Class 12 Education Chapter 3 শিক্ষার বর্তমান প্রবণতা

Class 12 Education Chapter 3 শিক্ষার বর্তমান প্রবণতা Question Answer Bengali Medium As Per AHSEC New Syllabus. to each chapter is provided in the list so that you can easily browse through different chapters Class 12 Education Chapter 3 শিক্ষার বর্তমান প্রবণতা Solutions and select need one. Class 12 Education Chapter 3 শিক্ষার বর্তমান প্রবণতা Notes Download PDF. AHSEC Class 12 Education Question Answer Bengali Medium.

Class 12 Education Chapter 3 শিক্ষার বর্তমান প্রবণতা

Also, you can read the NCERT book online in these sections Solutions by Expert Teachers as per Central Board of Secondary Education (CBSE) Book guidelines. AHSEC Class 12 Education Chapter 3 শিক্ষার বর্তমান প্রবণতা Solutions are part of All Subject Solutions. Here we have given AHSEC Class 12 Education Notes Bengali Medium for All Chapters, You can practice these here.

Chapter: 3

সক্রিয়তা

১। লক্ষ্য কর কিভাবে বায়ু, জল, এবং ভূমি দূষণ ব্যক্তিদের স্বাস্থ্য সংরক্ষণকে প্রতিকূল ভাবে প্রভাবিত করে।

উত্তরঃ পরিবেশ দূষণ মানুষের স্বাস্থ্য সংরক্ষণে মারাত্মক প্রভাব ফেলে। বায়ু, জল ও ভূমি দূষণের ফলে বিভিন্ন রোগের সৃষ্টি হয়।

বায়ু দূষণের প্রভাব: ধোঁয়া, ধূলিকণা ও বিষাক্ত গ্যাসের কারণে হাঁপানি, ব্রঙ্কাইটিস, ফুসফুসের রোগ, চোখ ও ত্বকের সমস্যা দেখা দেয়।

জল দূষণের প্রভাব: দূষিত জল পান করলে ডায়রিয়া, কলেরা, টাইফয়েড, জন্ডিস প্রভৃতি রোগ হতে পারে।

ভূমি দূষণের প্রভাব: রাসায়নিক সার, কীটনাশক ও আবর্জনার কারণে মাটি দূষিত হয়। দূষিত মাটিতে উৎপন্ন খাদ্য গ্রহণের ফলে শরীরে বিষাক্ত পদার্থ প্রবেশ করে এবং নানা রোগ সৃষ্টি হতে পারে।

২। জনসংখ্যা বিস্ফোরণ, প্রকৃতিতে কি ভাবে দূষণ ছড়িয়ে দিয়েছে, উল্লেখ কর।

উত্তরঃ জনসংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়াকে জনসংখ্যা বিস্ফোরণ বলা হয়। জনসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে খাদ্য, বাসস্থান, জল ও অন্যান্য সম্পদের চাহিদা বৃদ্ধি পায়, যার ফলে পরিবেশ দূষণ ছড়িয়ে পড়ে।

এর প্রধান কারণগুলি হলো—

(i) অধিক মানুষের জন্য বেশি বাসস্থান নির্মাণ ও বনভূমি ধ্বংস।

(ii) শিল্প ও যানবাহনের সংখ্যা বৃদ্ধি, ফলে বায়ু দূষণ।

(iii) গৃহস্থালি ও শিল্পবর্জ্য বৃদ্ধি, ফলে জল ও ভূমি দূষণ।

(iv) খাদ্য উৎপাদন বাড়াতে অতিরিক্ত রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের ব্যবহার।

(v)  প্রাকৃতিক সম্পদের অতিরিক্ত ব্যবহার।

৩। আর কোন ক্ষেত্রসমূহে পরিবেশ বিদ্যাকে আবশ্যক মানা হয়-আলোচনা কর।

উত্তরঃ পরিবেশ শিক্ষা শুধু বিদ্যালয়ের বিষয় নয়; জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে এর প্রয়োজন রয়েছে।

প্রধান ক্ষেত্রগুলি হলো—

(i) কৃষিক্ষেত্রে: মাটি, জল ও প্রাকৃতিক সম্পদের সঠিক ব্যবহার শেখাতে।

(ii) শিল্পক্ষেত্রে: শিল্পবর্জ্য নিয়ন্ত্রণ ও দূষণ কমাতে।

(iii) স্বাস্থ্যক্ষেত্রে: পরিচ্ছন্নতা ও রোগ প্রতিরোধ সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে।

(iv) নগর পরিকল্পনায়: পরিকল্পিত বাসস্থান ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য।

(v) বন ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে: জীববৈচিত্র্য রক্ষা করতে।

(vi) দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায়: পরিবেশগত বিপর্যয় সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি করতে।

(vii) সামাজিক জীবনে: পরিবেশ রক্ষায় জনসচেতনতা গড়ে তুলতে।

৪। জনসংখ্যা সম্পর্কিত শিক্ষার কিছু সংজ্ঞা সংগ্রহ কর এবং লক্ষ্য কর এর কোন দিকগুলোতে দার্শনিক এবং শিক্ষাজগতের চিন্তাবিদেরা বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন।

উত্তরঃ জনসংখ্যা শিক্ষা হলো এমন একটি শিক্ষাপ্রক্রিয়া যার মাধ্যমে ব্যক্তি জনসংখ্যা বৃদ্ধি, পরিবার, সম্পদ, পরিবেশ এবং জীবনযাত্রার মানের মধ্যে সম্পর্ক সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করে।

বিভিন্ন শিক্ষাবিদ ও চিন্তাবিদ জনসংখ্যা শিক্ষার ক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন—

(i) জনসংখ্যার আকার ও বৃদ্ধির কারণ সম্পর্কে জ্ঞান।

(ii) ছোট পরিবারের গুরুত্ব।

(iii) পরিবার পরিকল্পনা সম্পর্কে সচেতনতা।

(iv) জনসংখ্যা ও প্রাকৃতিক সম্পদের সম্পর্ক।

(v) জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন।

(vi) দায়িত্বশীল পারিবারিক জীবন গঠন।

(vii) পরিবেশ ও জনসংখ্যার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা।

(viii) সচেতন ও যুক্তিবাদী সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা বৃদ্ধি।

৫। প্রাকৃতিক ও সামাজিক জীবনে জনসংখ্যা বিস্ফোরণের ফলাফল আলোচনা কর।

উত্তরঃ প্রাকৃতিক জীবনে ফলাফল:

(i) বনভূমি ধ্বংস হয়।

(ii) জল, মাটি ও বায়ু দূষণ বৃদ্ধি পায়।

(iii) প্রাকৃতিক সম্পদের অভাব দেখা দেয়।

(iv) জীববৈচিত্র্য নষ্ট হয়।

(v) পরিবেশের ভারসাম্য বিঘ্নিত হয়।

সামাজিক জীবনে ফলাফল:

(i) বেকারত্ব বৃদ্ধি পায়।

(ii) দারিদ্র্য বৃদ্ধি পায়।

(iii) খাদ্য ও বাসস্থানের সমস্যা দেখা দেয়।

(iv) শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার উপর চাপ বাড়ে।

(v) অপরাধ ও সামাজিক অস্থিরতা বৃদ্ধি পেতে পারে।

৬। আলোচনা কর— “জনসংখ্যা বিস্ফোরণ ভারতে শিশুদের অপুষ্টির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করেছে।”

উত্তরঃ ভারতের জনসংখ্যা বৃদ্ধি শিশুদের পুষ্টি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা সৃষ্টি করেছে। পরিবারের সদস্য সংখ্যা বেশি হলে সীমিত আয় বেশি মানুষের মধ্যে ভাগ হয়ে যায়। ফলে শিশুদের পর্যাপ্ত ও পুষ্টিকর খাদ্য সরবরাহ করা কঠিন হয়।

জনসংখ্যা বিস্ফোরণের ফলে—

(i) দারিদ্র্য বৃদ্ধি পায়।

(ii) খাদ্যের উপর চাপ বৃদ্ধি পায়।

(iii) স্বাস্থ্য ও পুষ্টি পরিষেবা সকলের কাছে পৌঁছানো কঠিন হয়।

(iv) বড় পরিবারে শিশুদের প্রতি পৃথক যত্ন কমে যেতে পারে।

(v) বেকারত্ব ও নিম্ন আয়ের কারণে পুষ্টিকর খাদ্য কেনার ক্ষমতা কমে।

৭। যে সকল ক্ষেত্রে জনশিক্ষা সম্পর্কিত শিক্ষা প্রয়োগ করা যায় সেগুলি নিয়ে আলোচনা কর।

উত্তরঃ জনসংখ্যা শিক্ষা জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা যায়।

যেমন—

(i) বিদ্যালয় শিক্ষা: শিক্ষার্থীদের জনসংখ্যা ও পরিবেশ সম্পর্কে সচেতন করা।

(ii) পারিবারিক জীবন: ছোট পরিবার ও দায়িত্বশীল অভিভাবকত্ব সম্পর্কে শিক্ষা।

(iii) স্বাস্থ্য শিক্ষা: মাতৃ ও শিশুর স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি।

(iv) সমাজসেবা: জনসচেতনতা কর্মসূচির মাধ্যমে।

(v) প্রাপ্তবয়স্ক শিক্ষা: পরিবার পরিকল্পনা ও দায়িত্বশীল সিদ্ধান্ত গ্রহণে।

(vi) পরিবেশ শিক্ষা: জনসংখ্যা ও সম্পদের সম্পর্ক বোঝাতে।

(vii) গণমাধ্যম: রেডিও, টেলিভিশন, সংবাদপত্র ও ইন্টারনেটের মাধ্যমে সচেতনতা প্রচার।

৮। ভারতবর্ষ ও অন্যান্য রাষ্ট্রের জনসংখ্যার একটি তুলনামূলক অধ্যয়ন করো।

উত্তরঃ জনসংখ্যার দিক থেকে ভারত বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ দেশ এবং বর্তমানে বিশ্বের সর্বাধিক জনবহুল রাষ্ট্রগুলির মধ্যে প্রথম স্থানে রয়েছে। ভারতের জনসংখ্যা অনেক দেশের তুলনায় অত্যন্ত বেশি।

তুলনামূলকভাবে—

(i) ভারত: বিশাল জনসংখ্যা ও উচ্চ জনঘনত্বের দেশ।

(ii) চীন: জনসংখ্যার দিক থেকে ভারতের কাছাকাছি হলেও বর্তমানে ভারতের তুলনায় কম।

(iii) যুক্তরাষ্ট্র: আয়তনে বড় হলেও ভারতের তুলনায় জনসংখ্যা অনেক কম।

(iv) রাশিয়া: আয়তনে বিশ্বের বৃহত্তম দেশগুলির একটি, কিন্তু জনসংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম।

(v) জাপান ও ইউরোপের বহু দেশ: জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার কম এবং অনেক ক্ষেত্রে জনসংখ্যার বার্ধক্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা।

৯। বিদ্যালয়ে দৈহিক শিক্ষা কোন বয়সে শুরু হওয়া উচিত—আলোচনা কর।

উত্তরঃ দৈহিক শিক্ষা শিশুর জীবনের প্রাথমিক পর্যায় থেকেই শুরু হওয়া উচিত। সাধারণভাবে বিদ্যালয়ে প্রবেশের সময় থেকেই অর্থাৎ প্রায় ৫–৬ বছর বয়স থেকে, শিশুর বয়স ও শারীরিক সক্ষমতা অনুযায়ী দৈহিক শিক্ষার ব্যবস্থা করা উচিত।

প্রাথমিক পর্যায়ে খেলাধুলা, দৌড়, লাফ, সহজ ব্যায়াম ও বিভিন্ন শারীরিক কার্যকলাপের মাধ্যমে শিক্ষা দেওয়া উচিত।

দৈহিক শিক্ষা শুরু করার গুরুত্ব হলো—

(i) শরীর সুস্থ ও সবল হয়।

(ii) শারীরিক বিকাশ ঘটে।

(iii) মানসিক সতেজতা বৃদ্ধি পায়।

(iv) শৃঙ্খলা ও সহযোগিতার মনোভাব গড়ে ওঠে।

(v) ভবিষ্যতে সুস্থ জীবনযাপনের অভ্যাস তৈরি হয়।

১০। উচ্চতর মাধ্যমিক স্তরে দৈহিক শিক্ষা প্রচলনের প্রয়োজনীয়তা আছে কি?

উত্তরঃ হ্যাঁ, উচ্চতর মাধ্যমিক স্তরে দৈহিক শিক্ষা প্রচলনের বিশেষ প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। এই বয়সে শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ দ্রুত ঘটে এবং পড়াশোনার চাপও বৃদ্ধি পায়।

দৈহিক শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা হলো:

(i) শরীর সুস্থ ও কর্মক্ষম রাখা।

(ii) মানসিক চাপ কমানো।

(iii) খেলাধুলার মাধ্যমে শৃঙ্খলা ও নেতৃত্বের গুণ তৈরি করা।

(iv) সহযোগিতা ও দলগত মনোভাব বৃদ্ধি করা।

(v) স্বাস্থ্য ও পরিচ্ছন্নতা সম্পর্কে সচেতনতা গড়ে তোলা।

(vi) মাদক ও অন্যান্য ক্ষতিকর অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে সাহায্য করা।

১১। মহিলাদের ক্ষমতায়নে আর অন্য কি কি উদ্দেশ্য অন্তর্ভুক্ত করা যায় আলোচনা কর।

উত্তরঃ মহিলাদের ক্ষমতায়নের প্রধান উদ্দেশ্য হলো সমাজে নারীদের সমান অধিকার ও সুযোগ নিশ্চিত করা।

এর সঙ্গে আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্দেশ্য অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে—

(i) শিক্ষার সুযোগ বৃদ্ধি।

(ii) অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা অর্জন।

(iii) সিদ্ধান্ত গ্রহণে অংশগ্রহণের সুযোগ।

(iv) রাজনৈতিক ও সামাজিক অংশগ্রহণ বৃদ্ধি।

(v) আইন ও অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা।

(vi) লিঙ্গবৈষম্য দূর করা।

(vii) নারীর প্রতি সহিংসতা ও নির্যাতন প্রতিরোধ।

(viii) নেতৃত্বের গুণ বিকাশ।

(ix) স্বাস্থ্য ও পুষ্টি সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি।

১২। শিক্ষালয়ে মহিলাদের ক্ষমতায়ন কে এগিয়ে নিয়ে যাবার জন্য কি কি পদক্ষেপ নেওয়া দরকার?

উত্তরঃ শিক্ষালয়ে মহিলাদের ক্ষমতায়ন এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য নিম্নলিখিত পদক্ষেপ নেওয়া দরকার—

(i) ছেলে ও মেয়ের জন্য সমান শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করা।

(ii) লিঙ্গবৈষম্য ও কুসংস্কারের বিরুদ্ধে সচেতনতা সৃষ্টি করা।

(iii) মেয়েদের নেতৃত্ব ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ দেওয়া।

(iv) নিরাপদ ও সহায়ক শিক্ষার পরিবেশ তৈরি করা।

(v) নারী অধিকার ও আইন সম্পর্কে শিক্ষা দেওয়া।

(vi) বৃত্তিমূলক ও দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষার ব্যবস্থা করা।

(vii) আত্মরক্ষা ও আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধির প্রশিক্ষণ দেওয়া।

(viii) যৌন হয়রানি ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

(ix) সফল নারীদের জীবন ও অবদান সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের জানানো।

প্রশ্নাবলী

১। পরিবেশ কি? এর উপাদান কি কি?

উত্তরঃ কোনো একটি জীবের অস্তিত্ব, বৃদ্ধি ও বিকাশের উপর ক্রিয়াশীল সামগ্রিক পারিপার্শ্বিকতাকে পরিবেশ বলা হয়। সহজ কথায়, আমাদের চারপাশে যা কিছু আছে—গাছপালা, নদীনালা, আলো-বাতাস, বাড়িঘর, মানুষ ও অন্যান্য সজীব ও নির্জীব উপাদান—সবকিছুর সমন্বিত রূপই হলো পরিবেশ।

পরিবেশের উপাদান মূলত দুটি ভাগে ভাগ করা যায়:

(i) জীবজ বা সজীব উপাদান।

(ii) অজীবজ বা ভৌত উপাদান।

২। পরিবেশবিদ্যা কি?

উত্তরঃ পরিবেশবিদ্যা হলো একটি আন্তঃবিষয়ক জ্ঞানচর্চার ক্ষেত্র, যা মানুষ ও তার পরিবেশের মধ্যকার জটিল পারস্পরিক সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করে। এটি প্রাকৃতিক বিজ্ঞান (জীববিজ্ঞান, রসায়ন, পদার্থবিজ্ঞান, ভূবিদ্যা), সমাজবিজ্ঞান, অর্থনীতি এবং নীতিশাস্ত্রের মেলবন্ধনে গঠিত। এর মূল লক্ষ্য হলো পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করা, পরিবেশগত বিভিন্ন সমস্যা (যেমন দূষণ, জলবায়ু পরিবর্তন) এবং টেকসই বা সুস্থিত উন্নয়ন সম্পর্কে মানুষকে সচেতন ও শিক্ষিত করে তোলা।

৩। পরিবেশ বিদ্যার উদ্দেশ্যসমূহ কি?

উত্তরঃ পরিবেশ বিদ্যার উদ্দেশ্যসমূহ:

(ক) জ্ঞানমূলক উদ্দেশ্য: আমাদের চারপাশের পরিবেশ এবং বিভিন্ন পরিবেশগত সমস্যা সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান ও সচেতনতা লাভ করা।

(খ) অনুভূতিমূলক উদ্দেশ্য: পরিবেশের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব, সংবেদনশীলতা এবং প্রাকৃতিক ভারসাম্য বজায় রাখার জন্য নৈতিক মূল্যবোধ ও দায়িত্ববোধ গড়ে তোলা।

(গ) আচরণগত উদ্দেশ্য: পরিবেশ সুরক্ষায় সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করা, পরিবেশবান্ধব আচরণ রপ্ত করা এবং সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন করা।

৪। একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিবেশ বিদ্যা প্রদানের জন্য কি কি নীতি অনুসরণ করা উচিত?

উত্তরঃ একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরিবেশ শিক্ষা প্রদানের জন্য নিম্নোক্ত নীতিসমূহ অনুসরণ করা উচিত:

(ক) সার্বিক দৃষ্টিভঙ্গি: পরিবেশের প্রাকৃতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক, প্রযুক্তিগত, সাংস্কৃতিক ও নান্দনিক দিকগুলোর সামগ্রিক রূপ শিক্ষার্থীদের সামনে তুলে ধরা।

(খ) আজীবন শিক্ষণ: প্রাক-প্রাথমিক স্তর থেকে শুরু করে আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক শিক্ষার প্রতিটি স্তরে পরিবেশ শিক্ষা অব্যাহত রাখা।

(গ) আন্তঃবিষয়ক পদ্ধতি: পরিবেশবিদ্যাকে কেবল একটি পৃথক বিষয় হিসেবে না রেখে প্রতিটি সাধারণ বিষয়ের সাথে সমন্বিত করে শেখানো।

(ঘ) স্থানীয় থেকে বৈশ্বিক সংযোগ: শিক্ষার্থীদের প্রথমে নিজের স্থানীয় পরিবেশগত সমস্যা বুঝতে সাহায্য করা এবং ক্রমান্বয়ে বৈশ্বিক পরিবেশগত সংকটের সাথে তার যোগসূত্র স্থাপন করা।

(ঙ) সক্রিয় অংশগ্রহণ: তাত্ত্বিক শিক্ষার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের বাস্তবসম্মত প্রজেক্ট ওয়ার্ক, পরিবেশ সমীক্ষা এবং মাঠ পরিদর্শনের কাজে যুক্ত করা।

৫। পরিবেশবিদ্যার পরিধি মধ্যে কোন কোন ক্ষেত্র অন্তর্ভুক্ত?

উত্তরঃ পরিবেশবিদ্যার পরিধি অত্যন্ত ব্যাপক এবং বহুমাত্রিক। এর মধ্যে মূলত নিম্নোক্ত ক্ষেত্রগুলো অন্তর্ভুক্ত:

(ক) বাস্তুবিদ্যা বা পরিবেশবিজ্ঞান: জীবজগতের সাথে জড় পরিবেশের মিথস্ক্রিয়া ও বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য।

(খ) প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবস্থাপনা: বন, পানি, খনিজ, শক্তি ও জীববৈচিত্র্যের সংরক্ষণ ও টেকসই ব্যবহার।

(গ) পরিবেশ রসায়ন ও প্রকৌশল: দূষণ নিয়ন্ত্রণ (বায়ু, পানি, মাটি দূষণ), বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং পরিবেশবান্ধব সবুজ প্রযুক্তি উদ্ভাবন।

(ঘ) পরিবেশগত আইন ও নীতি: পরিবেশ সুরক্ষায় জাতীয় ও আন্তর্জাতিক আইন এবং জলবায়ু নীতি।

(ঙ) সামাজিক পরিবেশ ও মানব বসতি: জনসংখ্যা বৃদ্ধি, নগরায়ন, এবং মানুষের জীবনযাত্রার মানের সাথে পরিবেশের সম্পর্ক।

৬। জনসম্পর্কিত শিক্ষার ধারণা কে Develop করেন?

উত্তরঃ জনসম্পর্কিত শিক্ষার ধারণাটি প্রথম প্রবর্তন করেন যুক্তরাষ্ট্রের কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এস.আর.ওয়াইল্যান্ড ১৯৩৫ সালে।

৭। জনসম্পর্কিত শিক্ষার সংজ্ঞা কি? এর উদ্দেশ্যাবলী কি কি?

উত্তরঃ জনসংখ্যা বা জনসম্পর্কিত শিক্ষা হলো এমন একটি শিক্ষামূলক প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের জনসংখ্যা বৃদ্ধি, জনসংখ্যার গতিপ্রকৃতি (যেমন জন্মহার, মৃত্যুহার, ঘনত্ব, পরিযান) এবং এর সাথে মানুষের জীবনযাত্রার মান ও প্রাকৃতিক পরিবেশের পারস্পরিক সম্পর্ক সম্পর্কে সচেতন করা হয়।

উদ্দেশ্যাবলী:

(ক) শিক্ষার্থীদের জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার এবং জনসংখ্যা বিস্ফোরণের নেতিবাচক প্রভাব সম্পর্কে সচেতন করা। 

(খ) জনসংখ্যা বৃদ্ধি কীভাবে খাদ্য, বাসস্থান, শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং পরিবেশের উপর চাপ সৃষ্টি করে তা বোঝানো। 

(গ) ছোট পরিবারের গুরুত্ব এবং জীবনযাত্রার মান উন্নত করার উপায়সমূহ শেখানো। 

(ঘ) শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রজনন স্বাস্থ্য, পরিবার পরিকল্পনা এবং জেন্ডার সমতা সম্পর্কে সঠিক মনোভাব তৈরি করা।

৮। কি কারণে জনসম্পর্কিত শিক্ষার প্রয়োজন?

উত্তরঃ জনসম্পর্কিত শিক্ষার প্রয়োজন:

(ক) জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ: অতিরিক্ত জনসংখ্যা বৃদ্ধি বা জনসংখ্যা বিস্ফোরণ রোধ করে পরিকল্পিত ও ছোট পরিবার গঠনে সচেতনতা তৈরি করা।

(খ) প্রাকৃতিক সম্পদ ও পরিবেশ রক্ষা: সীমিত প্রাকৃতিক সম্পদের (যেমন—মাটি, পানি, অরণ্য) অবক্ষয় রোধ করা এবং পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখা।

(গ) জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন: পুষ্টিকর খাদ্য, উন্নত চিকিৎসা, ভালো বাসস্থান এবং মানসম্মত শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টির মাধ্যমে মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত করা।

(ঘ) মা ও শিশুর স্বাস্থ্য রক্ষা: প্রজনন স্বাস্থ্য সম্পর্কে সঠিক ধারণা দিয়ে মা ও শিশুর পুষ্টি নিশ্চিত করা এবং অকাল মৃত্যুহার কমানো।

(ঙ) মানবসম্পদ উন্নয়ন: দেশের জনসংখ্যাকে দেশের বোঝা না করে শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর করা।

৯। জনসম্পর্কিত বিদ্যা শিক্ষার বিভিন্ন স্তরে কি ভাবে প্রদান করা যায়?

উত্তরঃ শিক্ষার বিভিন্ন স্তরে জনসংখ্যা বা জনসম্পর্কিত শিক্ষা প্রদানের উপায়সমূহ:

(ক) প্রাথমিক স্তর: এই স্তরে আলাদা বিষয় হিসেবে না রেখে বাংলা, পরিবেশ পরিচিতি বা সমাজবিজ্ঞান বইয়ের বিভিন্ন গল্পের মাধ্যমে ছোট পরিবারের সুখী চিত্র, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং স্বাস্থ্য সচেতনতার প্রাথমিক ধারণা দেওয়া যায়।

(খ) মাধ্যমিক স্তর: এই স্তরে বিজ্ঞান, ভূগোল এবং সমাজবিজ্ঞান বিষয়ের সাথে জনসংখ্যা বৃদ্ধি, জন্ম-মৃত্যুহার, জনসংখ্যার ঘনত্ব, পরিবেশের উপর এর ক্ষতিকর প্রভাব এবং প্রজনন স্বাস্থ্যের বিষয়গুলো পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করে শেখানো যায়।

(গ) উচ্চশিক্ষা স্তর: কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় স্তরে এটিকে একটি স্বাধীন কোর্স (যেমন B.Ed. বা স্নাতক স্তরের ঐচ্ছিক বিষয়) হিসেবে রাখা যেতে পারে, যেখানে জনসংখ্যা তত্ত্ব, ডেমোগ্রাফি,জনসংখ্যা নীতি এবং গবেষণামূলক কাজের সুযোগ থাকবে।

১০। দৈহিক শিক্ষা কি?

উত্তরঃ দৈহিক শিক্ষা হলো সাধারণ শিক্ষা ব্যবস্থার একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ,যা সুপরিকল্পিত শারীরিক ক্রিয়াকলাপ, খেলাধুলা, ব্যায়াম এবং শরীরচর্চার মাধ্যমে একজন ব্যক্তির শারীরিক সক্ষমতা, মানসিক ও বৌদ্ধিক দৃঢ়তা, আবেগীয় ভারসাম্য এবং সামাজিক গুণাবলির সর্বাঙ্গীণ বিকাশ সাধন করে।

১১। দৈহিক শিক্ষার আধুনিক ধারণা প্রাচীনকালের ধারণা হতে কি ভিন্ন?

উত্তরঃ আধুনিক কালে এই ধারণা অনেক বিস্তৃত। আধুনিক ধারণা অনুযায়ী, শারীরিক শিক্ষা কেবল শরীরচর্চা বা কসরত নয় এটি একটি সুপরিকল্পিত শিক্ষামূলক প্রক্রিয়া যা দৈহিক সুস্থতার পাশাপাশি শিক্ষার্থীর মানসিক বিকাশ, সামাজিক গুণাবলি (নেতৃত্ব, সহযোগিতা) এবং আবেগীয় ভারসাম্য অর্জনে সাহায্য করে। আধুনিক শিক্ষায় এটিকে শিক্ষার্থীর সর্বাঙ্গীণ বিকাশ নিশ্চিত করার অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে গণ্য করা হয়।

প্রাচীনকালে শারীরিক বা দৈহিক শিক্ষা বলতে কেবল শরীর সম্বন্ধীয় শিক্ষা, কসরত বা ব্যায়ামকে বোঝানো হতো। এর মূল লক্ষ্য ছিল কেবল শারীরিক বিকাশ এবং সামরিক যুদ্ধকৌশলে পারদর্শিতা অর্জন করা (যেমন—প্রাচীন গ্রিস বা রোমে যুদ্ধপ্রস্তুতি)।

১২। দৈহিক শিক্ষার কিছু উদ্দেশ্যের উল্লেখ কর।

উত্তরঃ শারীরিক বা দৈহিক শিক্ষার প্রধান উদ্দেশ্যগুলো হলো:

(i) শারীরিক সক্ষমতা অর্জন: শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সুস্থ রাখা, পেশি ও হাড় মজবুত করা এবং কর্মক্ষমতা বাড়ানো।

(ii) মানসিক বিকাশ: তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা বাড়ানো, মনোযোগ ও মস্তিষ্কের কার্যকারিতা উন্নত করা।

(ii) সামাজিক গুণাবলি অর্জন: দলগত খেলাধুলার মাধ্যমে নেতৃত্ব, সহনশীলতা, শৃঙ্খলাবোধ ও পারস্পরিক সহযোগিতা বজায় রাখতে শেখা।

(iii) আবেগীয় সুসমন্বয়: রাগ, ভয়, জয়-পরাজয়ের আনন্দ-বেদনাকে স্বাভাবিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করার মানসিক শক্তি গড়ে তোলা।

(iv) অবসর সময়ের সদ্ব্যবহার: গঠনমূলক শরীরচর্চা ও খেলাধুলার মাধ্যমে অবসর সময়কে সুন্দর ও সুস্থ বিনোদনে রূপ দেওয়া।

১৩। দৈহিক শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা কি?

উত্তরঃ দৈহিক শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা:

(i) সুস্বাস্থ্য রক্ষা: “সুস্থ দেহে সুন্দর মন”—শারীরিক সুস্থতা ছাড়া পড়াশোনা বা কাজে পূর্ণ মনোযোগ দেওয়া সম্ভব নয়। এটি দেহকে রোগমুক্ত ও কর্মক্ষম রাখে।

(ii) মানসিক চাপ ও ক্লান্তি দূরীকরণ: পড়াশোনার অতিরিক্ত একঘেয়েমি এবং প্রযুক্তির ব্যবহার থেকে চোখ সরিয়ে মানসিক রিফ্রেশমেন্টের জন্য খেলাধুলার বিকল্প নেই।

(iii) চরিত্র ও ব্যক্তিত্ব গঠন: নিয়মানুবর্তিতা, কঠোর পরিশ্রমের মানসিকতা এবং নিয়মের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে সুনাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে এটি সাহায্য করে।

(iv) বিপথগামিতা রোধ: বিশেষ করে বয়ঃসন্ধিকালের ছেলেমেয়েদের অলসতা এবং মাদকাসক্তি বা অন্যান্য অনৈতিক কাজ থেকে দূরে রাখতে এটি কাজ করে।

১৪। কোন বয়সে দৈহিক শিক্ষা শুরু করা সম্ভব?

উত্তরঃ দৈহিক শিক্ষা মূলত অতি শৈশবকাল – জন্মের পর থেকেই) শুরু করা সম্ভব।

১৫। মূল্যবোধ কি? এর সংজ্ঞা দাও।

উত্তরঃ মূল্যবোধ হলো মানুষের চিন্তা-ভাবনা, বিশ্বাস, নীতি ও আদর্শের এমন এক সূচক বা মানদণ্ড যা সমাজ স্বীকৃত ভালো-মন্দ, ঠিক-বেঠিক, কাঙ্ক্ষিত ও অনাকাঙ্ক্ষিত বিষয়ের মধ্যে পার্থক্য গড়ে দেয় এবং মানুষের সামগ্রিক আচরণকে পরিচালিত করে।

সমাজবিজ্ঞানী ডেভিড পোপেনো: “ভালো-মন্দ, ঠিক-বেঠিক, কাঙ্ক্ষিত-অনাকাঙ্ক্ষিত সম্পর্কে সমাজের সদস্যদের যে সাধারণ ধারণা, তার নামই হলো মূল্যবোধ।”

১৬। মূল্যবোধের শিক্ষা কি? এর বৈশিষ্ট্য কি কি?

উত্তরঃ মূল্যবোধের শিক্ষা হলো এমন একটি শিক্ষামূলক প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে নৈতিকতা, আদর্শ, ভালো-মন্দ বিচার করার ক্ষমতা, সামাজিক দায়িত্ববোধ এবং মানবিক গুণাবলির (যেমন সততা, সহমর্মিতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা) বিকাশ ঘটানো হয়। এটি কেবল তাত্ত্বিক তথ্য বা পুঁথিগত জ্ঞান অর্জন নয়, বরং অর্জিত জ্ঞানকে বাস্তব জীবনে প্রয়োগ করে একজন মানবিক ও সংবেদনশীল সুনাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠার শিক্ষা।

মূল্যবোধের শিক্ষার বৈশিষ্ট্যসমূহ:

(i) নৈতিকতা ও আদর্শের বিকাশ: এই শিক্ষা মানুষের মধ্যে অন্তর্নিহিত নৈতিক গুণাবলি ও সৎ চরিত্র গঠনে মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করে।

(ii) আচরণ নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনা: এটি মানুষের প্রবৃত্তি ও দৈনন্দিন আচার-আচরণকে মার্জিত করে এবং অন্যায় ও ক্ষতিকর সিদ্ধান্ত থেকে দূরে রাখে।

(iii) সামাজিক কল্যাণ ও দায়িত্ববোধ: সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রতি নাগরিকের কর্তব্য মনে করিয়ে দেয় এবং সবার সাথে মিলেমিশে থাকার সামাজিক সংহতি বজায় রাখতে শেখায়।

(iv) পরিবর্তনশীলতা ও অভিযোজন: মূল্যবোধের শিক্ষা সমাজ ও সংস্কৃতির পরিবর্তনের সাথে তাল মিলিয়ে শিক্ষার্থীদের পরিবর্তনশীল পরিবেশের সাথে মানিয়ে নিতে শেখায়।

১৭। মূল্যবোধের শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা ও গুরুত্ব Highlight কর।

উত্তরঃ মূল্যবোধের শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা ও গুরুত্ব:

(i) সুগঠিত চরিত্র ও ব্যক্তিত্ব গঠন: শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য কেবল ডিগ্রি অর্জন বা চাকরি পাওয়া নয়, বরং মানুষের সুপ্ত মানবিক গুণাবলির বিকাশ ঘটানো। মূল্যবোধের শিক্ষা শিক্ষার্থীর সৎ চরিত্র ও আদর্শ ব্যক্তিত্ব গড়ে তোলে।

(ii) সামাজিক অবক্ষয় ও অপরাধ দূরীকরণ: সমাজে বেড়ে চলা অনৈতিকতা,দুর্নীতি,সহিংসতা, লিঙ্গবৈষম্য এবং অসহিষ্ণুতা দূর করতে এই শিক্ষা চমৎকার রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করে। এটি তরুণ প্রজন্মকে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রাখে।

(iii) পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও সহমর্মিতা তৈরি: এই শিক্ষা শিক্ষার্থীদের অপরের মতামত, ধর্ম, বর্ণ এবং সংস্কৃতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে শেখায়। এটি সমাজ ও পরিবারে পারস্পরিক সহমর্মিতা এবং ভালোবাসার সম্পর্ক টিকিয়ে রাখে।

(iv) সুশাসন ও আদর্শ নাগরিক সৃষ্টি: মূল্যবোধ সম্পন্ন নাগরিক দেশের সম্পদ। মূল্যবোধের শিক্ষা শিক্ষার্থীদের অধিকার ও কর্তব্যের প্রতি সচেতন করে এবং আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে উদ্বুদ্ধ করে, যা দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সাহায্য করে।

১৮। বিদ্যালয়ে কি ভাবে মূল্যবোধের শিক্ষা দেওয়া হয়?

উত্তরঃ বিদ্যালয়ে মূলত বিভিন্ন উপায়ে শিক্ষার্থীদের মূল্যবোধের শিক্ষা দেওয়া হয়:

(i) পাঠ্যক্রমের সমন্বয়: ভাষা, সাহিত্য, ইতিহাস ও সমাজবিজ্ঞানের মতো বিষয়গুলোতে মহামানবদের জীবনী, শিক্ষণীয় নৈতিক গল্প এবং সামাজিক মূল্যবোধের উপাদানগুলো অন্তর্ভুক্ত করে পাঠদান করা হয়।

(ii) শিক্ষকের আদর্শ আচরণ: শিক্ষকের সততা, ধৈর্য, নিরপেক্ষতা ও দায়িত্ববোধ দেখে শিক্ষার্থীরা অবচেতনভাবেই তা নিজের জীবনে ধারণ করতে শেখে। শিক্ষকের আচরণই বিদ্যালয়ের সবচেয়ে বড় মূল্যবোধের পাঠশালা।

(iii) সহ-পাঠ্যক্রমিক কার্যক্রম: দলগত খেলাধুলা, স্কাউটিং, গার্লস গাইড, বিতর্ক ক্লাব, রক্তদান বা সমাজসেবামূলক কার্যক্রমে অংশগ্রহণের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা দলগত কাজের মানসিকতা, নেতৃত্ব ও সহমর্মিতার শিক্ষা পায়।

(iv) প্রার্থনা সভা ও সুবচন পাঠ: প্রতিদিন প্রাত্যহিক সমাবেশের মাধ্যমে দিনের শুরুতে ঈশ্বর বা প্রকৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করা, জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা এবং নীতিবাক্য বা সুবচন পাঠের মাধ্যমে ইতিবাচক মানসিকতা তৈরি করা হয়।

১৯। ক্ষমতায়ন কি?

উত্তরঃ ক্ষমতায়ন হলো এমন একটি ধারাবাহিক ও বহুমুখী প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে কোনো অনগ্রসর, অবহেলিত বা সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ার বাইরে থাকা ব্যক্তি বা গোষ্ঠী নিজের অধিকার সম্পর্কে সচেতন হয়ে ওঠে এবং নিজের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিজেই নেওয়ার যোগ্যতা ও কর্তৃত্ব অর্জন করে।

২০। মহিলাদের/মেয়েদের ক্ষমতায়নের সংজ্ঞা দাও। মহিলাদের ক্ষমতায়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে

কেন মনে করা হয়।

উত্তরঃ মহিলাদের ক্ষমতায়ন বলতে উপযুক্ত শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও সুযোগের মাধ্যমে সমাজে নারীদের এমন এক মর্যাদাপূর্ণ ও স্বাধীন অবস্থানে উন্নীত করার প্রক্রিয়াকে বোঝায়, যেখানে তারা কোনো পুরুষতান্ত্রিক বা বাহ্যিক চাপ ছাড়াই নিজের জীবন, শিক্ষা, পেশা এবং সামাজিক-রাজনৈতিক বিষয়গুলোতে স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারে।

নারীর ক্ষমতায়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করার কারণসমূহ:

(i) লিঙ্গ সমতা ও মানবাধিকার রক্ষা: নারী ও পুরুষ সমাজের দুটি সমান অংশ। অর্ধেক জনসংখ্যাকে অবহেলিত রেখে কোনো সমাজ এগিয়ে যেতে পারে না। তাই মৌলিক মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা ও লিঙ্গবৈষম্য দূর করতে নারীর ক্ষমতায়ন জরুরি।

(ii) টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়ন: নারীরা যখন কর্মক্ষেত্রে প্রবেশ করে ও উদ্যোক্তা হয়, তখন দেশের সামগ্রিক উৎপাদনশীলতা ও জিডিপি বহুগুণ বৃদ্ধি পায়। পরিবারের আয় বাড়ার ফলে দারিদ্র্য দূর হয়।

(iii) সুস্থ ও শিক্ষিত ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গড়ে তোলা: একজন শিক্ষিত ও ক্ষমতাবান মা তার সন্তানদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের প্রতি অনেক বেশি যত্নশীল হন। বলা হয়ে থাকে,”একটি মেয়েকে শিক্ষিত করার অর্থ হলো একটি পুরো পরিবার তথা একটি প্রজন্মকে শিক্ষিত করা।”

২১। মহিলাদের ক্ষমতায়নের উদ্দেশ্যসমূহ উল্লেখ কর।

উত্তরঃ মহিলাদের ক্ষমতায়নের উদ্দেশ্যসমূহ:

(i) অর্থনৈতিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করা: নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে তোলা, কর্মসংস্থানের সমান সুযোগ দেওয়া এবং বিনা জামানতে ক্ষুদ্র ঋণ (যেমন—যোজনা) ও স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মাধ্যমে তাদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলা।

(ii) গুণগত শিক্ষার প্রসার: সমাজে প্রতিটি কন্যাশিশুর জন্য সমান এবং গুণগত শিক্ষার অধিকার সুনিশ্চিত করা এবং তাদের বৃত্তিমূলক ও প্রযুক্তিগত দক্ষতায় পারদর্শী করে তোলা।

(iii) সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা প্রদান: পারিবারিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক এবং রাজনৈতিক ক্ষেত্রসহ জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে নারীদের নিজস্ব সিদ্ধান্ত নিজে নেওয়ার অধিকার ও ক্ষমতা প্রদান করা।

(iv)নিরাপত্তা ও আইনি সুরক্ষা: লিঙ্গভিত্তিক বৈষম্য, পারিবারিক সহিংসতা, যৌতুক প্রথা, যৌন হয়রানি এবং বাল্যবিবাহের মতো সামাজিক ব্যাধি থেকে নারীদের সম্পূর্ণ আইনি ও সামাজিক সুরক্ষা দেওয়া।

২২। ভারতীয় শিক্ষা ব্যবস্থায় মেয়েদের অবস্থানের Out line দাও।

উত্তরঃ ভারতীয় শিক্ষাব্যবস্থায় মেয়েদের অবস্থান এখন একটি পরিবর্তন ও বিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। 

Outline হলো:

(ক) ইতিবাচক বা প্রগতিশীল দিকসমূহ:

(i) সাক্ষরতার ক্রমবর্ধমান হার: স্বাধীনতার পর থেকে ভারতে নারী সাক্ষরতার হার ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০১১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী নারী সাক্ষরতার হার ৬৫.৪৬% (যদিও তা পুরুষ সাক্ষরতার হার ৮২.১৪%-এর তুলনায় কিছুটা কম, কিন্তু এই ব্যবধান ক্রমান্বয়ে কমছে)।

(ii) প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে অন্তর্ভুক্তির হার: ‘সর্বশিক্ষা অভিযান’, ‘শিক্ষা অধিকার আইন, ২০০৯’ এবং ‘বেটি বাঁচাও বেটি পড়াও’ অভিযানের মতো বড় সরকারি উদ্যোগগুলোর ফলে প্রাথমিক স্তরে মেয়েদের স্কুলে ভর্তির হার ছেলেদের প্রায় কাছাকাছি পৌঁছেছে।

(iii) উচ্চশিক্ষায় অংশগ্রহণ: সাম্প্রতিক সময়ে কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় স্তরেও মেয়েদের Gross Enrollment Ratio উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। 

(খ) প্রধান চ্যালেঞ্জ ও সমস্যাসমূহ:

(i) স্কুল ছুটের উচ্চ হার: প্রাথমিক স্তরে ভর্তির হার সন্তোষজনক হলেও মাধ্যমিক এবং উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে এসে মেয়েদের স্কুল ছুটের হার আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যায়।    

(ii) পরিকাঠামোগত দুর্বলতা: গ্রামীণ এলাকার অনেক স্কুলে মেয়েদের জন্য পৃথক এবং নিরাপদ স্যানিটেশন বা শৌচাগারের অভাব রয়েছে, যা বয়ঃসন্ধিকালের মেয়েদের স্কুল থেকে দূরে চলে যাওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ।

(iii) নিরাপত্তাহীনতা ও দূরত্ব: বাড়ি থেকে স্কুলের দূরত্ব বেশি হওয়া এবং যাতায়াতের পথে সামাজিক নিরাপত্তার অভাবের কারণে অনেক রক্ষণশীল পরিবার মেয়েদের পড়াশোনা বন্ধ করে দেয়।

২৩। মহিলাদের ক্ষমতায়নের জন্য কিছু Measures দাও।

উত্তরঃ মহিলাদের ক্ষমতায়নের জন্য কিছু Measures:

(ক) শিক্ষাগত পদক্ষেপ:

(i) বিনামূল্যে ও বাধ্যতামূলক শিক্ষা: দেশের প্রতিটি মেয়ে শিশুর জন্য দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষা সম্পূর্ণ অবৈতনিক করা এবং শিক্ষাসামগ্রী বিনামূল্যে নিশ্চিত করা।

(ii) বান্ধব স্কুল পরিবেশ গঠন: প্রতিটি স্কুলে মেয়েদের জন্য সুরক্ষিত পৃথক শৌচাগার স্থাপন এবং স্যানিটারি ন্যাপকিন সরবরাহের মতো স্বাস্থ্যবিধিসম্মত পদক্ষেপ নিশ্চিত করা।

(খ) অর্থনৈতিক পদক্ষেপ:

(i) ক্ষুদ্র ঋণ ও আর্থিক সহায়তা: গ্রামীণ ও শহর অঞ্চলের নারীদের জন্য কোনো জামানত ছাড়া স্বল্প সুদে ব্যাংক ঋণের ব্যবস্থা করা, যাতে তারা নিজস্ব ব্যবসা শুরু করতে পারেন।

(ii) সমান কাজের সমান মজুরি: পুরুষ ও নারীর কাজের পারিশ্রমিক বা বেতনের বৈষম্য দূর করতে কঠোর আইনি নজরদারি জোরদার করা।

(গ) সামাজিক ও আইনি পদক্ষেপ:

(i) কঠোর আইনের প্রয়োগ: বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ আইন, যৌতুক নিষেধাজ্ঞা আইন এবং পারিবারিক সহিংসতা প্রতিরোধ আইনের কঠোর ও দ্রুত শাস্তিযোগ্য বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা।

(ii) সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন: জেন্ডার সমতার বিষয়ে পুরুষ এবং কিশোরদের সংবেদনশীল করতে বিশেষ সামাজিক ক্যাম্পেইন পরিচালনা করা।

NEW VIDEO CLASS

Subject Ka Complete Video Solution Dekhein

Step-by-step easy concept explanation aur full questions Answer ke liye watch karein ya app download karein:

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Scroll to Top