Class 12 Education Chapter 4 শিখন Question Answer Bengali Medium As Per AHSEC New Syllabus. to each chapter is provided in the list so that you can easily browse through different chapters Class 12 Education Chapter 4 শিখন Solutions and select need one. Class 12 Education Chapter 4 শিখন Notes Download PDF. AHSEC Class 12 Education Question Answer Bengali Medium.
Class 12 Education Chapter 4 শিখন
Also, you can read the NCERT book online in these sections Solutions by Expert Teachers as per Central Board of Secondary Education (CBSE) Book guidelines. AHSEC Class 12 Education Chapter 4 শিখন Solutions are part of All Subject Solutions. Here we have given AHSEC Class 12 Education Notes Bengali Medium for All Chapters, You can practice these here.
শিখন
Chapter: 4
| সক্রিয়তা |
১। আচরণধারার দুটি ফর্দ প্রস্তুত কর। একটি, যেটি শিখনের ফল এবং আর একটি যেটি পরিণমনের ফলাফল।
উত্তরঃ মানুষের জীবনে শিখন ও পরিণমনের ফলে আচরণের যে পরিবর্তনগুলি ঘটে, তা হলো:
| পরিণমনের ফলস্বরূপ আচরণধারা | শিখনের ফলস্বরূপ আচরণধারা |
| কোনো বিশেষ প্রশিক্ষণ বা অনুশীলন ছাড়াই স্বাভাবিকভাবে ঘটে। | পরিবেশের সাথে অভিযোজনের জন্য উদ্দীপক ও অভিজ্ঞতার প্রভাবে ঘটে। |
| শিশুর স্বাভাবিকভাবে বসতে শেখা। | সুন্দর সুরে গান গাওয়া। |
| নির্দিষ্ট বয়সে হামাগুড়ি দেওয়া। | নদীতে সাঁতার কাটা। |
| নিজের পায়ে ভর দিয়ে দাঁড়াতে শেখা। | মাঠে ফুটবল খেলা। |
২। একটি ছয় বৎসরের শিশুকে কয়েকটি অক্ষর লিখতে বল। যদি সে কোন ভুল করে, তাকে আবারও একই অক্ষরগুলি লিখতে বল বারম্বার যতক্ষণ পর্যন্ত সে নির্ভুলভাবে লিখতে পারছে। প্রচেষ্টা ভুলের সংখ্যা গণনা কর, যেটি সে প্রতিটি পদক্ষেপে করেছে। প্রচেষ্টা ও ভুলের সংখ্যা এবং সময়ের হিসাব সেই অনুসারে লিখ। তোমার অভিক্রিয়ার চরম ফলশ্রুতি কি থর্নডাইকের বিড়ালের উপর সম্পন্ন অভিক্রিয়ার মতই?
উত্তরঃ থর্নডাইকের প্রচেষ্টা ও ভুল শিখন তত্ত্বের আলোকে শিশুর অক্ষর লিখন পরীক্ষা একটি ৬ বছরের শিশুকে কয়েকটি বাংলা অক্ষর বারবার লেখানোর মাধ্যমে শিখন প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করা হলো।
পরীক্ষার বিভিন্ন প্রচেষ্টা, ভুল ও সময়ের হিসাব ছক আকারে উপস্থাপন করা হলো:
| প্রচেষ্টা নম্বর | লক্ষ্য বর্ণসমূহ | ভুলের সংখ্যা | ব্যয়িত সময় | পর্যবেক্ষণ ও মন্তব্য |
| প্রচেষ্টা | ক, খ, গ, ঘ, ঙ | ৩ টি | ৪৫ সেকেন্ড | শিশুটি লিখতে গিয়ে মাত্রা দিতে ভুল করেছে এবং বর্ণের আকৃতি সঠিকভাবে মেলাতে পারেনি। |
| প্রচেষ্টা | ক, খ, গ, ঘ, ঙ | ২ টি | ৩৫ সেকেন্ড | দ্বিতীয় প্রচেষ্টায় ভুলের সংখ্যা কমেছে এবং লেখার গতি কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে। |
| প্রচেষ্টা | ক, খ, গ, ঘ, ঙ | ১ টি | ২৫ সেকেন্ড | শিশুটি প্রায় নির্ভুলভাবে লিখেছে, শুধুমাত্র একটি বর্ণের বাঁকে সামান্য ভুল হয়েছে। |
| প্রচেষ্টা | ক, খ, গ, ঘ, ঙ | ০ টি | ১৮ সেকেন্ড | এবার শিশুটি সম্পূর্ণ নির্ভুলভাবে এবং অত্যন্ত কম সময়ে সবগুলো বর্ণ লিখতে পেরেছে। |
অভিক্রিয়ার চরম ফলশ্রুতি ও থর্নডাইকের বিড়ালের পরীক্ষার সাথে তুলনা:
সিদ্ধান্ত: এই অভিক্রিয়াটির চরম ফলশ্রুতি থর্নডাইকের বিড়ালের উপর সম্পন্ন অভিক্রিয়ার মতোই প্রচেষ্টা ও ভুল শিখন তত্ত্ব (Trial & Error Theory) এবং অনুশীলনের সূত্রকে (Law of Exercise) সমর্থন করে।
| তুলনা করার ক্ষেত্র | থর্নডাইকের বিড়ালের পরীক্ষা | শিশুর অক্ষর লিখন অভিক্রিয়া |
| শিখন পদ্ধতি | বিড়ালটি ‘পাজল বক্স’-এর দরজা খোলার জন্য অন্ধের মতো একাধিক ভুল প্রচেষ্টা করেছিল। | শিশুটিও প্রথম দিকে বর্ণগুলোর সঠিক আকৃতি লিখতে একাধিক ভুল করেছিল। |
| ত্রুটি ও সময় হ্রাস | প্রচেষ্টা বৃদ্ধির সাথে সাথে বিড়ালের ভুল প্রচেষ্টার সংখ্যা এবং প্রয়োজনীয় সময় ধীরে ধীরে হ্রাস পেয়েছিল। | প্রচেষ্টা বৃদ্ধির সাথে সাথে শিশুর ভুলের সংখ্যা (৩ থেকে ০) এবং ব্যয়িত সময় (৪৫ থেকে ১৮ সেকেন্ড) ক্রমান্বয়ে হ্রাস পেয়েছে। |
| চূড়ান্ত ফলশ্রুতি | বিড়ালটি কোনো ভুল না করে সরাসরি দরজা খুলে বেরিয়ে আসার কৌশল অর্জন করেছিল। | শিশুটিও বারবার অনুশীলনের মাধ্যমে নির্ভুল ও দ্রুত বর্ণ লিখতে সক্ষম হয়েছে। |
তাত্ত্বিক সিদ্ধান্ত: এই অভিক্রিয়াটির চরম ফলশ্রুতি থর্নডাইকের বিড়ালের উপর সম্পন্ন অভিক্রিয়ার মতোই প্রচেষ্টা ও ভুল শিখন তত্ত্ব এবং অনুশীলনের সূত্রকে সমর্থন করে।
৩। তোমার সঙ্গীসাথীদের জিজ্ঞাস কর যখন তারা কোন মানুষের মুখমণ্ডল দেখে তখন কি চক্ষু কর্ণ, নাসিকা, ওষ্ঠ অথবা গণ্ড আলাদা আলাদাভাবে না সমগ্রভাবে দেখে। এ বিষয়ে তাদের মতামত কি গেস্টল্ট মনোবিদদের সমান?
উত্তরঃ খমণ্ডল প্রত্যক্ষণ পরীক্ষা এবং গেস্টল্ট মনোবিজ্ঞান:
| বন্ধুদের সংখ্যা ও উত্তরদাতার বিবরণ | প্রত্যক্ষণের ধরণ (খণ্ড অংশ নাকি সমগ্র?) | বন্ধুদের দেওয়া ব্যাখ্যা ও মতামত | গেস্টল্ট মতবাদের সাথে তুলনা ও সত্যতা |
| ৫ জন বন্ধু/সহপাঠী | সমগ্রভাবে | বন্ধুরা জানায় যে, যখন তারা কোনো মানুষের মুখ দেখে, তখন চোখ, কান, নাক, ওষ্ঠ বা গণ্ড আলাদা আলাদাভাবে খণ্ড খণ্ড অংশ হিসেবে তাদের চোখে পড়ে না। প্রথম দেখাতেই তারা সম্পূর্ণ মুখমণ্ডলটি একসাথে বা একটি সমগ্র রূপ হিসেবে দেখতে পায়। | গেস্টল্ট তত্ত্বের সাথে সম্পূর্ণ সমান ও সামঞ্জস্যপূর্ণ। গেস্টল্ট তত্ত্ব অনুযায়ী, উদ্দীপকের প্রত্যক্ষণ খণ্ড খণ্ড অংশের যোগফল নয়, বরং মানুষ যেকোনো পরিস্থিতি বা বস্তুকে একটি সমগ্র বা সামগ্রিক নকশা হিসেবে দেখে। বন্ধুদের মতামতও এই তত্ত্বের শতভাগ অনুরূপ। |
৪। তোমার বাড়িতে যদি কোন কুকুর থাকে তবে তাকে নিয়ে প্যাভলভের অনুবর্তিত প্রতিক্রিয়ায় শিখনের পরীক্ষার মত একটি পরীক্ষা/অভিক্রিয়া সম্পন্ন কর। শিক্ষককে তোমার পরীক্ষা/অভিক্রিয়ার ফলাফল জানাও।
উত্তরঃ বাড়ির পোষা কুকুরকে নিয়ে প্যাভলভের লালাক্ষরণ পরীক্ষার অনুরূপে সম্পন্ন করা অভিক্রিয়ার ফলাফল নিচে ছক আকারে উপস্থাপিত হলো:
| পরীক্ষার পর্যায় | ব্যবহৃত উদ্দীপক | কুকুরের প্রতিক্রিয়া | অনুবর্তনের অবস্থা ও মনস্তাত্ত্বিক ব্যাখ্যা |
| অনুবর্তনের পূর্বে | (ক) হাততালি বা ঘণ্টার শব্দ (কৃত্রিম উদ্দীপক) (খ) খাবার পাত্র সামনে আনা (স্বাভাবিক উদ্দীপক) | (ক) কুকুরটি কেবল কান খাড়া করে আওয়াজ শোনে, লালা ক্ষরণ হয় না। (খ) কুকুরের মুখ থেকে লালা ক্ষরণ শুরু হয়। এবং সে সক্রিয় হয়ে ওঠে। | স্বাভাবিক উদ্দীপকের প্রতি স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া (লালা ক্ষরণ) প্রকাশ পায়, কিন্তু কৃত্রিম উদ্দীপকের সাথে তখনো কোনো সংযোগ তৈরি হয়নি। |
| অনুবর্তন চলাকালীন | হাততালি/ঘণ্টার শব্দ + সাথে সাথে খাবার পরিবেশন (পরপর কয়েকদিন এই প্রক্রিয়ার পুনরাবৃত্তি করা হলো) | কুকুরটির মুখ থেকে প্রচুর লালা নিঃসৃত হতে থাকে। | বারবার কৃত্রিম উদ্দীপক ও স্বাভাবিক উদ্দীপক একসাথে উপস্থাপন করায় উভয়ের মধ্যে একটি নতুন সংযোগ তৈরি হতে শুরু করে। |
| অনুবর্তনের পরে | কেবল হাততালি বা ঘণ্টার শব্দ করা হলো (কোনো খাবার দেওয়া হলো না)। | কুকুরটি ঘণ্টার শব্দ বা হাততালির আওয়াজ শুনেই মুখ থেকে লালা ক্ষরণ করতে শুরু করে এবং খাবারের পাত্রের দিকে দৌড়ে আসে। | (লালা ক্ষরণ) সংযুক্ত হয়ে অনুবর্তিত প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে, যা প্যাভলভের পরীক্ষার ফলাফলের হুবহু অনুরূপ। |
| প্রশ্নাবলী |
১। শিখন কি?
উত্তরঃ শিখন হলো আমাদের আচরণ এবং জীবনযাত্রার দক্ষতার পরিবর্তনের একটি ধারাবাহিক ও জীবনব্যাপী প্রক্রিয়া।
২। শিখনের প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ লিখ।
উত্তরঃ শিখনের প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ:
(i) অভিজ্ঞতা ও প্রশিক্ষণ নির্ভরতা: নূতন অভিজ্ঞতা এবং প্রশিক্ষণের ভিত্তিতেই শিখন সম্পাদিত হয়।
(ii) উদ্দীপক ও প্রতিক্রিয়ার যোগসূত্র: শিখন হলো উদ্দীপক এবং প্রতিক্রিয়ার মধ্যে একটি দৃঢ় যোগসূত্র।
(iii) অভিযোজন প্রক্রিয়া: শিখন হলো ব্যক্তির সঙ্গে তার পরিবেশের অভিযোজন বা খাপ খাইয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া।
(iv) উদ্দেশ্যমুখিতা: শিখন সর্বদা উদ্দেশ্যমূলক। জীবনের আকাঙ্ক্ষা অথবা চাহিদাপূরণের তাগিদে মানুষ নতুন বিষয় শেখে; নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য ব্যতীত শিখন সফল হতে পারে না।
(v) সমস্যা সমাধান প্রক্রিয়া: শিখন মূলত একটি সমস্যা সমাধান প্রক্রিয়া। কোনো নতুন কাজ শেখার সময় যে সমস্যা উদ্ভূত হয়,কাজটি শেখার পর সেই সমস্যার সমাধান হয়ে যায়।
৩। শিখনের বিভিন্ন উপাদান আলোচনা কর।
উত্তরঃ শিখনের বিভিন্ন উপাদান মূলত তিনটি প্রধান দলে ভাগ করা হয়েছে।
শিখনের এই গুরুত্বপূর্ণ উপাদানসমূহ বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হলো:
(ক) শিক্ষার্থী- সম্পর্কিত বা ব্যক্তিগত উপাদানসমূহ:
(i) বয়স: শিক্ষার একটি কারণ হিসেবে বয়সের বিশেষ ভূমিকা রয়েছে। সাধারণ মানুষের মধ্যে একটি জনশ্রুতি বা বিশ্বাস আছে যে শিশুরা প্রাপ্তবয়স্ক বা প্রবীণদের চেয়ে অনেক সহজে ও ভালোভাবে শিখতে পারে এবং বয়স বাড়ার সাথে সাথে মানুষের নতুন বিষয় শেখার ক্ষমতা কমতে থাকে।
(ii) লিঙ্গভেদ: সাধারণত দেখা যায় যে বিভিন্ন বিষয় শেখার ক্ষেত্রে ছাত্র ও ছাত্রীদের মধ্যে কিছু বৈষম্য বা তারতম্য লক্ষ্য করা যায়।
(খ) বিষয়বস্তু-সম্পর্কিত উপাদানসমূহ:
(i) অর্থপূর্ণ বিষয়বস্তু: যে বিষয়বস্তুর স্পষ্ট অর্থ বা উপযোগিতা রয়েছে,তা শিক্ষার্থীর শিখনের দক্ষতা অনেক বাড়িয়ে দেয়। অর্থহীন বিষয়ের চেয়ে অর্থপূর্ণ বিষয়বস্তু শেখা অনেক সহজতর হয়।
(ii) বিষয়ের কঠিনতা: সহজ বিষয়ের ক্ষেত্রে শিখনের প্রথম দিকে অগ্রগতি অত্যন্ত দ্রুত গতিতে বৃদ্ধি পায় এবং পরে তা ধীরে ধীরে কমে আসে।
(গ) পদ্ধতি-সম্পর্কিত উপাদানসমূহ:
(i) সমগ্র বনাম আংশিক পদ্ধতি: ছোট ও অর্থপূর্ণ বিষয়বস্তুর ক্ষেত্রে সমগ্র পদ্ধতি (একবারে পুরো বিষয় শেখা) খুবই ফলপ্রসূ, কারণ এতে বিষয়টি সহজে মনে রাখা যায়।
(ii) অধিক শিখন: কোনো বিষয় প্রথমবার নির্ভুলভাবে শিখে যাওয়ার পরেও অতিরিক্ত অনুশীলন করাকে অধিক শিখন বলা হয়।
৪। শিখন ও পরিণমনের সম্পর্ক আলোচনা কর।
উত্তরঃ শিখন ও পরিণমনের পারস্পরিক সম্পর্ক আলোচনা কর হলো:
(i) পারস্পরিক সম্পর্ক:আচরণ পরিবর্তনের অভিন্ন লক্ষ্য: শিখন এবং পরিণমন উভয়েরই প্রধান উদ্দেশ্য হলো ব্যক্তির আচরণধারার রূপান্তর বা পরিবর্তন সাধন করা।
(ii) পরিণমন শিখনের ভিত্তি ও প্রস্তুতি যোগায়: শিখন প্রভূত পরিমাণে পরিণমনের ওপর নির্ভরশীল। পরিণমন ছাড়া শিখন সম্পন্ন হতে পারে না, কারণ এটি শিখনের জন্য প্রয়োজনীয় শারীরিক ও মানসিক প্রস্তুতি বা ভিত্তি তৈরি করে দেয়। উদাহরণস্বরূপ, একটি দুই বছর বয়সী শিশুকে পড়তে শেখানো অথবা একটি দুই মাস বয়সী শিশুকে হাঁটার প্রশিক্ষণ দেওয়া অসম্ভব, কারণ এর জন্য প্রয়োজনীয় স্নায়বিক ও পেশীগত পরিণমন তখনও ঘটেনি।
(iii) শিখন পরিণমনকে সার্থক করে: পরিণমন কোনো বিশেষ প্রশিক্ষণ বা অভ্যাস ছাড়াই প্রাকৃতিকভাবে ঘটে এবং সম্ভাবনা তৈরি করে, কিন্তু সেই সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে এবং নির্দিষ্ট দক্ষতা অর্জনে শিখনের প্রয়োজন হয়। যেমন—শিশুর ভাষার বিকাশ।
(iv) বিকাশের গভীরতা: জীবনের বেশিরভাগ ক্রিয়াকলাপেই এই দুটি প্রক্রিয়া একে অপরের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে।
৫। “শিখন পরিণমনের উপর নির্ভরশীল”-ব্যাখ্যা কর।
উত্তরঃ “শিখন পরিণমনের উপর নির্ভরশীল”:
(i) ভিত্তি ও প্রস্তুতি প্রস্তুত করা: পরিণমন হলো মানুষের জন্মগত ও স্বাভাবিক বৃদ্ধি বা বিকাশের একটি জৈবিক প্রক্রিয়া, যা কোনো বিশেষ প্রশিক্ষণ বা অনুশীলন ছাড়াই স্বাভাবিক নিয়মে ঘটে। এই পরিণমনই মূলত মানুষের শরীরে ও মস্তিষ্কে কোনো কিছু শেখার জন্য প্রয়োজনীয় ন্যূনতম শারীরিক ও মানসিক প্রস্তুতি বা ভিত্তি তৈরি করে দেয়।
(ii) নির্দিষ্ট স্তর অর্জনের গুরুত্ব: কোনো নতুন বিষয় বা দক্ষতা অর্জন করতে হলে একটি নির্দিষ্ট পর্যায় বা বয়সের পরিণমন ঘটা অপরিহার্য। উপযুক্ত পরিণমন ছাড়া জোর করে কোনো কিছু শেখানো যায় না।
(iii) বাস্তব উদাহরণ: যেমন—একটি দুই বছর বয়সী শিশুকে পড়তে শেখানো বা একটি দুই মাস বয়সী শিশুকে হাঁটা শেখানোর জন্য যত চেষ্টাই করা হোক না কেন,তা সম্ভব নয়। কারণ এই কাজগুলো শেখার জন্য শিশুর স্নায়ু ও মাংসপেশীর যে ধরণের পরিণমন বা পরিপক্বতা প্রয়োজন, তা তখনও তৈরি হয়নি।
(iv) শিখনকে সহজ করা: উপযুক্ত পরিণমন ঘটলে যেকোনো নতুন বিষয় শেখা অনেক সহজসাধ্য ও স্থায়ী হয়।
৬। প্রচেষ্টা ও ভুলের মাধ্যমে কিভাবে শিখন সম্ভব। উদাহরণ সহ ব্যাখ্যা কর।
উত্তরঃ (ক) কিভাবে শিখন সম্ভব হয়:
(i) এলোমেলো প্রচেষ্টা: কোনো নতুন পরিস্থিতিতে বা নতুন কিছু শেখার সময় মানুষ বা প্রাণী প্রথমবারেই সঠিক প্রতিক্রিয়াটি করতে পারে না। সে লক্ষ্য অর্জনের জন্য অবিরত বিভিন্ন এলোমেলো বা ভুল চেষ্টা করতে থাকে।
(ii) ভুল সংশোধন ও পুনরাবৃত্তি: বারবার অনুশীলনের ফলে অপ্রয়োজনীয় ও ভুল প্রতিক্রিয়াগুলো ধীরে ধীরে দূর বা বর্জিত হতে থাকে।
(iii) সরাসরি সংযোগ: অনুশীলনের পুনরাবৃত্তির মাধ্যমে ভুলের সংখ্যা এবং কাজটি করতে প্রয়োজনীয় সময় উভয়ই ক্রমশ হ্রাস পায়। পরিশেষে, কোনো ভুল ছাড়াই সরাসরি উদ্দীপক ও সঠিক প্রতিক্রিয়ার মধ্যে সংযোগ স্থাপিত হয় এবং শিখন সম্পন্ন হয়।
(খ) থর্নডাইকের ক্ষুধার্ত বিড়ালের পরীক্ষা (উদাহরণ): থর্নডাইক তাঁর এই তত্ত্বটি প্রমাণ করার জন্য একটি ক্ষুধার্ত বিড়ালকে নিয়ে পরীক্ষা করেছিলেন।
(i) পরীক্ষার বিন্যাস: তিনি একটি ক্ষুধার্ত বিড়ালকে একটি ধাঁধা বাক্সের ভেতরে বন্দি করেন এবং বাক্সের বাইরে কিছুটা দূরে সুস্বাদু খাবার (ভাজা মাছ) রাখেন।
(ii) প্রাথমিক আচরণ: খাবার পাওয়ার জন্য ক্ষুধার্ত বিড়ালটি প্রথমে বাক্সের ভেতরে লাফালাফি, কামড়ানো ও থাবা মারার মতো অনেক এলোমেলো ও ভুল চেষ্টা করতে থাকে।
(iii) আকস্মিক সাফল্য: এই ইতস্তত প্রচেষ্টার মধ্যে হঠাৎ আকস্মিকভাবে তার থাবা বা টান দড়িটির ওপর পড়ে এবং দরজা খুলে যায়। বিড়ালটি বাইরে এসে খাবার গ্রহণ করে।
৭। অর্ন্তদর্শন জাত শিখন কি? এই পদ্ধতির শিক্ষাগত তাৎপর্য নির্ণয় কর।
উত্তরঃ অন্তর্দর্শনজাত শিখন হলো মূলত একটি উচ্চ স্তরের বৌদ্ধিক বা মানসিক প্রক্রিয়া। এই পদ্ধতির মূল বিষয়গুলো হলো:
(i) উৎস ও প্রবক্তা: অন্তর্দর্শনজাত শিখন পদ্ধতির মূল ভিত্তি হলো ‘গেস্টাল্ট’ তত্ত্ব। জার্মান মনোবিদ ওয়ার্দিমার,কোহলার এবং কফকা এই তত্ত্বের প্রবক্তা ছিলেন। ‘গেস্টাল্ট’ একটি জার্মান শব্দ, যার অর্থ হলো ‘সম্পূর্ণ’ বা ‘সামগ্রিক নকশা’।
(ii) মূল ধারণা: গেস্টাল্ট মনোবিদদের মতে, শিখন কোনো যান্ত্রিক বা অন্ধ প্রচেষ্টা ও ভুলের প্রক্রিয়া নয়। এটি এমন একটি প্রক্রিয়া যা পর্যবেক্ষণ,সংপ্রত্যক্ষণ এবং অন্তর্দর্শনকে সম্পৃক্ত করে।
(iii) কিভাবে অন্তর্দর্শন ঘটে: কোনো সমস্যার সম্মুখীন হলে শিক্ষার্থী সমস্যাটিকে ছোট ছোট খণ্ড অংশ হিসেবে না দেখে সমগ্র পরিস্থিতিটি একবারে অনুধাবন বা গ্রাস্পকরার চেষ্টা করে।
এই পদ্ধতির শিক্ষাগত তাৎপর্য:
(i) সমগ্র থেকে অংশে অগ্রসর হওয়া: এই পদ্ধতি শিক্ষাদানের একটি চমৎকার নীতি প্রতিষ্ঠা করে—শিক্ষার্থীর সামনে প্রথমে সম্পূর্ণ বিষয়টি উপস্থাপন করা উচিত এবং তারপরে তার বিভিন্ন অংশ আলোচনা করা উচিত।
(ii) সৃজনশীলতা ও গঠনমূলক সক্রিয়তা: এটি শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল ও গঠনমূলক কাজে অত্যন্ত সাহায্য করে। শিক্ষার উচ্চতর স্তরে শিক্ষার্থীদের স্বাধীনভাবে গবেষণা ও আবিষ্কারমূলক কাজ করতে উৎসাহিত করে।
(iii) স্বনির্ভরতা অর্জন: এই পদ্ধতি শিক্ষার্থীকে নিজে নিজে চিন্তা করে সমস্যার সমাধান করতে শেখায়, যা তাকে স্বনির্ভর করে তোলে এবং নিজের কাজে পথপ্রদর্শক হতে সাহায্য করে।
(iv) সুপ্ত গুণাবলীর বিকাশ: মুখস্থ করার অভ্যাসের পরিবর্তে এই পদ্ধতি শিক্ষার্থীদের সুপ্ত মেধা, চিন্তাশক্তি ও বুদ্ধিমত্তার বিকাশ ঘটায়।
৮। অনুবর্তিত শিখন কি? প্যাভলভের অনুবর্তিত প্রতিক্রিয়ার শৈক্ষিক তাৎপর্য সংক্ষিপ্তাকারে লিখ।
উত্তরঃ অনুবর্তিত শিখন হলো:
(i) সহজাত বনাম কৃত্রিম সংযোগ: সাধারণত যেকোনো স্বাভাবিক উদ্দীপকের (যেমন—খাদ্য বা মাংস) প্রভাবে আমাদের একটি স্বাভাবিক ও সহজাত প্রতিক্রিয়া (যেমন—লালা নিঃসরণ) ঘটে। এতে নতুন কিছু শেখার থাকে না।
(ii) অনুবর্তনের প্রক্রিয়া: কিন্তু যখন এই স্বাভাবিক উদ্দীপকের বিকল্প হিসেবে কোনো কৃত্রিম বা নিরপেক্ষ উদ্দীপক (যেমন—ঘণ্টাধ্বনি) বারবার উপস্থাপন করা হয়, তখন একপর্যায়ে ওই কৃত্রিম উদ্দীপকের সাথেই স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়াটির একটি নতুন সংযোগ তৈরি হয়।
প্যাভলভের অনুবর্তিত প্রতিক্রিয়ার শৈক্ষিক তাৎপর্য:
(i) পুরস্কার ও শাস্তিপ্রদান: পুরস্কার ও শাস্তি এই অনুবর্তন প্রক্রিয়ার সাথে নিবিড়ভাবে জড়িত। পুরস্কার উদ্দীপক ও প্রতিক্রিয়ার মধ্যকার সংযোগকে শক্তিশালী ও দৃঢ় করে, যা শিক্ষার্থীদের যেকোনো কাজ আরও নিখুঁত ও সুষ্ঠুভাবে করার অনুপ্রেরণা যোগায়। অন্যদিকে, শাস্তি অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণকে দুর্বল ও নিরুৎসাহিত করতে সাহায্য করে।
(ii) পুনরাবৃত্তির গুরুত্ব: অনুবর্তনমূলক শিখন মূলত অনুশীলনের পুনরাবৃত্তির ওপর জোর দেয়। শিশুদের প্রাথমিক স্তরে পঠন, লিখন এবং বানান শেখার ক্ষেত্রে এই পুনরাবৃত্তি বা বারবার অভ্যাস করা অত্যন্ত প্রয়োজনীয় ও কার্যকর।
(iii) সু-অভ্যাস গড়ে তোলা: এই তত্ত্বের সাহায্যে শিশুদের মধ্যে খুব সহজেই বিভিন্ন সামাজিক ও ব্যক্তিগত সু-অভ্যাস গড়ে তোলা যায়; যেমন—নিয়মনিষ্ঠা ও শৃঙ্খলা,পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং সময়ানুবর্তিতা।
(iv) কু-অভ্যাস নির্মূল করা: অনুবর্তনের নীতি প্রয়োগ করে শিশুদের মনের অবান্তর ভয়, কুসংস্কার এবং বিভিন্ন কু-অভ্যাস বা ক্ষতিকর আচরণ অনায়াসে দূর করা সম্ভব।
৯। শিখনের প্রধান সূত্রগুলি কি? এই সূত্রগুলি শ্রেণিকক্ষে কিরূপে প্রয়োগ করা যায় সে ব্যাপারে লিখ।
উত্তরঃ শিখনের প্রধান সূত্রগুলি:
(ক) প্রস্তুতির সূত্র:
মূল বক্তব্য: এই সূত্রটি শিখনের ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীর প্রস্তুতির ওপর গুরুত্ব আরোপ করে। যখন একজন শিক্ষার্থী কোনো বিষয় শেখার জন্য দৈহিক ও মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকে, তখন সে অত্যন্ত দ্রুত এবং ফলপ্রসূভাবে তা শেখে এবং শিখনে আনন্দ লাভ করে। কিন্তু শিক্ষার্থী যদি শিখনের জন্য প্রস্তুত না থাকে, তবে সে কার্যকরভাবে শিখতে পারে না এবং বিষয়টি শিখতে তার অনেক বেশি সময় লাগে। থর্নডাইকের মতে, শিখনের জন্য দৈহিক প্রস্তুতির পাশাপাশি মানসিক প্রস্তুতিও সমানভাবে জরুরি।
(খ) শ্রেণিকক্ষে এই সূত্রের প্রয়োগ:
(i) দৈহিক পরিস্থিতি বিবেচনা: কোনো বিষয় পাঠদান শুরু করার আগে শিক্ষকের উচিত শিক্ষার্থীর দৈহিক পরিস্থিতি বা সুস্থতা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া।
(ii) প্রস্তুত অবস্থায় পাঠদান: শিক্ষার্থীরা যখন শিখনের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত থাকবে, শিক্ষকের তখনই পাঠদান করা উচিত।
(iii) অনুপ্রেরণা দান: শিক্ষার্থীদের শিখনে আগ্রহী ও প্রস্তুত করে তোলার জন্য শিক্ষক বিভিন্ন উদ্দীপকের মাধ্যমে তাদের অনুপ্রাণিত করবেন।
(iv) উপযুক্ত পাঠ্যক্রম: শিক্ষার্থীদের মানসিক প্রস্তুতির কথা মাথায় রেখে পাঠ্যক্রম তৈরি করা উচিত; পাঠ্যক্রম যদি শিক্ষার্থীদের অনুপযোগী হয়, তবে তাদের মধ্যে অসন্তুষ্টির সৃষ্টি হবে যা শিখনকে ব্যাহত করবে।
১০। অন্তদর্শনের দ্বারা কিরূপে শিখন সম্ভব? উপযুক্ত উদাহরণসহ ব্যাখ্যা কর।
উত্তরঃ অন্তর্দর্শনের দ্বারা যেভাবে শিখন সম্ভব: অন্তর্দর্শনজাত শিখন কোনো অন্ধ বা যান্ত্রিক প্রচেষ্টা ও ভুলের পদ্ধতি নয়, বরং এটি একটি উচ্চ স্তরের বৌদ্ধিক বা মানসিক প্রক্রিয়া।
এটি যেভাবে কাজ করে ব্যাখ্যা করা হলো:
(i) সামগ্রিক পরিস্থিতি অনুধাবন: কোনো সমস্যার সম্মুখীন হলে শিক্ষার্থী বিষয়টিকে আলাদা আলাদা খণ্ড অংশ হিসেবে না দেখে একবারে সমগ্র পরিস্থিতিটি উপলব্ধি বা অনুধাবন করার চেষ্টা করে।
অংশগুলির মিথস্ক্রিয়া বা সম্পর্ক স্থাপন: পরিস্থিতির বিভিন্ন অংশের পারস্পরিক সম্পর্ক বা মিথস্ক্রিয়া বুঝতে পারলে শিক্ষার্থীর মনে হঠাৎ আলোর ঝলকানির মতো সমস্যার সমাধান উদিত হয়।
অন্তর্দৃষ্টির জাগরণ: এই আকস্মিক সমাধান বা ভেতরের দৃষ্টিকে ‘অন্তর্দৃষ্টি’ বলে, যার সাহায্যে সহজেই কঠিন সমস্যার সমাধান হয়ে যায় এবং নতুন শিখন সম্পন্ন হয়।
উপযুক্ত উদাহরণ: মনোবিদ কোহলার ‘সুলতান’ নামের একটি বুদ্ধিমান শিম্পাঞ্জিকে নিয়ে পরীক্ষা করে এটি প্রমাণ করেন
(i) পরীক্ষার বিন্যাস: সুলতানকে একটি খাঁচায় বন্দি করা হয়। খাঁচার বাইরে কিছু কলা এবং খাঁচার ভেতরে দুটি ছোট লাঠি রাখা ছিল (যেগুলি এককভাবে কলার নাগাল পাওয়ার জন্য যথেষ্ট লম্বা ছিল না)।
(ii) প্রাথমিক ব্যর্থতা ও পর্যবেক্ষণ: সুলতান প্রথমে খালি হাত বাড়িয়ে কলাগুলি ধরার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয় এবং কিছুক্ষণ কোনো প্রয়াস না করে শান্তভাবে চারপাশের পরিস্থিতি লক্ষ্য করে বসে থাকে।
(iii) হঠাৎ সমাধান (অন্তর্দৃষ্টি): বসে থাকার সময় হঠাৎই তার মাথায় বুদ্ধি আসে যে লাঠি দুটিকে একটির সাথে আরেকটি জুড়ে দিয়ে লম্বা করা সম্ভব। সে লাঠি দুটি জুড়ে দিয়ে খাঁচার বাইরে প্রসারিত করে এবং সহজেই কলাগুলি টেনে নেয়।
১১। থর্নডাইকের প্রধান শিখন সূত্রসমূহ ব্যাখ্যা কর এবং তাদের শিক্ষাগত তাৎপর্য দেখাও।
উত্তরঃ এল থর্নডাইক শিখন সংক্রান্ত তিনটি প্রধান বা মুখ্য সূত্রের অবতারণা করেছেন, যা মানুষ ও পশু উভয়ের ক্ষেত্রেই সমভাবে প্রযোজ্য।
সূত্রগুলি আলোচনা করা হলো:
(ক) প্রস্তুতির সূত্র:
ব্যাখ্যা: এই সূত্র অনুযায়ী, যখন কোনো শিক্ষার্থী কোনো বিষয় শেখার জন্য দৈহিক ও মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকে, তখন সে দ্রুত এবং কার্যকরভাবে (effectively) শেখে এবং শিখনে আনন্দ লাভ করে। কিন্তু প্রস্তুত না থাকলে সে কার্যকরভাবে শিখতে পারে না এবং বিষয়টি শিখতে তার অনেক বেশি সময় লাগে। থর্নডাইকের মতে, শিখনের জন্য দৈহিক প্রস্তুতির পাশাপাশি মানসিক প্রস্তুতিও সমানভাবে জরুরী।
শিক্ষাগত তাৎপর্য (শ্রেণিকক্ষে প্রয়োগ):
(i) পাঠদান শুরু করার পূর্বে শিক্ষকের উচিত শিক্ষার্থীর দৈহিক সুস্থতা ও মানসিক প্রস্তুতি যাচাই করা।
(ii) শিক্ষার্থীদের অনুপ্রাণিত করতে হবে যাতে তারা শিখনের জন্য প্রস্তুত হয়।
(খ) ফলাফলের সূত্র:
ব্যাখ্যা: এই সূত্র নির্দেশ করে যে শিখন কাজের পরিণাম বা ফলাফলের ওপর নির্ভর করে। কাজের ফল যদি সন্তোষজনক বা আনন্দদায়ক হয়, তবে শিক্ষার্থী তার পুনরাবৃত্তি করতে অনুপ্রাণিত বোধ করে। কিন্তু কাজের ফল অসন্তোষজনক বা কষ্টদায়ক হলে সে তা পুনরাবৃত্তি করতে নিরুৎসাহিত হয়। তাই একে “সন্তোষ ও অসন্তোষের সূত্র” বা “সুখ-আনন্দ ও কষ্টের সূত্র” বলা হয়ে থাকে।
শিক্ষাগত তাৎপর্য (শ্রেণিকক্ষে প্রয়োগ):
(i) শিক্ষার্থীদের ভালো কাজের জন্য উপযুক্ত পুরস্কার, স্বীকৃতি বা প্রশংসা দেওয়া উচিত, যা তাদের পড়াশোনায় উৎসাহিত করে।
(ii) শ্রেণিকক্ষে শারীরিক ও মানসিক শাস্তি যথাসম্ভব পরিহার করা উচিত, কারণ শাস্তি শিক্ষার্থীর ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে এবং তাকে নিরুৎসাহিত করে।
১২। প্রচেষ্টা ও ভুলের শিখন পদ্ধতির বিশেষ বৈশিষ্ট্যগুলি লিখ।
উত্তরঃ প্রচেষ্টা ও ভুলের শিখন পদ্ধতির বিশেষ বৈশিষ্ট্যগুলি:
(i) ক্রমিক বা ধীর প্রক্রিয়া: প্রচেষ্টা ও ভুলের মাধ্যমে শিখন কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়, এটি একটি ধীর ও ক্রমিক প্রক্রিয়া। অনুশীলনের মাধ্যমে এই শিখন ধীরে ধীরে অর্জিত হয়।
(ii) পুনরাবৃত্তির গুরুত্ব: এই পদ্ধতির মূল কথা বা প্রধান চাবিকাঠি হলো পুনরাবৃত্তি। বারবার একই কাজের অনুশীলনের মাধ্যমেই উদ্দীপক ও প্রতিক্রিয়ার সংযোগ বা বন্ধনটি শক্তিশালী হয়।
(iii) ভুল প্রচেষ্টা ও সময়ের হ্রাস: শিখনের শুরুর বা প্রারম্ভিক পর্যায়ে ভুলের সংখ্যা এবং কাজের জন্য প্রয়োজনীয় সময় অনেক বেশি থাকে। কিন্তু অনুশীলনের পুনরাবৃত্তির সাথে সাথে ভুলের সংখ্যা এবং প্রয়োজনীয় সময় দুই-ই ধীরে ধীরে হ্রাস পায়।
(iv) ভুল বর্জন ও সঠিক পথ নির্বাচন: বারবার চেষ্টার ফলে অপ্রয়োজনীয় ও ভুল প্রতিক্রিয়াগুলো ক্রমশ বর্জিত হতে থাকে। সহজ কথায়, ভুল প্রচেষ্টা একপর্যায়ে সঠিক প্রচেষ্টার পথ ছেড়ে দেয়।
১৩। প্রচেষ্টা ভুলের শিখন পদ্ধতির শৈক্ষিক তাৎপর্য সংক্ষিপ্তাকারে লিখ।
উত্তরঃ প্রচেষ্টা ভুলের শিখন পদ্ধতির শৈক্ষিক তাৎপর্য:
(i) দক্ষতা অর্জন ও পুনরাবৃত্তি: এই পদ্ধতি শিক্ষার্থীদের নিজস্ব ভঙ্গিমায় বারবার চেষ্টার মাধ্যমে বিভিন্ন বিষয়ে দক্ষতা অর্জনে সাহায্য করে। ব্যর্থতায় নিরাশ না হয়ে দীর্ঘ পুনরাবৃত্তি বা অনুশীলনের মাধ্যমে যেকোনো কাজে সাফল্য অর্জন করা সম্ভব। তাই শিক্ষার্থীদের মূলমন্ত্র হওয়া উচিত “বারবার চেষ্টা কর”।
(ii) সক্রিয়তাভিত্তিক বাস্তব শিক্ষা: এই পদ্ধতিটি নিষ্ক্রিয়ভাবে মুখস্থ করার চেয়ে শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্রিয়তা ও কাজের ওপর বেশি জোর দেয়। এর ফলে শিক্ষক ও শিক্ষার্থী উভয়েই বাস্তব অভিজ্ঞতা লাভ করতে পারে।
(iii) সমস্যার সমাধান: এই পদ্ধতির প্রয়োগের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন শিক্ষাগত বা শৈক্ষিক সমস্যার সমাধান করতে শেখে। এমনকি সাধারণ মানুষও তাদের দৈনন্দিন জীবনের নানাবিধ সমস্যা এই পদ্ধতিতেই সমাধান করে থাকে।
(iv) সু-অভ্যাস গঠন ও কু-অভ্যাস বর্জন: এই পদ্ধতির সঠিক প্রয়োগের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ক্ষতিকর বা অনাকাঙ্ক্ষিত কু-অভ্যাসগুলো বর্জন করানো যায় এবং বিভিন্ন ইতিবাচক সু-অভ্যাস গড়ে তোলা সম্ভব হয়।
১৪। “শিখন হচ্ছে অভিজ্ঞতা ও পরিশিক্ষণের মাধ্যমে আচরণধারার সংশোধন।” Amplify the statement.
উত্তরঃ “শিখন হচ্ছে অভিজ্ঞতা ও পরিশিক্ষণের মাধ্যমে আচরণধারার সংশোধন” — মনোবিদ গেটস্ -এর এই বিখ্যাত উক্তিটি শিখনের প্রকৃত রূপকে চমৎকারভাবে ব্যাখ্যা করে।
সহজ আকারে উক্তিটির মূল ভাব বিশ্লেষণ করা হলো:
(i) অভিজ্ঞতা: পরিবর্তনশীল পরিবেশের বিভিন্ন পরিস্থিতি ও উদ্দীপকের মুখোমুখি হয়ে মানুষ প্রতিনিয়ত নানা অভিজ্ঞতা লাভ করে। এই নতুন অভিজ্ঞতাই আমাদের জন্মগত অসংস্কৃত বা অমার্জিত প্রবৃত্তিগত প্রতিক্রিয়াকে পরিমার্জিত ও পরিশীলিত করে তোলে।
(ii) পরিশিক্ষণ: পরিশিক্ষণ বা প্রশিক্ষণ হলো সচেতন অনুশীলন ও সুপরিকল্পিত নির্দেশনার মাধ্যমে কোনো নির্দিষ্ট কাজ বা দক্ষতা নিখুঁতভাবে অর্জন করার প্রক্রিয়া। এটি ব্যক্তির ভেতরের সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে এবং নতুন আচরণ রপ্ত করতে সাহায্য করে।
(iii) আচরণধারার সংশোধন: মানুষের সহজাত আচরণ বা প্রতিক্রিয়াগুলো সবসময় পরিবেশের উপযোগী থাকে না। জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার (অভিযোজন) তাগিদে মানুষ তার পূর্বের অমার্জিত আচরণকে পরিবর্তন ও উন্নত করে। অভিজ্ঞতার মাধ্যমে ঘটা আচরণের এই রূপান্তর বা সংশোধনই হলো শিখন।
১৫। সংক্ষিপ্তাকারে লিখঃ
(ক) অনুবর্তন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শিখন।
উত্তরঃ অনুবর্তন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শিখন হলো এমন একটি শিখন প্রক্রিয়া যেখানে কোনো একটি স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়াকে তার স্বাভাবিক উদ্দীপকের পরিবর্তে অন্য একটি কৃত্রিম বা নিরপেক্ষ উদ্দীপকের সাথে যুক্ত করা হয়। এই তত্ত্বের প্রবক্তা হলেন রুশ শরীরতত্ত্ববিদ ও মনোবিজ্ঞানী আইভ্যান প্যাভলভ।
(খ) অন্তদর্শনগত শিখন।
উত্তরঃ অন্তর্দর্শনগত শিখন হলো মূলত একটি উচ্চ স্তরের বৌদ্ধিক বা মানসিক প্রক্রিয়া, যা কোনো অন্ধ বা যান্ত্রিক উপায়ে নয় বরং বুদ্ধি, পর্যবেক্ষণ ও চিন্তাশক্তির সাহায্যে ঘটে থাকে। জার্মান মনোবিদ ওয়ার্দিমার, কোহলার এবং কফকা হলেন এই মতবাদের প্রবক্তা,যা ‘গেস্টাল্ট’ তত্ত্ব নামে পরিচিত। ‘গেস্টাল্ট’ শব্দের অর্থ হলো ‘সম্পূর্ণ’ বা ‘সামগ্রিক নকশা’।
(গ) প্রচেষ্টা ও ভুলের মাধ্যমে শিখন।
উত্তরঃ প্রচেষ্টা ও ভুলের মাধ্যমে শিখন এই শিখন পদ্ধতির প্রবক্তা হলেন বিখ্যাত আমেরিকান মনোবিদ এডওয়ার্ড লি থর্নডাইক এবং এটি তাঁর ‘সংযোগবাদ’ বা ‘S-R Bond’ তত্ত্বের সাথে যুক্ত।
সহজ ব্যাখ্যা:
(i) ভুল ও চেষ্টার পুনরাবৃত্তি: আমাদের সামনে যখন নতুন কোনো পরিস্থিতি বা সমস্যা আসে, তখন আমরা প্রথমবারেই সঠিক কাজটি করতে পারি না। আমরা প্রথমে অবিরত নানা ধরনের এলোমেলো ও ভুল চেষ্টা করতে থাকি।
(ii) ভুল হ্রাস ও সঠিক আচরণ নির্বাচন: আমরা যত বেশিবার চেষ্টা বা অনুশীলন করব, আমাদের ভুলের সংখ্যা এবং কাজটি করতে প্রয়োজনীয় সময় দুই-ই ধীরে ধীরে কমতে থাকবে।
(ঘ) ফলাফলের সূত্র।
উত্তরঃ ফলাফলের সূত্র:
(i) সন্তোষজনক ফলাফল: কোনো কাজের ফলাফল বা পরিণাম যদি শিক্ষার্থীর কাছে সন্তোষজনক ও আনন্দদায়ক হয়, তবে উদ্দীপক ও প্রতিক্রিয়ার মধ্যকার সংযোগটি অত্যন্ত মজবুত ও দৃঢ় হয়। এর ফলে শিক্ষার্থী কাজটি বারবার করতে অনুপ্রাণিত বোধ করে।
(ii) অসন্তোষজনক ফলাফল: কিন্তু কাজের ফল যদি অসন্তোষজনক, বিরক্তিকর বা কষ্টদায়ক হয়, তবে সেই সংযোগ দুর্বল হয়ে পড়ে। এর ফলে শিক্ষার্থী কাজটি আর করতে চায় না বা তা বর্জন করে।
(iii) অন্য নাম: কাজের ফলাফলের এই প্রভাবের কারণে এই সূত্রটিকে “সন্তোষ ও অসন্তোষের সূত্র” অথবা “সুখ-আনন্দ ও কষ্টের/বেদনার সূত্র” বলা হয়ে থাকে।
(ঙ) প্রস্তুতির সূত্র।
উত্তরঃ প্রস্তুতির সূত্র:
(i) প্রস্তুতি থাকলে শিখন সহজ হয়: যখন একজন শিক্ষার্থী কোনো নতুন বিষয় শেখার জন্য দৈহিক ও মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকে, তখন সে খুব দ্রুত এবং কার্যকরভাবে তা শিখতে পারে। এই অবস্থায় শিখলে সে মনে আনন্দ লাভ করে।
(ii) প্রস্তুতি না থাকলে শিখন বাধাগ্রস্ত হয়: শিক্ষার্থী যদি ভেতর থেকে প্রস্তুত না থাকে, তবে তাকে জোর করে শেখাতে গেলে শিখন কার্যকর হয় না এবং সে বিষয়টি শিখতে অনেক বেশি সময় নেয়।
(iii) উভয় প্রস্তুতিই জরুরি: থর্নডাইকের মতে, শিখনের জন্য শুধুমাত্র দৈহিক প্রস্তুতিই যথেষ্ট নয়, তার সাথে শিক্ষার্থীর মানসিক প্রস্তুতিও সমানভাবে অপরিহার্য।
(চ) অনুশীলনের সূত্র।
উত্তরঃ থর্নডাইক অনুশীলনের সূত্রটিকে দুটি ভাগে ভাগ করেছেন:
(ক) ব্যবহারের নীতি।
(খ) অব্যবহারের নীতি।
১৬। পরবর্তী বিবৃতিগুলি সত্য না মিথ্যা লিখ।
(ক) শিখন একটি সমস্যাসমাধানের ক্রিয়া।
উত্তরঃ সত্য।
(খ) অন্তর্দর্শনের দ্বারা শিখন একটি যান্ত্রিক প্রক্রিয়া।
উত্তরঃ মিথ্যা।
(গ) শিখন পরিণমনের ওপর নির্ভরশীল নয়।
উত্তরঃ মিথ্যা।
(ঘ) অর্ন্তদর্শন একটি উন্নততর শিখন পদ্ধতি।
উত্তরঃ সত্য।
(ঙ) শিখন একটি জীবনব্যাপী প্রক্রিয়া।
উত্তরঃ সত্য।
(চ) শিখন আচরণধারার ভিত্তি।
উত্তরঃ মিথ্যা।
১৭। উপযুক্ত শব্দের দ্বারা শূন্যস্থান পূর্ণ কর।
(ক) শিখনের প্রচেষ্টা ও ভুলের পদ্ধতি advocated by __________।
উত্তরঃ ই. এল. থর্নডাইক।
(খ) গেস্টাল্ট একটি __________শব্দ।
উত্তরঃ জার্মান।
(গ) অনুশীলনের সূত্র কে formulate করেছিলেন __________।
উত্তরঃ ই. এল. থর্নডাইক।
(ঘ) শিখন হচ্ছে __________ সংশোধন অভিজ্ঞতার মাধ্যমে।
উত্তরঃ আচরণধারার।
(ঙ) _________ শিখনের অনুবর্তন তত্ত্বের প্রস্তাবক ছিলেন।
উত্তরঃ আইভান প্যাভলভ।
Subject Ka Complete Video Solution Dekhein
Step-by-step easy concept explanation aur full questions Answer ke liye watch karein ya app download karein:

