৯২৬ সালে।
( ঘ ) ১৯৪৬ সালে।
উত্তরঃ ( খ ) ১৯২১ সালে ( √ ) ।
৭। “ অসম সংরক্ষিণী ” সভার প্রতিষ্ঠাপক কে ছিলেন ?
( ক ) নীলমণি ফুকন।
( খ ) অম্বিকাগিরি রায়চৌধুরী।
( গ ) বিষ্ণুরাম মেধি।
( ঘ ) গোপীনাথ বরদলৈ।
উত্তরঃ ( খ ) অম্বিকাগিরি রায়চৌধুরী ( √ ) ।
৮। ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের ৪১ তম অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়েছিল—
( ক ) পাণ্ডুতে।
( খ ) কলকাতাতে।
( গ ) দিল্লীতে।
( ঘ ) শিবসাগরে।
উত্তরঃ ( ক ) পাণ্ডুতে ( √ ) ।
৯। পাণ্ডু কংগ্রেস কবে অনুষ্ঠিত হয় ?
( ক ) ১৯২০ সালে।
( খ ) ১৯২১ সালে।
( গ ) ১৯২৪ সালে।
( ঘ ) ১৯২৬ সালে।
উত্তরঃ ( ঘ ) ১৯২৬ সালে ( √ ) ।
১০। পাণ্ডু কংগ্রেস অধিবেশনের সভাপতি কে ছিলেন ?
( ক ) গোপীনাথ বরদলৈ।
( খ ) তরুণরাম ফুকন।
( গ ) শ্রীনিবাস আয়াঙ্গার।
( ঘ ) মহাত্মা গান্ধি।
উত্তরঃ ( ক ) গোপীনাথ বরদলৈ ( √ ) ।
১১। অসম ছাত্র সম্মেলন প্রতিষ্ঠিত হয় কবে ?
( ক ) ১৯১৬ সালে।
( খ ) ১৯১৯ সালে।
( গ ) ১৯২১ সালে।
( ঘ ) ১৯২৬ সালে।
উত্তরঃ ( ক ) ১৯১৬ সালে ( √ ) ।
১২। অসম ছাত্র সম্মেলনের প্রথম অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয় কোথায় ?
( ক ) ডিব্ৰুগড়ে।
( খ ) যোরহাটে।
( গ ) গৌহাটিতে।
( ঘ ) তেজপুরে।
উত্তরঃ ( গ ) গৌহাটিতে ( √ ) ।
১৩। অসম ছাত্র সম্মেলনের প্রথম অধিবেশনের সভাপতি ছিলেন কে ?
( ক ) লক্ষ্মীনাথ বেজবরুয়া।
( খ ) চন্দ্ৰনাথ শৰ্মা।
( গ ) পদ্মনাথ গোঁহাঞি বরুয়া।
( ঘ ) তরুণরাম ফুকন।
উত্তরঃ ( ক ) লক্ষ্মীনাথ বেজবরুয়া ( √ ) ।
১৪। ক্যানিংহাম সার্কুলার কবে প্রকাশিত হয় ?
( ক ) ১৯৩০ সালে।
( খ ) ১৯৩৫ সালে।
( গ ) ১৯৪১ সালে।
( ঘ ) ১৯৪৬ সালে।
উত্তরঃ ( খ ) ১৯৩৫ সালে ( √ ) ।
১৫। অসমে মুসলিম লিগ কবে স্থাপিত হয় ?
( ক ) ১৯০৭ সালে।
( খ ) ১৯১০ সালে।
( গ ) ১৯৩০ সালে।
( ঘ ) ১৯৩৪ সালে।
উত্তরঃ ( ঘ ) ১৯৩৪ সালে ( √ ) ।
১৬। অসমে কংগ্রেস মন্ত্রীসভা গঠিত হয় কবে ?
( ক ) ১৯৩৮ সালে।
( খ ) ১৯৪১ সালে।
( গ ) ১৯৪৩ সালে।
( ঘ ) ১৯৪৬ সালে।
উত্তরঃ ( ঘ ) ১৯৪৬ সালে ( √ ) ।
১৭। অসমে প্রথম সাদুল্লা মন্ত্রীসভা কখন গঠিত হয় ?
( ক ) ১৯৩৮ সালে।
( খ ) ১৯৪০ সালে।
( গ ) ১৯৪১ সালে।
( ঘ ) ১৯৪২ সালে।
উত্তরঃ ( ক ) ১৯৩৮ সালে ( √ ) ।
১৮। ১৯৪১ সালের ৬ ই ডিসেম্বর কার নির্দেশে কটন কলেজের ছাত্রদের উপর পুলিশ লাঠি চালনা করে ?
( ক ) উপায়ুক্ত হামফ্রের।
( খ ) লর্ড ক্যানিং – এর।
( গ ) হপসকিনের।
( ঘ ) মোঃ সাদুল্লার।
উত্তরঃ ( ক ) উপায়ুক্ত হামফ্রের ( √ ) ।
সংক্ষিপ্ত টীকা লেখো
১। দীননাথ বেজবরুয়া ।
২। তেজপুর রায়ত সভা ।
৩। রাজ প্রভাতচন্দ্র বরুয়া ।
৪। জগন্নাথ বরুয়া ।
৫। চন্দ্রনাথ শর্মা ।
৬। পূর্ণ স্বরাজ দিবস ।
৭ । কানিংহাম সার্কুলার ।
৮। ধনঞ্জয় বুড়াগোহাঞি ।
৯। টিকেন্দ্রজিৎ ।
১০। গোপীনাথ বরদলৈ ।
১১। মিলের রিপোর্ট ।
১। দীননাথ বেজবরুয়া :- দীননাথ বেজবরুয়া ছিলেন অসমের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব । তিনি ছিলেন গুয়াহাটী ইংলিশ সেমিনারের সক্রিয় কর্মী । তাঁর ও অন্যান্যদের প্রচেষ্টায় গৌহাটি ১৮৬৭ সালে সেমিনারী প্রতিষ্ঠিত হয় । ১৮৮০ সালে ইহার দ্বিতীয় সম্মেলনে এবং ১৮৮২ সালের তৃতীয় সম্মেলনে দীননাথ বেজবরুয়া সভাপতিত্ব করেন ।
২। তেজপুর রায়ত সভা :- ১৮৮৪ সালে তেজপুর রায়ত সভা প্রতিষ্ঠিত হয় । এই সভার সংগঠন ও কর্মসূচী রূপায়ণে বিশেষত লক্ষ্মীকান্ত বরককেতী , হরিলাল আগরওয়ালা , ভবানীচরণ ভট্টাচার্য , জয়দেব শর্মা , লক্ষ্মীকান্ত দাস , মহেন্দ্র দে প্রমুখ মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষ মুখ্য ভূমিকা গ্রহণ করেছিলেন । রায়ত সভার মুখ্য উদ্দেশ্য ছিল ভূমি রাজস্ব বৃদ্ধির প্রতিবাদ করা ।
৩। রাজা প্রভাতচন্দ্র বরুয়া :- রাজা প্রভাতচন্দ্র বরুয়া ছিলেন অসম এসোসিয়েশনের একজন অন্যতম সক্রিয় কর্মী। মানিকচন্দ্র বরুয়া ১৯০৩ সালে অসম এসোসিয়েশন প্রতিষ্ঠা করেন । রাজা প্রভাতচন্দ্র বরুয়া অসম এসোসিয়েশনের কার্যনির্বাহক সমিতির সভাপতি নিযুক্ত হন । তাঁর প্রচেষ্টায় উক্ত প্রতিষ্ঠান অসমের সামাজিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা পালন করে ।
৪। জগন্নাথ বরুয়া :- জগন্নাথ বরুয়া ছিলেন অসমের বিশিষ্ট চা – বাগিচার মালিক । তিনি যোরহাট সর্বজনীন সভার সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন । সর্বজনীন সভা গঠনের প্রথম জনসভায় অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে জগন্নাথ বরুয়াও হাজির ছিলেন । ১৮৯৩ সালের ১১ ই নভেম্বর জগন্নাথ বরুয়ার সভাপতিত্বে যোরহাট সর্বজনীন সভার সভায় অসমে আফিং চাষ বনধ করিবার দাবী জানিয়ে প্রস্তাব গৃহীত হয় । এই সভাপতি জগন্নাথ বরুয়া ও সম্পাদক দেবীচরণ বরুয়ার স্বাক্ষর করা স্মারকপত্র অসমের চীফ কমিশনারের নিকট পেশ করা হয় ।
৫। চন্দ্রনাথ শৰ্মা :- চন্দ্রনাথ শর্মা ছিলেন অসমের বিশিষ্ট স্বাধীনতা সংগ্রামী । তিনি ১৮৮৯ সালে জন্মগ্রহণ করেন । ১৯২০ সালে তিনি অসহযোগ আন্দোলনে ঝাপিয়ে পড়েন । চন্দ্রনাথ শর্মা মূলত ছিলেন ছাত্রনেতা । তাঁর নেতৃত্বে অসমে ছাত্রসমাজ গান্ধিজির অসহযোগ আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে । ১৯২২ সালের ৫ ই ফেব্রুয়ারী চৌরিচৌরার ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ১২ ই ফেব্রুয়ারী গান্ধিজি অসহযোগ আন্দোলন স্থগিত ঘোষণা করেন । এতে চন্দ্ৰনাথ শর্মা ভীষণ অসন্তুষ্ট হন । সেই সময় তিনি বিশ্রামের জন্য পুরীতে চলে যান । যক্ষ্মায় আক্রান্ত হয়ে তিনি ১৯২২ সালের ২০ জুলাই শিলং – এ পরলোকগমন করেন ।
