Class 12 Education Chapter 1 ভারত এবং আসামে মাধ্যমিক শিক্ষার বিকাশ Question Answer Bengali Medium As Per AHSEC New Syllabus. to each chapter is provided in the list so that you can easily browse through different chapters Class 12 Education Chapter 1 ভারত এবং আসামে মাধ্যমিক শিক্ষার বিকাশ Solutions and select need one. Class 12 Education Chapter 1 ভারত এবং আসামে মাধ্যমিক শিক্ষার বিকাশ Notes Download PDF. AHSEC Class 12 Education Question Answer Bengali Medium.
Class 12 Education Chapter 1 ভারত এবং আসামে মাধ্যমিক শিক্ষার বিকাশ
Also, you can read the NCERT book online in these sections Solutions by Expert Teachers as per Central Board of Secondary Education (CBSE) Book guidelines. AHSEC Class 12 Education Chapter 1 ভারত এবং আসামে মাধ্যমিক শিক্ষার বিকাশ Solutions are part of All Subject Solutions. Here we have given AHSEC Class 12 Education Notes Bengali Medium for All Chapters, You can practice these here.
ভারত এবং আসামে মাধ্যমিক শিক্ষার বিকাশ (স্বাধীনোত্তর যুগ)
Chapter: 1
| সক্রিয়তা ১ |
১। ভারতবর্ষ কোন সালে স্বাধীন হয়?
উত্তরঃ ভারতবর্ষ ১৯৪৭ সালে স্বাধীন হয়।
২। মাধ্যমিক শিক্ষা আয়োগ কখন গঠিত হয়?
উত্তরঃ মাধ্যমিক শিক্ষা আয়োগ ১৯৫২ সালে গঠিত হয়।
৩। মাধ্যমিক শিক্ষা আয়োগের সভাপতি কে ছিলেন?
উত্তরঃ মাধ্যমিক শিক্ষা আয়োগের সভাপতি ছিলেন মাদ্রাজ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ডঃ লক্ষ্মণস্বামী মুদালিয়ার।
8। মাধ্যমিক শিক্ষা আয়োগের স্থিরীকৃত শিক্ষার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য কি কি?
উত্তরঃ মাধ্যমিক শিক্ষা আয়োগের স্থিরীকৃত শিক্ষার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যগুলি হলো:
(i) ব্যক্তিত্বের বিকাশ।
(ii) নেতৃত্ব প্রদানের প্রশিক্ষণ।
(iii) গণতান্ত্রিক নাগরিকত্বের ধারণা।
(iv) চরিত্র গঠন এবং বৃত্তিমূলক দক্ষতা।
৫। মুদালিয়ার আয়োগ (১৯৫২-৫৩) কর্তৃক উল্লেখ করা শিক্ষার উদ্দেশ্য সর্ম্পকে সংক্ষিপ্তাকারে লিখ।
উত্তরঃ মুদালিয়ার আয়োগ (১৯৫২-৫৩) কর্তৃক উল্লিখিত শিক্ষার উদ্দেশ্যসমূহ হলো:
(i) গণতান্ত্রিক নাগরিকত্বের বিকাশ: নাগরিকদের মধ্যে শৃঙ্খলা, সহনশীলতা, দেশপ্রেম এবং সহযোগিতার আদর্শ গড়ে তোলা।
(ii) পেশাগত দক্ষতা ও কর্মক্ষমতা: বৃত্তিমূলক শিক্ষার মাধ্যমে ছাত্রদের স্বাবলম্বী করে তোলা।
(iii) ব্যক্তিত্বের বিকাশ: সৃজনশীল শক্তির প্রকাশ এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ করা।
(iv) নেতৃত্বের শিক্ষা: সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে দায়িত্ব গ্রহণের উপযোগী করে গড়ে তোলা।
| সক্রিয়তা ২ |
১। কোঠারী আয়োগ দ্বারা নির্ধারিত জাতীয় শিক্ষার লক্ষ্যসমূহ উল্লেখ কর।
উত্তরঃ কোঠারী আয়োগ দ্বারা নির্ধারিত জাতীয় শিক্ষার লক্ষ্যসমূহ হলো:
(i) শিক্ষা ও উৎপাদনশীলতা।
(ii) সামাজিক ও জাতীয় সংহতি।
(iii) শিক্ষা ও আধুনিকীকরণ এবং সামাজিক।
(iv) নৈতিক ও আধ্যাত্মিক মূল্যবোধ।
২। ১০+২+৩ সূত্রটি বিশ্লেষণ কর।
উত্তরঃ ১০+২+৩ সূত্রটি হলো একটি শিক্ষাগত কাঠামো যেখানে:
১০ বছর: সাধারণ বিদ্যালয় শিক্ষা (প্রাথমিক ও মাধ্যমিক)।
+২ বছর: উচ্চতর মাধ্যমিক শিক্ষা।
+৩ বছর: স্নাতক স্তরের ডিগ্রি কোর্স।
৩। আয়োগ কয় বৎসর ব্যাপী বিদ্যালয় শিক্ষার উল্লেখ করেছেন।
উত্তরঃ কোঠারী আয়োগ মোট ১০ থেকে ১২ বছর ব্যাপী বিদ্যালয় শিক্ষার উল্লেখ করেছেন।
৪। বৃত্তিমূলক শিক্ষা সর্ম্পকে কোঠারী আয়োগের অভিমত কি ছিল?
উত্তরঃ বৃত্তিমূলক শিক্ষা সম্পর্কে কোঠারী আয়োগের অভিমত ছিল যে, মাধ্যমিক স্তরে শিক্ষাখাতে তালিকাভুক্ত ছাত্রছাত্রীদের অর্ধেককে বৃত্তিমূলক শিক্ষার আওতায় আনা প্রয়োজন।
৫। ‘কর্ম অভিজ্ঞতা’ বলতে কি বোঝ?
উত্তরঃ’ কর্ম অভিজ্ঞতা’ বলতে বোঝায় ঘর, বিদ্যালয়, কারখানা বা অন্য কোনো উৎপাদনমুখী কর্মে সজ্ঞানে অংশগ্রহণ করা। এটি শিক্ষার একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে গণ্য করা হয় যাতে মানসিক ও কায়িক শ্রমের পার্থক্য দূর হয়।
| সক্রিয়তা ৩ |
১। কোন বৎসরে নূতন শিক্ষানীতি সংসদে অনুমোদিত হয়?
উত্তরঃ নূতন জাতীয় শিক্ষানীতি ১৯৮৬ সালের মে মাসে সংসদে অনুমোদিত হয়।
২। ‘সমতার জন্য শিক্ষা’ বিষয়ে নূতন জাতীয় শিক্ষানীতির অভিব্যক্তি কি ছিল?
উত্তরঃ ‘সমতার জন্য শিক্ষা’ বিষয়ে নতুন জাতীয় শিক্ষানীতির অভিব্যক্তি ছিল অসাম্য দূর করা এবং অবহেলিত গোষ্ঠীর (যেমন- মহিলা, তফশিলী জাতি ও উপজাতি, সংখ্যালঘু এবং প্রতিবন্ধী) শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করা।
৩। ‘শৈশবের পরিচর্যা ও শিক্ষা’ বলতে তুমি কি বোঝ?
উত্তরঃ ‘শৈশবের পরিচর্যা ও শিক্ষা’ বলতে ৬ বছরের কম বয়সী শিশুদের শারীরিক, মানসিক,নৈতিক ও আবেগিক বিকাশের সামগ্রিক পরিচর্যাকে বোঝায়।
৪। নূতন শিক্ষানীতির (১৯৮৬)-র প্রধান বৈশিষ্ট্য গুলি সংক্ষিপ্তাকারে লিখ।
উত্তরঃ নূতন শিক্ষানীতি (১৯৮৬)-র প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ হলো:
(i) জাতীয় শিক্ষা কাঠামো (১০+২+৩), সমতার জন্য শিক্ষা।
(ii) কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার প্রসার।
(iii) উচ্চশিক্ষার আধুনিকীকরণ।
(iv) মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা এবং নবোদয় বিদ্যালয় স্থাপন।
৫। ‘অপারেশন ব্ল্যাকবোর্ড কি?
উত্তরঃ ‘অপারেশন ব্ল্যাকবোর্ড’ হলো প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে ন্যূনতম প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা (যেমন- দুটি বড় কামরা, ব্ল্যাকবোর্ড, মানচিত্র, চার্ট এবং খেলার সামগ্রী) প্রদানের একটি প্রকল্প।
৬। ‘নবোদয় বিদ্যালয়ের বৈশিষ্ট্যসমূহ উল্লেখ কর।
উত্তরঃ নবোদয় বিদ্যালয়ের বৈশিষ্ট্যসমূহ হলো:
(i) এগুলি গ্রামীণ এলাকার মেধাবী শিশুদের জন্য স্থাপিত আবাসিক বিদ্যালয়।
(ii) এখানে শিক্ষা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে প্রদান করা হয়।
(iii) এই বিদ্যালয়গুলি জাতীয় সংহতি বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।
| সক্রিয়তা ৪ |
১। আসামের মাধ্যমিক শিক্ষা পর্ষদ কবে গঠিত হয়েছিল?
উত্তরঃ আসামের মাধ্যমিক শিক্ষা পর্ষদ ১৯৬২ সালের জানুয়ারী মাসে গঠিত হয়েছিল।
২। মুদালিয়ার আয়োগের (১৯৫২-৫৩) সুপারিশ ক্রমে বহুবিষয়ক বিদ্যালয়ে রূপান্তরিত বিদ্যালয় সমূহের নাম লিখ।
উত্তরঃ মুদালিয়ার আয়োগের সুপারিশক্রমে যে বিদ্যালয়গুলিকে কারিগরি বা বহুমুখী পাঠ্যক্রম প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরিত করা হয়, তাদের ‘বহুবিষয়ক বিদ্যালয়’ বলা হয়।
৩। আসামের চারটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নাম লিখ যেগুলি প্রথম স্বীকৃতি লাভ করে উচ্চতর মাধ্যমিক বিদ্যালয় হিসাবে।
উত্তরঃ আসামের চারটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নাম বিদ্যালয়গুলোর তালিকা:
(ক) কটন কলেজিয়েট উচ্চতর মাধ্যমিক বিদ্যালয় (গুয়াহাটি)।
(খ) যোরহাট সরকারি উচ্চতর মাধ্যমিক বিদ্যালয় (যোরহাট)।
(গ) নগাঁও উচ্চতর মাধ্যমিক বিদ্যালয় (নগাঁও)।
(ঘ)ডিব্রুগড় সরকারি উচ্চতর মাধ্যমিক বিদ্যালয় (ডিব্রুগড়)।
ঐ সময় মুদালিয়ার আয়োগের সুপারিশ অনুযায়ী আসামের মোট ৬৭টি বিদ্যালয়কে উচ্চতর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে উন্নীত করা হয়েছিল।
৪। আসামের মাধ্যমিক শিক্ষা আইনের চারটি বন্দোবস্তের কথা লিখ।
উত্তরঃ আসাম মাধ্যমিক শিক্ষা আইন ১৯৬১-র চারটি বন্দোবস্ত হলো:
(ক) আইনটি সমগ্র আসামে প্রযোজ্য হবে।
(খ) মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের উপর বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো নিয়ন্ত্রণ থাকবে না। একটি ‘মাধ্যমিক শিক্ষা পর্ষদ’ গঠন করা হবে।
(গ) পর্ষদের নির্দিষ্ট সদস্য ও পদাধিকারী থাকবেন।
৫। আসামের মাধ্যমিক শিক্ষা পর্ষদের চারটি কার্যাবলী লিখ।
উত্তরঃ আসাম মাধ্যমিক শিক্ষা পর্ষদের চারটি কার্যাবলী হলো:
১। মাধ্যমিক শিক্ষার পাঠ্যক্রম প্রস্তুত করা।
২। নির্ধারিত পাঠ্যক্রমের ভিত্তিতে পরীক্ষা পরিচালনা করা।
৩। পরীক্ষার ফল ঘোষণা এবং সফল ছাত্রদের শংসাপত্র প্রদান করা।
৪। বিদ্যালয়সমূহের জন্য পাঠ্যপুস্তক এবং রেফারেন্স বই প্রকাশ ও প্রস্তুত করা।
| প্রশ্নাবলী |
১। মাধ্যমিক শিক্ষা কি? মানবজীবনের কোন পর্যায়ের সাথে এটি সম্পর্কিত? একটি সংক্ষিপ্ত বিবৃতি দাও।
উত্তরঃ মাধ্যমিক শিক্ষা হলো প্রাথমিক এবং উচ্চশিক্ষার মধ্যবর্তী একটি যোগসূত্র। এটি এমন একটি শিক্ষাব্যবস্থা যা কিশোর-কিশোরীদের ভবিষ্যৎ জীবনের জন্য প্রস্তুত করে তোলে। এটি প্রাথমিক শিক্ষার পরবর্তী স্তর এবং উচ্চশিক্ষায় প্রবেশের পূর্ববর্তী ধাপ হিসেবে কাজ করে।
মাধ্যমিক শিক্ষা মানবজীবনের বয়ঃসন্ধিকালের সাথে সরাসরি সম্পর্কিত। আপনার দেওয়া উৎসের সারাংশ অংশে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, মাধ্যমিক শিক্ষা মানুষের জীবনের তৃতীয় পর্যায়ের সাথে সম্পৃক্ত। এই সময়েই শিক্ষার্থীদের সঠিক চারিত্রিক গঠন, ব্যক্তিত্বের বিকাশ এবং নেতৃত্বের প্রশিক্ষণ দেওয়ার ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়।
২। মাধ্যমিক শিক্ষা আয়োগের (১৯৫২-৫৩) দ্বারা নির্মিত শিক্ষার লক্ষ্যের সংক্ষিপ্ত বিবরণ দাও।
উত্তরঃ মাধ্যমিক শিক্ষা আয়োগের (১৯৫২-৫৩) দ্বারা নির্মিত এই লক্ষ্যগুলি নিচে সংক্ষেপে আলোচনা করা হলো:
(i) গণতান্ত্রিক নাগরিকত্বের বিকাশ: ভারতকে একটি প্রকৃত গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে নাগরিকদের মধ্যে শৃঙ্খলা, সহনশীলতা, দেশপ্রেম, সহযোগিতা এবং সমতার আদর্শ জাগ্রত করা এই আয়োগের অন্যতম লক্ষ্য ছিল। নাগরিকদের সঠিক চিন্তা, বাক্য এবং লিখনের মাধ্যমে এই আদর্শগুলো চর্চা করতে সক্ষম করে তোলা প্রয়োজন।
(ii) পেশাগত কর্মক্ষমতা ও দক্ষতার বিকাশ: শিক্ষার্থীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বনির্ভর করার জন্য মাধ্যমিক স্তরে বৃত্তিমুখী শিক্ষার ওপর জোর দেওয়া হয়। বিদ্যালয়ে হাতের কাজ এবং উৎপাদনশীল কর্মের মাধ্যমে কারিগরি ও বাণিজ্যিক দক্ষতা বৃদ্ধি করা যাতে তারা দেশের উৎপাদন ক্ষমতা বাড়াতে অবদান রাখতে পারে।
(iii) ব্যক্তিত্বের বিকাশ: শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল শক্তির যথাযথ বিকাশ ঘটানো এই আয়োগের লক্ষ্য ছিল। তাদের গঠনমূলক এবং সাংস্কৃতিক আগ্রহ তৈরি করা এবং দেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে সংরক্ষিত রাখার জন্য উপযুক্তভাবে শিক্ষিত করে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
(iv) নেতৃত্বদানের শিক্ষা: জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে যেমন—সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক এবং শিল্প সম্পর্কিত ক্ষেত্রে দায়িত্ব গ্রহণের জন্য ছাত্র-ছাত্রীদের নেতৃত্বের প্রশিক্ষণ প্রদান করা মাধ্যমিক শিক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য।
(v) সারসংক্ষেপে, মুদালিয়ার আয়োগের মতে শিক্ষার লক্ষ্য হওয়া উচিত শিক্ষার্থীর ব্যক্তিত্বের বিকাশ, নেতৃত্বদানের শিক্ষা,গণতান্ত্রিক নাগরিকত্বের ধারণা, চরিত্র গঠন এবং পেশাগত বা বৃত্তিমূলক কর্মদক্ষতা বৃদ্ধি করা।
৩। ১৯৫২-৫৩ আয়োগের সভাপতি কে ছিলেন? আয়োগের মতানুসারে শিক্ষার লক্ষ্য কি হওয়া উচিত?
উত্তরঃ আয়োগের সভাপতি: ১৯৫২-৫৩ সালের মাধ্যমিক শিক্ষা আয়োগের সভাপতি ছিলেন মাদ্রাজ বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন উপাচার্য ডঃ লক্ষ্মণস্বামী মুদালিয়ার।
আয়োগের মতে শিক্ষার লক্ষ্য হওয়া উচিত— গণতান্ত্রিক নাগরিকত্বের বিকাশ, পেশাগত বা বৃত্তিমূলক দক্ষতা বৃদ্ধি, ব্যক্তিত্বের বিকাশ, নেতৃত্বদানের শিক্ষা এবং চরিত্র গঠন।
৪। মাধ্যমিক শিক্ষার লক্ষ্য কি মুদালিয়ার আয়োগের (১৯৫২-৫৩) প্রতিবেদনে যা উল্লেখিত হয়েছে, লিখ।
উত্তরঃ মুদালিয়ার আয়োগের (১৯৫২-৫৩) প্রতিবেদনে উল্লেখিত মাধ্যমিক শিক্ষার প্রধান লক্ষ্যগুলি সংক্ষেপে দেওয়া হলো-
(i) গণতান্ত্রিক নাগরিকত্বের বিকাশ: শিক্ষার্থীদের মধ্যে শৃঙ্খলা, দেশপ্রেম, সহনশীলতা এবং সহযোগিতার মনোভাব গড়ে তোলা।
(ii) পেশাগত দক্ষতার উন্নতি: শিক্ষার্থীদের বৃত্তিমূলক ও কারিগরি শিক্ষায় দক্ষ করে অর্থনৈতিকভাবে স্বনির্ভর করা।
(iii) ব্যক্তিত্বের বিকাশ: শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল শক্তির বিকাশ ঘটানো এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রতি আগ্রহ তৈরি করা।
(iv) নেতৃত্বের শিক্ষা: সামাজিক, রাজনৈতিক ও শিল্প ক্ষেত্রে নেতৃত্ব প্রদানের জন্য শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া।
(v) চরিত্র গঠন: শিক্ষার্থীদের নৈতিক ও আদর্শ চরিত্র গঠন করা।
৫। মুদালিয়ার আয়োগ দ্বারা নির্ধারিত লক্ষ্যগুলি ভারতীয় শিক্ষাব্যবস্থায় কি প্রবর্তিত হয়েছিলো। অলোচনা করো।
উত্তরঃ মুদালিয়ার আয়োগের (১৯৫২-৫৩) লক্ষ্যগুলি ভারতীয় শিক্ষাব্যবস্থায় নিচের পরিবর্তনের মাধ্যমে প্রবর্তিত হয়েছিল:
(ক) কাঠামোগত পরিবর্তন: আয়োগের সুপারিশে অনেক উচ্চ বিদ্যালয়কে উচ্চতর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে উন্নীত করা হয় (যেমন আসামে ৬৭টি বিদ্যালয়)।
(খ) বহুমুখী বিদ্যালয়: শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন বিষয়ে বৃত্তিমূলক ও কারিগরি শিক্ষা দেওয়ার জন্য ‘বহুমুখী বিদ্যালয়’ স্থাপন করা হয়।
(গ) শিক্ষা পর্ষদ গঠন: মাধ্যমিক শিক্ষাকে নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনা করার জন্য ১৯৬২ সালে ‘আসাম মাধ্যমিক শিক্ষা পর্ষদ’ গঠিত হয়।
(ঘ) জীবনমুখী পাঠ্যক্রম: শিক্ষার্থীদের চরিত্র গঠন,ব্যক্তিত্বের বিকাশ এবং নেতৃত্বের গুণাবলি তৈরির ওপর গুরুত্ব দিয়ে পাঠ্যক্রম তৈরি করা হয়।
৬। সংক্ষিপ্তাকারে লিখ:-
(ক) কোন সালে ভারত স্বাধীনতা অর্জন করে?
উত্তরঃ ভারতবর্ষ ১৯৪৭ সালে স্বাধীনতা অর্জন করে।
(খ) মাধ্যমিক শিক্ষা আয়োগের সভাপতি কে ছিলেন?
উত্তরঃ মাধ্যমিক শিক্ষা আয়োগের সভাপতি ছিলেন মাদ্রাজ বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন উপাচার্য ডঃ লক্ষ্মণস্বামী মুদালিয়ার।
(গ) কোন সালে মুদালিয়ার আয়োগ নিয়োজিত হয়?
উত্তরঃ মুদালিয়ার আয়োগ ১৯৫২ সালে নিয়োজিত হয়।
(ঘ) মাধ্যমিক শিক্ষার দুইটি লক্ষ্যের কথা লিখ যা মুদালিয়ার আয়োগের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
উত্তরঃ মুদালিয়ার আয়োগের মাধ্যমিক শিক্ষার দুইটি প্রধান লক্ষ্য হলো:
(i) গণতান্ত্রিক নাগরিকত্বের বিকাশ: শিক্ষার্থীদের মধ্যে শৃঙ্খলা, সহনশীলতা,দেশপ্রেম এবং সহযোগিতার মনোভাব গড়ে তোলা যাতে তারা আদর্শ নাগরিক হিসেবে দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে পারে।
(ii) পেশাগত কর্মদক্ষতা ও দক্ষতার বিকাশ: শিক্ষার্থীদের কারিগরি ও বাণিজ্যিক বিভিন্ন বিষয়ে দক্ষ করে তোলা এবং হাতে-কলমে কাজের মাধ্যমে তাদের অর্থনৈতিকভাবে স্বনির্ভর ও দেশের উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়ক করে তোলা।
৭। জাতীয় বিকাশের জন্য শিক্ষার লক্ষ্য যা কোঠারী আয়োগের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, সে বিষয়ে লিখ।
উত্তরঃ জাতীয় বিকাশের ওপর ভিত্তি করে শিক্ষার প্রধান চারটি লক্ষ্যের কথা উল্লেখ করেছে। এই লক্ষ্যগুলি আলোচনা করা হলো:
(ক) শিক্ষা ও উৎপাদনশীলতা: শিক্ষার মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত দেশের উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধি করা। এর জন্য সাধারণ শিক্ষার সাথে বিজ্ঞান ও কারিগরি শিক্ষাকে যুক্ত করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে, যাতে শিক্ষার্থীরা স্বনির্ভর হতে পারে এবং দেশের অর্থনৈতিক উন্নতিতে অবদান রাখতে পারে।
(খ) সামাজিক ও জাতীয় সংহতি: ভারতবর্ষের বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্য বজায় রাখার জন্য শিক্ষার মাধ্যমে সামাজিক ও জাতীয় সংহতি সুদৃঢ় করা অন্যতম লক্ষ্য। এটি শিক্ষার্থীদের মধ্যে দেশপ্রেম এবং জাতীয়তাবোধ জাগ্রত করতে সাহায্য করে।
(গ) শিক্ষা ও আধুনিকীকরণ: দ্রুত পরিবর্তনশীল বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে চলার জন্য শিক্ষাব্যবস্থাকে আধুনিক করে তোলা প্রয়োজন। বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গির বিকাশ এবং নতুন প্রযুক্তি গ্রহণের মাধ্যমে সমাজকে আধুনিকীকরণের পথে এগিয়ে নিয়ে যাওয়াই হলো শিক্ষার উদ্দেশ্য।
(ঘ) সামাজিক, নৈতিক ও আধ্যাত্মিক মূল্যবোধ: কেবল বৌদ্ধিক বিকাশই যথেষ্ট নয়,শিক্ষার্থীদের মধ্যে মানবিক গুণাবলি এবং নৈতিক মূল্যবোধ গড়ে তোলাও শিক্ষার অন্যতম লক্ষ্য। আয়োগের মতে, বিদ্যালয়ের পাঠ্যসূচিতে নৈতিক ও আধ্যাত্মিক মূল্যবোধের ওপর গুরুত্ব দেওয়া উচিত যাতে শিক্ষার্থীদের চরিত্র গঠন সুদৃঢ় হয়।
৮। ভারতীয় শিক্ষাব্যবস্থার কাঠামোগত প্রক্রিয়ার সম্পর্কে কোঠারী আয়োগের সুপারিশ কি? ব্যাখ্যা কর।
উত্তরঃ কোঠারী আয়োগের সুপারিশকৃত শিক্ষাকাঠামোর সংক্ষিপ্ত রূপ নিচে দেওয়া হলো:
(ক) ১০+২+৩ কাঠামো: আয়োগ সমগ্র দেশে অভিন্ন ১০+২+৩ শিক্ষাকাঠামো প্রবর্তনের কথা বলে।
(খ) ১০ বছর (স্কুল): এর মধ্যে থাকবে ১-৩ বছরের প্রাক-প্রাথমিক, ৭-৮ বছরের প্রাথমিক (নিম্ন ও উচ্চ) এবং ২-৩ বছরের নিম্ন মাধ্যমিক শিক্ষা।
(গ) +২ স্তর (উচ্চ মাধ্যমিক): ২ বছরের সাধারণ বা বৃত্তিমূলক শিক্ষা।
(ঘ) +৩ স্তর (উচ্চশিক্ষা): স্নাতক ডিগ্রির জন্য ৩ বছর বা তার বেশি সময়ের পাঠ্যক্রম।
(ঙ) শিক্ষার বৃত্তিমুখীকরণ: মাধ্যমিক স্তরে শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশকে বৃত্তিমূলক শিক্ষার অধীনে আনার সুপারিশ করা হয়।
(চ) সাধারণ বিদ্যালয় ব্যবস্থা: জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে সকল শিশুর জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে এই ব্যবস্থা চালুর কথা বলা হয়।
(ছ) কাজের অভিজ্ঞতা: শিক্ষার প্রতিটি স্তরে পড়াশোনার পাশাপাশি হাতে-কলমে কাজের অভিজ্ঞতার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
৯। কোঠারী আয়োগের উদ্দেশ্যাবলী কি? কি ধরনের কাঠামো শিক্ষার জন্য আয়োগ সুপারিশ করেছে?
উত্তরঃ কোঠারী আয়োগের প্রধান উদ্দেশ্যাবলী এবং সুপারিশকৃত শিক্ষাকাঠামো সংক্ষেপে দেওয়া হলো:
শিক্ষার প্রধান উদ্দেশ্যাবলী:
১। শিক্ষা ও উৎপাদনশীলতা: শিক্ষার মাধ্যমে উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধি করা এবং বিজ্ঞানের প্রয়োগ ঘটানো।
২। সামাজিক ও জাতীয় সংহতি: জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে ঐক্যবদ্ধ রাষ্ট্র গড়ে তোলা।
৩। আধুনিকীকরণ: দ্রুত পরিবর্তনশীল সমাজের সাথে তাল মিলিয়ে জ্ঞান ও প্রযুক্তির বিকাশ ঘটানো।
৪। মূল্যবোধের শিক্ষা: সামাজিক, নৈতিক ও আধ্যাত্মিক মূল্যবোধের বিকাশ ঘটানো।
শিক্ষার সুপারিশকৃত কাঠামো :
১। প্রথম ১০ বছর (স্কুল স্তর): এর মধ্যে থাকবে ১-৩ বছরের প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা,৭-৮ বছরের প্রাথমিক (নিম্ন ও উচ্চ) এবং ২-৩ বছরের নিম্ন মাধ্যমিক শিক্ষা।
২। +২ স্তর (উচ্চ মাধ্যমিক): স্কুলের পর ২ বছরের উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা, যেখানে সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি বৃত্তিমূলক শিক্ষার সুযোগ থাকবে।
৩। +৩ স্তর (উচ্চশিক্ষা): স্নাতক পর্যায়ের প্রথম ডিগ্রি অর্জনের জন্য ৩ বছর বা তার বেশি সময়ের পাঠ্যক্রম।
এছাড়া আয়োগ ‘কমন স্কুল সিস্টেম’ বা সর্বজনীন বিদ্যালয় ব্যবস্থা এবং হাতে-কলমে শিক্ষার জন্য ‘কর্ম-অভিজ্ঞতা’র ওপর বিশেষ জোর দিয়েছিল।
১০। নূতন কাঠামোগত প্রক্রিয়া বা কোঠারী আয়োগ ভারতীয় বিদ্যালয় ব্যবস্থার জন্য নির্দেশ করেছেন তা ব্যাখ্যা কর।
উত্তরঃ কোঠারী আয়োগ ভারতীয় শিক্ষাব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনের লক্ষ্যে একটি অভিন্ন জাতীয় শিক্ষাকাঠামো সুপারিশ করে, যা ১০+২+৩ কাঠামো নামে পরিচিত।
এই কাঠামোর প্রধান স্তরগুলি হলো:
(ক) প্রাক-বিদ্যালয় শিক্ষা: প্রাথমিক শিক্ষার আগে ১ থেকে ৩ বছর মেয়াদী প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা।
(খ) প্রাথমিক স্তর (৭-৮ বছর): একে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে— ৪-৫ বছরের নিম্ন প্রাথমিক এবং ২-৩ বছরের উচ্চ প্রাথমিক।
(গ) নিম্ন মাধ্যমিক স্তর (২-৩ বছর): প্রাথমিক শিক্ষার পর ২-৩ বছরের সাধারণ শিক্ষা অথবা বৃত্তিমূলক শিক্ষা।
(ঘ) উচ্চ মাধ্যমিক স্তর (+২ স্তর): ১০ বছরের সাধারণ শিক্ষার পর ২ বছরের উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা।
(ঙ) আয়োগ এই স্তরে সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি বৃত্তিমূলক শিক্ষার ওপর বিশেষ জোর দিয়েছে।
(চ) উচ্চশিক্ষা স্তর (+৩ স্তর): প্রথম স্নাতক ডিগ্রি অর্জনের জন্য ৩ বছর বা তার অধিক সময়ের পাঠ্যক্রম।
এই কাঠামোর মূল লক্ষ্য ছিল শিক্ষাকে জীবন এবং জাতীয় চাহিদার সাথে যুক্ত করা এবং এর গুণগত মানকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া।
১১। সংক্ষিপ্ত বিবৃতি দাওঃ
(ক) ১০+২+৩ সূত্র।
উত্তরঃ ১০+২+৩ সূত্র: এটি কোঠারী আয়োগের প্রস্তাবিত একটি অভিন্ন জাতীয় শিক্ষাকাঠামো।
এই সূত্র অনুযায়ী একজন শিক্ষার্থীকে মোট ১০ বছরের সাধারণ স্কুল শিক্ষা (প্রাথমিক ও নিম্ন মাধ্যমিক), এরপর ২ বছরের উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা এবং সবশেষে স্নাতক ডিগ্রির জন্য কমপক্ষে ৩ বছর শিক্ষা গ্রহণ করতে হয়। এটি ভারতের বিভিন্ন প্রান্তের শিক্ষাব্যবস্থার মধ্যে সমন্বয় আনতে সাহায্য করে।
(খ) জাতীয় শিক্ষা আয়োগ প্রদত্ত শিক্ষার লক্ষ্যসমূহ।
উত্তরঃ জাতীয় শিক্ষা আয়োগ প্রদত্ত শিক্ষার লক্ষ্যসমূহ:
(i) শিক্ষা ও উৎপাদনশীলতা: বিজ্ঞানের প্রয়োগ এবং কর্ম-অভিজ্ঞতার মাধ্যমে দেশের উৎপাদন ক্ষমতা বাড়ানো।
(ii) সামাজিক ও জাতীয় সংহতি: সাধারণ বিদ্যালয় ব্যবস্থা প্রবর্তনের মাধ্যমে জাতীয় ঐক্য রক্ষা করা।
(iii) আধুনিকীকরণ: দ্রুত পরিবর্তনশীল সমাজের সাথে তাল মিলিয়ে জ্ঞান ও প্রযুক্তির বিকাশ ঘটানো।
(iv) সামাজিক, নৈতিক ও আধ্যাত্মিক মূল্যবোধ: শিক্ষার্থীদের মধ্যে চারিত্রিক ও মানবিক মূল্যবোধের বিকাশ ঘটানো।
(গ) কর্ম অভিজ্ঞতা।
উত্তরঃ কোঠারী আয়োগের মতে, কর্ম অভিজ্ঞতা হলো বিদ্যালয়, ঘর, কর্মশালা বা কারখানার মতো উৎপাদনমুখী কাজে হাতে-কলমে অংশগ্রহণ করা। এর লক্ষ্য হলো শিক্ষাকে উৎপাদনের সাথে যুক্ত করা এবং শিক্ষার্থীদের শ্রমের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ও স্বনির্ভর করে তোলা। এটি শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল আবেগকে প্রকাশ করতে সাহায্য করে।
(ঘ) “স্কুল কমপ্লেক্স”।
উত্তরঃ স্কুল কমপ্লেক্স হলো একটি নির্দিষ্ট এলাকার একটি মাধ্যমিক বা উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়কে কেন্দ্র করে আশেপাশের প্রাথমিক ও উচ্চ প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর সমন্বয়ে গঠিত একটি ব্যবস্থা।
এর মাধ্যমে বিদ্যালয়গুলো শিক্ষক, গ্রন্থাগার, ল্যাবরেটরি, খেলাধুলার সামগ্রী ও অন্যান্য শিক্ষাসম্পদ ভাগাভাগি করে ব্যবহার করে। এর প্রধান উদ্দেশ্য হলো শিক্ষার মান উন্নয়ন, বিদ্যালয়গুলোর মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং শিক্ষার্থীদের সার্বিক বিকাশ নিশ্চিত করা।
১২। শিক্ষাকে বৃত্তিমুখী করার ব্যাপারে কোঠারী আয়োগের মত কি ছিল? ব্যাখ্যা কর।
উত্তরঃ কোঠারী আয়োগ মাধ্যমিক স্তরে শিক্ষাকে বৃত্তিমুখী করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছিল।
আয়োগের সুপারিশ ছিল—
(i) মাধ্যমিক স্তরের মোট ছাত্রছাত্রীর প্রায় অর্ধেককে (৫০%) বৃত্তিমূলক শিক্ষার আওতায় আনতে হবে।
(ii) দশম শ্রেণী শেষ করার পর শিক্ষার্থীদের জন্য ১ থেকে ৩ বছর মেয়াদী বিভিন্ন কারিগরি ও বৃত্তিমূলক পাঠ্যক্রম চালু করতে হবে।
(iii) শিক্ষার্থীদের স্বনির্ভর করে তোলা এবং শ্রমের প্রতি মর্যাদা বৃদ্ধির জন্য ‘কর্ম-অভিজ্ঞতা’ অন্তর্ভুক্ত করার সুপারিশ করা হয়।
১৩। সংক্ষিপ্তাকারে লিখ:
(ক) শিক্ষার বৃত্তিমুখীকরণ।
উত্তরঃ শিক্ষার বৃত্তিমুখীকরণ এটি এমন এক শিক্ষা ব্যবস্থা যা শিক্ষার্থীদের হাতে-কলমে কাজের মাধ্যমে বিশেষ কোনো পেশা বা বৃত্তির জন্য তৈরি করে। কোঠারী আয়োগের মতে, সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি কৃষি, কারিগরি বা বাণিজ্যিক বিষয় অন্তর্ভুক্ত করে শিক্ষার্থীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বনির্ভর করাই এর মূল লক্ষ্য।
(খ) শিক্ষার কাঠামোগত প্রক্রিয়া।
উত্তরঃ কোঠারী আয়োগ সমগ্র ভারতে অভিন্ন ১০+২+৩ কাঠামোর সুপারিশ করে। এতে ১০ বছরের সাধারণ স্কুল শিক্ষা (প্রাথমিক ও নিম্ন মাধ্যমিক), ২ বছরের উচ্চ মাধ্যমিক (+২ স্তর) এবং স্নাতক ডিগ্রির জন্য ৩ বছরের (+৩ স্তর) পাঠ্যক্রমের কথা বলা হয়েছে।
১৪। স্বাধীনতার পর আসামে sমাধ্যমিক শিক্ষার বিকাশ ব্যাখ্যা কর।
উত্তরঃ স্বাধীনতার পর আসামে মাধ্যমিক শিক্ষার বিকাশ:
(i) নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার পরিবর্তন: স্বাধীনতার আগে আসামের মাধ্যমিক শিক্ষা ব্যবস্থা (বিশেষ করে এন্ট্রান্স পরীক্ষা) কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ন্ত্রণ করত। ১৯৪৮ সালে গুয়াহাটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর এই নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা কলকাতা থেকে গুয়াহাটি বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থানান্তরিত হয়।
(ii) আসাম মাধ্যমিক শিক্ষা আইন ও পর্ষদ (SEBA) গঠন: মুদালিয়ার আয়োগের (১৯৫২-৫৩) সুপারিশের ভিত্তিতে ১৯৬১ সালে ‘আসাম মাধ্যমিক শিক্ষা আইন’ প্রবর্তিত হয়। এই আইনের অধীনে ১৯৬২ সালে ‘আসাম মাধ্যমিক শিক্ষা পর্ষদ’ (SEBA) গঠিত হয়। এর ফলে মাধ্যমিক শিক্ষার সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনার দায়িত্ব বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পর্ষদের হাতে চলে আসে।
(iii) বিদ্যালয় ও ছাত্রসংখ্যার বৃদ্ধি: স্বাধীনতার পর আসামে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি না পেলেও ছাত্রসংখ্যার দিক থেকে বিশাল পরিবর্তন আসে। ১৯৪৭-৪৮ সালে যেখানে ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা ছিল প্রায় ৯৬ হাজারের মতো, ১৯৮১-৮২ সালে তা বেড়ে ৫ লক্ষাধিক হয়। ১৯৬৯-৭০ সালের হিসাব অনুযায়ী আসামে উচ্চতর মাধ্যমিক ও বহুমুখী বিদ্যালয়ের সংখ্যা ছিল ৭০টি এবং উচ্চ বিদ্যালয়ের সংখ্যা ছিল ১২০০টি।
(v) শিক্ষা কাঠামোর পরিবর্তন: কোঠারী আয়োগের সুপারিশে আসামে ১০+২+৩ শিক্ষাকাঠামো গ্রহণ করা হয়। ১৯৭৩ সাল থেকে আসামে ১২ বছর মেয়াদী মাধ্যমিক পাঠ্যক্রম চালু হয় এবং গুয়াহাটি ও ডিব্রুগড় বিশ্ববিদ্যালয় তাদের এক বছর মেয়াদী প্রাক-বিশ্ববিদ্যালয় পাঠ্যক্রম রদ করে দুই বছর মেয়াদী প্রাক-স্নাতক শিক্ষা চালু করে।
১৫। আসাম মাধ্যমিক শিক্ষা আইনের মূল অনুচ্ছেদ সম্পর্কে লিখ।
উত্তরঃ ১৯৬১ সালে আসাম মাধ্যমিক শিক্ষা আইন প্রবর্তিত হয়।
এর মূল অনুচ্ছেদ হলো:
(i) এই আইন সমগ্র আসামের জন্য প্রযোজ্য হবে।
(ii) সরকার অনুমোদিত বিদ্যালয়গুলোর ওপর বিশ্ববিদ্যালয় বা অন্য কোনো পর্ষদের নিয়ন্ত্রণ থাকবে না।
(iii) মাধ্যমিক শিক্ষার নিয়ন্ত্রণ ও উন্নয়নের জন্য একটি ‘মাধ্যমিক শিক্ষা পর্ষদ’ গঠন করা হবে।
(iv) এই পর্ষদে ডি. পি. আই সভাপতি হিসেবে এবং অন্যান্য বিভাগীয় প্রধানরা সদস্য হিসেবে থাকবেন।
১৬। অসামের মাধ্যমিক শিক্ষা পর্ষদের কার্যাবলী সম্পর্কে লিখ।
উত্তরঃ পর্ষদের প্রধান কাজগুলো হলো:
(ক) মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষার পাঠ্যক্রম ও পাঠ্যসূচি প্রস্তুত করা।
(খ) শিক্ষার্থীদের জন্য পরীক্ষা পরিচালনা করা এবং উত্তীর্ণদের সংশাপত্র প্রদান করা।
(গ) নতুন বিদ্যালয়ের স্বীকৃতি প্রদান করা এবং প্রয়োজনীয় নিয়মকানুন তৈরি করা।
(ঘ) পাঠ্যপুস্তক ও নির্দেশিত রেফারেন্স বইয়ের প্রস্তুতি ও প্রকাশনা নিশ্চিত করা।
(ঙ) শিক্ষকদের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য প্রশিক্ষণ ও সেমিনারের আয়োজন করা।
১৭। আসামে মাধ্যমিক শিক্ষার প্রধান সমস্যাবলী আলোচনা কর।
উত্তরঃ আসামে মাধ্যমিক শিক্ষার প্রধান সমস্যাগুলো হলো:
(ক) অর্থের অভাব: পর্যাপ্ত আর্থিক সহায়তার অভাবে শিক্ষার মানোন্নয়ন ব্যাহত হচ্ছে।
(খ) অনুপযুক্ত পাঠ্যক্রম: বর্তমান পাঠ্যক্রম ছাত্রছাত্রী ও সমাজের বাস্তব চাহিদার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
(গ) ত্রুটিপূর্ণ শিক্ষণ ও মূল্যায়ন পদ্ধতি: সেকেলে শিক্ষণ পদ্ধতি এবং ত্রুটিপূর্ণ পরীক্ষা ব্যবস্থা শিক্ষার মান কমিয়ে দিচ্ছে।
(ঘ) যোগ্য শিক্ষকের অভাব: বিশেষ করে বেসরকারি স্কুলগুলোতে দক্ষ ও প্রশিক্ষিত শিক্ষকের যথেষ্ট অভাব রয়েছে।
(ঙ) পরিকাঠামোগত অসুবিধা: অনেক বিদ্যালয়ে প্রয়োজনীয় শ্রেণীকক্ষ, ল্যাবরেটরি ও খেলার মাঠের অভাব রয়েছে।
১৮। আসাম মাধ্যমিক শিক্ষা আইন ১৯৬১-র মূল বন্দোবস্তগুলি লিখ।
উত্তরঃ ১৯৬১ সালে প্রবর্তিত আসাম মাধ্যমিক শিক্ষা আইনের প্রধান বন্দোবস্তগুলি হলো:
(ক) প্রয়োগ: এই আইনটি সমগ্র আসাম রাজ্যের জন্য প্রযোজ্য হবে।
(খ) স্বায়ত্তশাসন: সরকার কর্তৃক অনুমোদিত মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোর ওপর কোনো বিশ্ববিদ্যালয় বা অন্য কোনো পর্ষদের কোনো নিয়ন্ত্রণ থাকবে না।
(গ) পর্ষদ গঠন: মাধ্যমিক শিক্ষার নিয়ন্ত্রণ, ব্যবস্থাপনা ও উন্নয়নের জন্য একটি বিশেষ নির্দেশপত্রের মাধ্যমে ‘আসাম মাধ্যমিক শিক্ষা পর্ষদ’ গঠন করা হবে।
(ঘ) সদস্যবৃন্দ: এই পর্ষদে নির্দিষ্ট কিছু সদস্য থাকবেন, যেমন— সভাপতি হিসেবে ডি.পি.আই, অতিরিক্ত ডি. পি. আই, কৃষি ও কারিগরি শিক্ষা অধিকর্তা, স্বাস্থ্যসেবা ও শিল্প অধিকর্তা এবং গুয়াহাটি ও ডিব্রুগড় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিরা ।
১৯। সংক্ষিপ্ত উত্তর দাও:
(ক) আসামের চারটি বিদ্যালয়ের নাম উল্লেখ কর যারা প্রথম উচ্চতর মাধ্যমিক শিক্ষালয় হিসাবে স্বীকৃতি লাভ করেছে।
উত্তরঃ আসামে প্রথম উচ্চতর মাধ্যমিক শিক্ষালয় হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করা চারটি বিদ্যালয় হলো—
(i) কটন কলেজিয়েট উচ্চতৰ মাধ্যমিক বিদ্যালয়, গুৱাহাটী।
(ii) জগন্নাথ বড়ুয়া উচ্চতৰ মাধ্যমিক বিদ্যালয়, যোৰহাট।
(iii) দরং উচ্চতৰ মাধ্যমিক বিদ্যালয়, তেজপুর।
(iv) গভর্নমেন্ট বয়েজ উচ্চতৰ মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ডিব্রুগড়।
(খ) কোন বিদ্যালয় গুলিকে বহুমুখী বিদ্যালয়ে রূপান্তরিত করা হয়?
উত্তরঃ মুদালিয়ার আয়োগের সুপারিশ অনুযায়ী আসাম সরকার রাজ্যের কিছু উচ্চ বিদ্যালয়কে ‘বহুমুখী বিদ্যালয়ে’ রূপান্তরিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।
২০। জাতীয় শিক্ষানীতির (১৯৮৬)-র বিশিষ্ট অংশসমূহের উপর লিখ।
উত্তরঃ ১৯৮৬ সালের জাতীয় শিক্ষানীতির প্রধান বৈশিষ্ট্য বা অংশগুলো হলো:
(ক) শিক্ষার ভূমিকা: শিক্ষাকে জাতীয় উন্নয়নের মূল চাবিকাঠি হিসেবে গণ্য করা হয়েছে।
(খ) সমতার জন্য শিক্ষা: নারী, তফশিলি জাতি ও উপজাতি এবং পিছিয়ে পড়া শ্রেণির শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
(গ) প্রাথমিক ও শিশু শিক্ষা: ‘অপারেশন ব্ল্যাকবোর্ড’ এবং শিশু পরিচর্যা ও শিক্ষা কর্মসূচির প্রবর্তন।
(ঘ) মাধ্যমিক শিক্ষা: মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য ‘নবোদয় বিদ্যালয়’ প্রতিষ্ঠা এবং বৃত্তিমুখীকরণের ওপর জোর দেওয়া।
(ঙ) উচ্চশিক্ষা: মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা এবং মহাবিদ্যালয়গুলোর স্বায়ত্তশাসন।
(চ) কারিগরি শিক্ষা: প্রযুক্তি ও বিজ্ঞান শিক্ষার প্রসারে আধুনিক ব্যবস্থার প্রয়োগ।
২১। সংক্ষিপ্ত টীকা লিখ:-
(ক) মহিলাদের জন্য শিক্ষায় সমতা।
উত্তরঃ ১৯৮৬-র শিক্ষানীতি মহিলাদের সামাজিক মর্যাদা পরিবর্তনের মাধ্যম হিসেবে শিক্ষাকে গুরুত্ব দেয়। এতে পাঠ্যক্রম ও পাঠ্যপুস্তকের পরিবর্তন ঘটিয়ে লিঙ্গবৈষম্য দূর করার কথা বলা হয়েছে। এছাড়াও মহিলাদের বৃত্তিমূলক, কারিগরি ও পেশাগত শিক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা ও উৎসাহ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে যাতে শিক্ষার প্রতিটি স্তরে তাঁরা সমান সুযোগ পান।
(খ) চাকরী হতে ডিগ্রীর বিচ্ছিন্নকরণ।
উত্তরঃ বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রির জন্য ছাত্রছাত্রীদের অতিরিক্ত ভিড় কমাতে শিক্ষানীতিতে কিছু নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে চাকরি থেকে ডিগ্রিকে বিচ্ছিন্ন করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এর অর্থ হলো,যেসব পদের জন্য ডিগ্রির কোনো সরাসরি প্রয়োজন নেই,সেখানে ডিগ্রিকে প্রাথমিক শর্ত হিসেবে ধরা হবে না। এতে শিক্ষার্থীরা ডিগ্রি অর্জনের চেয়ে দক্ষতা বৃদ্ধির দিকে বেশি আগ্রহী হবে।
(গ) অপারেশন ব্ল্যাকবোর্ড।
উত্তরঃ অপারেশন ব্ল্যাকবোর্ড প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে ন্যূনতম সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এটি একটি কেন্দ্রীয় প্রকল্প।
এর অধীনে প্রতিটি বিদ্যালয়ে নিচের বিষয়গুলি থাকা বাধ্যতামূলক:
১। আবহাওয়া উপযোগী অন্তত দুটি বড় কক্ষ।
২। প্রয়োজনীয় ব্ল্যাকবোর্ড।
৩। মানচিত্র, চার্ট এবং অন্যান্য শিক্ষোপকরণ।
৪। শিশুদের বসার জন্য কার্পেট বা মাদুর।
৫। অন্তত দুজন শিক্ষক নিয়োগ (যার মধ্যে একজন অবশ্যই মহিলা হবেন)।
(ঘ) আই সি ডি এস প্রোগ্রাম।
উত্তরঃ এর পুরো নাম হলো ‘ইন্টিগ্রেটেড চাইল্ড ডেভেলপমেন্ট সার্ভিসেস’ বা সমন্বিত শিশু বিকাশ সেবা প্রকল্প। এটি প্রারম্ভিক শৈশবকালীন পরিচর্যা ও শিক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই প্রকল্পের মাধ্যমে শিশুদের পুষ্টি, স্বাস্থ্য এবং মানসিক বিকাশের ওপর জোর দেওয়া হয়। এটি বিশেষ করে দরিদ্র কর্মজীবী মহিলাদের শিশুদের দেখাশোনা করে তাঁদের সন্তানদের বিদ্যালয়ে পাঠাতে উৎসাহিত করে।
(ঙ) নবোদয় বিদ্যালয়।
উত্তরঃ নবোদয় বিদ্যালয় এটি গ্রামীণ এলাকার মেধাবী শিশুদের উচ্চমানের শিক্ষা দেওয়ার লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠিত একটি ‘পেস-সেটিং’বা আদর্শ বিদ্যালয়।
এর প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো হলো:
১। এগুলো সম্পূর্ণ আবাসিক এবং এখানে বিনা মূল্যে শিক্ষা দেওয়া হয়।
২।আর্থিক অবস্থা যাই হোক না কেন, বিশেষ মেধা ও দক্ষতা সম্পন্ন শিশুদের এখানে সুযোগ দেওয়া হয়।
৩। জাতীয় সংহতি বৃদ্ধির জন্য ভারতের প্রতিটি জেলায় একটি করে নবোদয় বিদ্যালয় খোলার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
(চ) উচ্চশিক্ষায় স্বায়ত্ত্বশাসন।
উত্তরঃ জাতীয় শিক্ষানীতিতে উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়নের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভাগগুলোকে এবং কিছু মহাবিদ্যালয়কে স্ব-শাসিত বা স্বায়ত্তশাসিত করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। এর ফলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো নিজস্ব পাঠ্যক্রম তৈরি, গবেষণা এবং পরীক্ষার বিষয়ে স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারে, যা তাঁদের দায়বদ্ধতা এবং বিশেষজ্ঞতা বৃদ্ধিতে সাহায্য করে।
(ছ) মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
উত্তরঃ উচ্চশিক্ষার সুযোগ সকলের কাছে পৌঁছে দিতে এবং শিক্ষাকে গণতান্ত্রিক করতে মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সূচনা করা হয়। এখানে শিক্ষার্থীরা তাঁদের নিজস্ব গতিতে পড়াশোনা করতে পারেন। ১৯৮৫ সালে প্রতিষ্ঠিত ইন্দিরা গান্ধী মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এই ব্যবস্থার একটি বড় উদাহরণ। এটি বিশেষ করে তাঁদের জন্য উপকারী যারা নিয়মিত কলেজে গিয়ে পড়াশোনা করতে পারেন না।
২২। শিক্ষায় সমতা কি? এটির প্রবর্তনের ব্যাপারে জাতীয় শিক্ষানীতি কি কি ব্যবস্থা নিয়েছে?
উত্তরঃ শিক্ষায় সমতা বলতে বোঝায় জাতি, ধর্ম, বর্ণ, লিঙ্গ বা শারীরিক অক্ষমতা নির্বিশেষে প্রত্যেক নাগরিকের জন্য সমান শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করা এবং সমাজ থেকে বৈষম্য দূর করা।
গৃহীত ব্যবস্থাসমূহ: জাতীয় শিক্ষানীতি (১৯৮৬) সমতা আনয়নের জন্য নিম্নলিখিত পদক্ষেপ নিয়েছে:
(i) মহিলাদের জন্য: পাঠ্যক্রমের পরিবর্তনের মাধ্যমে নারী-পুরুষের বৈষম্য দূর করা এবং তাঁদের বৃত্তিমূলক ও কারিগরি শিক্ষায় উৎসাহিত করা
(ii) তফশিলি জাতি ও উপজাতি: দরিদ্র পরিবারগুলোকে আর্থিক ইনসেনটিভ দেওয়া, আবাসিক বিদ্যালয় (আশ্রম স্কুল) স্থাপন করা এবং তাঁদের নিজস্ব ভাষায় পাঠ্যপুস্তক তৈরি করা।
(iii) প্রতিবন্ধী শিশু: শারীরিক ও মানসিক প্রতিবন্ধী শিশুদের সাধারণ শিক্ষার সাথে যুক্ত করা এবং প্রয়োজনে তাঁদের জন্য বিশেষ জেলা সদর দপ্তরে আবাসিক বিদ্যালয়ের ব্যবস্থা করা।
(iv) পিছিয়ে পড়া অঞ্চল: পাহাড়ী, মরুভূমি বা অনুন্নত এলাকায় প্রয়োজনীয় শিক্ষা পরিকাঠামো গড়ে তোলা।
২৩। জাতীয় শিক্ষানীতি কেন পরিকল্পনা করা হয়? ব্যাখ্যা কর।
উত্তরঃ জাতীয় শিক্ষানীতি পরিকল্পনার প্রধান কারণগুলো হলো:
(i) নতুন দিশা প্রদান: আগেকার শিক্ষানীতিগুলো ঠিকমতো কার্যকর না হওয়ায় শিক্ষার মান, পরিমাণ ও সুযোগের সমস্যা মেটাতে একটি নতুন নীতির প্রয়োজন ছিল।
(ii) জাতীয় উন্নয়ন: শিক্ষাকে জাতীয় উন্নয়নের মূল চাবিকাঠি এবং বর্তমান ও ভবিষ্যতের জন্য একটি লাভজনক বিনিয়োগ হিসেবে গড়ে তোলা।
(iii) আধুনিকীকরণ: দ্রুত পরিবর্তনশীল বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে জ্ঞান-বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির বিকাশ ঘটানো।
(iv) সংহতি রক্ষা: ভারতের ঐক্য, ধর্মনিরপেক্ষতা এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে শক্তিশালী করার জন্য একটি অভিন্ন জাতীয় শিক্ষা কাঠামোর প্রয়োজন ছিল।
(v) মানবসম্পদ বিকাশ: দেশের জনগণকে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তর করে জাতীয় স্বনির্ভরতা অর্জন করা।
Subject Ka Complete Video Solution Dekhein
Step-by-step easy concept explanation aur full questions Answer ke liye watch karein ya app download karein:

