Class 12 Education Chapter 6 মনোযোগ এবং আগ্রহ/অনুরাগ

Class 12 Education Chapter 6 মনোযোগ এবং আগ্রহ/অনুরাগ Question Answer Bengali Medium As Per AHSEC New Syllabus. to each chapter is provided in the list so that you can easily browse through different chapters Class 12 Education Chapter 6 মনোযোগ এবং আগ্রহ/অনুরাগ Solutions and select need one. Class 12 Education Chapter 6 মনোযোগ এবং আগ্রহ/অনুরাগ Notes Download PDF. AHSEC Class 12 Education Question Answer Bengali Medium.

Class 12 Education Chapter 6 মনোযোগ এবং আগ্রহ/অনুরাগ

Also, you can read the NCERT book online in these sections Solutions by Expert Teachers as per Central Board of Secondary Education (CBSE) Book guidelines. AHSEC Class 12 Education Chapter 6 মনোযোগ এবং আগ্রহ/অনুরাগ Solutions are part of All Subject Solutions. Here we have given AHSEC Class 12 Education Notes Bengali Medium for All Chapters, You can practice these here.

Chapter: 6

সক্রিয়তা ১

১। শিক্ষকেরা ছাত্রছাত্রীদের কিছু বাস্তব উদাহরণ তাদের জীবন থেকে দিতে বলবেন যা বিভিন্ন প্রকারের মনোযোগের প্রতিনিধিত্ব করে।

উত্তরঃ শিক্ষার্থীদের জীবনে বিভিন্ন সময়ে যে নানা প্রকারের মনোযোগের সৃষ্টি হয়, তার বাস্তব উদাহরণসমূহ দেওয়া হলো:

মনোযোগের প্রকারভেদমনস্তাত্ত্বিক অর্থ ও প্রকৃতিশিক্ষার্থীদের জীবন থেকে বাস্তব উদাহরণ
স্পষ্ট ঐচ্ছিক মনোযোগকোনো বাহ্যিক জোর ছাড়া, নিজের ইচ্ছানুযায়ী তীব্র চেষ্টা করে কোনো বিষয়ে মনোযোগ দেওয়া।পরীক্ষার ঠিক আগের রাতে কঠিন ও নীরস চ্যাপ্টারটি মুখস্থ করার জন্য দীর্ঘক্ষণ টেবিলে বসে জোরপূর্বক পড়া।
অনুমিত ঐচ্ছিক মনোযোগবাহ্যিক পরিবেশের চাপের চেয়ে নিজের হৃদয়ের গভীর আকাঙ্ক্ষা বা লক্ষ্য থেকে সৃষ্ট মনোযোগ।দরিদ্র ঘরের শিক্ষার্থী হওয়া সত্ত্বেও জীবনে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার তীব্র ইচ্ছার কারণে নিজের পড়াশোনায় প্রতিদিন গভীর মনোযোগ দেওয়া।
আরোপিত অনৈচ্ছিক মনোযোগউদ্দীপকের তীব্র শক্তির কাছে বাধ্য হয়ে নিজের ইচ্ছা ছাড়াই মনোযোগ চলে যাওয়া।.ঘরে বসে পড়ার সময় হঠাৎ বাইরে খুব জোরে পটকা বা বাজি ফাটলে তৎক্ষণাৎ পড়ার বই থেকে চোখ সরে সেদিকে মনোযোগ যাওয়া।
স্বতঃস্ফূর্ত অনৈচ্ছিক মনোযোগবাহ্যিক কোনো জোর ছাড়াই শিক্ষার্থীর নিজস্ব রুচি বা সহজাত পছন্দের কারণে মনোযোগ আকর্ষিত হওয়া।পড়ার ফাঁকে হঠাৎ রেডিও বা মোবাইলে নিজের প্রিয় কোনো গান বেজে উঠলে বা টেবিলে প্রিয় কোনো উপন্যাস দেখলে সেদিকে অবলীলায় মনোযোগ দেওয়া।
সংবেদনাত্মক মনোযোগ পঞ্চেন্দ্রিয়ের (চোখ, কান, নাক ইত্যাদি) সংবেদনশীলতা ও উদ্দীপনার মাধ্যমে সৃষ্ট মনোযোগ।রান্নাঘর থেকে সুস্বাদু বিরিয়ানির গন্ধ নাকে এলে পড়ার টেবিল থেকে সরাসরি রান্নাঘরের দিকে শিক্ষার্থীর মনোযোগ চলে যাওয়া।
বিশ্লেষণাত্মক মনোযোগমনোযোগের বস্তুর সামগ্রিক রূপ না দেখে তার প্রতিটি খুঁটিনাটি দিক আলাদাভাবে বিশ্লেষণ করা।স্কুল ইউনিফর্মের জন্য বাজার থেকে কাপড় কেনার সময় শিক্ষার্থী যখন তার সুতোর বুনন, রঙের স্থায়িত্ব ও দাম। প্রতিটি বিষয় আলাদাভাবে পরীক্ষা করে দেখে
সংশ্লেষণাত্মক মনোযোগখুঁটিনাটি বা খণ্ড অংশে বিভক্ত না করে কোনো বিষয়কে সামগ্রিকভাবে এক নজরে দেখা।স্কুলের আর্ট গ্যালারিতে টাঙানো কোনো সুন্দর ছবির ছোটখাটো ক্রুটি না খুঁজে এক নজরে পুরো ছবিটির সামগ্রিক সৌন্দর্য উপভোগ করা।
তাৎক্ষণিক বা প্রত্যক্ষ মনোযোগ উদ্দীপকের তীব্র বাহ্যিক আকর্ষণের (যেমন উজ্জ্বল রং, বড় আকার) কারণে তৎক্ষণাৎ মনোযোগ কেড়ে নেওয়া।রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় হঠাৎ একটি সুউচ্চ ও বিশালাকার রঙিন বিলবোর্ড দেখে থমকে দাঁড়িয়ে সেদিকে তাকিয়ে থাকা।
উদ্ভাবিত বা পরোক্ষ মনোযোগমূল বিষয়টির নিজস্ব আকর্ষণ না থাকলেও তার সাথে জড়িত অন্য কোনো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের কারণে মনোযোগ দেওয়া।সাধারণ ক্যালেন্ডারে অন্যসব তারিখের চেয়ে হঠাৎ ‘১৫ই আগস্ট’ বা ‘২৬শে জানুয়ারি’ তারিখটির দিকে বেশি মনোযোগ যাওয়া, কারণ এই দিনগুলি আমাদের স্বাধীনতার সাথে যুক্ত।
সক্রিয়তা ২

১। শিক্ষক ছাত্র-ছাত্রীকে তাদের নিজেদের কিছু উদাহরণ দিতে বলতে পারেন।

(ক) যেখানে অনুরাগের দ্বারা মনোযোগ সংঘটিত হয়।

উত্তরঃ যখন কোনো বিষয়ের প্রতি আমাদের মনের ভেতরে আগে থেকেই ভালোবাসা, আকর্ষণ বা আগ্রহ (অনুরাগ) থাকে, তখন কোনো রকম জোর বা বাহ্যিক চাপ ছাড়াই আমরা সেখানে স্বতঃস্ফূর্তভাবে মনোযোগ দিই। মনস্তাত্ত্বিক পরিভাষায় একে স্বতঃস্ফূর্ত অনৈচ্ছিক মনোযোগ বলা হয়।

মনোবিজ্ঞানী উইলিয়াম ম্যাকডুগাল এই সম্পর্কটি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেছেন, “অনুরাগ হল সুপ্ত মনোযোগ এবং মনোযোগ হচ্ছে সক্রিয় অনুরাগ”। অর্থাৎ, অনুরাগ হৃদয়ে সুপ্ত অবস্থায় থাকে এবং তা যখন প্রকাশ পায় বা সক্রিয় হয়, তখনই মনোযোগের সৃষ্টি হয়। মনোবিজ্ঞানী জেমস রস -এর মতে, “মনোযোগ ও অনুরাগ একই মুদ্রার এপিঠ ও ওপিঠ”।

বাস্তব জীবনের উদাহরণসমূহ:

(i) ক্রিকেট বা ফুটবল খেলা দেখা: কোনো শিক্ষার্থীর খেলাধুলার প্রতি তীব্র অনুরাগ থাকলে টেলিভিশনে খেলা শুরু হওয়ামাত্রই সে পড়ালেখা বা অন্য কাজ ভুলে সম্পূর্ণ মনোযোগ সহকারে টিভির সামনে বসে থাকে (যেমন পাঠ্যপুস্তকে বলা হয়েছে, একটি ছেলের ক্রিকেটে আগ্রহ থাকলে সে খেলাটির প্রতি স্বতঃস্ফূর্ত মনোযোগ দেয়)।

(ii) শখ বা সৃজনশীল কাজ (ছবি আঁকা/গান গাওয়া): যে শিক্ষার্থীর ছবি আঁকার প্রতি সহজাত অনুরাগ আছে, সে কোনো ক্লান্তি বা বাহ্যিক নির্দেশ ছাড়াই ঘণ্টার পর ঘণ্টা অত্যন্ত মনোযোগ দিয়ে ক্যানভাসে রং তুলি দিয়ে ছবি এঁকে যায়।

(iii) পছন্দের গল্প বা উপন্যাস পড়া: ক্লাসের পাঠ্যবই পড়তে ভালো না লাগলেও নিজের প্রিয় কোনো রোমাঞ্চকর গল্প বা রূপকথার বই পড়ার সময় শিক্ষার্থীর মনোযোগ বইয়ের পাতায় গভীর ও স্বতঃস্ফূর্তভাবে নিবদ্ধ থাকে।

(খ) যেখানে অনুরাগ ব্যতীত মনোযোগ দেওয়া সম্ভব।

উত্তরঃ অনুরাগসহ এবং অনুরাগ ব্যতীত মনোযোগের তুলনামূলক সারসংক্ষেপ মনস্তাত্ত্বিক ভিত্তি:

তুলনার বিষয়অনুরাগের দ্বারা মনোযোগঅনুরাগ ব্যতীত মনোযোগ
মনস্তাত্ত্বিক ভিত্তিএটি মনোযোগের আভ্যন্তরীণ বা ব্যক্তিনিষ্ঠ শর্ত। অনুরাগ মনোযোগের চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করে।এটি বাহ্যিক চাপ, ঐচ্ছিক চেষ্টা, কর্তব্যবোধ বা আত্মরক্ষার কারণে ঘটে।
মনোযোগের প্রকৃতিস্বতঃস্ফূর্ত এবং অনৈচ্ছিক। মনোযোগ ধরে রাখতে অতিরিক্ত কোনো মানসিক শক্তি বা চেষ্টা করতে হয় না।ঐচ্ছিক ও সচেষ্ট। মনোযোগ ধরে রাখার জন্য সক্রিয় মানসিক প্রচেষ্টা বা ইচ্ছাশক্তির প্রয়োজন হয়।
শিখনের অনুভূতিআনন্দদায়ক ও ক্লান্তিহীন। এর মাধ্যমে অর্জিত জ্ঞান দীর্ঘস্থায়ী হয়।কিছুটা ক্লান্তিকর হতে পারে, তবে বারবার মনোযোগ দিলে পরবর্তীতে অনুরাগ সৃষ্টি হতে পারে।
সংক্ষিপ্ত উদাহরণপ্রিয় খেলা ক্রিকেট দেখা, ছবি আঁকা, গল্প পড়া।পরীক্ষার জন্য নীরস বিষয় পড়া, ট্রাফিক নিয়ম মেনে চলা, শাস্তি এড়াতে ক্লাসে মনোযোগী হওয়া।
সক্রিয়তা ৩

১। শিক্ষক নিজেদেরকে শিক্ষক হিসাবে কল্পনা করে, মৌখিক উত্তরে অথবা সংক্ষেপে লিখে জানাতে/বলতে পারেন, ছাত্র-ছাত্রীরা নীচে উল্লেখ করা দায়িত্বগুলি কিভাবে পালন করবেন।

(i) পাঁচ হতে সাত বছরের শিশুদের মনোযোগ ও অনুরাগ গড়ে তুলতে হলে কি কি উপায় গ্রহণ করতে হবে।

উত্তরঃ ৫ থেকে ৭ বছর বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে মনোযোগ ও অনুরাগ সৃষ্টি করতে হলে শিক্ষাদানের বাহ্যিক বা বস্তুনিষ্ঠ শর্তগুলোর সর্বাধিক ব্যবহার করতে হবে, কারণ এই বয়সের শিশুদের মনোযোগ সাধারণত অনৈচ্ছিক প্রকৃতির হয়ে থাকে।

একজন শিক্ষক হিসেবে আমি নিম্নলিখিত উপায়গুলি গ্রহণ করব:

(i) উজ্জ্বল ও আকর্ষণীয় শিখন সামগ্রীর ব্যবহার: সাদা-কালো নীরস বইয়ের পরিবর্তে উজ্জ্বল ছবি এবং আকর্ষণীয় রঙের শিক্ষণ সামগ্রী ব্যবহার করব, যা ক্ষুদে শিশুদের মনোযোগ সহজেই আকর্ষণ করে।

(ii) শিখনের নাতিদীর্ঘ সময়সীমা: এই বয়সের শিশুদের ক্লাসের সময়সীমা খুব দীর্ঘ করব না দীর্ঘ সময় ধরে পড়াশোনা করালে শিশুরা মানসিকভাবে অবসাদগ্রস্ত ও ক্লান্ত হয়ে পড়ে এবং মনোযোগ দেওয়ার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে।

(iii) হাস্যরসের প্রয়োগ: শ্রেণীকক্ষে শিক্ষাদানকালে শিক্ষক হিসেবে আমি হাস্যরসের সাহায্য নেব হাসিখুশি পরিবেশ শিশুদের মনকে প্রফুল্ল রাখে এবং তাদের মনোযোগ ধরে রাখতে চমৎকারভাবে সাহায্য করে।

(iv) সক্রিয়তা বা খেলার ছলে শিখন: স্থির বিষয়ের চেয়ে নড়াচড়া বা গতিশীল বিষয় শিশুদের দ্রুত আকৃষ্ট করে। তাই শিক্ষাদানে সক্রিয়তা এবং স্ব-শিখনের সুযোগ রাখব যাতে শিশুরা নিজে হাতে-কলমে কাজ করতে পারে।

(v) অতিরিক্ত পুরস্কার ও শাস্তি বর্জন: শিক্ষার্থীদের অনুপ্রাণিত করতে পুরস্কার ও শাস্তির বিধান থাকলেও শ্রেণীকক্ষে এগুলির অতিরিক্ত ব্যবহার সম্পূর্ণরূপে বর্জন করব বিশেষ করে, দৈহিক শাস্তি দেওয়া থেকে সর্বদা বিরত থাকব।

(ii) শ্রেণীকক্ষের পরিস্থিতির মধ্যে কিশোর কিশোরীদের মনোযোগ কিভাবে বাড়ানো যায়।

উত্তরঃ কিশোর-কিশোরীদের (উচ্চ শ্রেণীকক্ষ) মনোযোগ আকর্ষণ করতে বাহ্যিক উপাদানের চেয়ে অভ্যন্তরীণ বা ব্যক্তিনিষ্ঠ শর্তসমূহ যেমন শিক্ষার্থীর অনুরাগ, প্রেষণা, আকাঙ্ক্ষা এবং আবেগের ওপর বেশি গুরুত্ব দিতে হয়।

শ্রেণীকক্ষের পরিস্থিতিতে তাদের মনোযোগ বাড়ানোর জন্য আমি নিম্নরূপ পদক্ষেপ গ্রহণ করব:

(i) বাস্তব ও কর্মভিত্তিক শিখন: কেবল তাত্ত্বিক আলোচনার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে কিশোর-কিশোরীদের বাস্তব অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে শেখার সুযোগ দেব। তাত্ত্বিক বিশ্লেষণের পাশাপাশি বাস্তব কাজের সুযোগ থাকলে শিক্ষার্থীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে মনোযোগী হয়।

(ii) প্রেষণা ও আকাঙ্ক্ষা জাগ্রত করা: পাঠ্য বিষয়টি তাদের ভবিষ্যৎ জীবন গঠনে বা লক্ষ্য অর্জনে কীভাবে সাহায্য করবে তা বুঝিয়ে তাদের মধ্যে শিখনের গভীর প্রেষণা ও আকাঙ্ক্ষা তৈরি করব।

(iii) একঘেয়েমি ও অতিরিক্ত পুনরাবৃত্তি বর্জন: শ্রেণীকক্ষে একই বিষয়ের বারবার পুনরাবৃত্তি সম্পূর্ণরূপে এড়িয়ে চলব, কারণ এটি কিশোর বয়সের শিক্ষার্থীদের জন্য শিখনকে একঘেয়ে ও বিরক্তিকর করে তোলে।

(iv) নতুনত্ব ও বৈচিত্র্য সৃষ্টি: পড়ানোর পদ্ধতিতে নতুনত্ব নিয়ে আসব বিভিন্ন শিক্ষামূলক প্রজেক্ট, বিতর্ক এবং আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে তাদের আগ্রহকে সতেজ রাখব।

(v) স্বীকৃতি ও প্রশংসা: কিশোর-কিশোরীদের ভালো কাজের স্বীকৃতি ও ইতিবাচক প্রশংসা প্রদান করব, যা তাদের পড়াশোনার প্রতি অনুরাগকে দীর্ঘস্থায়ী করতে সাহায্য করে।

(iii) শিক্ষক প্রত্যেক ছাত্র-ছাত্রীকে একটি করে শিক্ষণ সহায়ক সামগ্রী প্রস্তুত করতে বলতে পারেন। যেটি অধ্যয়নে তাদের অনুরাগ বাড়িয়ে তুলতে সাহায্য করবে। অথবা এটি দলবদ্ধ ভাবেও ছাত্র-ছাত্রীরা করতে পারে।

উত্তরঃ শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার প্রতি অনুরাগ বৃদ্ধি করতে এবং তাদের সক্রিয় অংশগ্রহণের সুযোগ দিতে আমি একটি শিক্ষণ সহায়ক সামগ্রী প্রস্তুত করার দায়িত্ব অর্পণ করব:

এটি শিক্ষার্থীরা ৫-৬ জনের এক একটি দলে বিভক্ত হয়ে দলগতভাবে সম্পন্ন করতে পারে।

(i) শিক্ষণ সহায়ক সামগ্রীর নাম: “আমাদের সৌরজগৎ ও ঘূর্ণায়মান মহাকাশ মডেল”

প্রয়োজনীয় উপকরণ: রঙিন পিচবোর্ড, থার্মোকল বল, কাঠি, জলরঙ, সুতো এবং আঠা।

(ii) দলগত প্রস্তুত প্রণালী: দলের শিক্ষার্থীরা প্রথমে একটি বড় শক্ত পিচবোর্ডকে কালো রঙ করে মহাকাশের রূপ দেবে। থার্মোকল বলগুলিকে বিভিন্ন গ্রহের আকৃতিতে কেটে জলরঙের সাহায্যে গ্রহগুলির আসল রূপ ফুটিয়ে তুলবে।

(iii) কাঠি ও ঘূর্ণায়মান পিনের সাহায্যে গ্রহগুলিকে সূর্যের চারপাশে নিজ নিজ কক্ষপথে স্থাপন করবে, যাতে হাত দিয়ে চাকাটি ঘোরালে গ্রহগুলিও ঘোরে।

মনস্তাত্ত্বিক গুরুত্ব অনুরাগ সৃষ্টিতে ভূমিকা: এই সামগ্রীটি তৈরি করার সময় শিক্ষার্থীরা নিজেরা সক্রিয়ভাবে যুক্ত থাকায় পাঠ্য বিষয়টির প্রতি তাদের মনে সহজাত অনুরাগের সঞ্চার হবে।

প্রশ্নাবলী

১। মনোযোগ কি? মনোযোগের কয়েকটি সংজ্ঞা দাও।

উত্তরঃ মনোযোগ হলো সচেতন মনের একটি সক্রিয়তা। আমাদের চারপাশে অনেক উদ্দীপক থাকলেও আমরা সবকিছুর ওপর মনোযোগ দিই না;বরং পরিবেশের কোনো নির্দিষ্ট বস্তু, ধারণা বা ব্যক্তির ওপর সচেতনতাকে কেন্দ্রীভূত বা অধিশ্রয়ণ করাই হলো মনোযোগ। এটি মূলত সচেতন মনকে নিয়ন্ত্রণে রেখে একটি নির্দিষ্ট দিকে চালিত করার একটি প্রক্রিয়া।

মনোযোগের কয়েকটি সংজ্ঞা:

(i) জেমস্ রস: “মনোযোগ একটি প্রক্রিয়া যার দ্বারা কোন বস্তু বা ধারণাকে মনের সামনে স্পষ্টভাবে উপস্থাপিত করা যায়। তিনি একে ব্যক্তিত্বের একটি মৌলিক ক্রিয়া বা ‘জানা’ হিসেবেও অভিহিত করেছেন।

(ii) গিলফোর্ড: “এখানে একটি নিরবচ্ছিন্ন নির্বাচন চলে,কোনটি একজন পর্যবেক্ষণ করবে,এটি মনোযোগ নামে পরিচিত”।

(iii) আধুনিক মনোবিজ্ঞানীগণ: তাঁদের মতে,মনোযোগ কোনো মানসিক ক্ষমতা নয়,বরং এটি একটি বিশেষ সময়ে সচেতন মনকে একাগ্র করার প্রক্রিয়া।

২। মনোযোগের মুখ্য বৈশিষ্ট্যসমূহ কি?

উত্তরঃ মনোযোগের মুখ্য বৈশিষ্ট্যসমূহ:

(i) মানসিক সক্রিয়তা: মনোযোগ কোনো সুপ্ত ক্ষমতা নয়,বরং এটি মনের একটি সক্রিয় ক্রিয়া।

(ii) সচেতন মনের কেন্দ্রীকরণ: এর মাধ্যমে আমাদের সচেতন মন কোনো নির্দিষ্ট বিষয় বা ধারণার ওপর পুঞ্জীভূত বা ঘনীভূত হয়।

(iii) নির্বাচনধর্মিতা: এটি মনোযোগের একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য। চারপাশের বহু উদ্দীপকের মধ্য হতে একটি বিশেষ উদ্দীপককে বেছে নেওয়া হয়।

(iv) গতিময়তা: মনোযোগ স্থির নয়; এটি অত্যন্ত দ্রুত এক বস্তু থেকে অন্য বস্তুতে স্থান পরিবর্তন করতে পারে।

(v) সীমাবদ্ধতা: আমরা একটি নির্দিষ্ট সময়ে অতি সীমিত বস্তু বা ধারণার ওপরেই কেবল মনোযোগ দিতে পারি।

(vi) আবিষ্কার ধর্মী: এটি মনের এমন এক প্রক্রিয়া যা নতুন কিছু জানতে বা অনুধাবন করতে সাহায্য করে।

৩। মনোযোগের প্রদত্ত প্রকারগুলি সম্পর্কে লিখ।

উদাহরণ দাও – (ক) ভাবাত্মক এবং সংবেদনাত্মক মনোযোগ।

(খ) বিশ্লেষণাত্মক এবং সংশ্লেষণাত্মক মনোযোগ।

উত্তরঃ মনোযোগকে বিভিন্ন ভাগে ভাগ করা হয়েছে:

(i) ঐচ্ছিক ও অনৈচ্ছিক মনোযোগ: নিজের ইচ্ছানুযায়ী ও মানসিক প্রস্তুতির মাধ্যমে কোনো বিষয়ে নিবিষ্ট হওয়া হলো ঐচ্ছিক মনোযোগ। অন্যদিকে, কোনো বাহ্যিক আকর্ষণ বা উদ্দীপকের তীব্রতার কারণে ইচ্ছা ছাড়াই যে মনোযোগ ঘটে,তা হলো অনৈচ্ছিক মনোযোগ।

(ii) স্পষ্ট ও অনুমিত মনোযোগ: এটি ঐচ্ছিক মনোযোগের দুটি ভাগ। সচেতন ও সুনির্দিষ্টভাবে যে মনোযোগ দেওয়া হয় তা স্পষ্ট; আর মনের গভীর থেকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে কোনো বিষয়ে আকৃষ্ট হওয়া হলো অনুমিত মনোযোগ।

(iii) আরোপিত ও স্বতঃস্ফূর্ত মনোযোগ: অনৈচ্ছিক মনোযোগের দুটি ভাগ। কোনো উদ্দীপকের জোরালো প্রভাবে বাধ্য হয়ে মনোযোগ দেওয়াকে আরোপিত (যেমন- প্রচণ্ড চিৎকার) এবং নিজের অগোচরে ভালো লাগা থেকে মনোযোগ দেওয়াকে স্বতঃস্ফূর্ত মনোযোগ (যেমন- প্রিয় গান শোনা) বলে।

(iv) ভাবাত্মক ও সংবেদনাত্মক মনোযোগ: ব্যক্তিগত চিন্তা,কল্পনা বা ভাবনার ওপর ভিত্তি করে যে মনোযোগ হয় তা ভাবাত্মক। আর ইন্দ্রিয়ের উদ্দীপনার (যেমন- উজ্জ্বল আলো বা শব্দ) মাধ্যমে সৃষ্ট মনোযোগ হলো সংবেদনাত্মক।

ভাবাত্মক এবং সংবেদনাত্মক মনোযোগের উদাহরণ:

(i) ভাবাত্মক মনোযোগ: যখন কোনো ব্যক্তি তার ব্যক্তিগত ভাবনা,চিন্তা বা কল্পনার জগতে গভীরভাবে নিবিষ্ট থাকেন এবং বাহ্যিক পরিবেশ সম্পর্কে অসচেতন হয়ে পড়েন,তখন তাকে ভাবাত্মক মনোযোগ বলে।

উদাহরণ: কোনো ব্যক্তি যখন কোনো একটি বিষয়ের ওপর গভীর চিন্তায় মগ্ন হয়ে পড়েন এবং তার চারপাশে কী ঘটছে সে সম্পর্কে সম্পূর্ণ বাহ্যজ্ঞানশূন্য হয়ে যান, তখন এটি ভাবাত্মক মনোযোগের কারণে ঘটে।

(ii) সংবেদনাত্মক মনোযোগ: যখন কোনো ইন্দ্রিয়ের (চোখ, কান ইত্যাদি) উদ্দীপনার কারণে মনোযোগ আকর্ষিত হয়,তাকে সংবেদনাত্মক মনোযোগ বলে।

উদাহরণ: হঠাৎ কোনো তীব্র শব্দ শোনা গেলে বা উজ্জ্বল আলো দেখলে আমাদের মনোযোগ সেদিকে চলে যায়। এটি সংবেদনাত্মক মনোযোগের একটি প্রধান উদাহরণ।

বিশ্লেষণাত্মক এবং সংশ্লেষণাত্মক মনোযোগের উদাহরণ:

(i) বিশ্লেষণাত্মক মনোযোগ: যখন কোনো বস্তু বা ধারণার প্রতিটি অংশ বা খুঁটিনাটি বিষয়কে আলাদা আলাদাভাবে লক্ষ্য করা হয়, তখন তাকে বিশ্লেষণাত্মক মনোযোগ বলে।

উদাহরণ: একটি পোশাক কেনার সময় যখন আমরা সেটির দাম, কাপড়ের গুণগত মান এবং নকশা বা কারুকাজ—প্রতিটি বিষয় আলাদাভাবে খুঁটিয়ে দেখি,তখন সেটি হয় বিশ্লেষণাত্মক মনোযোগ।

(ii) সংশ্লেষণাত্মক মনোযোগ: এটি বিশ্লেষণাত্মক মনোযোগের ঠিক বিপরীত। এখানে বস্তুর বিভিন্ন অংশকে আলাদাভাবে না দেখে সামগ্রিকভাবে বা একত্রিত করে দেখা হয়।

উদাহরণ: কোনো একটি অঙ্কিত চিত্র বা ছবিকে তার বিভিন্ন অংশ বা উপাদান আলাদাভাবে লক্ষ্য না করে যখন সামগ্রিকভাবে একটি পূর্ণাঙ্গ ছবি হিসেবে দেখা হয়, তখন তাকে সংশ্লেষণাত্মক মনোযোগ বলে।

৪। অনুরাগ কি? এর বৈশিষ্ট্য কি?

উত্তরঃ অনুরাগ হলো মনোযোগের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অভ্যন্তরীণ শর্ত যা কোনো ব্যক্তিকে মনোযোগ দিতে অনুপ্রাণিত করে। ‘Interest’ শব্দটি ল্যাটিন শব্দ হতে এসেছে যার অর্থ হলো এটি গুরুত্বপূর্ণ অথবা এটি সম্পৃক্ত। কোনো বিষয় যখন ব্যক্তির কাছে বিচার্য বা সম্পৃক্ত হয়, তখন সেই বিষয়ের ওপর ব্যক্তির অনুরাগ বা আগ্রহ আছে বলা হয়।

অনুরাগের বৈশিষ্ট্য:

(i) অভ্যন্তরীণ অবস্থা: এটি মনের একটি অভ্যন্তরীণ অবস্থা যা ব্যক্তিকে ভিতর থেকে সক্রিয় হতে অনুপ্রেরণা দেয়।

(ii) অভিজ্ঞতা নির্ভর: অনুরাগ অনুভব বা অভিজ্ঞতার দ্বারা উৎপন্ন হয়।

(iii) সহজাত ও অর্জিত: এটি সহজাত (যেমন- খাদ্যের প্রতি আগ্রহ) অথবা অর্জিত (যেমন – বাদ্যযন্ত্রের প্রতি অনুরাগ) হতে পারে।

(iv) স্থায়িত্ব: অনুরাগ স্বল্পস্থায়ী বা দীর্ঘস্থায়ী—উভয়ই হতে পারে। যেমন- সন্তানের প্রতি পিতামাতার অনুরাগ দীর্ঘস্থায়ী, কিন্তু দৈনিক কাগজের প্রতি অনুরাগ ক্ষণস্থায়ী।

৫। মনোযোগ ও আগ্রহের সম্পর্ক আলোচনা কর।

উত্তরঃ মনোযোগ ও অনুরাগের মধ্যে অত্যন্ত নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে:

(i) একে অপরের পরিপূরক: মনোবিজ্ঞানী জে.এস.রস-এর মতে, মনোযোগ ও অনুরাগ একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ। একটির বিহীন অন্যটির অস্তিত্ব অর্থহীন।

(ii) সুপ্ত ও সক্রিয় অবস্থা: মনোবিজ্ঞানী ম্যাকডুগাল মনে করেন, “অনুরাগ হলো সুপ্ত মনোযোগ এবং মনোযোগ হচ্ছে সক্রিয় অনুরাগ”। অর্থাৎ, অনুরাগ যখন মনে সুপ্ত থাকে তখন তা অনুরাগ, আর যখন তা সক্রিয় হয়ে ওঠে তখন তাকে মনোযোগ বলা হয়।

(iii) পারস্পরিক নির্ভরতা: অনুরাগ যেমন মনোযোগ সৃষ্টি করে, তেমনি অনেক সময় কোনো বিষয়ে অধিকতর প্রচেষ্টার ফলে মনোযোগ দিতে দিতে সেই বিষয়ের প্রতি অনুরাগ জন্মায়।

৬। মনোযোগ ও অনুরাগের শৈক্ষিক তাৎপর্য লিখ।

উত্তরঃ মনোযোগ ও অনুরাগের শৈক্ষিক তাৎপর্য:

(i) শিক্ষার মূল ভিত্তি: শিখন-শিক্ষন প্রক্রিয়ায় মনোযোগ ও অনুরাগ কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করে। এগুলি ছাড়া শিক্ষা প্রক্রিয়া বিফল হয়।

(ii) শিক্ষার উপায় ও লক্ষ্য: আধুনিক শিক্ষাবিদদের মতে, মনোযোগ ও অনুরাগ কেবল শিক্ষার উপায় নয়, বরং ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে এদের বিকাশ ঘটানো শিক্ষার অন্যতম লক্ষ্য।

(iii) শিক্ষকের ভূমিকা: ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে মনোযোগ ও আগ্রহ সৃষ্টি করা এবং তা ধরে রাখা শিক্ষকের প্রধান দায়িত্ব। আকর্ষণীয় শিখন পদ্ধতি ও কৌশলের মাধ্যমে এটি সম্ভব।

(iv) সাফল্যের চাবিকাঠি: একজন শিক্ষার্থীর অধ্যয়নকালের সাফল্য প্রধানত তার মনোযোগ ও অনুরাগের ওপর নির্ভর করে।

৭। মনোযোগ কি? এর নির্ধারকদের বর্ণনা কর।

উত্তরঃ মনোযোগ হলো একটি মানসিক প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে ব্যক্তি তার পরিবেশের অসংখ্য উদ্দীপকের মধ্য থেকে কোনো একটি নির্দিষ্ট বস্তু, ধারণা বা ব্যক্তির ওপর নিজের সচেতনতাকে নিবদ্ধ করে। আধুনিক মনোবিজ্ঞানীদের মতে এটি কোনো মানসিক ক্ষমতা নয়, বরং সচেতন মনের একটি বিশেষ সক্রিয়তা। এটি মূলত একটি নির্বাচনধর্মী প্রক্রিয়া, যেখানে মন অনেক উদ্দীপকের মধ্য থেকে একটিকে বেছে নিয়ে তার ওপর নিবিষ্ট হয়।

মনোযোগের নির্ধারকসমূহ:

(ক) বস্তুনিষ্ঠ বা বাহ্যিক নির্ধারক: এগুলো উদ্দীপকের নিজস্ব বৈশিষ্ট্যের ওপর নির্ভর করে এবং আমাদের অজান্তেই মনোযোগ আকর্ষণ করে।

(i) তীব্রতা: উদ্দীপক যত শক্তিশালী হবে,তা তত বেশি মনোযোগ আকর্ষণ করবে। যেমন- প্রচণ্ড কোনো আওয়াজ বা উজ্জ্বল আলো।

(ii) আকার: ছোট আকারের চেয়ে বড় আকারের বস্তু আমাদের দ্রুত দৃষ্টি আকর্ষণ করে। যেমন- বিশাল কোনো বিজ্ঞাপন বোর্ড বা একটি হাতি।

(iii) সচলতা বা গতিশীলতা: স্থির বস্তুর চেয়ে গতিশীল বস্তু আমাদের মনোযোগ বেশি টানে। এই কারণেই চলচ্চিত্র বা চলন্ত ছবি শিক্ষার ক্ষেত্রে বেশি কার্যকর।

(খ) ব্যক্তিনিষ্ঠ বা অভ্যন্তরীণ নির্ধারক: এগুলো ব্যক্তির মানসিক অবস্থা বা ব্যক্তির নিজস্ব বৈশিষ্ট্যের ওপর নির্ভর করে।

(i) প্রবৃত্তি: সহজাত তাড়না মনোযোগের বিষয়বস্তু নির্বাচনে সাহায্য করে। যেমন- ক্ষুধার সময় আমাদের মনোযোগ খাবারের ওপর থাকে।

(ii) প্রক্ষোভ: মানুষের আবেগীয় অবস্থা মনোযোগকে প্রভাবিত করে। যেমন- ভয়ের সময় ব্যক্তির মনোযোগ ভয়ের বস্তুটির ওপর স্থির থাকে।

(iii) প্রকৃতি বা মেজাজ: মানুষের নিজস্ব স্বভাব অনুযায়ী সে মনোযোগ দেয়। যেমন- একজন ধার্মিক ব্যক্তির মনোযোগ স্বাভাবিকভাবেই ধর্মীয় বিষয়ের দিকে যায়।

৮। অনুরাগ কি? কোন্ উপাদানগুলির উপর অনুরাগ নির্ভর করে?

উত্তরঃ অনুরাগ হলো মনোযোগের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অভ্যন্তরীণ শর্ত যা কোনো ব্যক্তিকে কোনো বিষয়ে মনোযোগ দিতে অনুপ্রাণিত করে।’ যখন কোনো বিষয় ব্যক্তির কাছে বিচার্য বা সম্পৃক্ত হয়, তখন সেই বিষয়ের ওপর ব্যক্তির অনুরাগ বা আগ্রহ আছে বলে ধরা হয়। 

অনুরাগের উপাদান বা নির্ধারকসমূহ:

(i) সহজাত প্রবণতা: আমাদের অনেক অনুরাগ প্রবৃত্তিগত তাড়না থেকে আসে। বিশেষ করে শৈশবের প্রাথমিক স্তরে শিশুদের বিভিন্ন বিষয়ে অনুরক্ত হওয়ার প্রধান কারণ হলো এই সহজাত প্রবণতা।

(ii) বয়স: মানুষের বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে তার অনুরাগের বিষয়গুলিও পরিবর্তিত হতে থাকে। অর্থাৎ বয়স অনুরাগের একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস।

(iii) লিঙ্গভেদ: ছেলে এবং মেয়েদের পছন্দের বিষয় বা অভিরুচির মধ্যে পার্থক্য দেখা যায়। অবসর সময়ের কার্যকলাপের ক্ষেত্রেও লিঙ্গভেদে বৈচিত্র্য থাকে, যা অনুরাগকে প্রভাবিত করে।

(iv) দৈহিক বা শারীরিক অবস্থা: অনুরাগ অনেকাংশে ব্যক্তির দৈহিক ক্ষমতা ও প্রস্তুতির ওপর নির্ভর করে। একজন শারীরিকভাবে সুস্থ ও সবল ব্যক্তি কোনো বিষয়ে যতটা আগ্রহী ও উৎসাহী হতে পারে,অসুস্থ ব্যক্তির ক্ষেত্রে তা সম্ভব না-ও হতে পারে।

৯। বিভিন্ন ধরনের অনুরাগ বর্ণনা কর।

উত্তরঃ বিভিন্ন ধরনের অনুরাগের বিস্তারিত বর্ণনা দেওয়া হলো:

(i) সহজাত বা সুপ্ত অনুরাগ: এই ধরনের অনুরাগ মানুষের জন্মগত বা সহজাত প্রবণতা থেকে আসে। এটি মূলত প্রবৃত্তি এবং প্রক্ষোভ বা আবেগের ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠে। এর সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো এটি অর্জনের জন্য কোনো সচেতন চেষ্টার প্রয়োজন হয় না; বরং এটি প্রাকৃতিকভাবেই ব্যক্তিতে বিদ্যমান থাকে।

(ii) অর্জিত অনুরাগ: জন্মগতভাবে প্রাপ্ত নয় বরং পরিবেশ, শিক্ষা, প্রশিক্ষণ এবং অভ্যাসের মাধ্যমে যে অনুরাগ ব্যক্তি নিজের চেষ্টার দ্বারা অর্জন করে, তাকে অর্জিত অনুরাগ বলে। এটি ব্যক্তির চরিত্র, আদর্শ, রুচি এবং অর্জিত সেন্টিমেন্টের ওপর গভীরভাবে নির্ভরশীল।

(iii) স্থায়ী অনুরাগ: যে অনুরাগ দীর্ঘকালীন শিক্ষা,অভিজ্ঞতা এবং বিশেষ অভিনিবেশের ফলে মনের গভীরে প্রোথিত হয়, তাকে স্থায়ী অনুরাগ বলে। এটি সাধারণত জীবনব্যাপী স্থায়ী হয় এবং ব্যক্তির পেশা বা নেশার সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে থাকে।

(iv) ক্ষণস্থায়ী বা সাময়িক অনুরাগ: এই ধরনের অনুরাগ খুব অল্প সময়ের জন্য স্থায়ী হয় এবং সাধারণত পরিস্থিতিগত বা বাহ্যিক শক্তির দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়। কোনো বিশেষ ঘটনা বা প্রয়োজনের সময় এটি তীব্র থাকলেও সময়ের সাথে সাথে তা ফিকে হয়ে যায়।

১০। পার্থক্য নিদ্ধারণ কর:

(ক) সুপ্ত বা সহজাত ও অর্জিত অনুরাগ।

উত্তরঃ সুপ্ত বা সহজাত ও অর্জিত অনুরাগ পার্থক্য:

সুপ্ত বা সহজাত ও অনুরাগঅর্জিত অনুরাগ
এটি মানুষের জন্মগত প্রবৃত্তি এবং আবেগ (যেমন- ভয়,ভালোবাসা) থেকে আসে।এটি পরিবেশ, শিক্ষা, প্রশিক্ষণ এবং অভ্যাসের মাধ্যমে ব্যক্তি অর্জন করে।
এই অনুরাগ অর্জনের জন্য কোনো সচেতন মানসিক প্রচেষ্টার প্রয়োজন হয় না।এটি গড়ে তুলতে হলে ব্যক্তির সক্রিয় চেষ্টা, চর্চা এবং সেন্টিমেন্টের প্রয়োজন হয়।
শিশুর প্রতি মায়ের স্বাভাবিক ভালোবাসা বা সহজাত আকর্ষণ।এটি ব্যক্তির অর্জিত চরিত্র, আদর্শ এবং রুচির ওপর নির্ভরশীল।
শিশুর প্রতি মায়ের স্বাভাবিক ভালোবাসা বা সহজাত আকর্ষণ।কোনো বাদ্যযন্ত্র শিখতে চাওয়া বা উচ্চাঙ্গ সংগীতের প্রতি অনুরাগ।

(খ) সল্পকালীন ও চিরস্থায়ী অনুরাগ।

উত্তরঃ সল্পকালীন ও চিরস্থায়ী অনুরাগ পার্থক্য:

স্বল্পকালীন অনুরাগচিরস্থায়ী অনুরাগ
এটি খুব অল্প সময়ের জন্য স্থায়ী হয় এবং পরিস্থিতি বদলালে শেষ হয়ে যায়।এটি মনের গভীরে প্রোথিত থাকে এবং সাধারণত সারা জীবন স্থায়ী হয়।
এটি মূলত বাহ্যিক শক্তি বা বিশেষ কোনো পরিস্থিতির দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়।এটি গভীর অভিজ্ঞতা, শিক্ষা এবং বিশেষ অভিনিবেশের ওপর নির্ভর করে।
এটি অনেকটা ভাসা-ভাসা এবং তাৎক্ষণিক উত্তেজনার ওপর নির্ভর করে।এটি অত্যন্ত গভীর এবং ব্যক্তির ব্যক্তিত্বের সাথে মিশে থাকে।

(গ) ঐচ্ছিক ও অনৈচ্ছিক অনুরাগ।

উত্তরঃ ঐচ্ছিক ও অনৈচ্ছিক অনুরাগ পার্থক্য:

ঐচ্ছিক  অনুরাগঅনৈচ্ছিক অনুরাগ
নিজের ইচ্ছানুযায়ী এবং পূর্ব মানসিক প্রস্তুতির মাধ্যমে এটি ঘটে।এখানে ইচ্ছার ভূমিকা নেই; উদ্দীপকের তীব্রতায় ব্যক্তি মনোযোগ দিতে বাধ্য হয়।
এটি ব্যক্তির অভ্যন্তরীণ ইচ্ছা ও সংকল্প দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়।এটি উদ্দীপকের শক্তিশালী আকর্ষণ বা চরিত্রের ওপর নির্ভর করে।
কচি শিশুদের পক্ষে এটি সম্ভব নয়;এটি বাড়ন্ত শিশু ও প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে দেখা যায়।ছোট শিশু থেকে শুরু করে সবার ক্ষেত্রেই এটি একইভাবে কাজ করে।
এতে ব্যক্তির অনেক সময় সচেতন প্রচেষ্টার প্রয়োজন হয়।এটি কোনো সচেতন প্রচেষ্টা ছাড়াই স্বতঃস্ফূর্তভাবে ঘটে।

১১। প্রদত্ত বিবৃতিগুলি ব্যাখ্যা কর:

(ক) মনোযোগ এবং অনুরাগ একই মুদ্রার এপিঠ ওপিঠ।

উত্তরঃ বিখ্যাত মনোবিজ্ঞানী জে.এস.রস তাঁর ‘গ্রাউন্ড ওয়ার্ক অব এডুকেশনাল সাইকোলজি’ গ্রন্থে এই উক্তিটি করেছেন। তাঁর মতে, মনোযোগ ও অনুরাগ একে অপরের থেকে অবিচ্ছেদ্য। এদের সম্পর্ক এতটাই নিবিড় যে এদের একটি থেকে অন্যটিকে আলাদা করা প্রায় অসম্ভব।

(i) পারস্পরিক নির্ভরতা: একটি মুদ্রার যেমন দুটি পিঠ থাকে এবং একটি পিঠ ছাড়া মুদ্রার অস্তিত্ব অর্থহীন,তেমনি মনোযোগ ছাড়া অনুরাগের এবং অনুরাগ ছাড়া মনোযোগের সার্থকতা নেই।

(ii) পরিপূরক ভূমিকা: অনুরাগ যেমন মনোযোগ সৃষ্টিতে সাহায্য করে, তেমনি অনেক সময় কোনো বিষয়ে বারবার মনোযোগ দিতে থাকলে ধীরে ধীরে সেই বিষয়ের প্রতি অনুরাগের জন্ম হয়। তাই এদের সম্পর্ককে পারস্পরিক ও পরিপূরক বলা হয়।

(খ) অনুরাগ ও মনোযোগ শিক্ষার ‘উপায় ও লক্ষ্য’।

উত্তরঃ আধুনিক শিক্ষাবিজ্ঞানে মনোযোগ ও অনুরাগকে কেবল পড়াশোনার মাধ্যম হিসেবে দেখা হয় না, বরং একে শিক্ষার অন্যতম উদ্দেশ্য হিসেবেও গণ্য করা হয়।

(i) উপায় হিসেবে: শিখন-শিক্ষন প্রক্রিয়াকে সফল করার জন্য মনোযোগ ও অনুরাগ হলো প্রধান ‘সাধন’ বা মাধ্যম। শিক্ষার্থী যদি মনোযোগ না দেয় বা তার যদি পড়ার প্রতি অনুরাগ না থাকে, তবে কোনো জ্ঞান অর্জনই সম্ভব নয়। এটি শিক্ষার্থীর মনকে নতুন কিছু শেখার জন্য প্রস্তুত করে।

(ii) লক্ষ্য হিসেবে: আধুনিক শিক্ষাবিদদের মতে,একজন শিক্ষকের প্রধান দায়িত্ব শুধু পাঠ্যবই শেষ করা নয়,বরং ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে মনোযোগ ও অনুরাগের বিকাশ ঘটানো। শিক্ষার্থীদের মধ্যে পাঠ্য বিষয়ের প্রতি স্বতঃস্ফূর্ত আগ্রহ তৈরি করা এবং তাদের ‘স্ব-শিখনে’ উৎসাহিত করাই শিক্ষার আসল লক্ষ্য। যখন একজন শিক্ষার্থী নিজের থেকেই কোনো বিষয়ে অনুরক্ত হয়,তখনই শিক্ষার প্রকৃত উদ্দেশ্য সফল হয়।

(গ) “অনুরাগ মনোযোগের সুপ্ত অবস্থা আর মনোযোগ অনুরাগের সক্রিয় অবস্থা।”

উত্তরঃ এই বিখ্যাত উক্তিটি করেছেন মনোবিজ্ঞানী ম্যাকডুগাল তাঁর ‘অ্যান আউটলাইন অফ সাইকোলজি’ গ্রন্থে। তিনি মনোযোগ ও অনুরাগের সম্পর্ককে অবস্থার পরিবর্তন হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন।

(i) সুপ্ত অবস্থা: অনুরাগ হলো মনের একটি অভ্যন্তরীণ বা গভীর মানসিক অবস্থা যা সবসময় প্রকাশ পায় না। এটি আমাদের মনে সুপ্ত অবস্থায় থাকে যতক্ষণ না আমরা কোনো নির্দিষ্ট উদ্দীপকের সংস্পর্শে আসি।

(ii) সক্রিয় অবস্থা: যখন সেই সুপ্ত অনুরাগ কোনো একটি নির্দিষ্ট বিষয় বা বস্তুর দ্বারা উদ্দীপিত হয়ে আমাদের সচেতন মনকে সেদিকে চালিত করে, তখনই তাকে মনোযোগ বলা হয়। অর্থাৎ, আমাদের মনের ভেতরের আগ্রহ যখন বাইরের কোনো কাজে বা চিন্তায় বাস্তবে রূপ নেয়, তখন সেই অনুরাগই সক্রিয় হয়ে মনোযোগে রূপান্তরিত হয়। সহজভাবে বললে, অনুরাগ হলো মনোযোগের সেই মানসিক ভিত্তি যা ব্যক্তিকে ভিতর থেকে সক্রিয় হতে প্রেরণা দেয়।

১২। একজন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসাবে শিশুদের মনোযোগ এবং অনুরাগ বিকাশের জন্য তুমি কি পদক্ষেপ গ্রহণ করবে?

উত্তরঃ একজন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে শিশুদের মনোযোগ এবং অনুরাগ বিকাশের জন্য আমি নিম্নলিখিত পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করব:

(i) শিক্ষণ সামগ্রীর যথাযথ ব্যবহার: শিশুদের মনোযোগ আকর্ষণের জন্য পাঠদানের সময় উজ্জ্বল রঙের ছবি,মডেল বা চার্ট ব্যবহার করব। বস্তুনিষ্ঠ নির্ধারক যেমন—উদ্দীপকের আকার, উজ্জ্বলতা

নতুনত্ব, বৈসাদৃশ্য এবং গতিশীলতার ওপর গুরুত্ব দিলে খুদে শিশুদের মনোযোগ সহজেই আকর্ষণ করা সম্ভব।

(ii) পুরস্কার ও শাস্তির পরিমিত ব্যবহার: শিক্ষার্থীদের অনুপ্রাণিত করার জন্য পুরস্কার এবং মাঝে মাঝে শাস্তির বিধান থাকলেও এদের অতিরিক্ত ব্যবহার বর্জন করব। বিশেষ করে শারীরিক শাস্তি যতটা সম্ভব পরিহার করা বাঞ্ছনীয়, যাতে পড়াশোনার প্রতি তাদের ভীতি না জন্মায়।

(iii) সক্রিয়তা ও স্ব-শিখনের সুযোগ দান: কেবল তাত্ত্বিক আলোচনার পরিবর্তে বাস্তবসম্মত ও হাতে-কলমে শিখনের সুযোগ দেব। এতে শিক্ষার্থীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে কোনো বিষয়ে মনোযোগী ও আগ্রহী হয়ে উঠবে।

(iv) পরিমিত পুনরাবৃত্তি: শিখনের ক্ষেত্রে পুনরাবৃত্তি প্রয়োজন হলেও একই বিষয়ের অত্যধিক পুনরাবৃত্তি পাঠকে একঘেয়ে করে তুলতে পারে। তাই মনোযোগ ও অনুরাগ বজায় রাখতে বৈচিত্র্যময় পদ্ধতিতে পাঠদান করব।

১৩। সংক্ষিপ্ত করে লিখ।

(ক) মনোযোগের প্রকৃতি।

উত্তরঃ মনোযোগের প্রকৃতি:

(i) মানসিক সক্রিয়তা: আধুনিক মনোবিজ্ঞানীদের মতে, মনোযোগ কোনো সুপ্ত ক্ষমতা নয়,বরং এটি সচেতন মনের একটি সক্রিয় ক্রিয়া বা প্রক্রিয়া। এটি জড়বৎ কিছু নয়, বরং মন যখন কোনো বিষয়ে নিযুক্ত হয় তখন সে অত্যন্ত সক্রিয় থাকে।

(ii) নির্বাচনধর্মিতা: মনোযোগের সবচেয়ে বড় প্রকৃতি হলো এটি নির্বাচনধর্মী। আমাদের চারপাশে অসংখ্য উদ্দীপক থাকলেও মন সবগুলোকে গ্রহণ করে না;বরং অনেকগুলোর মধ্য থেকে একটি নির্দিষ্ট বিষয়কে বেছে নিয়ে তার ওপর নিবিষ্ট হয়।

(iii) গতিময়তা ও স্থায়িত্ব: মনোযোগ স্থির নয়,এটি অত্যন্ত গতিশীল। এটি এক বস্তু থেকে অন্য বস্তুতে দ্রুত স্থান পরিবর্তন করতে পারে। মনোযোগ দেওয়ার সময় মন কোনো একটি নির্দিষ্ট বিষয়ে খুব বেশি সময় নিশ্চল থাকে না।

(iv) সীমাবদ্ধতা: আমাদের মনোযোগের একটি সীমাবদ্ধতা আছে। আমরা একটি নির্দিষ্ট সময়ে অতি সীমিত বস্তু বা ধারণার ওপরই কেবল মনোযোগ দিতে পারি।

(খ) ঐচ্ছিক মনোযোগ, উদাহরণ দাও।

উত্তরঃ ঐচ্ছিক মনোযোগের একটি প্রকৃষ্ট উদাহরণ হলো: ধরা যাক, একজন শিক্ষার্থী অত্যন্ত দরিদ্র পরিবারের সন্তান। তার পড়াশোনার পথে অনেক বাধা ও প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। কিন্তু তার মনে জীবনে উন্নতি করার এবং অভাব দূর করার একটি তীব্র স্পৃহা বা প্রবল ইচ্ছা আছে। এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য সে যখন বাইরের সব কোলাহল বা আনন্দ উপেক্ষা করে এবং কোনো বাহ্যিক অনুপ্রেরণা ছাড়াই অত্যন্ত একাগ্রতার সাথে তার পাঠ্যপুস্তকে মনোনিবেশ করে, তখন তাকে ঐচ্ছিক মনোযোগ বলা হয়। এখানে কোনো উজ্জ্বল আলো বা জোরালো শব্দ তাকে টানছে না, বরং তার নিজের ইচ্ছাশক্তিই তাকে মনোযোগ দিতে বাধ্য করছে।

(গ) অনৈচ্ছিক স্বতঃস্ফুর্ত মনোযোগ।

উত্তরঃ এটি অনৈচ্ছিক মনোযোগের একটি বিশেষ ধরন যেখানে বাহ্যিক কোনো জোরালো চাপ বা বাধ্যতামূলক পরিস্থিতি থাকে না, বরং উদ্দীপকের আকর্ষণীয় গুণাবলির কারণে মন স্বয়ংক্রিয়ভাবে সেদিকে আকৃষ্ট হয়।

(i) প্রক্রিয়া: এই মনোযোগে ব্যক্তির কোনো সচেতন প্রচেষ্টার প্রয়োজন হয় না। উদ্দীপকের নিজস্ব চরিত্র বা সৌন্দর্য ব্যক্তির মনে উদ্দীপনা সৃষ্টি করে এবং তাকে আগ্রহী করে তোলে। একে ‘অরোপিত’ অনৈচ্ছিক মনোযোগের বিপরীত হিসেবে গণ্য করা হয়, কারণ এখানে ব্যক্তি চাপের মুখে নয় বরং ভালো লাগা থেকে মনোযোগ দেয়।

(ii) উদাহরণ: হঠাৎ কানে আসা একটি শ্রুতিমধুর সংগীত বা একটি চমৎকার উপন্যাস পড়ার সময় আমরা যে গভীরভাবে নিবিষ্ট হয়ে পড়ি, তা হলো অনৈচ্ছিক স্বতঃস্ফূর্ত মনোযোগের উদাহরণ। এখানে সংগীতের সুর বা উপন্যাসের কাহিনী আমাদের অজান্তেই আমাদের মনকে টেনে নেয়।

(ঘ) বিশ্লেষণাত্মক মনোযোগ উদাহরণসহ ব্যাখ্যা কর।

উত্তরঃ বিশ্লেষণাত্মক মনোযোগ: যখন কোনো বস্তু বা ধারণাকে তার সামগ্রিক রূপে না দেখে তার প্রতিটি অংশ বা উপাদানকে আলাদা আলাদাভাবে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয়, তখন তাকে বিশ্লেষণাত্মক মনোযোগ বলে।

(i) ব্যাখ্যা: এই প্রক্রিয়ায় ব্যক্তি কোনো বিষয়ের গভীরে প্রবেশ করে এবং তার ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র খুঁটিনাটি বা বৈশিষ্ট্যগুলো লক্ষ্য করে। এটি সংশ্লেষণাত্মক মনোযোগের (যেখানে সবকিছুকে একত্রে দেখা হয়) ঠিক বিপরীত ধর্মী একটি প্রক্রিয়া।

(ii) উদাহরণ: একটি পোশাক কেনার সময় একজন ক্রেতা যখন কেবল পোশাকটি সুন্দর কি না তা না দেখে,বরং সেটির দাম,কাপড়ের মান,সেলাইয়ের ধরণ এবং নকশা বা কারুকাজ—প্রতিটি বিষয় আলাদাভাবে খুঁটিয়ে পরীক্ষা করেন, তখন তাকে বিশ্লেষণাত্মক মনোযোগ বলা হয়। এই ধরনের মনোযোগ কোনো বিষয়ের সঠিক মূল্যায়ন বা বিচার করতে সাহায্য করে।

১৪। সংক্ষিপ্ত উত্তর দাও।

(ক) তৎকালীন ও উদ্ভবধর্মী মনোযোগ কি?

উত্তরঃ তৎকালীন মনোযোগ: এটি মূলত উদ্দীপকের নিজস্ব আকর্ষক ক্ষমতার ওপর নির্ভর করে। যদি কোনো বস্তু বা ধারণা অত্যন্ত তীব্র,নতুন বা ভিন্নধর্মী হয়, তবে তা তৎক্ষণাৎ ব্যক্তির মনোযোগ আকর্ষণ করে।

উদ্ভবধর্মী মনোযোগ: এখানে মনোযোগ উদ্দীপকের নিজস্ব ক্ষমতার ওপর নির্ভর করে না,বরং উদ্দীপকের সাথে সংশ্লিষ্ট বা যুক্ত অন্য কোনো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের ওপর নির্ভর করে। কোনো বিষয় নিজে আকর্ষণীয় না হলেও যদি তা অন্য কোনো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের সাথে সম্পৃক্ত থাকে, তবে আমরা তাতে মনোযোগ দিই।

(খ) অনুরাগের অর্থ দাও।

উত্তরঃ অনুরাগের অর্থ হলো মনোযোগের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অভ্যন্তরীণ শর্ত যা কোনো ব্যক্তিকে কোনো বিষয়ে মনোযোগ দিতে ভেতর থেকে অনুপ্রাণিত করে। ‘Interest’ শব্দটি একটি ল্যাটিন শব্দ হতে এসেছে যার অর্থ হলো ‘it matters’ (এটি গুরুত্বপূর্ণ) অথবা ‘it concerns’ (এটি সম্পৃক্ত)।

(গ) সুপ্ত/সহজাত এবং অর্জিত মনোযোগ বলতে কি বোঝ?

উত্তরঃ সুপ্ত/সহজাত এবং অর্জিত মনোযোগ বলতে এগুলি মূলত অনুরাগের প্রকারভেদ হিসেবে আলোচনা করা হয়েছে,যা মনোযোগ সৃষ্টিতে সাহায্য করে।

(i) সুপ্ত বা সহজাত: এটি মানুষের প্রবৃত্তি এবং প্রক্ষোভ বা আবেগের মতো সহজাত প্রবণতা থেকে জন্মগতভাবে আসে। এর জন্য কোনো সচেতন মানসিক প্রচেষ্টার প্রয়োজন হয় না। যেমন—শিশুর প্রতি মায়ের ভালোবাসা।

(ii) অর্জিত: যা পরিবেশ, শিক্ষা,প্রশিক্ষণ এবং দীর্ঘদিনের অভ্যাসের মাধ্যমে ব্যক্তি নিজের চেষ্টার দ্বারা অর্জন করে। এটি ব্যক্তির চরিত্র, আদর্শ এবং রুচির ওপর নির্ভর করে। যেমন—সংগীত বা বাদ্যযন্ত্রের প্রতি অনুরাগ।

(ঘ) অনুরাগের বৈশিষ্ট্য উল্লেখ কর।

উত্তরঃ অনুরাগের বৈশিষ্ট্যসমূহ: 

(i) অভ্যন্তরীণ মানসিক অবস্থা: অনুরাগ হলো মনের একটি অভ্যন্তরীণ অবস্থা। এটি কোনো বাহ্যিক শক্তি নয়,বরং এটি ব্যক্তিকে কোনো বিষয়ে নিবিষ্ট হওয়ার জন্য ভিতর থেকে সক্রিয় হতে অনুপ্রাণিত করে।

(ii) অভিজ্ঞতা ও অনুভব নির্ভর: আমরা প্রত্যেকেই নিজস্ব অনুভবের দ্বারা প্রভাবিত হই। অনুরাগের মূল উৎস বা উদ্ভব সেখানেই থাকে। অর্থাৎ,ব্যক্তির নিজস্ব অভিজ্ঞতা ও অনুভবের ওপর ভিত্তি করেই কোনো বিষয়ের প্রতি অনুরাগ গড়ে ওঠে।

(iii) সহজাত ও অর্জিত: অনুরাগ মূলত দুই প্রকারের হয়—সহজাত এবং অর্জিত।

সহজাত: যা মানুষের জন্মগত প্রবৃত্তি থেকে আসে, যেমন ক্ষুধার্ত ব্যক্তির খাদ্যের প্রতি আগ্রহ।

অর্জিত: যা শিক্ষা,অভিজ্ঞতা এবং প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ব্যক্তি অর্জন করে, যেমন কোনো বাদ্যযন্ত্রের প্রতি অনুরাগ।

(iv) স্থায়িত্বের ভিন্নতা: অনুরাগ স্থায়িত্বের ভিত্তিতে ক্ষণস্থায়ী বা দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। সন্তানের ভালো-মন্দের প্রতি পিতামাতার যে চিরস্থায়ী অনুরাগ থাকে,তা দীর্ঘস্থায়ী অনুরাগের উদাহরণ।

(ঙ) সংবেদনাত্মক মনোযোগ কি? উদাহরণ দাও।

উত্তরঃ সংবেদনাত্মক মনোযোগ হলো সেই প্রক্রিয়া যেখানে ইন্দ্রিয়ের (চোখ, কান, নাক ইত্যাদি) উদ্দীপনার কারণে ব্যক্তির মনোযোগ কোনো নির্দিষ্ট উদ্দীপকের ওপর আকর্ষিত হয়। এটি ভাবাত্মক মনোযোগের বিপরীত এবং এটি প্রধানত উদ্দীপকের তীব্রতা ও আকর্ষণের ওপর নির্ভরশীল।

উদাহরণ: হঠাৎ কোনো তীব্র শব্দ (যেমন—বাজ পড়ার শব্দ) শোনা গেলে বা হঠাত উজ্জ্বল আলো চোখের ওপর পড়লে আমাদের মনোযোগ স্বয়ংক্রিয়ভাবে সেদিকে চলে যায়। এটি সংবেদনাত্মক মনোযোগের একটি প্রধান উদাহরণ।

১৫। প্রতিটি বিবৃতির পাশে শুদ্ধ/অশুদ্ধ লিখে উত্তর দাও।

(ক) সচেতনতাকে অধিশ্রয়ণ করাকে মনোযোগ বলে না।

উত্তরঃ অশুদ্ধ।

(খ) মনোযোগের একটি সুপ্ত অবস্থা হল অনুরাগ।

উত্তরঃ শুদ্ধ।

(গ) সকল বয়সের শিশুরা বিশ্লেষণাত্মক মনোযোগ দিতে পারে।

উত্তরঃ অশুদ্ধ।

(ঘ) প্রবৃত্তি হতে জাত অনুরাগকে সহজাত বা সুপ্ত অনুরাগ বলে।

উত্তরঃ শুদ্ধ।

(ঙ) ঐচ্ছিক মনোযোগ শুধুমাত্র ছোট শিশুরা দিতে পারে।

উত্তরঃ অশুদ্ধ।

(চ) অর্জিত অনুরাগের প্রকৃতি সার্বজনীন।

উত্তরঃ অশুদ্ধ।

(ছ) দুটি জিনিষে একই সঙ্গে মনোযোগ দেওয়া সম্ভব নয়।

উত্তরঃ শুদ্ধ।

(জ) মনোযোগ ও অনুরাগের কোন সম্পর্ক নেই।

উত্তরঃ অশুদ্ধ। 

(ঝ) একজনের মনোযোগ/অনুরাগ ক্ষণস্থায়ী বা দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে।

উত্তরঃ শুদ্ধ।

(ঞ) দীর্ঘসময় ধরে কেউ মনোযোগ দিতে পারেনা।

উত্তরঃ অশুদ্ধ।

NEW VIDEO CLASS

Subject Ka Complete Video Solution Dekhein

Step-by-step easy concept explanation aur full questions Answer ke liye watch karein ya app download karein:

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Scroll to Top