Class 12 Education Chapter 5 স্মরণ ও বিস্মরণ/স্মৃতি ও বিস্মৃতি Question Answer Bengali Medium As Per AHSEC New Syllabus. to each chapter is provided in the list so that you can easily browse through different chapters Class 12 Education Chapter 5 স্মরণ ও বিস্মরণ/স্মৃতি ও বিস্মৃতি Solutions and select need one. Class 12 Education Chapter 5 স্মরণ ও বিস্মরণ/স্মৃতি ও বিস্মৃতি Notes Download PDF. AHSEC Class 12 Education Question Answer Bengali Medium.
Class 12 Education Chapter 5 স্মরণ ও বিস্মরণ/স্মৃতি ও বিস্মৃতি
Also, you can read the NCERT book online in these sections Solutions by Expert Teachers as per Central Board of Secondary Education (CBSE) Book guidelines. AHSEC Class 12 Education Chapter 5 স্মরণ ও বিস্মরণ/স্মৃতি ও বিস্মৃতি Solutions are part of All Subject Solutions. Here we have given AHSEC Class 12 Education Notes Bengali Medium for All Chapters, You can practice these here.
(ক) স্মরণ ও বিস্মরণ/স্মৃতি ও বিস্মৃতি
Chapter: 5
| সক্রিয়তা |
(ক) পুনঃস্মরণের ক্ষমতা যাচাই করার জন্য ছাত্র/ছাত্রীরা একে অন্যের ওপর সহজ অভীক্ষা প্রয়োগ করতে পারে, শব্দ, সংখ্যা ছবি ও অন্যান্য বস্তু দিয়ে। এই সকল বস্তুর মধ্যের কোন একটির কুড়িটি বস্তু ছাত্রটির সম্মুখে সামান্য সময়ের জন্য (ধর ২০ সেকেন্ড) রাখতে হবে। বেশ কিছু সময় বাদে ছাত্রটিকে সেটি পুনঃস্মরণ করতে বলা হবে। উত্তরের উপর নির্ভর করে শিক্ষককে নির্ধারিত করতে হবে ছাত্রের পুনঃস্মরণের ক্ষমতা উন্নত, উন্নততর সাধারণ অথবা তারও কম।
উত্তরঃ ব্যবহারিক সক্রিয়তাসমূহের রূপরেখা ও কার্যপদ্ধতি:
| সক্রিয়তার নাম ও নম্বর | মূল উদ্দেশ্য | প্রয়োজনীয় উপকরণ ও সময় | পরীক্ষামূলক কার্যপদ্ধতি | মূল্যায়ন ও ফলাফল নির্ধারণ |
| পুনঃস্মরণ অভীক্ষা | শিক্ষার্থীর পুনঃস্মরণের ক্ষমতা পরিমাপ করা | শব্দ, সংখ্যা, ছবি বা যেকোনো ২০টি পরিচিত বস্তু এবং ২০ সেকেন্ড সময়। | ২০টি সাধারণ বস্তু শিক্ষার্থীর সামনে ২০ সেকেন্ডের জন্য রাখা হবে। তারপর বস্তুগুলি ঢেকে দিয়ে বা সরিয়ে, শিক্ষার্থীকে সেগুলির নাম পুনঃস্মরণ করে বলতে বা লিখতে বলা হবে। | উত্তরের ওপর ভিত্তি করে শিক্ষার্থীর স্মৃতির স্তর নির্ধারণ করা হবে: উন্নত/উন্নততর (১৭-২০টি সঠিক) সাধারণ (১০-১৬টি সঠিক) তার চেয়ে কম (৯টি বা কম সঠিক)। |
| প্রত্যভিজ্ঞা পরীক্ষা। | শিক্ষার্থীর চিনে নেওয়ার বা প্রত্যভিজ্ঞতার ক্ষমতা যাচাই করা। | দুই প্রস্ত ভিন্ন রঙিন চিত্র (ছবি)। | প্রথম প্রস্তের ছবিগুলি খুব স্বল্প সময়ের জন্য শিক্ষার্থীকে দেখানো হবে। পরে দুই প্রস্ত ছবি একসাথে মিশিয়ে শিক্ষার্থীর সামনে রেখে প্রথম দেখা ছবিগুলি শনাক্ত বা চিনে বের করতে বলা হবে। | শিক্ষার্থী কত দ্রুত এবং নির্ভুলভাবে প্রথম প্রস্তের ছবিগুলি শনাক্ত করতে পারল, তার ওপর ভিত্তি করে তাঁর প্রত্যভিজ্ঞতার মান নির্ধারণ করা হবে। |
| কবিতা স্মরণের পরীক্ষা। | স্মৃতির উন্নত মনস্তাত্ত্বিক পদ্ধতিগুলোর কার্যকারিতা যাচাই করা। | নিজের পছন্দের একটি কবিতা এবং সহপাঠী বন্ধুরা। | কবিতাটি মনে রাখার জন্য বিভিন্ন উন্নত ব্যবস্থা যেমন— ছন্দ, আবৃত্তি, সমগ্র পদ্ধতি এবং ব্যবধানযুক্ত শিখন প্রয়োগ করা এবং বন্ধুদের সাথে এর উপযোগিতা আলোচনা করা। | আলোচনার মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে যে, নিষ্ক্রিয়ভাবে পড়ার চেয়ে ছন্দবদ্ধ আবৃত্তি এবং খণ্ড খণ্ড না করে সমগ্র পদ্ধতিতে কবিতা পড়া অনেক বেশি দীর্ঘস্থায়ী ও কার্যকর হয়। |
| ভুলে যাওয়ার প্রকৃতি পর্যবেক্ষণ। | একজন বয়স্ক ব্যক্তির বিস্মৃতির স্বাভাবিক ধরন লক্ষ্য করা। | যেকোনো একজন বয়স্ক ব্যক্তি (যেমন দাদু/ঠাকুরদা) এবং ২ সপ্তাহ (১৪ দিন) সময়। | টানা ২ সপ্তাহ ধরে ওই বয়স্ক ব্যক্তির প্রতিদিনের ভুলে যাওয়ার প্রকৃতি (যেমন: জিনিসপত্র কোথায় রেখেছেন ভুলে যাওয়া, সাম্প্রতিক ঘটনা বা নাম ভুলে যাওয়া) নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা। | প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে বিস্মৃতির কারণ (যেমন: বার্ধক্যজনিত অবক্ষয়, ক্লান্তি বা আগ্রহের অভাব) চিহ্নিত করে একটি পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদন পেশ করা। |
(খ) ছাত্রদের অনুপ্রেরিত করতে হবে প্রত্যভিজ্ঞতার (Recognition) উপর পরীক্ষা পরিচালনা করার ব্যাপারে, দুই প্রস্ত রঙীন চিত্র ব্যবহার করে। ছাত্রকে প্রথম প্রস্ত চিত্র খুব সল্পসময়ের জন্য দেখাতে হবে। পরবর্তীতে দুটি প্রস্ত চিত্র মিশিয়ে ফেলা হবে এবং সেই ছাত্রের সম্মুখে আবার প্রতিস্থাপিত করতে হবে। ছাত্রটিকে প্রথম দেখা চিত্রগুলিকে সনাক্ত করতে বলা হবে।
উত্তরঃ কবিতা মুখস্থ করার ক্ষেত্রে উন্নত মনস্তাত্ত্বিক পদ্ধতিসমূহ:
| মনস্তাত্ত্বিক পদ্ধতি বা অনুকূল পরিস্থিতি | পদ্ধতিটির মূল অর্থ ও তাৎপর্য | কবিতা স্মরণ করার ক্ষেত্রে এর বাস্তব প্রয়োগ |
| ছন্দ ও আবৃত্তি | ছন্দ স্মৃতির সহায়ক এবং আবৃত্তি মনের মধ্যে শিখনের ছাপকে দীর্ঘস্থায়ী ও জীবন্ত রাখে। | কবিতাটি সুর ও ছন্দের তালে বারবার আবৃত্তি করলে মুখস্থ করার গতি বৃদ্ধি পায় এবং সহজে ম্লান হয় না। |
| সমগ্র পদ্ধতি | কোনো বিষয়কে খণ্ড খণ্ড বা টুকরো না করে প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত একবারে পড়া। | কবিতাটির শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত একটানা পড়লে কবিতার মূল ভাব বুঝতে এবং তা দীর্ঘকাল মনে রাখতে সুবিধা হয়। |
| ব্যবধানযুক্ত শিখন | একটানা অনেকক্ষণ না পড়ে মাঝে মাঝে বিশ্রাম বা বিরতি নিয়ে শিখন চালানো। | একনাগাড়ে কবিতাটি মুখস্থ না করে দিনে ২-৩ বার বিরতি। দিয়ে পড়লে তা সহজে স্মৃতিতে স্থায়ী হয়। |
| শেখার ইচ্ছা ও অনুরাগ | শেখার তীব্র ইচ্ছা গভীর মনোযোগ সৃষ্টি করে, যা চমৎকার ধারণ ক্ষমতা গড়ে তোলে। | কবিতার অন্তর্নিহিত অর্থ ও গভীর ভাব অনুধাবন করে আগ্রহ সহকারে পড়লে স্মৃতি দীর্ঘস্থায়ী হয়। |
১। তোমার পছন্দের একটি কবিতা স্মরণ করার চেষ্টা কর উপরে উল্লেখিত বিভিন্ন ব্যবস্থা ব্যবহার করে এবং তোমার বন্ধুদের সঙ্গে ব্যবস্থাগুলির প্রয়োগশীলতার কথা আলোচনা কর।
উত্তরঃ বয়স্ক ব্যক্তির বিস্মৃতি বা ভুলে যাওয়ার মনস্তাত্ত্বিক ও দৈহিক কারণসমূহ:
| বিস্মৃতির নির্দিষ্ট কারণসমূহ | বয়স্ক ব্যক্তির ক্ষেত্রে বাস্তব প্রভাব ও লক্ষণ |
| বার্ধক্য | বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে মস্তিষ্ক ও স্নায়ুতন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা হ্রাস পায়, যা বিস্মৃতির অন্যতম মূল কারণ। |
| অবসাদ বা ক্লান্তি | শারীরিক দুর্বলতা ও দীর্ঘ পরিশ্রমের ফলে মস্তিষ্ক ক্লান্ত হয়ে পড়ে, ফলে তথ্য ঠিকমতো সংরক্ষিত হয় না। |
| পশ্চাদমুখী প্রতিরোধ | কোনো নতুন অভিজ্ঞতা বা শিখন পূর্বের শেখা বিষয়কে মনে করতে বাধা দেয়। |
| অনুরাগের অভাব | নতুন কোনো তথ্যের প্রতি আগ্রহ বা মনোযোগের অভাব থাকলে মানুষ তা খুব দ্রুত ভুলে যায়। |
| অবদমন | দুঃখদায়ক বা অপ্রীতিকর অতীত অভিজ্ঞতাকে অবচেতন মনে ঠেলে দেওয়ার প্রবণতা (ইচ্ছাকৃত বিস্মৃতি)। |
২। ছাত্র/ছাত্রীদের বলা যেতে পারে কোন বয়স্ক ব্যক্তির ভুলে যাবার প্রকৃতিকে লক্ষ্য করতে দু সপ্তাহ ধরে এবং তার উপর একটি প্রতিবেদন পেশ করতে।
উত্তরঃ বয়স্ক ব্যক্তির ভুলে যাওয়ার প্রকৃতির ওপর পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদন:
প্রতিবেদন: বয়স্ক ব্যক্তির ভুলে যাওয়ার প্রকৃতি পর্যবেক্ষণ।
পর্যবেক্ষণকাল: ২ সপ্তাহ (১৪ দিন)।
পর্যবেক্ষিত ব্যক্তি: ৭৫ বছর বয়সী একজন প্রবীণ ব্যক্তি (যেমন দাদু/ঠাকুরদা)।
পর্যবেক্ষণলব্ধ তথ্যাদি (ভুলে যাওয়ার ধরন):
(i) স্বল্পকালীন স্মৃতির ঘাটতি: তিনি অতি সাম্প্রতিক ঘটনাগুলি দ্রুত ভুলে যান।
যেমন: চশমা বা ঘরের চাবি কোথায় রেখেছেন, সকালে কী ওষুধ খেয়েছেন বা কিছুক্ষণ আগে কার সাথে ফোনে কথা বলেছেন তা মনে করতে পারেন না।
(ii) দীর্ঘকালীন স্মৃতির স্থায়িত্ব: কিন্তু তাঁর জীবনের সুদূর অতীতের ঘটনা, বাল্যকালের স্মৃতি বা তরুণ বয়সের নানা কথা চমৎকারভাবে মনে আছে।
(iii) নাম ও প্রত্যভিজ্ঞতায় সমস্যা: হঠাৎ করে কোনো পরিচিত মানুষের নাম মনে করতে পারেন না বা চেনা মানুষকেও শনাক্ত করতে তাঁর কিছুটা সময় লাগে।
বিস্মৃতির কারণ বিশ্লেষণ (তাত্ত্বিক ব্যাখ্যা):
(i) বার্ধক্য: এটি বিস্মৃতির প্রধান দৈহিক কারণ। বয়স বৃদ্ধির ফলে মস্তিষ্ক ও স্নায়ুতন্ত্রের কার্যক্ষমতা হ্রাস পায়, যার কারণে নতুন অভিজ্ঞতা বা শিখন দীর্ঘসময় সংরক্ষিত থাকে না।
(ii) অনুরোধ বা অনুরাগের অভাব: বয়স্ক মানুষের অনেক সময় নতুন বিষয়ের প্রতি আগ্রহ বা মনোযোগের অভাব থাকে, যা নতুন তথ্য ভুলে যেতে সাহায্য করে।
(iii) অবসাদ বা ক্লান্তি: বার্ধক্যের শারীরিক দুর্বলতা ও অবসাদও স্মৃতিশক্তি দুর্বল হওয়ার অন্যতম কারণ।
| প্রশ্নাবলী |
১। স্মৃতি কি? স্মৃতির কিছু সংজ্ঞা দাও।
উত্তরঃ স্মৃতি বা স্মরণক্রিয়া হলো প্রতিটি মানুষের জীবনের একটি অত্যন্ত আবশ্যক এবং গুরুত্বপূর্ণ মানসিক প্রক্রিয়া। আমরা দৈনন্দিন জীবনে যা কিছু দেখি, শুনি বা অনুভব করি, তা যদি আমাদের মনে স্থায়ী না হতো,তবে আমরা প্রতি মুহূর্তেই সবকিছু ভুলে যেতাম।
স্মৃতির কিছু গুরুত্বপূর্ণ সংজ্ঞা:
(i) মনোবিদ উইলিয়াম ম্যাকডুগাল: “ভীষণ স্পষ্ট ও সংকীর্ণতম অর্থে স্মৃতি বা স্মরণ ক্রিয়া ইঙ্গিত করে ঘটনাগুলিকে যেভাবে অতীতে অভিজ্ঞতা হয়েছিল সেই মত কল্পনা করা।”
(ii) মনোবিদ জেমস রস: “স্মৃতি একটি নূতন অভিজ্ঞতা যা অতীত অভিজ্ঞতার দ্বারা রেখে যাওয়া ছাপ দ্বারা নির্ধারিত হয়। দুটির মধ্যে সম্পর্ক পরিষ্কার ভাবে অনুমান করা যায়।”
(iii) মনোবিদ স্টাউট: “স্মৃতি হচ্ছে আদর্শ পুনরুত্থান—যেখানে অতীত অভিজ্ঞতার বিষয়গুলির পুনরাবৃত্তি হয় যথাসম্ভব তাদের আসল ঘটনার সময়ের ক্রম ও ধরণ অনুযায়ী।”
২। স্মৃতির কিছু প্রধান বৈশিষ্ট্যের উল্লেখ কর।
উত্তরঃ স্মৃতির কিছু প্রধান বৈশিষ্ট্যে:
(i) ইন্দ্রিয়জাত অভিজ্ঞতার চাহিদা: আমাদের শরীরে পাঁচটি ইন্দ্রিয় আছে। স্মৃতিকে সম্ভব করতে হলে এই পাঁচটি ইন্দ্রিয়ের সাহায্যে বাইরের জগতের অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করা অত্যন্ত জরুরি।
(ii) সংরক্ষণের ক্ষমতা: স্মৃতির জন্য অন্যতম অপরিহার্য উপাদান হলো অর্জিত অভিজ্ঞতা ধরে রাখা বা সংরক্ষণ করার ক্ষমতা। প্রতিটি মানুষেরই এই ক্ষমতা থাকে, যা তাকে শিখন ও অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করতে সাহায্য করে।
(iii) হুবহু পুনরুৎপাদন বা পুনঃজাগরণ: স্মৃতির একটি বড় বৈশিষ্ট্য হলো অতীতে সংরক্ষিত বিষয়কে হুবহু পুনরুৎপাদন করা। অর্থাৎ, অতীত অভিজ্ঞতা বা শিখে রাখা কোনো বিষয় যখন মনের পর্দায় পুনরায় ফুটিয়ে তোলা হয়, তখন তাতে যেন কোনো প্রকার বিকৃতি বা পরিবর্তন না ঘটে।
(iv) অবচেতন মনের ভূমিকা: স্মৃতির ক্ষেত্রে আমাদের চেতন ও অবচেতন উভয় মনেরই ভূমিকা রয়েছে। অতীত অভিজ্ঞতা ও শিখনের পুনরুৎপাদনে অবচেতন মন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
৩। স্মৃতির প্রক্রিয়ায় বিজড়িত বিভিন্ন পর্যায় আলোচনা কর।
উত্তরঃ স্মৃতির প্রক্রিয়ায় বিজড়িত বিভিন্ন পর্যায়:
(i) শিখন অথবা অভিজ্ঞতার আহরণ: এটি স্মৃতির প্রথম এবং সবচেয়ে প্রয়োজনীয় পর্যায়। কোনো বিষয় মনে রাখার পূর্বশর্ত হলো সেটি প্রথমে ভালোভাবে শেখা বা অভিজ্ঞতা অর্জন করা। শিখন বা জ্ঞান অর্জন ব্যতীত মন একটি ফাঁকা বা সাদা কাগজের মতো থাকে।
(ii) সংরক্ষণ: এটি স্মৃতির দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়। অর্জিত শিখন ও অভিজ্ঞতাকে মনের গভীরে অবিকৃত অবস্থায় জমিয়ে বা ধরে রাখাই হলো সংরক্ষণ। মানুষের এই সংরক্ষণের ক্ষমতা মূলত সহজাত ও জন্মগত (সীমিত)।
(iii) পুনঃস্মরণ অথবা মনে করা: এটি স্মৃতির তৃতীয় পর্যায়। মনের গভীরে সংরক্ষিত বা সঞ্চিত অভিজ্ঞতাগুলোকে প্রয়োজন অনুসারে পুনরায় সচেতন মনে ফিরিয়ে আনা বা পুনরুৎপাদন করাকেই পুনঃস্মরণ বলে। আমরা শত চেষ্টা করলেও আমাদের সব অভিজ্ঞতা মনে রাখতে পারি না; বিস্মৃতির হাত থেকে রক্ষা পাওয়া অংশটুকুই কেবল আমরা পুনঃস্মরণ করতে পারি।
(iv) প্রত্যাভিজ্ঞা: এটি স্মৃতির চতুর্থ বা শেষ পর্যায়। ‘প্রত্যাভিজ্ঞা’ শব্দটির সহজ অর্থ হলো ‘চিনে নেওয়া’। অতীতে পরিচিত বা শেখা কোনো বস্তু বা বিষয় যখন পুনরায় আমাদের চোখের সামনে উপস্থিত হয়, তখন তাকে অতীত অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে চিনে নেওয়ার মানসিক ক্ষমতাকেই প্রত্যাভিজ্ঞা বলে।
৪। স্মৃতি কি উত্তম অথবা মন্দ হতে পারে? তোমার উত্তরের যথার্থতা প্রমাণ কর।
উত্তরঃ হ্যাঁ,স্মৃতি অবশ্যই উত্তম অথবা মন্দ হতে পারে। মানুষের মনে রাখার ক্ষমতা ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হয়ে থাকে। কারও স্মৃতিশক্তি অত্যন্ত প্রখর বা উত্তম হয়, আবার কারও স্মৃতিশক্তি তুলনামূলকভাবে দুর্বল বা মন্দ হয়।
উত্তরের যথার্থতা প্রমাণ:
১। দ্রুত ও সহজে শেখার ক্ষমতা:
(i) উত্তম স্মৃতি: উত্তম স্মৃতির অধিকারী ব্যক্তি যেকোনো বিষয় খুব দ্রুত এবং কোনো বাড়তি পরিশ্রম বা উদ্যম ছাড়াই সহজে শিখে নিতে পারেন।
(ii) মন্দ স্মৃতি: মন্দ বা দুর্বল স্মৃতির অধিকারীদের ক্ষেত্রে এই ক্ষমতার অভাব থাকে। তারা একটি বিষয় শিখতে অনেক বেশি সময় নেয় এবং অনেক বেশি পরিশ্রম করতে হয়।
২। দীর্ঘ সংরক্ষণ:
(i) উত্তম স্মৃতি: যা কিছু শেখা বা অভিজ্ঞতা অর্জন করা হয়েছে, তার প্রতিরূপ বা ছবি মনের গভীরে দীর্ঘকাল অবিকৃত অবস্থায় জমিয়ে রাখার ক্ষমতা উত্তম স্মৃতির অন্যতম লক্ষণ।
(ii) মন্দ স্মৃতি: দুর্বল স্মৃতির ক্ষেত্রে এই সংরক্ষণ ক্ষমতা অত্যন্ত ক্ষণস্থায়ী হয়। তারা শেখার অল্প কিছুদিনের মধ্যেই অর্জিত অভিজ্ঞতা ভুলে যায়।
৩। শুদ্ধ এবং তৎপর পুনরুৎপাদন:
(i) উত্তম স্মৃতি: প্রয়োজন হওয়া মাত্রই মনের ভেতরের সংরক্ষিত বিষয়গুলোকে দ্রুত এবং সম্পূর্ণ নির্ভুলভাবে অবিকৃত অবস্থায় মনে বা সচেতন মনে ফিরিয়ে আনা উত্তম স্মৃতির পরিচয় দেয়।
(ii) মন্দ স্মৃতি: দুর্বল স্মৃতিসম্পন্ন ব্যক্তিরা সঠিক তথ্য সময়মতো মনে করতে পারে না অথবা মনে করলেও তাতে অনেক ভুলভ্রান্তি বা বিকৃতি ঘটে।
৫। স্মৃতির কিছু প্রকার উল্লেখ কর। উদাহরণ দাও।
উত্তরঃ স্মৃতির কিছু প্রকার উল্লেখ কর হলো:
(i) কল্প বা প্রতিরূপ স্মৃতি: এটি সম্পূর্ণভাবে অতীত অভিজ্ঞতা এবং শিখনের প্রতিরূপ বা মনের কল্পের ওপর নির্ভর করে।
উদাহরণ: ছাত্র-ছাত্রীরা যখন পরীক্ষায় কোনো বড় বা রচনাধর্মী প্রশ্নের উত্তর লেখে, তখন এই স্মৃতি ব্যবহার করে।
(ii) অভ্যাস স্মৃতি: দৈহিক পুনরাবৃত্তির সাহায্যে যে স্মৃতি গঠিত হয়, তাকে অভ্যাস স্মৃতি বলে।
উদাহরণ: কোনো সুরেলা বাদ্যযন্ত্র বাজানো শেখার পর তা বাজানো।
(iii) দীর্ঘকালীন স্মৃতি: সময়ের ব্যবধান অনেক দীর্ঘ হলে এবং দীর্ঘকাল পরে কোনো ঘটনা মনে করা গেলে তাকে দীর্ঘকালীন স্মৃতি বলা হয়।
উদাহরণ: কোনো প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি যদি তার জীবনের প্রথম দিকের বা শৈশবের কোনো ঘটনা মনে করতে পারেন।
(iv) স্বল্পকালীন বা তৎকালীন স্মৃতি: কোনো কিছু শেখার ঠিক পরেই যখন তা মনে করা বা পুনরুৎপাদন করা হয় এবং শেখা ও মনে করার মধ্যে খুব অল্প সময়ের ব্যবধান থাকে।
উদাহরণ: কোনো সংবাদপত্রের রিপোর্টার যখন কোনো সভার বিবরণ তাৎক্ষণিকভাবে লিপিবদ্ধ করেন।
(v) যুক্তিযুক্ত বা বিচারমূলক স্মৃতি: এটি যান্ত্রিক পুনরাবৃত্তির ওপর নির্ভর না করে বুদ্ধি, যুক্তি এবং বিচার বিশ্লেষণের ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠে।
উদাহরণ: গাণিতিক সমস্যার সমাধান করা বা পরীক্ষাগারে কোনো বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা সম্পন্ন করা।
৬। উত্তম স্মৃতির লক্ষণ কি কি?
উত্তরঃ উত্তম স্মৃতির লক্ষণ:
(i) দ্রুত ও সহজে শেখার ক্ষমতা: উত্তম স্মৃতির অন্যতম প্রধান লক্ষণ হলো কোনো বিষয় খুব দ্রুত এবং অনায়াসে শিখে ফেলা। ভালো স্মৃতির অধিকারী ব্যক্তিরা কোনো অতিরিক্ত কঠোর পরিশ্রম বা দীর্ঘ প্রচেষ্টা ছাড়াই যেকোনো নতুন তথ্য বা অভিজ্ঞতা খুব তাড়াতাড়ি আয়ত্ত করতে পারেন।
(ii) দীর্ঘ সংরক্ষণ: শুধু দ্রুত শিখলেই চলে না, অর্জিত জ্ঞান বা অভিজ্ঞতা মনের ভেতর দীর্ঘ সময় ধরে টিকিয়ে রাখতে বা সঞ্চয় করে রাখতে হয়।
(iii) নির্ভুল ও তৎপর পুনঃউৎপাদন: যখনই কোনো তথ্যের প্রয়োজন হয়, তখনই তা মনের পর্দায় ফিরিয়ে আনাকে পুনঃউৎপাদন বলে। ভালো স্মৃতির মানুষরা সঠিক তথ্যটি সঠিক সময়ে তৎক্ষণাৎ মনে করতে পারেন।
(iv) সেবা প্রদানের ক্ষমতা বা উপযোগিতা: আমাদের দৈনন্দিন জীবনে বিভিন্ন প্রয়োজনে স্মৃতি যদি সঠিক সময়ে সাহায্য করতে না পারে, তবে তাকে উত্তম স্মৃতি বলা যায় না।
৭। ধরে নাও তুমি একজন বিদ্যালয়ের শিক্ষক, সেক্ষেত্রে তুমি একটি শিশুকে উত্তম স্মৃতি বিকাশে কিভাবে সাহায্য করবে?
উত্তরঃ একজন বিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে একটি শিশুর উত্তম স্মৃতি বিকাশে আমি ৬টি সহজ ও বৈজ্ঞানিক কৌশল প্রয়োগ করব:
(i) আগ্রহ ও শেখার ইচ্ছা জাগানো: জোর করে চাপিয়ে না দিয়ে শিশুর মনে বিষয়টির প্রতি কৌতূহল ও শেখার আগ্রহ তৈরি করব, যা তথ্য দীর্ঘকাল মনে রাখতে সাহায্য করে।
(ii) অর্থপূর্ণ শিখন: কোনো পড়া অন্ধের মতো না বুঝে মুখস্থ করতে না দিয়ে বিষয়টির অর্থ ও যুক্তি ভালো করে বুঝিয়ে দেব।
(iii) ছন্দ ও অনুষঙ্গের ব্যবহার: পড়া সহজে মনে রাখার জন্য সুর ও ছন্দের ব্যবহার করব এবং কঠিন বিষয় মনে রাখতে বিশেষ অনুষঙ্গ বা সংকেত (যেমন রামধনুর রঙের জন্য ব্যবহার করতে শেখাব।
(iv) হাতে-কলমে বা সক্রিয় শিখন: শিশুকে শুধু নিষ্ক্রিয় শ্রোতা না বানিয়ে ছবি আঁকা বা হাতে-কলমে কাজের মাধ্যমে সক্রিয় রাখব, কারণ সক্রিয় শিখনে স্মৃতির ছাপ দীর্ঘস্থায়ী হয়।
(v) বিরতি দিয়ে পড়া ও বিশ্রাম: এক দিনে সব পড়া শেষ না করে পড়াটিকে ছোট ছোট ভাগে ভাগ করে নিয়মিত বিরতি দিয়ে শেখাব এবং ক্লান্ত দূর করতে মাঝে পর্যাপ্ত বিশ্রামের সুযোগ দেব।
(vi) পুনরাবৃত্তি ও অভ্যাস: শেখা বিষয়গুলো যাতে শিশু ভুলে না যায়, সেজন্য নিয়মিত বিরতিতে তা পুনরাবৃত্তি বা রিভিশন করার অভ্যাস গড়ে তুলব।
৮। বিস্মৃতি কি? এর বৈশিষ্ট্যসমূহ কি কি?
উত্তরঃ সাধারণত স্মৃতির বিপরীত অবস্থাকেই বিস্মৃতি বলা হয়। আমরা যা কিছু শিখি বা অতীতে যা অভিজ্ঞতা অর্জন করি, প্রয়োজন অনুযায়ী তা যখন মনে করতে বা মনের পর্দায় ফিরিয়ে আনতে ব্যর্থ হই,তখন তাকে বিস্মৃতি বলে।
এর বৈশিষ্ট্যসমূহ:
(i) অনিবার্য মানসিক প্রপঞ্চ: বিস্মৃতি হলো মানুষের মনের একটি স্বাভাবিক ও অনিবার্য প্রক্রিয়া। অতীত কোনো অভিজ্ঞতাকে পুনরায় মনে করতে অকৃতকার্য হওয়া বা কোনো পরিচিত জিনিসকে চিনতে না পারাই (প্রত্যভিজ্ঞা করতে না পারা) বিস্মৃতির অন্যতম স্বাভাবিক লক্ষণ।
(ii) অনাকাঙ্ক্ষিত হলেও প্রয়োজনীয়: যদিও আমরা কোনো কিছু ভুলে যাওয়াকে খারাপ মনে করি বা এটি আমাদের কাছে অনাকাঙ্ক্ষিত, তবুও বিস্মৃতি আমাদের মনের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।
(iii) মনের প্রতিরক্ষা কৌশল: বিস্মৃতি একটি স্বাভাবিক মানসিক অবস্থা যা মনের প্রতিরক্ষা কবচ হিসেবে কাজ করে। এটি মানুষের বেদনাদায়ক, দুঃখজনক বা অপ্রীতিকর ঘটনাগুলোকে অবচেতন মনে ঠেলে দিয়ে মানুষকে মানসিক অস্থিরতা থেকে রক্ষা করে।
(iv) বিচারসম্মত বিস্মৃতি: মনোবিজ্ঞানে শিখনকে অনেক সময় ‘বিচারসম্মত বিস্মৃতি’ বলা হয়। কারণ বিস্মৃতি আমাদের মন থেকে অপ্রয়োজনীয়, পুরনো ও অকেজো বিষয়গুলোকে ঝেঁটিয়ে বিদায় করে দেয়।
(v) শুরুর দিকে বিস্মৃতির গতি সবচেয়ে বেশি থাকে: বিস্মৃতির একটি অদ্ভুত ও প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো—কোনো কিছু শেখার ঠিক পরপরই অর্থাৎ প্রাথমিক সময়ে ভুলে যাওয়ার হার বা মাত্রা সবচেয়ে বেশি থাকে। সময়ের সাথে সাথে এই ভুলে যাওয়ার গতি বা হার ধীরে ধীরে কমে বা ধীর হয়ে আসে।
৯। বিস্মৃতির গুরুত্বপূর্ণ কারণসমূহ কি?