৬। পূর্ণ স্বরাজ দিবস :- ১৯৩০ সালের ১২ ই মার্চ গান্ধিজি দান্ডি যাত্রা করে লবণ আইন ভঙ্গ করেন । এই সঙ্গে দেশে আইন অমান্য আন্দোলনের সূচনা হয় । এটা ছিল ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের নেতৃত্বে পরিচালিত স্বাধীনতা আন্দোলনের দ্বিতীয় পর্ব । অবশ্য ১৯২৯ সালের লাহোর অধিবেশনে পূর্ণ স্বাধীনতার প্রস্তাব গ্রহণ করার পর ১৯৩০ সালের ২৬ শে জানুয়ারী প্রারম্ভিক কার্যসূচি শুরু হয় । সেইদিন সমগ্র দেশে “ পূর্ণ স্বরাজ দিবস ” পালন করা হয় । সেই সঙ্গে কংগ্রেসের পতাকা উত্তোলন কার্যসূচি রূপায়িত হয় ।
৭। কানিংহাম সার্কুলার :- ১৯৩০ সালের মে মাসে অসমের শিক্ষাধিকর্তা ক্যানিংহাম এক নির্দেশনামায় ছাত্র – ছাত্রী এবং তাদের অভিভাবকদের হরতাল , পিকেটিং , রাজনৈতিক সভাযাত্রায় অংশ নেওয়া নিষেধ করা এবং সব ধরনের সরকারী অনুশাসন মেনে চলবেন বলে প্রতিশ্রুতি দানের কথা ঘোষণা করেন । ফলে অসমে ছাত্র – ছাত্রীগণ প্রতিবাদমুখর হয়ে দলে দলে স্কুল – কলেজ ত্যাগ করে । এই সময়ে করিমগঞ্জে পাবলিক হাইস্কুল , গুয়াহাটীতে কামরূপ অ্যাকাডেমী স্কুল প্রভৃতি স্থাপিত হওয়ায় ছাত্র-ছাত্রীরা স্কুল ছেড়ে ঐগুলিতে ভর্তি হয়েছিল । জাতীয় স্কুলের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পাওয়ায় এবং অসহযোগ আন্দোলনের তীব্রতা হ্রাস সরকার বাধ্য হয়ে পরবর্তীকালে এই সার্কুলার প্রত্যাহার করেন।
৮। ধনজয় বুড়াগোহাঞি :- ধনঞ্জয় বুড়াগোহাঞি ছিলেন গোমধর কোয়রের অন্যতম সহযোগী । ব্রিটিশের বিরুদ্ধে গোমধরের বিদ্রোহ ব্যর্থ হওয়ার পর ১৮৩০ সালে ধনঞ্জয় বুড়াগোহাঞি বদন চাঁদের পুত্র পিয়লী ‘ বরফুকনের সহযোগিতায় ব্রিটিশের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ শুরু করেন । কিন্তু কতিপয় বিদ্রোহী নেতার বিশ্বাসঘাতকায় ধনঞ্জয়ের পরিকল্পনা সফল হয়নি । এর পর ইংরেজগণ ভবিষ্যতে যাতে এইরূপ বিদ্রোহের চেষ্টা না হয় তার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে ।
৯। টিকেন্দ্রজিৎ :- বীর টিকেন্দ্রজিৎ রাজ্যের সেনাপতি ছিলেন । নেতা হিসাবে তিনি অত্যন্ত জনপ্রিয় ছিলেন । সেনাপতি হিসাবে টিকেন্দ্রজিৎ ছিলেন অসাধারণ দক্ষ । ব্রিটিশ মণিপুর রাজ্যে হস্তক্ষেপ করলে টিকেন্দ্রজিৎ ব্রিটিশের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেন । টিকেন্দ্রজিতের তীক্ষ্ণবুদ্ধির জন্যই মহারাজা সুরচন্দ্র ১৮৯০ সালের ২১ শে সেপ্টেম্বর ক্ষমতাচ্যুত হন । পরে ফুলচন্দ্র নামে এক ব্যক্তি মণিপুরের সিংহাসন আরোহণ করেন । ব্রিটিশ সরকার কতিপয় শর্তে ফুলচন্দ্রকে স্বীকৃতি প্রদান করে । শর্তসমূহের মধ্যে অন্যতম হল টিকেন্দ্রজিতকে মণিপুর থেকে বিতাড়ন । সেই অনুযায়ী টিকেন্দ্রজিৎকে বিতাড়নের জন্য ব্রিটিশ অফিসারদেরকে নির্দেশ দেওয়া হল । কুইন্টন নামে এক ব্রিটিশ অফিসার টিকেন্দ্রজিতকে গ্রেপ্তার করতে গেলে তিনি টিকেন্দ্রজিতের পক্ষ থেকে প্রবল বাধার সম্মুখীন হন । টিকেন্দ্রজিত ব্রিটিশের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করলে চারজন ব্রিটিশ নিহত হয় । ব্রিটিশ সরকার টিকেন্দ্রজিতকে গ্রেপ্তার করে মৃতুদণ্ডে দণ্ডিত করে ।
১০। গোপীনাথ বরদলৈ :- ১৮৯০ সালে লোকপ্রিয় গোপীনাথ বরদলৈ জন্মগ্রহণ করেন । তিনি কলকাতা হতে স্নাতকোত্তর ও আইন অধ্যয়ন করে অসমে আসেন এবং কিছুকাল গুয়াহাটির সোনারাম হাইস্কুলে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করেন । পরে তিনি আইন ব্যবসায় যোগদান করেন । ১৯২০ সালে গান্ধিজির আহ্বানে সাড়া দিয়ে আইন ব্যবসা পরিত্যাগ করে তিনি অসহযোগ আন্দোলনে যোগদান করেন । ১৯২২ সালে তাঁকে এক বৎসর কারাদণ্ড দেওয়া হয় । ১৯২৬ সালে পাণ্ডুতে অনুষ্ঠিত জাতীয় কংগ্রেসের ৪১ তম অধিবেশনে তিনি সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন । ১৯৩২ সালে গোপীনাথ গুয়াহাটী পৌরসভার সভাপতি হন ।
তিনিই প্রথম অসমের জন্য পৃথক বিশ্ববিদ্যালয় ও হাইকোর্টের দাবী জানান । তিনি অসম হতে শ্রীহট্টের পৃথকীকরণের পক্ষে ছিলেন । ১৯৩৬ সালে তিনি অসম বিধান সভায় কংগ্রেস দলনেতা হন ও সাদুল্লা মন্ত্রীসভার তীব্র বিরোধিতা করেন । ১৯৩৮ সালে তিনি অসমে কংগ্রেস কোয়ালিশন মন্ত্রীসভা গঠন করেন । পরে ১৯৪৬ সালে তাঁর নেতৃত্বে অসমে আবার কংগ্রেস মন্ত্রীসভা গঠিত হয় । গোপীনাথ বরদলৈয়ের প্রচেষ্টায় ১৯৪৬ সালের কেবিনেট মিশন পরিকল্পনার “ সমষ্টি পরিকল্প ” অনুযায়ী অসমকে বাংলার সঙ্গে একজোট করার প্রস্তাব বাতিল হয়ে যায় । ১৯৫০ সালে গোপীনাথ বরদলৈ পরলোকগমন করেন ।
১১। মিলের রিপোর্ট :- মোপট মিল ছিলেন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারক । তিনি ১৮৫৩ সালে উজান অসমের শাসনব্যবস্থা পর্যালোচনার জন্য অসমে আসেন । মণিরাম দেওয়ান অসমে ব্রিটিশ অপশাসন সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন মিলের নিকট পেশ করেন এবং অসমে আহোম শাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠার দাবি জানান । মিল বিভিন্ন জেলা পরিদর্শন করে ১৮৫৩ সালের শেষদিকে ভারতে ব্রিটিশ সরকারকে একটি রিপোর্ট বা প্রতিবেদন দাখিল করেন ।
পুলিশ প্রশাসনে ব্যাপক পরিবর্তন করা হয়েছিল । ভূমি ও রাজস্ব সংস্কারের ফলে সরকারী রাজস্ব বৃদ্ধি পায় ।
রচনাধর্মী প্রশ্নোত্তর
প্রশ্ন ১। অসম এসোসিয়েশন সম্পর্কে কী জান ?
উত্তরঃ ১৯০৩ সালে অসমে “ অসম এসোসিয়েশন ” প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে জাতীয় চেতনার একটি নূতন অধ্যায়ের শুরু হয় । ১৯০৩ সালে জগন্নাথ বরুয়া , ঘনশ্যাম বরুয়া , ফৈজনুর আলী, মানিকচন্দ্র বরুয়ার উদ্যোগে ডিব্রুগড়ে অসম এসোসিয়েশন প্রতিষ্ঠিত হয় । এর প্রথম সভাপতি ছিলেন গৌরীপুর রাজ প্রভাতচন্দ্র বরুয়া । ঐ সংঘ অসম এবং অসমীয়া স্বার্থসংশ্লিষ্ট দাবীগুলির সাংবিধানিক উপায়ে মীমাংসার জন্য ব্রিটিশ সরকারকে অনুরোধ করেছিল । প্রথমদিকে অসম এসোসিয়েশন মধ্যম পন্থী ছিল , কিন্তু বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনের উপর এটি চরম ইংরাজ বিরোধী হয়েছিল । এই সংস্থায় যুবকেরা যোগ দিয়েছিল । ১৯১৭ সালে ঐ সংস্থা স্বায়ত্ত্ব শাসনের ক্ষেত্রে অসমকেও অন্তর্ভুক্ত করার দাবী জানিয়েছিল । কিন্তু অসম সরকার এর বিরোধিতা করে । পরে সভ্যদের দাবি চলতে থাকায় সরকার অসমকে ঐ নির্দেশিকার অন্তর্ভুক্ত করে । ১৯২০ সালে অসহযোগ আন্দোলনে অসম অ্যাসোসিয়েশন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে । ১৯২১ সালে অসম প্রদেশ কংগ্রেস প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে অসম অ্যাসোসিয়েশনের বিলুপ্তি ঘটে ।
প্রশ্ন ২। অসমের নবজাগরণ বা নবচেতনা সম্পর্কে কী জান ?
উত্তরঃ ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষার্ধে ভারতে যে জাতীয় চেতনার জাগরণ ঘটেছিল অসমেও তার প্রভাব পড়েছিল । ইংরেজি ভাষার মাধ্যমে শিক্ষালাভ করে অসমবাসীও স্বাধীনতা সম্বন্ধে জ্ঞান আহরণ করেছিল । যোগাযোগ এবং যাতায়াতের প্রসার ঘটায় স্বাধীনতাপ্রিয় অসমবাসীরা সারা অসমে মনের কথা আদান – প্রদান করতে সমর্থ হয় । রায়ত সভা , সর্বজনীন সভা, অসম অ্যাসোসিয়েশন প্রভৃতি সামাজিক ও অথনৈতিক প্রতিষ্ঠান নবচেতনা জাগরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল । লক্ষ্মীনাথ বেজবরুয়া , হেমচন্দ্র গোস্বামী , চন্দ্রকুমার আগরওয়ালা প্রভৃতি মনীষীগণ তাঁদের লেখনীর মাধ্যমে অসমবাসীকে সচেতন করেন । এছাড়াও কতিপয় সংবাদপত্র নবজাগরণে বিশেষ ভূমিকা পালন করে ।
প্রশ্ন ৩। অসমে রাজনৈতিক চেতনা বিকাশে “ অসম ছাত্র সম্মিলন ” -এর ভূমিকা বর্ণনা করো ।
উত্তরঃ ১৯১৬ সালে অসম ছাত্র সম্মেলন প্রতিষ্ঠিত হয় । এর প্রথম অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয় গুয়াহাটীতে । অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন লক্ষ্মীনাথ বেজবরুয়া । স্বদেশী আন্দোলনে বাংলার ছাত্রদের যোগদান , শ্রীমতী অ্যানি বেসান্তের নেতৃত্বে হোমরুল আন্দোলন , তিলক , গোখলে প্রমুখ জাতীয় নেতাদের বক্তৃতা , ভারত ও বিশ্বের সমসাময়িক ঘটনাবলী অসমের ছাত্র ও যুব সম্প্রদায়কে বিশেষভাবে প্রভাবিত করে । ফলে তাদের মধ্যে নবচেতনার উন্মেষ ঘটে । অসম ছাত্র – সম্মেলন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে এই নবচেতনার বহিঃপ্রকাশ ঘটে । সারা ভারতে যখন সংগঠিত ছাত্র সংস্থার অভাব তখন অসমে এই সম্মেলন আন্দোলনকারীগণকে উদ্দীপিত করে ।
প্রশ্ন ৫। পাণ্ডু কংগ্রেস সম্পর্কে কী জান ?
উত্তরঃ ১৯২৬ সালের ডিসেম্বর মাসে গুয়াহাটির নিকট পাণ্ডুতে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের ৪১ তম অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয় । দক্ষিণ ভারতে বিখ্যাত স্বদেশপ্রেমিক ও রাজনীতিবিদ শ্রীনিবাস আয়াঙ্গার অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন । অম্বিকাগিরি রায়চৌধুরী ও উমেশচন্দ্র চৌধুরী রচিত দেশাত্মবোধক সঙ্গীতের মাধ্যমে অধিবেশনের উদ্বোধন হয় । তরুণরাম ফুকন ও নবীনচন্দ্র বরদলৈ অধিবেশন সফল করতে আপ্রাণ চেষ্টা করেন । উক্ত অধিবেশনে ব্রিটিশ নীতির বিরোধিতা ও গঠনমূলক কর্মসূচীর প্রস্তাব গ্রহণ করা হয় । মহাত্মা গান্ধি অধিবেশনে উপস্থিত থেকে মৌলবাদী আব্দুল রসিদ কর্তৃক নিহত স্বামী শ্রদ্ধানন্দের শোক প্রস্তাব উত্থাপন করেন ।
প্রশ্ন ৬। অসমে জাতীয় কংগ্রেস প্রতিষ্ঠা সম্পর্কে কী জান ?
উত্তরঃ ভারতে জাতীয় কংগ্রেসের প্রতিষ্ঠা ১৮৮৫ সালে হলেও ১৯২১ সালে অসম প্রদেশ কংগ্রেস প্রতিষ্ঠিত হয় । এতদিন পর্যন্ত অসম বাংলা প্রাদেশিক কংগ্রেস কমিটির মাধ্যমে জাতীয় কংগ্রেসে প্রতিনিধিত্ব করত । ১৯২০ সালের ডিসেম্বর মাসে কংগ্রেসের নাগপুর অধিবেশনে অসমে আলাদা প্রাদেশিক কংগ্রেস কমিটি গঠিত হয় ।
প্রশ্ন ৭। অসমের মহাত্মা গান্ধির আগমনের প্রতিক্রিয়া কীরূপ ছিল ?
উত্তরঃ ১৯২১ সালের আগস্ট মাসে মহাত্মা গান্ধি আলী ভ্রাতৃদ্বয়ের সঙ্গে প্রথমবার অসমে আসেন । ঐ সময় অসহযোগ আন্দোলন চলছিল । গান্ধিজি ঐ আন্দোলন শুরু করবার জন্য অসম ভ্রমণ করেন । তাঁর আগমনে অসমে ঐ আন্দোলন জোরদার হয় । মহাত্মাজিকে দর্শনের উদ্দেশ্যে গুয়াহাটী রেল স্টেশনের আশেপাশে বিরাট সংখ্যক মানুষ সমবেত হয় । গুয়াহাটি , তেজপুর , নগাঁও , যোরহাট , ডিব্রুগড় , শিলচর প্রভৃতি অন্যান্য স্থানে মহাত্মা গান্ধির জনসভায় মানুষের ভিড় উপচিয়ে পড়ে । গান্ধিজির আহ্বানে সমগ্র ব্রহ্মপুত্র ও সুরমা উপত্যকার স্কুল – কলেজ প্রভৃতি বর্জন করা হয় । গুয়াহাটীতে আনুষ্ঠানিকভাবে বিলাতী বস্ত্র বর্জন শুরু হয় । তরুণরাম ফুকন , নবীনচন্দ্র বরদলৈ , রোহিনী চৌধুরী , মোঃ তায়েবউল্লা প্রমুখ নেতাগণ অসমে এই সময়ে আন্দোলন পরিচালনার ভার গ্রহণ করেন । গান্ধিজির অসম ভ্রমণ সম্পূর্ণ সফল হয় । “ ইয়ং ইণ্ডিয়া ” পত্রিকায় “ লাভলি অসম ” , প্রবন্ধে গান্ধিজি নিজেই এটি স্বীকার করেছিলেন ।