উত্তরঃ বিস্মৃতির গুরুত্বপূর্ণ কারণসমূহ:
(i) দৈহিক বা শারীরিক কারণসমূহ:
বার্ধক্য: বয়স বাড়ার সাথে সাথে মানুষের শরীর ও মন স্বাভাবিকভাবেই দুর্বল হতে থাকে। এর ফলে মস্তিষ্ক এবং স্নায়ুতন্ত্রের কার্যক্ষমতা হ্রাস পায়, যা বার্ধক্যজনিত বিস্মৃতির একটি অন্যতম প্রধান কারণ।
মস্তিষ্কে আঘাত: মানুষের মস্তিষ্কের ‘সেরিব্রাম’অংশটি মূলত স্মৃতির কাজ পরিচালনা করে। কোনো দুর্ঘটনা বা গুরুতর অসুস্থতার কারণে যদি মস্তিষ্কে (বিশেষ করে সেরিব্রামে) আঘাত লাগে, তবে সাময়িক বা স্থায়ীভাবে স্মৃতিভ্রংশ বা বিস্মৃতি ঘটতে পারে।
(ii) মানসিক কারণসমূহ:
অনুরাগের অভাব: কোনো বিষয়ের প্রতি যদি আগ্রহ বা মনোযোগ না থাকে, তবে সেই শিখন মনের ভেতর গভীর কোনো ছাপ ফেলতে পারে না। আগ্রহহীনভাবে জোর করে পড়া বিষয়গুলো মানুষ খুব দ্রুত ভুলে যায়।
পশ্চাদমুখী প্রতিরোধ: মনোবিজ্ঞানী এস.এস.চৌহানের মতে,এটি এমন একটি মানসিক অবস্থা যেখানে একটি বিষয় শেখার পরপরই যখন অন্য আরেকটি নতুন বিষয় শেখা হয়, তখন দ্বিতীয় বিষয়টি প্রথম শেখা বিষয়টিকে মনে করার ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়ায়।
১০। স্মৃতির উন্নতিসাধন কিভাবে করা যায়? আলোচনা কর।
উত্তরঃ মনোবিজ্ঞানীরা স্মৃতির উন্নতিসাধনের উপায়গুলোকে প্রধানত দুটি ভাগে ভাগ করেছেন:
(ক) অনুকূল পরিস্থিতি: পড়ার পরিবেশ এবং শিক্ষার্থীর মানসিক অবস্থার উন্নতির মাধ্যমে স্মৃতিশক্তি বাড়ানো যায়।
এর অন্তর্গত বিষয়গুলো হলো:
(i) শেখার ইচ্ছা ও একাগ্রতা: জোর করে না পড়ে যদি কোনো বিষয়ে শিক্ষার্থীর শেখার তীব্র ইচ্ছা এবং একাগ্রতা থাকে, তবে সেই পড়া মনে রাখা অনেক সহজ হয়। একেই বলা হয় “শেখার আগ্রহই হলো অর্ধেক বোতল জিতে নেওয়া।”
(ii) আগ্রহ ও অনুরাগ: যে বিষয়ের প্রতি আমাদের অনুরাগ বা ভালোলাগা থাকে, আমাদের মস্তিষ্ক সেই তথ্য খুব দ্রুত গ্রহণ করে এবং দীর্ঘকাল ধরে রাখতে পারে।
(iii) অভিরোচন বা অনুপ্রেরণা: সঠিক অনুপ্রেরণা বা উৎসাহ শিখন প্রক্রিয়াকে সহজসাধ্য করে তোলে এবং শিক্ষার্থীর স্মরণশক্তিকে উদ্দীপিত করে।
(iv) অনুষঙ্গের সূত্র: নতুন কোনো তথ্যকে আগের জানা কোনো বিষয়ের সঙ্গে লিঙ্ক বা সংযুক্ত করে পড়লে তা সহজে মনে থাকে। যেমন— রামধনুর সাতটি রঙ সহজে মনে রাখার জন্য বেনীআসহকলা সূত্রের ব্যবহার।
(খ) উন্নত শিখন পদ্ধতি: পড়াশোনা করার ক্ষেত্রে কিছু বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি ব্যবহার করে স্মরণক্রিয়া উন্নত করা যায়:
(i) আবৃত্তি করা: কোনো বিষয় পড়ার পর তা চোখ বন্ধ করে নিজে নিজে আওড়ানো বা আবৃত্তি করা একটি অত্যন্ত দরকারী কৌশল। এটি স্মৃতির স্থায়িত্ব বাড়াতে দারুণ সাহায্য করে।
(ii) সমগ্র পদ্ধতি: কোনো ছোট ছড়া বা অনুচ্ছেদ মুখস্থ করার সময় তা ভেঙে ভেঙে (খণ্ড পদ্ধতিতে) না পড়ে, শুরুতেই পুরো বিষয়টি সামগ্রিকভাবে একবার বুঝে নিলে পড়াটি দ্রুত মনে থাকে।
(iii) পরিসরযুক্ত শিখন: এক বসায় সবকিছু মুখস্থ করার চেষ্টা না করে পড়াটিকে ছোট ছোট ভাগে ভাগ করে নির্দিষ্ট সময় পরপর বিরতি দিয়ে পড়া উচিত। মনোবৈজ্ঞানিক মতে,এই বিরতিযুক্ত শিখন স্মৃতিশক্তি বাড়াতে সবচেয়ে কার্যকর।
(iv) সক্রিয় বা কর্মভিত্তিক শিখন: কেবল নিষ্ক্রিয়ভাবে রিডিং না পড়ে লিখে লিখে,ছবি এঁকে বা হাতে-কলমে কাজের মাধ্যমে শিখলে মস্তিষ্কে স্মৃতির ছাপ দীর্ঘস্থায়ী হয়।
১১। উদাহরণ সহ বিবৃতিগুলি ব্যাখ্যা কর।
(ক) স্মৃতির জন্য বিস্মৃতি আবশ্যক।
উত্তরঃ মনোবিজ্ঞানীদের মতে, মানুষের স্মৃতি বা তথ্য ধরে রাখার ক্ষমতা (সংরক্ষণ ক্ষমতা) মূলত জন্মগত এবং এটি একটি সীমিত ক্ষমতা। আমরা যদি আমাদের জীবনের প্রতিটি ছোট-বড় বিষয় বা অতীত অভিজ্ঞতা হুবহু মনে রাখতাম,তবে আমাদের মস্তিষ্ক অপ্রয়োজনীয় তথ্যে পূর্ণ হয়ে যেত এবং নতুন কিছু শেখা অসম্ভব হয়ে পড়ত। বিস্মৃতি আমাদের মন থেকে অপ্রয়োজনীয়,পুরনো ও অকেজো বিষয়গুলোকে অবচেতন মনে ঠেলে দেয় এবং নতুন দরকারী তথ্য মনে রাখার জন্য মস্তিষ্কে জায়গা বা পরিসর তৈরি করে দেয়। এই কারণে মনোবিজ্ঞানে শিখনকে অনেক সময় ‘বিচারসম্মত বিস্মৃতি’ বলা হয়। এছাড়া, বিখ্যাত মনোবিজ্ঞানী ফ্রয়েডের মতে, জীবনের দুঃখজনক ও কষ্টকর অভিজ্ঞতাগুলো ভুলে যাওয়া আমাদের উত্তম মানসিক স্বাস্থ্য বজায় রাখার জন্য অত্যন্ত আবশ্যক।
(খ) স্মৃতি এবং বিস্মৃতি হচ্ছে একই মুদ্রার এপিঠ ওপিঠ।
উত্তরঃ স্মৃতি এবং বিস্মৃতিকে আপাতদৃষ্টিতে একে অপরের বিপরীত মানসিক প্রক্রিয়া মনে হলেও, তারা আসলে একে অপরের ওপর গভীরভাবে নির্ভরশীল। একটি ছাড়া অন্যটির অস্তিত্ব বা কার্যকারিতা বজায় থাকা অসম্ভব। আমরা যা কিছু শিখি,শত চেষ্টা করলেও তার সবকিছু অবিকল সংরক্ষণ করে রাখতে পারি না। মনোবিজ্ঞানীদের মতে, বিস্মৃতি আসলে তথ্য সংরক্ষণ এবং পুনঃস্মরণের মধ্যবর্তী একটি পর্যায় হিসেবে কাজ করে। মন থেকে অপ্রয়োজনীয় বিষয়গুলোকে বিস্মৃতির মাধ্যমে ডিলিট বা পরিষ্কার না করলে প্রয়োজনীয় বিষয়গুলোকে স্মৃতিতে নিখুঁতভাবে ধরে রাখা সম্ভব নয়। তাই স্মৃতিকে সতেজ ও সচল রাখতে বিস্মৃতিকে স্মৃতির একটি সহায়ক শক্তি বা বল বলা হয়।
(গ) বিস্মৃতি মনের প্রতিরক্ষার বিশেষ কৌশল।
উত্তরঃ এই প্রতিরক্ষা কৌশলের অন্যতম প্রধান মাধ্যম হলো অবদমন। অবদমন হলো এক ধরনের ইচ্ছাকৃত বা উদ্দেশ্যমূলক বিস্মৃতি। আমাদের মন যখন কোনো অপূর্ণ বাসনা বা চরম বেদনাদায়ক অভিজ্ঞতা সহ্য করতে পারে না, তখন সেগুলোকে জোর করে বা ইচ্ছা করে মনের অবচেতন স্তরে ঠেলে দেয় ও চেপে রাখে। এর ফলে সেই ক্ষতিকর স্মৃতিগুলো আমাদের চেতন মন থেকে দূরে সরে যায় এবং মন নিজেকে বড় কোনো মানসিক আঘাত থেকে রক্ষা করে।
১২। নিম্নলিখিত বিষয়ের সংক্ষিপ্ত উত্তর দাও।
(ক) কল্প/প্রতিরূপ স্মৃতি।
উত্তরঃ কল্প/প্রতিরূপ স্মৃতি এটি এমন এক প্রকার স্মৃতি যা পুরোপুরি অতীত অভিজ্ঞতা এবং শিখনের প্রতিরূপ বা কল্পের ওপর নির্ভর করে। এই স্মৃতির সুষ্ঠু ব্যবহারের জন্য কোনো ব্যক্তির পূর্ব অভিজ্ঞতা ও শিখন থাকা আবশ্যক। অর্জিত জ্ঞানকে মনের মধ্যে প্রতিরূপ হিসেবে সঞ্চয় করে রাখতে হয়,যাতে প্রয়োজন অনুযায়ী তা পুনরুৎপাদন করা যায়। এই স্মৃতি ব্যবহারের জন্য উচ্চ বুদ্ধিমত্তা, সৃজনশীলতা এবং কল্পনা শক্তির প্রয়োজন হয়, তাই একে ‘প্রকৃত স্মৃতি’ বলা হয়।
উদাহরণ: ছাত্র-ছাত্রীরা পরীক্ষায় কোনো রচনাধর্মী বা বিবরণমূলক প্রশ্নের উত্তর লেখার সময় মনে মনে পড়াটির একটি ছবি বা কাঠামো কল্পনা করে এই স্মৃতির ব্যবহার করে।
(খ) প্রত্যভিজ্ঞতা।
উত্তরঃ পূর্বে দেখা বা শেখা কোনো বিষয় বা বস্তুকে বর্তমানে পুনরায় প্রত্যক্ষ বা সামনে দেখে চিনে নেওয়ার ক্ষমতাকে প্রত্যভিজ্ঞতা বলে। এটি স্মরণক্রিয়ার চতুর্থ এবং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। প্রত্যভিজ্ঞতা মূলত স্মরণকৃত তথ্যের যথার্থতা বা প্রকৃত রূপ মনে মনে প্রতিপাদন করতে সাহায্য করে।
উদাহরণ: পরীক্ষার সময় বহু বিকল্পধর্মী বা অবজেক্টিভ প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার সময় ছাত্র-ছাত্রীরা সঠিক বিকল্পটি চিনে নিতে প্রত্যভিজ্ঞতার সাহায্য নেয়।
(গ) পশ্চাদমুখী প্রতিরোধ।
উত্তরঃ মনোবিজ্ঞানী এস.এস.চৌহানের মতে,”পশ্চাদমুখী প্রতিরোধের অর্থ পেছনের দিকে সক্রিয় হয়ে কোনো কিছুকে রুদ্ধ বা বাধা দেওয়া”। যখন কোনো সময়ের ব্যবধান না দিয়ে পরপর দুটি ভিন্ন বিষয় শেখা হয়,তখন মনের মধ্যে এই ক্ষতিকর বাধার সৃষ্টি হয়। প্রথম বিষয়টি পড়ার পর অন্য আরেকটি বিষয় শেখা শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এক ধরণের মানসিক রুদ্ধতা তৈরি হয়। ফলে ব্যক্তি যখন প্রথম বিষয়টি মনে করার চেষ্টা করে,তখন সদ্য শেখা দ্বিতীয় বিষয়টি মনের পর্দায় একটি প্রতিচ্ছায়ার সৃষ্টি করে এবং প্রথমটি স্মরণে বাধা দেয়।
(ঘ) বিস্মৃতির দৈহিক কারণসমূহ।
উত্তরঃ বিস্মৃতির দৈহিক কারণসমূহ:
(i) বার্ধক্য: বয়স বৃদ্ধির কারণে মস্তিষ্ক ও স্নায়ুতন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা হ্রাস পায়, যা স্মৃতি দুর্বল করে তোলে।
(ii) মস্তিষ্কে আঘাত: মস্তিষ্কের প্রধান স্মৃতিকেন্দ্র ‘সেরেব্রাম’- এ কোনো দুর্ঘটনা বা অসুস্থতায় আঘাত লাগলে সাময়িক বা স্থায়ী স্মৃতি নষ্ট হতে পারে।
(iii) অবসাদ বা ক্লান্তি: দীর্ঘ সময় অবিশ্রান্ত পরিশ্রমের ফলে মস্তিষ্ক ও স্নায়ুতন্ত্র ক্লান্ত ও দুর্বল হয়ে পড়লে সাময়িক বিস্মৃতি ঘটে।
(iv) নেশাদ্রব্য: মদ,তামাক, ফেন্সিডিল,হেরোইন ইত্যাদি ক্ষতিকর নেশাজাতীয় জিনিস নিয়মিত সেবনের ফলে মস্তিষ্কের স্বাভাবিক ধারণক্ষমতা নষ্ট হয়ে যায়।
(ঙ) বিস্মৃতির কারণ হিসাবে অবদমনের ভূমিকা।
উত্তরঃ অবদমন হলো এক ধরনের ইচ্ছাকৃত বা উদ্দেশ্যমূলক বিস্মৃতি, যার অর্থ কোনো কিছুকে জোর করে মনের নিচে চেপে রাখা। আমাদের জীবনে ঘটে যাওয়া তীব্র বেদনাদায়ক দুঃখজনক বা অপ্রীতিকর অভিজ্ঞতা এবং সমাজবিরোধী অপূর্ণ বাসনাগুলোকে সচেতন মন সহজে মেনে নিতে পারে না। তাই মন এগুলোকে জোর করে সচেতন স্তর থেকে অবচেতন স্তরে ঠেলে দেয়। এটি মূলত মনের একটি স্বাভাবিক প্রতিরক্ষা কৌশলহিসেবে কাজ করে, যা মানুষকে যন্ত্রণাদায়ক স্মৃতি ভুলিয়ে দিয়ে মানসিক অস্থিরতা থেকে রক্ষা করে এবং স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে সাহায্য করে।
(চ) যুক্তিযুক্ত বা বিচারমূলক স্মৃতি।
উত্তরঃ এই প্রকার স্মৃতি অন্ধের মতো যান্ত্রিক পুনরাবৃত্তির ওপর নির্ভরশীল নয়। যুক্তিযুক্ত স্মৃতির জন্য অন্ধের মতো যান্ত্রিক শিখনের বদলে বুদ্ধিমত্তা, যুক্তি ও বিশ্লেষণধর্মী ক্ষমতার প্রয়োজন হয়। কোনো পড়ার অর্থ ও যুক্তি ভালোভাবে অনুধাবন করে এবং যুক্তিসঙ্গত পুনরুৎপাদনের বুদ্ধি প্রয়োগ করে এই স্মৃতি গঠিত হয়। এটি একটি অত্যন্ত উন্নত স্তরের স্মৃতি এবং প্রকৃত স্মৃতির সঙ্গে তুলনীয়।
উদাহরণ: ছাত্র-ছাত্রীরা যখন কোনো গাণিতিক সমস্যার সমাধান করে বা বিজ্ঞান গবেষণাগারে কোনো বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা সম্পন্ন করে, তখন এই স্মৃতির ব্যবহার করে।
১৩। অভ্যাসের দ্বারা কি স্মৃতির উন্নতি সাধন সম্ভব? আলোচনা কর।
উত্তরঃ অভ্যাসের দ্বারা কি স্মৃতির উন্নতি সাধন সম্ভব এই সম্পর্কিত প্রধান বৈজ্ঞানিক মতামতগুলো আলোচনা করা হলো:
(i) ম্যাকডুগাল- এর মতবাদ: বিখ্যাত মনোবিজ্ঞানী উইলিয়াম ম্যাকডুগাল মনে করতেন যে উপযুক্ত অনুশীলন বা নিয়মিত অভ্যাসের দ্বারা স্মৃতির ধারণক্ষমতা বা স্মৃতির উন্নতি সাধন করা অবশ্যই সম্ভব।
(ii) উইলিয়াম জেমস-এর মতবাদ: এর সম্পূর্ণ বিপরীতে, মনোবিজ্ঞানী উইলিয়াম জেমস মনে করেন যে মানুষের তথ্য সংরক্ষণ বা স্মৃতিতে ধরে রাখার ক্ষমতা মূলত একটি শারীরিক ও সহজাত ক্ষমতা। এটি সম্পূর্ণ জন্মগত ও অপরিবর্তনশীল।
(iii) মনোবিজ্ঞানী স্টাউট-এর সমন্বয়ধর্মী মতবাদ: মনোবিজ্ঞানী স্টাউট এই বিষয়ে একটি অত্যন্ত বাস্তবসম্মত মত প্রকাশ করেছেন। তাঁর মতে, অভ্যাসের দ্বারা আমাদের সাধারণ স্মৃতির ক্ষমতার কোনো সার্বিক উন্নতি ঘটানো সম্ভব নয়। তবে,কোনো একটি বিশেষ ক্ষেত্রে ক্রমাগত অনুশীলন বা ট্রেনিংয়ের মাধ্যমে স্মৃতিশক্তিকে অনেক বেশি সচল ও কার্যক্ষম করে তোলা সম্ভব।
১৪। স্মৃতির বিভিন্ন পদ্ধতি সম্পকে আলোচনা কর।
উত্তরঃ স্মৃতির প্রধান পদ্ধতি বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:
(i) আবৃত্তি পদ্ধতি: এটি স্মৃতির সাশ্রয় বা মিতব্যয়িতাকে দারুণভাবে প্রভাবিত করে। এই পদ্ধতির মূল অর্থ হলো কোনো বিষয় বা পড়া বারবার পড়ার পর চোখ বন্ধ করে নিজের মনে মনে অথবা জোরে জোরে তা আওড়ানো বা আবৃত্তি করা। এটি পড়া মস্তিষ্কে দীর্ঘকাল ধরে রাখতে সাহায্য করে।
(ii) সমগ্র পদ্ধতি: কোনো ছোট কবিতা, ছড়া বা অনুচ্ছেদ মুখস্থ করার সময় সেটিকে খণ্ড খণ্ড করে বা ভেঙে ভেঙে না পড়ে,শুরুতেই কোনো ফাঁক বা বিরতি না রেখে সামগ্রিকভাবে একবারে পড়া ও বোঝার পদ্ধতিকে সমগ্র পদ্ধতি বলে। এটি সাধারণত খণ্ড পদ্ধতি-র চেয়ে অনেক বেশি সাশ্রয়ী ও কার্যকর। খণ্ড খণ্ড করে মুখস্থ করলে মনের ওপর যে শিখনের ছাপ পড়ে তা খণ্ডিত ও স্বল্পস্থায়ী হয়।
(iii) পরিসরযুক্ত বা বিরতিযুক্ত শিখন পদ্ধতি: মনোবৈজ্ঞানিক গবেষণায় এই পদ্ধতিটিকে অত্যন্ত সঠিক ও বিজ্ঞানসম্মত হিসেবে গণ্য করা হয়। এখানে এক বসায় জোর করে সবকিছু মুখস্থ করার চেষ্টা না করে,পড়া বা শেখার সময়কালের মাঝে মাঝে পর্যাপ্ত বিরতি বা ফাঁক (পরিসর) দেওয়া হয়।
(iv) সক্রিয় বা কর্মভিত্তিক শিখন পদ্ধতি: শ্রেণীকক্ষে বা পড়ার সময় নিস্পৃহ বা নিষ্ক্রিয় শ্রোতা হয়ে থাকার চেয়ে নিজে সক্রিয়ভাবে কাজ করে শেখার পদ্ধতিকে সক্রিয় শিখন বলে। নিজে লিখে লিখে, ছবি এঁকে বা কোনো কাজের মাধ্যমে অংশ নিয়ে শিখলে স্মৃতির গভীরতা অনেক বেশি হয়। এই সক্রিয় শিখন মনের মধ্যে শিক্ষার ছাপকে দীর্ঘদিন জীবন্ত এবং সতেজ রাখতে সাহায্য করে।
(v) পুনরাবৃত্তি ও অভ্যাস পদ্ধতি: কোনো তথ্য সফলভাবে মনে রাখার জন্য ক্রমাগত পুনরাবৃত্তি এবং নিয়মিত অভ্যাস একটি অত্যন্ত ফলপ্রসূ পদ্ধতি। বারবার চর্চা বা অনুশীলনের ফলে মস্তিষ্কের শিখন সংযোগগুলো আরও শক্তিশালী ও দীর্ঘস্থায়ী হয়।
১৫। নীচে দেওয়া বিবৃতিগুলির বিপরীতে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ লিখে উত্তর দাও।
(ক) স্মৃতি অতীত অভিজ্ঞতার পুনঃজাগরণ।
উত্তরঃ হ্যাঁ।
(খ) উত্তম স্মৃতির জন্য কল্পের গঠন আবশ্যক নয়।
উত্তরঃ না।
(গ) পশ্চাদমুখী অবরোধ বিস্মৃতির একটি দৈহিক কারণ।
উত্তরঃ না।
(ঘ) বিস্মৃতি পূর্বের অভিজ্ঞতা ও শিখনের সংরক্ষণের অক্ষমতাকে বোঝায় না।
উত্তরঃ না।
(ঙ) সংরক্ষণের ক্ষমতা জন্মগত।
উত্তরঃ হ্যাঁ।
(চ) আনুসাঙ্গিক এবং যান্ত্রিক স্মৃতির মধ্যে কোন পার্থক্য নাই।
উত্তরঃ না।
(ছ) খণ্ড পদ্ধতি স্মৃতির জন্য সাহায্যকারী।
উত্তরঃ না।
১৬। পার্থক্যীকরণ কর।
(ক) কল্প স্মৃতি ও অভ্যাস স্মৃতি।
উত্তরঃ কল্প স্মৃতি ও অভ্যাস স্মৃতি পার্থক্যীকরণ:
| কল্প স্মৃতি | অভ্যাস স্মৃতি |
| এটি পুরোপুরি অতীত অভিজ্ঞতা এবং শিখনের মানসিক প্রতিরূপ বা কল্পের ওপর নির্ভর করে। | এটি শারীরিক বা দৈহিক পুনরাবৃত্তির সাহায্যে গঠিত হয়। |
| এই স্মৃতির জন্য উচ্চ বুদ্ধি, সৃজনশীলতা এবং কল্পনা শক্তির প্রয়োজন হয়। একে তাই ‘প্রকৃত স্মৃতি’ বলা হয়ে থাকে। | এটি মনের সংরক্ষিত কল্পের চেয়ে মূলত দৈহিক অঙ্গসঞ্চালনের অভ্যাসের ওপর বেশি নির্ভর করে। |
| শিক্ষার্থীরা যখন কোনো রচনামূলক প্রশ্নের উত্তর মনের প্রতিচ্ছবি থেকে গুছিয়ে লেখে। | কোনো সুরেলা বাদ্যযন্ত্র বাজানো বা টাইপ করার মতো যান্ত্রিক কাজে এই স্মৃতি ব্যবহৃত হয়। |
(খ) পুনঃস্মরণ ও প্রত্যভিজ্ঞতা।
উত্তরঃ পুনঃস্মরণ ও প্রত্যভিজ্ঞতা পার্থক্যীকরণ:
| পুনঃস্মরণ | প্রত্যভিজ্ঞতা |
| এটি স্মরণক্রিয়া বা স্মৃতি প্রক্রিয়ার তৃতীয় পর্যায় বা ধাপ | অনেক মনোবিজ্ঞানী একে স্মরণক্রিয়া বা স্মৃতি প্রক্রিয়ার চতুর্থ পর্যায় বা ধাপ বলে গণ্য করেন। |
| সংরক্ষিত বা অবচেতন মনে থাকা কল্পসমূহকে পুনরায় সচেতন স্তরে ফিরিয়ে আনা বা মনে করা হলো পুনঃস্মরণ। | পূর্বে দেখা বা জানা কোনো উদ্দীপকের যাথার্থ্য বা স্বরূপ চিনে নেওয়া বা সনাক্ত করা হলো প্রত্যভিজ্ঞতা। |
| পুনঃস্মরণের সময় উদ্দীপক বা মূল বস্তুটি সরাসরি চোখের সামনে উপস্থিত থাকে না। | প্রত্যভিজ্ঞতার ক্ষেত্রে উদ্দীপক বা বস্তুটি সরাসরি চোখের সামনে উপস্থিত থাকে। |
| এটি তুলনামূলকভাবে কঠিন। পরীক্ষায় রচনাত্মক প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার ক্ষেত্রে এটি ব্যবহৃত হয়। | এটি অনেক সহজ। ছাত্ররা পরীক্ষায় বহু বিকল্পযুক্ত বা ‘অবজেক্টিভ’ প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার সময় এটি ব্যবহার করে। |
(গ) সল্পকালীন ও দীর্ঘকালীন স্মৃতি।
উত্তরঃ সল্পকালীন ও দীর্ঘকালীন স্মৃতি পার্থক্যীকরণ:
| সল্পকালীন স্মৃতি | দীর্ঘকালীন স্মৃতি |
|---|---|
| শিখন এবং স্মৃতি ফিরে পাওয়ার মধ্যবর্তী সময়ের ব্যবধান অত্যন্ত কম বা তাৎক্ষণিক হয়ে থাকে | শিখন বা অভিজ্ঞতা অর্জন এবং তা পুনরায় মনে করার মধ্যবর্তী সময়ের ব্যবধান অত্যন্ত দীর্ঘ বা বিস্তৃত হতে পারে। |
| এর সফল ব্যবহারের জন্য তীব্র মানসিক সতর্কতা, একাগ্রতা এবং ইন্দ্রিয় ও স্নায়ুতন্ত্রের তীক্ষ্ণ ধারণক্ষমতার প্রয়োজন হয়। | এটি সর্বদাই কোনো ব্যক্তির অত্যন্ত শক্তিশালী ও দীর্ঘস্থায়ী সংরক্ষণের ক্ষমতাকে নির্দেশ করে। |
| একজন সংবাদপত্রের সাংবাদিক কোনো সভার বিবরণী তৎক্ষণাৎ খাতায় লিপিবদ্ধ করার সময় তৎকালীন স্মৃতি ব্যবহার করেন। | কোনো প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি যখন তাঁর জীবনের প্রথম দিকের বা শৈশবের কোনো ঘটনা মনে করতে পারেন। |
(ঘ) ঐচ্ছিক ও স্বাভাবিক বিস্মৃতি।
উত্তরঃ ঐচ্ছিক ও স্বাভাবিক বিস্মৃতি পার্থক্যীকরণ:
| ঐচ্ছিক বিস্মৃতি | স্বাভাবিক বিস্মৃতি |
| এটি একটি সচেতন বা অবচেতন স্তরের ইচ্ছাকৃত প্রক্রিয়া, যেখানে ব্যক্তি অপ্রীতিকর অভিজ্ঞতাগুলিকে জোর করে ভুলে যেতে চায়। | এটি কোনো ইচ্ছা ছাড়াই সময়ের গতিতে বা অনুশীলনের অভাবে স্বাভাবিক নিয়মে আপনাআপনি ঘটে থাকে। |
| এটি মূলত “অবদমন”-এর মতো মানসিক প্রক্রিয়া, যেখানে দুঃখজনক অভিজ্ঞতাকে অবচেতন স্তরে ঠেলে দেওয়া হয়। | এটি একটি স্বাভাবিক নিষ্ক্রিয় বা অবক্ষয়মূলক মানসিক প্রপঞ্চ। |
| এটি মনকে মানসিক কষ্ট থেকে দূরে রাখতে এক প্রকার ‘প্রতিরক্ষা কৌশল’ হিসেবে কাজ করে। | এটি স্মৃতির একটি সহায়ক বা স্বাভাবিক বিপরীত প্রক্রিয়া, যা অপ্রয়োজনীয় বিষয় দূর করে নতুন শিখনের জায়গা করে দেয়। |
| জীবনের কোনো ভয়াবহ বা বেদনাদায়ক দুর্ঘটনা মন থেকে জোর করে চেপে রাখার চেষ্টা করা। | কোনো পড়া বা কবিতা দীর্ঘদিন পুনরাবৃত্তি বা চর্চা না করার ফলে সময়ের সাথে সাথে তা ম্লান হয়ে ভুলে যাওয়া। |
Subject Ka Complete Video Solution Dekhein
Step-by-step easy concept explanation aur full questions Answer ke liye watch karein ya app download karein:

